রাঙ্গাবালীতে লোহার সেতু নির্মাণকাজে ধীরগতি, স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়ছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় খালের ওপর নির্মাণাধীন লোহার সেতুর নির্মাণকাজের ধীরগতি এবং বিকল্প যাতায়াতের অভাবে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক পরিচালিত এই সেতুর কাজ গত দুই বছর ধরে চলছে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের শুরু থেকে অগ্রগতির অভাব রয়েছে। সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০২২ সালের ১ এপ্রিল কাজ শুরু হয় এবং এর কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ। তবে, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে খালে শুধু লোহার খুঁটি পুঁতে রাখা আছে এবং গত ছয় মাস ধরে সেতুর লোহার অ্যাংগেল বসানো হয়েছে, কিন্তু বাকি কাজ—রড বাঁধাই, কংক্রিটের ঢালাই এবং সংযোগ সড়কের—কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদারবুনিয়া ও রসুলবাড়িয়া গ্রামের মধ্যে মাদারবুনিয়া খাল রয়েছে, যা দুই গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। খালের পশ্চিম পাড়ে রসুলবাড়িয়া গ্রামে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ অবস্থিত, কিন্তু পূর্বপাড়ের মাদারবুনিয়া গ্রামটি খালের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ছাত্র আবির হোসেন বলেন, “সেতুর কাজ দ্রুত শেষ হলে আমাদের যাতায়াতের সমস্যা দূর হবে। বর্তমানে পারাপারে খুব ভয় লাগে।” বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, সেতুর কাজ ধীরগতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইএফটিই-ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড কাজটি পায়। সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজ এখনও শেষ হয়নি।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, “সেতুর লোহার অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত সময়ে মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে।”









