সারা দেশে ৩১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ২ হাজার পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৩১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতে বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা যাতে অনধিক ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে পূজামণ্ডপে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য পূজামণ্ডপের আশেপাশে সুবিধাজনক স্থানে ৮৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে ৮৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে অতিরিক্ত দুই প্লাটুন করে বিজিবি সদস্য স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

এছাড়াও রাজধানী ঢাকার মন্দির বা পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে বিজিবির ঢাকা সেক্টরের তত্ত্বাবধানে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।




আল্লাহভীরু নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: শায়খে চরমোনাই

বরিশাল অফিস :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন, আল্লাহভীরু নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যুগে যুগে এদেশের মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়ে বারবার আন্দোলন করেছে এবং মানবতার শত্রুদের পরাজিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পরও মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। বর্তমানে আমরা আবারও দেখতে পাচ্ছি, চাদাবাজি ও দখলদারিত্বের মতো অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাইনি।

শনিবার ( ১১ অক্টোবর) বিকাল ৫ টার দিকে বরিশাল মুলাদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল জেলার আওতাধীন মুলাদী থানা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

শায়খে চরমোনাই বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে কেউ একমুঠো খাবারের জন্য ডাস্টবিনে লড়াই করবে না। যেখানে জেলে, তাতী, কুমার, কামারের অধিকার সুনিশ্চিত হবে। চোর ও দুর্নীতিবাজদের মাধ্যমে কখনো দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। সুতরাং জনগণকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং দুর্নীতিবাজ, চোর, ধর্ষকদের প্রতিহত করতে হবে।

শায়খে চরমোনাই আরও বলেন, স্বাধীনতার পর এদেশে বহুবার ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, কিন্তু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানুষ এক স্বৈরাচার থেকে আরেক স্বৈরাচারের শোষণে শোষিত হয়েছে। তিনি নতুন করে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হুঁশিয়ার করে বলেন, বিগত সন্ত্রাসীরা পালানোর সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু নতুন সন্ত্রাসের জন্ম হলে পালানোর পথও তারা খুঁজে পাবে না।

মুলাদী থানা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব এফ এম মাইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা সেক্রেটারি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা কাওছারুল ইসলাম, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াস হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ।

এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং সহযোগী সংগঠনের জেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন।




সরকারি চাকরিতে পুরুষের ৩৫, নারীর ৩৭ করার সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স পুরুষের ৩৫ ও নারীদের ৩৭ বছর করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি।

শনিবার (১২ অক্টোবর) কমিটির সদস্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশের প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আলোচনা হবে। সেখান থেকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিবেদনে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলাপ-আলোচনার পর সেটি চূড়ান্ত হতে পারে। চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের বয়সসীমা বেড়ে ৩৫ বছর হতে পারে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি প্রায় একযুগের। এই ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে রাজপথে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান, সাবেক সচিব আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীকে প্রধান করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর গঠন করা হয় পর্যালোচনা কমিটি। এক সপ্তাহ পর সরকারের কাছে সুপারিশ দিয়েছে তারা।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, পরীক্ষার ধরন ও কর্মসংস্থানের সুযোগের বিষয়টি আমলে নিয়েছে পর্যালোচনা কমিটি। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছরই সুপারিশ করেছে পর্যালোচনা কমিটি।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৩২ বছর।




দুর্গাপূজার উৎসবের আনন্দ সকলে মিলে ভাগ করে নিতে হবে: তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দুর্গাপূজার উৎসবের আনন্দকে সকলে মিলে ভাগ করে নিতে হবে। উৎসবের পরিসর সংকীর্ণ নয়, বরং এটি উন্মুক্ত ও সর্বজনীন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার(১২ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বাণীতে এই আহবান জানান।

তারেক রহমান বাণীতে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি।

আবহমানকাল ধরে শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। শরতে বাংলাদেশের চারিদিকে কাশফুল ও শীতের আভাষ জানান দেয় এই উৎসবের বার্তা। কয়েক শতাব্দি ধরে উৎসবটি সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজা সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়। আর উৎসব হচ্ছে অন্ধকারে গহন থেকে আলোকের উদ্ভাসন।

 

উৎসব যে ধর্মেরই হোক, উৎসবের প্রাঙ্গণ সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত। উৎসবের প্রাঙ্গণের দরজা কখনোই বন্ধ থাকে না। যে কোনো ধর্মীয় উৎসবই মানুষে মানুষে নিবিড় বন্ধন রচনা করে, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত হয়। সকল ধর্মের মর্মবাণী দেশপ্রেম, শান্তি ও মানব কল্যাণ। এক বর্বর হিংসাযুদ্ধের বিপরীতে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হওয়া আমাদের সকলের কর্তব্য। দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণীই হচ্ছে-হিংসা, লোভ ও ক্রোধরুপী অসুরকে বিনাশ করে সমাজে স্বর্গীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। উৎপীড়ণ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মধ্য দিয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠাই এই উপাসনার অন্তর্নিহিত তাগিদ। সেই বাণীকে আত্মস্থ করেই দুর্গাপূজার উৎসবের আনন্দকে সকলে মিলে ভাগ করে নিতে হবে। উৎসবের পরিসর সংকীর্ণ নয়, বরং এটি উন্মুক্ত ও সর্বজনীন।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার ও সুরক্ষার সমান সুযোগের অলঙ্ঘনীয় বিধান থাকতে হবে। আমাদের দেশ একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে জনগোষ্ঠীর সকল সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি যৌথ সম্প্রদায় গঠন করি, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

আমি এই আনন্দময় দুর্গাপূজার উৎসবে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই উৎসব প্রতিটি গৃহে সমৃদ্ধি, সম্প্রীতি ও শান্তিতে ভরে তুলে এবং সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও সংহতি প্রসারিত করুক।

এদেশে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি-এটাই হোক আমাদের বড় পরিচয়। আমি এবারের শারদীয় দূর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।




বড় হারে টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া :: ম্যাচটার নিয়তি ভারতের ইনিংস শেষেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ২৯৭ রান হজমের পর টি-টোয়েন্টিতে জেতার কথা কল্পনাও করা কঠিন, বিশেষত দলের শক্তি-সামর্থ্য বিচারে তা অসম্ভবের চেয়েও বেশি কিছুই ছিল। বড় হারই অপেক্ষা করছিল বাংলাদেশের জন্য। ২০তম ওভারের শেষ বলটা হওয়ার পর হারের ব্যবধানটা জানা গেল, বাংলাদেশ তুলতে পেরেছে মোটে ১৬৪ রান, ম্যাচটা হেরেছে ১৩৩ রানে।

ইচ্ছে হলেই যেন বল গ্যালারিতে পাঠাচ্ছে ভারত। এমন ম্যাচে বাংলাদেশ শুধু অসহায় ভঙ্গিতে চেয়ে দেখল ভারতের রান আনন্দ।

ওপেনার স্যাঞ্জু স্যামসন আগের দুই ম্যাচে স্কোর তেমন বড় করতে পারেননি। সেই দুঃখ ভুললেন সিরিজের শেষ এবং তৃতীয় ম্যাচে। মাত্র ২২ বলে হাফসেঞ্চুরির আনন্দে ভাসলেন এই মারকুটো ব্যাটার। ৮ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় হাফসেঞ্চুরি পান তিনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের কোনো ব্যাটারের টি-টোয়েন্টিতে এটি দ্রততম হাফসেঞ্চুরি।

একদিনে স্যামসন, অন্যপ্রান্তে সূর্যকুমার। কে কার চেয়ে বেশি শট খেলবেন, কার স্ট্রাইকরেট বেশি থাকবে- যেন সেই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠলেন দুজনে। মাত্র ৪৪ বলে এই জুটিতে ১০০ রান যোগ হলো। সূর্যকুমার মাত্র ২৩ বলে হাফসেঞ্চুরির আনন্দে ভাসেন। মাত্র ৪০ বলে সেঞ্চুরি পান স্যামসন। টি- টোয়েন্টিতে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এ দুজনে যোগ করেন রেকর্ড ১৭৩ রান। টি- টোয়েন্টিতে যে কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যে কোনো জুটিতে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

শুরুর ১০ ওভারে ভারতের স্কোর গিয়ে পৌছাল ১৫২ রানে। তখনই বোঝা যায় এই ম্যাচে আরো অনেক বড় কিছু অপেক্ষা করছে। সেটাই তারা করে দেখাল। টি- টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ ২৯৭ রানের নতুন রেকর্ড গড়ল ভারত। আগেরটা ছিল ৫ উইকেটে ২৬০ রান, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।

ভারতের ইনিংসের পর বাংলাদেশ শুরুতেই পারভেজ ইমনের উইকেট খোয়ায়। এরপরও লিটন দাসের ব্যাটে চড়ে পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ তুলে ফেলে ৫৯ রান। পাওয়ারপ্লে শেষে তার আর তাওহীদ হৃদয়ের জুটি জমে গিয়েছিল যখন, তখন ২০০ ছোঁয়ার একটা সম্ভাবনা জেগে উঠেছিল। তবে লিটনের ৪২ রানে বিদায়ের পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন তাওহীদ। ফিফটি পেয়ে ৪২ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকলেও তিনি দলকে নিয়ে যেতে পেরেছেন স্রেফ ১৬৪ পর্যন্ত।

ম্যাচটা মাহমুদউল্লাহর শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল, সে ম্যাচে বল হাতে একটা সাফল্য পেয়েছেন তিনি। আউট করেছেন সূর্যকুমারকে। এরপর ব্যাট হাতে করতে পেরেছেন মোটে ৯ বলে ৮। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে তার সঙ্গী হয় বিশাল ব্যবধানের হার।




পটুয়াখালীতে ইয়াবাসহ যুবদল নেতা গ্রেফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মির্জাগঞ্জে ইয়াবাসহ মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সাইফুল উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের হারুন রাঢ়ীর ছেলে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মির্জাগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন রিমান রাফিন নিশাত।

ক্যাপ্টেন নিশাত জানান, সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে জানা যায়, তার বাড়িতে ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান এসেছে। এ ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সাইফুল পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে দ্রুত আটক করা হয়। এরপর তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সাইফুলকে মির্জাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. শামীম আহম্মেদ বলেন, গ্রেফতারকৃত সাইফুলের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




পটুয়াখালীতে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার আগে ক্রেতাদের ভিড়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ইলিশের প্রজনন সুরক্ষার জন্য শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইলিশ ধরার উপর সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। এ খবরে পটুয়াখালীর মাছ বাজারগুলোতে ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের আলীপুর, মহিপুর, কুয়াকাটা বাজারের পাশাপাশি সদর উপজেলার নিউ মার্কেট ও হেতালিয়া বাধঘাটসহ অন্যান্য বাজারগুলোতে ভোর থেকেই ক্রেতারা ইলিশ কেনার জন্য জড়ো হচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে বাজারগুলোতে উপচে পড়া জনস্রোত দেখা যাচ্ছে।

আলীপুর মাছ বাজারে ভিড়:
পটুয়াখালীর অন্যতম প্রধান মাছ বাজার আলীপুরে সকাল থেকেই ইলিশ কেনার জন্য ভিড় জমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত ইলিশের চাহিদা বরাবরই বেশি থাকে, তবে নিষেধাজ্ঞার আগে ক্রেতাদের ভিড় কয়েক গুণ বেড়েছে। এখানে ছোট থেকে বড়, সব সাইজের ইলিশই বিক্রি হচ্ছে। এক ক্রেতা, জসিম উদ্দিন, বলেন, “আগামী ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে, তাই আজই ইলিশ কিনে ফ্রিজে মজুত করে রাখছি। দাম কিছুটা বাড়লেও ইলিশ কিনতে পেরে খুশি।”

মহিপুর মাছ বাজারের চিত্র:
মহিপুর মাছ বাজারেও একই রকম ভিড় দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, “গত কয়েক দিন ধরে ইলিশের দাম একটু বেশি হলেও, নিষেধাজ্ঞার আগের দিন বিক্রির চাপ অনেক বেড়ে গেছে। সব সাইজের ইলিশই দ্রুত বিক্রি হচ্ছে।” এখানে ক্রেতারা ৪০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ বেশি কিনছেন, যা নিষেধাজ্ঞার সময় ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করা সহজ হবে।

কুয়াকাটা বাজারের অবস্থা:
কুয়াকাটা মাছ বাজারে পর্যটকদের ভিড়ও বেড়েছে। পর্যটকরা স্থানীয় বাজার থেকে ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই শহর থেকে আসা অতিথিদের জন্য ইলিশ কিনে নেয়ার তাড়া নিয়ে বাজারে ভিড় জমিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, “ইলিশের দাম একটু বাড়লেও, ক্রেতাদের এতে কোনো আপত্তি নেই। তারা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকায় কিছুদিন ইলিশ পাওয়া যাবে না, তাই এখনই কিনে রাখা হচ্ছে।”

নিউ মার্কেট মাছ বাজারে ক্রেতাদের ভিড়:
পটুয়াখালীর নিউ মার্কেট এলাকায় মাছের দোকানগুলোতেও ভোর থেকেই ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এখানে ছোট ও মাঝারি আকারের ইলিশ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এক ক্রেতা, নাসির উদ্দিন, বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ পাওয়া যাবে না, তাই আজই কিছু মাছ কিনে ফ্রিজে রাখছি। দাম কিছুটা বেশি হলেও এখনই কিনতে হচ্ছে।”

হেতালিয়া বাধঘাট বাজারের চিত্র:
হেতালিয়া বাধঘাট বাজারেও একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সেখানে বড় ইলিশের চাহিদা বেশি, বিশেষ করে যারা বেশি মাছ সংরক্ষণ করতে চান, তারা বড় সাইজের ইলিশ কিনছেন। এক বিক্রেতা জানান, “দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে ক্রেতারা নিষেধাজ্ঞার কথা মাথায় রেখে বেশি পরিমাণে ইলিশ কিনছেন।” বাজারে ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১২০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের দাম ও সরবরাহ:
বর্তমানে পটুয়াখালীর বিভিন্ন বাজারে ইলিশের দাম আকার ও মান অনুযায়ী ভিন্ন। ছোট আকারের ইলিশ ৭০০-৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, আর বড় আকারের ইলিশ ১২০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহে দাম কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে চাহিদা এতই বেশি যে ক্রেতারা কোনোভাবেই দাম নিয়ে আপত্তি করছেন না।

নিষেধাজ্ঞার কারণ ও প্রতিক্রিয়া:
সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, “ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছের সুরক্ষার জন্য প্রতি বছরই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এটি ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বাজারগুলোতে কিছুদিন ইলিশের সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে এর ফলে আগামীতে ইলিশের প্রাপ্যতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।”

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২২ দিন ইলিশ আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে এ সময় ইলিশ মাছের অভাব মেটাতে অন্য মাছের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।




বাউফলে সিরাতুন্নবী (স.) উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে পবিত্র সিরাতুন্নবী (স:) উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকালে উপজেলার রাজনগর সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়। সদস্য সচিব মো. সাইফুল্লার সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা রুহুল আমীন।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে

চলছিল গান বাজনা ও অসামাজিক নৃত্য। দীর্ঘবছর জামায়াত ইসলামির সংগঠন আখ্যা দিয়ে এই সংগঠনের কোন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হয়নি। এটা কোন জামায়াতে ইসলামী কিংবা ছাত্র শিবিরের সংগঠন না। এটি রাজনগর এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতির সদস্য নুরুল ইসলাম. হুমায়ন কবির. মো. আবু হানিফ. মো কবির হোসেন ও সোহেল মোল্লা প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে ১৫০জন স্থানীয় মানুষের মাঝে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ প্রদান করা হয়।




পটুয়াখালী মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাতের আঁধারে মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে কয়েক হাজার মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়।

শনিবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পুনামাপাড়ার বাসিন্দা সানু মিয়ার ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরাবরের মতো শুক্রবার দিবাগত রাতে মাছের ঘেরে খাবার দিয়ে বাসায় যান সানু মিয়া। সকালে এসে দেখেন কে বা কারা ঘেরে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে ঘেরের বড় মাছগুলো ছোটাছুটি করছে এবং ছোট মাছগুলো মরে পানিতে ভাসতে থাকে। এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রতিবেশী বৃদ্ধ জুয়েল ফরাজী বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের খুব কম মানুষ মাছ চাষ করে। অনেক আশা নিয়ে সানু মিয়া মাছ চাষ করেছেন। অনেক টাকা বিনিয়োগ এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় মাছ বিক্রি করতে। কিন্তু দুর্বৃত্তদের বিষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব মাছগুলো মরে গেল। এভাবে চললে মাছ চাষ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি খুবই দয়ালু মানুষ উল্লেখ করে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ইউসুফ মুসুল্লি বলেন, সানু মিয়া আমাদের এই মসজিদের একজন মুসুল্লি তার ঘেরে বিষ প্রয়োগের খবর পেয়ে এসে দেখলাম সব মাছ মরে ভেসে উঠছে। কে বা কারা এমন বড় ক্ষতি করলো। এটার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানাই।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত সানু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গভীর রাতে কে আমার এতো বড় ক্ষতি করলো তা আমি জানি না। সকালে এসে দেখি আমার ঘেরের সব মাছ ভেসে উঠেছে। পানি বেশি থাকায় তাৎক্ষণিক মাছ ধরতেও পারি নাই। এতে আমার ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

লতাচাপলি ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে বিষয়টি জানার জন্য ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাংগঠনিক, সিনিয়র সহসভাপতিসহ ঘটনাস্থলে এসেছি। এটি খুবই দুঃখজনক বিষয়। কে বা কারা করেছে এখনো নিশ্চিত নই। তবে ভুক্তভোগী শানু মিয়াকে মহিপুর থানায় বিষয়টি অবহিত করার কথা জানিয়েছি। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এটি সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় আনা হবে।




জেলের জালে আবারও ধরা পড়ছে ৬০ কেজি ওজনের পাখি মাছ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এমবি রফিকুল ইসলাম নামের একটি ট্রলারে ৬০কেজির ওজনের একটি পাখি মাছ ধরা পড়েছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে মাছটি পটুয়াখালীর আলীপুর বিএফডিসি মার্কেটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে মাছটিকে এক নজর দেখতে ভীড় করেন স্থানীয় উৎসুক জনতা।

জানা গেছে, উপকূলে এসব মাছের চাহিদা খুবই কম। মাছটি মেসার্স আব্দুল্লাহ ফিসের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী সাগর ২০০ টাকা কেজি দরে ১২ হাজার টাকায় কিনে নেন।

মেসার্স আব্দুলাহ অফিসের স্বত্বাধিকারী ইউসুফ হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন পরে একটি পাখি মাছ আমার গদিতে এসেছে। এই প্রজাতির মাছ এখন কম ধরা পরে । আগে আরো বেশি ধরা পড়ত। আমাদের এই অঞ্চলে এর চাহিদা বেশি না থাকলেও রাজধানী সহ দেশের বাহিরে এর চাহিদা বেশি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, পাখি মাছ গভীর সমুদ্র থাকে। ঘণ ঘণ সমুদ্রের আবহাওয়া খারাপ থাকায় মাছগুলো উপকূললে আসে না। যার কারণে কম ধরা পড়ছে।