হোটেলে রুম না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন পর্যটকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পর্যটকের ঢল নেমেছে কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে। শারদীয় দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে লাখো পর্যটকের পদচারণায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পরিণত হয়েছে কুয়াকাটা, যা সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত।

তবে, অনেক পর্যটক হোটেলে রুম না পেয়ে লাগেজ বা ব্যাগ নিয়ে বালিয়াড়িতে অবস্থান করছেন। কিছু পর্যটক সড়কে পায়চারী করে সময় কাটাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন, রুম না পেয়ে কুয়াকাটা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকালে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, বালিয়াড়িতে পর্যটকদের ভিড়। নীল জলরাশির সামনে সবাই বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন।

আরো পড়ুন : দুর্গা পূজার ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত সারকন্যা কুয়াকাটা

খুলনা থেকে আসা পর্যটক মোহাম্মদ হাসান বলেন, “সকালে বাস থেকে নামার পর হোটেল খুঁজে পাইনি। একটি কটেজে রুম পেয়েছি, কিন্তু সেটির ভাড়া অনেক বেশি।” রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক মারুফ হোসেন বলেন, “অনেক হোটেলে গিয়েছি, কিন্তু কোথাও রুম পায়নি। এখন বালিয়াড়িতে লাগেজ নিয়ে বসে আছি। যদি রুম পাই, তাহলে থাকব, নাহলে রাতের গাড়িতে ফিরব।”

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, “হঠাৎ করে এখানে অনেক পর্যটক বেড়েছে, যা আনন্দের বিষয়। তবে কিছু পর্যটক হোটেলের রুম না পেয়ে বাসাবাড়িতে বা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।”

আবাসিক হোটেল মিয়াদ ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, “দুর্গাপূজার ছুটিতে কুয়াকাটায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক এসেছেন। আমাদের কাছে যোগাযোগ করলে আমরা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পাঠিয়েছি, কিন্তু অনেক পর্যটক বাসাবাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করে ফিরে গেছেন।”

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ পরিদর্শক আ. খালেক কালবেলা বলেন, “আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫টি টিম কাজ করছে। যদি কোনো পর্যটক রুম না পায়, আমাদের কাছে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।”




কলাপাড়ায় বিক্ষোভের মুখে ভূমিহীন ১৩৬ পরিবারের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিক্ষোভের মুখে ভূমিহীন ১৩৬ পরিবারের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়ে গেছে, যা এসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামে বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসকারী জিয়া কলোনীর ভূমিহীন ১৩৬ পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য ভেকু নিয়ে আসে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হয়। বেড়িবাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্যে এসব পরিবারকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পরিবারগুলোকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। বরং কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করা হয়।

উচ্ছেদের আতঙ্কে সকালে ভূমিহীন পরিবারের একটি দল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে দেখা করে তাদের পুনর্বাসনের আগে উচ্ছেদ বন্ধ করার দাবি জানায়। ইউএনও বাসভবনে আলোচনা চলাকালীন সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ভেকু নিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করতে যায়।

এ অবস্থায় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, “জিয়া কলোনি সংলগ্ন ১৩৬ পরিবারকে উচ্ছেদ করে রাস্তা নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসন, কলাপাড়া কিংবা উপজেলা ভূমি অফিস কোনো নির্দেশনা দেয়নি। ১৩৬ পরিবারের থাকার জায়গা নিশ্চিত না করে কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না বলে পূর্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে জরিমানা

দুই দশক আগে তৎকালীন সরকার বাস্তুভিটাহীন হওয়ার কারণে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে ইটবাড়িয়া গ্রামে আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিল। এরপর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল থেকে পায়রা বন্দর প্রশাসনিক ভবন হয়ে ঢাকা—কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কের সাথে যুক্ত হওয়ার বিকল্প সড়ক হিসেবে পায়রা বন্দরের গেট থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই রাস্তা নির্মাণের জন্য কলোনীসহ বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসকারী ১৩৬টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, ফলে নতুন করে ১৩৬টি পরিবার ভূমিহীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, “আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হলেও কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন করা হবে না বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই পরিস্থিতিতে মাথাগোঁজার শেষ আশ্রয় হারালে আমাদের জীবন ধারণ সম্পূর্ণরূপে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। উচ্ছেদের পরে আমরা কোথায় থাকবো, কী করবো—কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।”




ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজের ভূমিকা অপরিহার্য: শায়খে চরমোনাই

বরিশাল অফিস :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর ও চরমোনাই পীর, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন, দেশের যুব সমাজের নৈতিক অধঃপতন ঠেকাতে এবং সত্যিকার ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজকে ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। যুব সমাজের মাধ্যমে দেশের পরিবর্তন সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ চরমোনাই ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি শাখা সভাপতি কাওছার হোসেন লিটন হাওলাদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সমাজের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং বৈষম্য দূর করতে হলে ইসলামী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তিনি জাতির কল্যাণে যুবকদেরকে ইসলামের পথে পরিচালিত হওয়ার আহ্বান জানান।

পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন,আজকের যুবসমাজ আগামী দিনের রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবে। যুবকরাই সমাজের মূল চালিকাশক্তি। যদি তাদেরকে ইসলামের নীতিমালায় পরিচালিত করা যায়, তবে আমরা সোনালী ভবিষ্যত দেখতে পাবো। ইসলামী যুব আন্দোলন একটি আদর্শিক ও গঠনমূলক সংগঠন, যারা ইসলামের শাশ্বত আদর্শে বিশ্বাসী এবং দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলাম মানবতার মুক্তির জন্য এসেছে এবং যুব সমাজকে তার ধারক-বাহক হিসেবে তৈরি করতে হবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মাদ আল আমিন, বরিশাল মহানগর সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, ইসলামী যুব আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো যুব সমাজকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ গঠনের কাজে নিযুক্ত করা। তাঁরা বলেন, ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করলে সমাজ থেকে দুর্নীতি, অপসংস্কৃতি এবং বৈষম্য দূর হবে। তাঁরা সকল যুবকদের ইসলামের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন এবং দেশের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসলামী নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়, যুবকদের ইসলামি নীতি, আদর্শ ও সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে পারলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের প্রতিটি স্তরে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। সম্মেলনের মাধ্যমে বক্তারা সবাইকে ইসলামের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এই সম্মেলনের মাধ্যমে চরমোনাই ইউনিয়নের যুব আন্দোলনের নেতাকর্মীরা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন, তাঁরা সব সময়ই ইসলামের বিধান অনুযায়ী সমাজের কল্যাণে কাজ করবেন এবং যুব সমাজকে ইসলামী চিন্তায় আলোকিত করে আদর্শিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করবেন।




‘গণহত্যার বিচার অচিরেই শুরু করব, তখন অনেক প্রশ্ন দূর হবে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যার প্রচুর আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই–আগস্ট মাসের পৈশাচিক গণহত্যার বিচার অচিরেই শুরু করব, তখন দেখবেন, আমাদের অনেক দ্বিধা, অনেক প্রশ্ন দূর হয়ে যাবে।’

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গঠিত হয়ে যাবে। এর কাজ কিন্তু ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমাদের প্রসিকিউশন টিম গঠিত হয়েছে প্রায় এক মাস হয়ে গেছে। আমাদের ইনভেস্টিগেশন টিম গঠিত হয়েছে দুই সপ্তাহ হয়ে গেছে।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই দেশে আমরা কেউ সংখ্যালঘু নই, কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ নই। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা সবাই বাংলাদেশে সমান মর্যাদা, সমান অধিকার ভোগ করে থাকব। সবাই সবার ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব। সবাই শান্তি ও সুখে থাকব।’

এসময় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) তোফাজ্জল হোসেন, পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক হোসেন, সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদ হোসেন, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অমর কৃষ্ণ দাস উপস্থিত ছিলেন।




অন্তর্বর্তী সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে দেবে না: ক্রীড়া উপদেষ্টা

**চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:** ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খুলনা নগরের বাগমারার গোবিন্দমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “ধর্মকে ব্যবহার করে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ফায়দা তুলেছে। কিন্তু আমরা সে পথে হাঁটতে চাই না। এই সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন দেশে সব ধর্মের মানুষ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করবে।”

চট্টগ্রামের একটি পূজামণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা এবং সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী মন্দিরে সোনার মুকুট চুরির ঘটনা উল্লেখ করে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “ইতিমধ্যে প্রশাসন দোষীদের আটক করেছে এবং তাঁদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”

আরো পড়ুন : ড. ইউনূসের ‘রিসেট বাটন’, ব্যাখ্যা দিলো প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

**খেলাধুলার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতি:**
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে খুলনার গল্লামারী হরিচাঁদ ঠাকুর মন্দিরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া উপদেষ্টা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম সংস্কার করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শুধু আবু নাসের স্টেডিয়াম নয়, দেশের প্রতিটি স্টেডিয়ামকে খেলার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। দেশের খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।”

এ সময় খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন, মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ম. জাভেদ ইকবাল, মহানগর পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে শনিবার তিনি কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।




দুর্গোৎসব উপলক্ষে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: সেনাপ্রধান

**চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:** শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।

সেনাপ্রধান বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিটি মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপিত হচ্ছে, এবং বাকি দিনগুলোতেও এ শান্তি বজায় থাকবে।” তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সর্বদা সতর্ক রয়েছি। পূজার বাকি দিনগুলোতেও উৎসব উদযাপনে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না, এই নিশ্চয়তা দিতে চাই।”

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শতাব্দীর পর শতাব্দি হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা এই দেশে একসাথে বসবাস করে আসছে। আমাদের এই সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অতীতে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জাতি হিসেবে আমাদের এই ঐতিহ্য রক্ষা করা জরুরি।”

আরো পড়ুন : বাংলাদেশ স্মার্ট হচ্ছে সেনাবাহিনীকেও স্মার্ট হতে হবে: সেনা প্রধান

এ সময় পূজামণ্ডপের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা সেনাপ্রধানকে পূজার আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পূজামণ্ডপের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আরও উন্নত নিরাপত্তার জন্য যে কোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব, যেখানে প্রতিটি মণ্ডপে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে। এমন সময়ে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও নিয়মিত টহল দিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নিরাপদে উদযাপনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। সেনাপ্রধানের এই আশ্বাস সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি করেছে।




“আমরা এমন সমাজ চাই, যেখানে মন্দির পাহারার প্রয়োজন হবে না” — ডা. শফিকুর রহমান

**চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:** বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছাত্র-জনতার অবদান, যা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে দেশে পরিবর্তনের সূচনা করেছে। শুক্রবার বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই আন্দোলনের পেছনে আমাদের অনেক শহীদের ত্যাগ রয়েছে। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে মেধাবী সেনা অফিসারদের আত্মত্যাগ যে আন্দোলনের সূচনা করেছিল, তা ৫ আগস্ট হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্য দিয়ে সফল হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে সাময়িক পরিবর্তন এসেছে, তবে স্থায়ী রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ শাসন প্রতিষ্ঠা। আমরা এমন একটি সমাজ গঠন করতে চাই, যেখানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ থাকবে না, মসজিদের মতো মন্দিরেরও পাহারার প্রয়োজন হবে না। যদি কেউ আমাদের সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে।”

সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : রাষ্ট্রের ১০ খাতে সংস্কার চায় জামায়াত, ৪১ প্রস্তাবনা

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরো বলেন, “দেশ সাংবিধানিকভাবে দুবার এবং রাজনৈতিকভাবে তিনবার স্বাধীনতা পেয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী শাসন ও দুর্নীতির মাধ্যমে জাতির ওপর সীমাহীন জুলুম-নিপীড়ন চালিয়েছে। তারা আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে শহীদ করেছে, তবে আমাদের আন্দোলনকে দমন করতে পারেনি।”

সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারা ইসলামী মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গঠনে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চাই। সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।”

সম্মেলনে ইসলামী সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।




ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরের শাসনে বরগুনা মাদকের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে: পীর সাহেব, কেওরাবুনিয়া

বরিশাল প্রতিনিধি :: ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনে বরগুনা মাদকের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরগুনা জেলা উপদেষ্টা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ (পীর সাহেব, কেওরাবুনিয়া)।

তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের কারণে এই অঞ্চলে একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যার অন্যতম উদাহরণ রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫ টাযর দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নং গৌরচন্না ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব কেওরাবুনিয়া আরও বলেন,বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যাকাণ্ড এবং নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারে হত্যা—সবই মাদক ব্যবসার নেপথ্যে সংঘটিত হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্যের পুত্রের যোগসাজশ ছিল এসব অপরাধে, যা জনগণের কাছে স্পষ্ট।

তিনি বলেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরগুনায় শক্তিশালী অবস্থান ছিল এবং আছে। ১৯৯১, ১৯৯৬, ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীরা তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে তখনকার প্রার্থী মরহুম মাওলানা আবদুর রশিদ (পীর সাহেব কেওরাবুনিয়া) কে পরাজিত করা হয়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে বরগুনা সদর আসন পুনরুদ্ধার করা এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সমাজ গড়ে তোলা।

পীর সাহেব কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন,আপনাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বরগুনাকে মাদকমুক্ত করতে হবে, সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৯ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ ও কল্যাণকর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”

গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ২ নং গৌরচন্না ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি সাংবাদিক গোলাম হায়দার স্বপন এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি গোলাম হায়দার মোল্লা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ইসলামী আন্দোলনের বরগুনা জেলা উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুল কাদের (পীর সাহেব ভাওয়ালকার), মাওলানা আবু সালেহ, মাওলানা মিজানুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুর শাকুরসহ ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




এবার পদ হারালেন পূজা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: চট্টগ্রামের জেএমসেন হল পূজা মণ্ডপে ইসলামি গান গাওয়ার ঘটনায় এবার পূজা উদযাপন পরিষদ মহানগরের সভাপতি লায়ন আশীষ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেনকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শচীন্দ্র নাথ বাড়ৈর সই করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পরিষদের সভাপতি শ্রী বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ শর্মা এক যৌথ বিবৃতিতে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগে মহানগর কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সজল দত্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অবাঞ্চিত ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত বেদনাহত হয়েছেন। পূজা পরিষদ এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে জেএমসেন হল পূজা মণ্ডপের মঞ্চে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামের একটি গানের দল দুটি গান পরিবেশন করে। সেই গানের খণ্ডিতাংশের ভিডিও পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা তৈরি হয়। পরে গান গাওয়া দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ জানায়, মহানগর কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সজল দত্তের অনুরোধেই চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামের ওই গানের দলটি পূজা মণ্ডপে গান করতে আসে। এই ঘটনায় সজল দত্ত ও গান গাওয়া ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।




বাউফলে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া শিশুকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক কন্যা শিশুকে (১১) যৌন হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীর উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের মৃধার বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আনোয়ার হাওলাদারের বিরুদ্ধে। তিনি সাবেক সেনা সদস্য ও ইউনিয়ন মৎসজীবী দলের সভাপতি।

নির্যাতিত শিশু বলেন, আনোয়ারের দোকানে তিনি বাজার করতে যেতেন। একসময় আনোয়ার তাকে জোরজবরি করে চেপে ধরতেন। তিনি বাধা দিলে তাকে চর থাপ্পড় মারতেন। সে প্রায়ই এমন করতো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেয়ের মামা বিষয়টি নিশ্চিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই শিশু একই সিনটম নিয়ে একাধিকবার হাসপাতালে আসেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখা যায় তার কোনো রোগ নেই কিন্তু শিশুটি প্রচুর আতঙ্কিত ছিলো। সে কিভাবে ভয় পাইছে সেটা বোঝার চেষ্টা করতে বললাম পরিবারকে। এক পর্যায়ে শিশুটি তার বড় বোনকে ঘটনা খুলে বলেন।

আরো পড়ুন : বাউফলে ৮ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ওই শিশুটিকে আবারো শিশু চিকিৎসা নিতে আসলে, আমি সমস্যা জানতে চাই।তখন শিশু নির্যাতনের বিষয়টি খুলে বলেন আমাকে। ঘটনাটি সত্যি হলে তা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে সাংবাদিককে মুঠোফোনে আনোয়ার হাওলাদার বলেন, তিনি ওই মেয়েকে চেনেনই না।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, একটি মাধ্যমে তিনি আগেই বিষয়টি শুনেছেন। থানার প্রেট্রোলিং টিমকে সরেজমিনে খোঁজ খবর নিতে বলা হয়েছে।
এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত আনোয়ার হাওলাদার ছয় মাস আগে- তার দোকানের আইসক্রিম চুরি করে খাওয়ার অপবাদে তিন শিশুকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করার অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিলেন ।