এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ৭৭.৭৮ শতাংশ

বরিশাল অফিস :: উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা ২০২৪ এ গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮। গতবার এই হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪। এ বছর পাসের হার কমেছে দশমিক ৮৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকার জানান, এবার কেন্দ্রীয়ভাবে ফল প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ফল ঘোষণা করেছে। শিক্ষার্থীরা মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে ফল দেখতে পারবেন।

এবার ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। কয়েকটি পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে কয়েক দফায় স্থগিত করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বাকি পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়। শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও জেএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা পরিমার্জন করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে শুধু এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলোর ফল নির্ধারণ করা হয়েছে।




স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জনে এবং সুষ্ঠু স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসহ সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের পূর্বশর্ত। ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।”

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ওয়াশ ব্লক ও হাত ধোয়ার বেসিন নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে স্যানিটারি সুবিধাপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের হার ৮৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এছাড়া তিনি স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ উপলক্ষ্যে নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

 




সরকার নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শিক্ষার্থী-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত নতুন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে আজ (১৫ অক্টোবর) এক বাণীতে তিনি বলেন, “জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন যে, সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ যথাযথভাবে পালন ও হাইজিন প্রসারের সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক এ আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও গণমাধ্যমসহ প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।”




যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরে সেনাপ্রধান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা গমন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরকালে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়ন ও ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণের বিবেচনায় জাতিসংঘ সদর দফতর, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা’র উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।

এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি। সফর শেষে সেনাপ্রধান আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।




এইচএসসির ফল প্রকাশ আজ

বরিশাল অফিস :: ২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর)।

বেলা ১১টায় স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ওয়েবসাইটে একযোগে এই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সারাদেশে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। গত ৩০ জুন থেকে শুরু হয়ে সাতটি পরীক্ষার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

পরে বাকি পরীক্ষাগুলো নেয়ার সিদ্ধান্ত হলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে তা বাতিল করতে বাধ্য হয় শিক্ষা বিভাগ। পরে বিষয় ম্যাপিংয়ের ভিত্তিতে ফলাফল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার আসন্ন ঘোষিতব্য ফলাফলের বিষয়ে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একটা দাবি উঠেছে। শুনেছি যে, সবাইকে পাস করাতে হবে।’

এবারের এইচএসসির বাকি পরীক্ষাগুলো নিতে পারলেই ভালো হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে একটা অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মধ্যে কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক পরীক্ষাগুলো বাতিলের ঘোষণা দিতে হয়েছিল। বোর্ড কর্তৃপক্ষ এখন পূর্বেকার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এইচএসসির যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল; তার সঙ্গে এসএসসির সম্পর্কিত বিষয়ের ফলাফল সমন্বয় করে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে।’

এসএসসিতে যারা কোনো বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হবার কারণে পরবর্তী বছরে আবার পরীক্ষার সুযোগ নিয়েছে সে ফলাফলও নেয়া হয়েছে। কাজেই চূড়ান্ত ফলাফলে যারা উত্তীর্ণ হবে না, তারা বঞ্চিত হয়েছে বলা যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।




ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫

বরিশাল অফিস :: ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহগামী ঝিনাইদহ পরিবহন ও ঝিনাইদহ থেকে ঢাকাগামী গ্রিন এক্সপ্রেস নামে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিহতদের সবার নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি উদ্ধার করে করিমপুর হাইওয়ে থানায় এনে রাখা হয়েছে।




বরিশালের দুর্গা সাগরে পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সুবিধার সংকট

বরিশাল অফিস :: বরিশালের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন ও পর্যটন এলাকা দুর্গা সাগর দীঘি। শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বের এই পর্যটন স্পটে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি দর্শনার্থীদের জন্য। শুধু যে বখাটেদের উৎপাত এখানে তা কিন্তু নয়। সবচেয়ে বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানে দুর্গা সাগর দীঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। রোগী সেজে বিনা টিকিটে প্রবেশ করা ছাড়াও ভিতরে বেড়েছে ভিক্ষাবৃত্তি। নেই দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীর জন্য কোনোরকম সেবামূলক ব্যবস্থা।

খাবার, বিশ্রাম, গাড়ি পার্কিংসহ পরিচ্ছন্ন টয়লেট সুবিধাও অনুন্নত। ভিতরে চমৎকার একটি মিনি চিড়িয়াখানা করা হলেও শিশুদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়নি কোনো উপকরণ। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছয়টি চমৎকার হংশমুখো বোট দেয়া হলেও তা প্যাকেটবন্দী হয়ে পড়ে আছে পুকুর ঘাটে। এর পরিবর্তে প্লাস্টিকের দুটো সাধারণ বোট ভাসছে দীঘিতে। এগুলো স্থানীয় বখাটেদের নিয়ন্ত্রণে। এসব নিয়ে একাধিক অভিযোগ জানালেন ফরিদপুর, পটুয়াখালী ও ঢাকা থেকে আগত কয়েকজন দর্শক।

সরেজমিনে ১৪ অক্টোবর বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন দুর্গা সাগর দীঘির প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে এসব অভিযোগ শুনতে হলো। তাদের অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেল ভিতরে প্রবেশ মাত্রই। এসময় বেশ কয়েকজন তরুনকে দেখা গেল মোটরসাইকেল নিয়ে দিঘির পাড়ের সরু সড়কে ছুটে বেড়াতে। যাদের দেখে দিঘি পাড়ে বসা মেয়েরা দ্রুত  উঠে বের হয়ে গেল।

এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের দুর্গা সাগর দীঘি দেখার জন্য বরিশাল থেকে এসে প্রথমেই চোখে পড়বে প্রথম প্রবেশদ্বারে লেখা আছে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত গেট। ভুল করে এখানে নেমে পড়লে কিন্তু হাঁটতে হবে পুরো দেড় কিলোমিটার পথ। কারণ, এই প্রবেশদ্বারটি জন্মলগ্ন থেকেই তালাবদ্ধ থাকে। শুধু মাত্র প্রশাসনের প্রয়োজনেই খোলা হয় বলে জানালেন আশেপাশের বাসিন্দারা। দীঘি পাড়ের মূল প্রবেশদ্বারটিতে তখনও মেরামত কাজ চলছে। টিকিট কাউন্টারে বসা লোকটি ২০ টাকা দরে সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ৭৮টি টিকিট বিক্রি করতে পেরেছেন।

বিকেল তিনটার পর মোটামুটি ভীড় হয় বলে জানালেন টিকিট কাউন্টারে থাকা ব্যক্তি। ভিতরে প্রবেশ করে হাতের ডানেই রয়েছে মাটির তৈরি তৈজসপত্র নিয়ে দুটো বাণিজ্যিক পসরা। আর হাতের বামে ওয়াশরুম লেখা ভবনের পাশে দুটি সাইনবোর্ড দৃষ্টি কাড়ে। যেখানে লেখা এই দীঘির ইতিহাস। জানা যায়, স্থানীয় জনগণের পানি সংকট দূর করার জন্য ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে এ দীঘিটি খনন করা হয়। তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপ পরগনার রাজা শিব নারায়ন তার স্ত্রী রানী দুর্গাবতীর নামে এই দীঘি খনন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে রাণী দুর্গাবতী একটানা বিশ্রামহীন যতদূর পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছিলেন ততদূর পর্যন্ত এ দীঘি খনন করা হয়েছে। আর এ কাজে তখনকার সময়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

চন্দ্রদ্বীপের রানী দুর্গাবতীর নামেই দীঘিটির নামকরণ করা হয় দুর্গা সাগর। দীঘি খননে একরাতে রাণী প্রায় ৬১ কানি জমি হেঁটেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী দীঘিটি ৪৫ একর ৪২ শতাংশ জমিতে অবস্থিত। এর ২৭ একর ৩৮ শতাংশ জলাশয় এবং ১৮ একর চার শতাংশ পাড়। এছাড়া দীঘির চারপাশ দিয়ে ১.৬ কিলোমিটার হাঁটার রাস্তা রয়েছে। পাড়টি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১৪৯০ ফুট এবং প্রশস্ত পূর্ব-পশ্চিমে ১৩৬০ ফুট। দীঘিটির মাঝখানেই রয়েছে ছোট একটি দ্বীপ।

যা এ দীঘির সৌন্দর্য আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে তুলেছে। আর এখানেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঢাকা থেকে আগত দর্শক সাপ্তাহিক সময় পূর্বাপর পত্রিকার সম্পাদক ও গায়ক হাসান মাহমুদ বলেন, ঐ যে দ্বীপটি ওটিকে ঘিরেই হতে পারে এই দুর্গা সাগরের অন্যতম আকর্ষণ। পিকনিক স্পট যেটা পাড়ে তৈরি হয়েছে, সেটি ওখানে হতে পারে। পাশাপাশি ওখানে শিশুদের জন্য একটি বিনোদন ব্যবস্থা হলে খুবই চমৎকার হবে। তখন এই দীঘির আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাবে। বোটগুলোও নিয়মিত ব্যবহার হবে এরফলে। তবে সবার আগে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান হাসান মাহমুদ।

ঢাকা থেকে স্ব-পরিবারে এই দুর্গা সাগর দীঘির পাড়ে এসেছেন কবি ও কণ্ঠশিল্পী হাসান মাহমুদ। তার সহধর্মিণী বললেন, এখানে পাড়ে ঘুরতে বেশ ভালো লেগেছে। চমৎকার সবুজের বেষ্টনী ও মিনি চিড়িয়াখানার পরিকল্পনা। চারপাশের পরিচ্ছন্নতাও খুবই সুন্দর। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে আসা আমাদের বসার জন্য, খাবার জন্য একটু রিফ্রেশ হওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেই কেন? আধুনিক সুযোগ সুবিধা কিছুই নেই। ওয়াশরুম বা টয়লেট যা আছে তা খুবই নিম্ন মানের বলে জানান তিনি। এখানে সরকারি উদ্যোগে পর্যটনের রেষ্টরুম ও রেষ্টুরেন্ট থাকা উচিত বলে জানান তিনি।

এ সময় পাশে এসে দাঁড়ালেন ফরিদপুর থেকে আগত এক দম্পতি সোহেল ও শবনম। তারা বললেন, পশ্চিম পাড় থেকে আমরা দ্রুত এপাশে চলে এসেছি। ওপাশে এখন মোটরসাইকেল নিয়ে একদল বখাটে আড্ডা দিচ্ছে। দুর্গন্ধের সিগারেট বা গাঁজা ব্যবহার করছে ওরা। এটা এখানে আশা করিনা আমরা।

পটুয়াখালী থেকে আগত দু,জন দর্শনার্থী বলেন, পর্যটন স্পট এটি। টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। অথচ ভিতরে রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যেখানে বিনা টিকিটের রোগী প্রবেশ করেন। অনেকেই এটা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। ভিতরে ভিক্ষুকের জন্য বসা যায় না বলে জানান তারা।

এসময় বেশ আন্তরিকতা নিয়ে ছুটে এলেন এখানকার দীর্ঘদিনের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর খান। তিনি জানালেন, চলমান পরিস্থিতিতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশালের জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দুইবার ঘুরে গেছেন এখানে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটও এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। চারপাশে দেয়াল নির্মাণ শেষ হয়েছে। প্রধান ফটকের কাজ শেষ হলেই কার পার্কিং ব্যবস্থার কাজ শুরু হবে। এগুলো শেষ হলে নিরাপত্তা বিষয়ে আরো সচেতন হওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বরিশালের ভূমি ও পর্যটন দপ্তরের অধীনে মাধবপাশার এই দুর্গা সাগর দীঘিতে নিয়মিত মাছ ধরে নিয়ে যায় সরকারি কর্মকর্তারা। পদাধিকার বলে এটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। প্রশাসনের উদ্যোগেই এখানে পিকনিক স্পট ও টিকিট কেটে মাছ ধরার ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রতিদিন এই দীঘি থেকে গড় আয় ৫০০০ টাকা। শুক্র ও শনিবার ১২-১৫ হাজার টাকাও হয় বলে জানা গেছে। এরপরেও দর্শনার্থীদের যত্নের কোনো ব্যবস্থা নেই এই পর্যটন স্পষ্টে।




পুলিশের করা মামলায় ১০ বছর পর খালাস ১২৫ নেতাকর্মী

বরিশাল অফিস :: সড়ক অবরোধ ও যানাবাহনে হামলা ভাংচুরের অভিযোগে পুলিশের করা মামলায় বিএনপির ১২৫ নেতাকর্মীকে খালাস দিয়েছে আদালত। সোমবার বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম হাবিবুর রহমান চৌধুরী এ আদেশ দেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. আরামান হোসেন জানিয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন : বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান, সদস্য সচিব এ্যাড. আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, ১ নম্বর যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের মশিউর রহমান মঞ্জু, মোমেন সিকদার, মাসুদ হাসান মামুন, নুরুল আমিন, কামরুল ইসলাম রতন, শাহে আলম মেম্বর রফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী জানান, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের আহবানে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর অবরোধের সমর্থনে নগরীর কাশিপুর সুরভী পেট্রোল পাম্পের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় থ্রি-হুইলার ও অটোরিক্সা ভাংচুরসহ মহাসড়কে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের ধাওয়া করে। তখন তারা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করে।

থানার এসআই নুরুল আলম তালুকদার ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট জমা দেয়। স্বাক্ষীদের সাক্ষ্যে আসামীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমান না হওয়ায় সকলকে খালাস দেয়া হয়েছে।




ভোলায় ২০ বছর ধরে অবহেলায় মেজর হাফিজ স্টেডিয়াম

বরিশাল অফিস :: লালমোহন উপজেলার একমাত্র খেলাধুলার জন্য নির্মাণাধীন বীর বিক্রম মেজর হাফিজ স্টেডিয়াম ২০ বছর ধরে অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দলীয় নেতাদের অনিচ্ছার কারণে দেশের একজন শীর্ষ ক্রীড়াবিদের নামে এই স্টেডিয়ামটি আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি বিগত সরকারের আমলে এটির নামও পরিবর্তন করতে চেয়েছিলো একটি মহল।

শেষ পর্যন্ত তা না পেরে স্টেডিয়ামটিকে পরিকল্পিতভাবে পৌরসভার ময়লার ভাগারে পরিণত করেছেন। এরসাথে গরুর খোয়াড় এবং পল্লী বিদ্যুতের খুটি রেখে স্টেডিয়ামের মাঠটিকে পরিত্যাক্ত করে রাখা হয়েছে। এখানে যুবসমাজকে খেলাধুলার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত রাখায় স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তন হলে স্থানীয় ছাত্র ও ক্রীড়াপ্রেমীরা স্টেডিয়ামটিকে দখলমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন করে খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন।

জানা গেছে, ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে লালমোহন পৌর এলাকার প্রান্ত সীমানায় লাঙ্গলখালী এলাকায় প্রায় ৪ একর জমিজুড়ে আরব আমিরাতের একটি স্টেডিয়ামের আদলে ২০০৪ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয় স্টেডিয়ামটির। এটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্ণামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হতো। দ্বিতল এই অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম ভবনে ভিআইপি লাউঞ্জ, প্রেসবক্স, প্লেয়ার লাউঞ্জসহ আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধার পরিকল্পনা ছিল। থাকতো মাঠের চারদিকে দর্শক গ্যালারী। ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরে ১৯৯৫ সালে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য জাতীয় ফুটবলার দৌলতখানের সন্তান মোঃ গজনবীর কাছ থেকে ৫ একর জমি ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন লালমোহন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে ওই জায়গায় ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল স্টেডিয়ামটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখায় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠক হওয়ার সুবাদে তার নামেই নামকরণ হয় ‘বীর বীক্রম হাফিজ উদ্দিন স্টেডিয়াম’। সে সময়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে টেন্ডার আহবান করে স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এর পর আরো ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও মাঠে মাটি, বালু ভরাটের জন্য ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পায়।

বরাদ্ধকৃত অর্থ দিয়ে বালু ভরাট ও মূল গেটটি করা সম্পন্ন হলেও গ্যালারী করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই স্টেডিয়ামের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার আর কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। মেজর হাফিজের নামে নামকরণ হওয়ার কারণে এটি নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি বরং এর নাম পরিবর্তন করার জন্য ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে ‘শেখ রাসেল স্টেডিয়াম’ নাম দিয়ে প্রস্তাব পেশ করে। বর্তমানে নির্মিত আংশিক ভবন অযতœ অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের জন্য নির্মিত মাঠ এখন গরু ছাগলের খোয়াড়ে পরিণত হয়েছে।

পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলা এবং পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রাখার কারণে মাঠটি পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি নির্মিত ভবনটির মধ্যে এক পরিবার বসতঘর বানিয়ে বসবাস করে আসছে গত ২০ বছর ধরে।

ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা স্টেডিয়ামটিকে সংস্কার করে খেলার উপযোগী করার দাবীতে সোমবার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও খেলোয়াড়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাক্ষাত করেন। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মুছা কালিমুল্লাহ, মেহেরাব হোসেন অপি জানান, শিগগিরই স্টেডিয়ামটিকে খেলার উপযোগী করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, স্টেডিয়ামটি খেলার উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে বলা হয়েছে মাঠে রাখা তাদের খুঁটিগুলো সরিয়ে নিতে। আশা করি সকলের সহযোগিতায় স্টেডিয়ামটি পরিপূর্ণতা পাবে।




বরিশালে ১৬ লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে কৃষি যোদ্ধারা

বরিশাল অফিস :: নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে আসন্ন রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে ১৬ লক্ষাধীক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষে মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন কৃষি যোদ্ধারা। ইতোমধ্যে বরিশালের বেশ কিছু এলাকায় শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষে ভাসমান বীজতলা তৈরী সম্পন্ন হয়েছে। নদ-নদী ও অসংখ্য খালবেষ্টিত বরিশাল কৃষি অঞ্চল দেশের অন্য এলাকার তুলনায় কিছুটা নীচু এবং মৌসুমী বায়ু দেরীতে বিদায়ের কারণে বর্ষাও কিছুটা বিলম্বিত হয়ে থাকে। ফলে শীতকালীন সবজি আবাদের সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক জমিতে পানি আটকে থাকায় আবাদ বিলম্বিত হয়।

এসব কারণে গত কয়েক দশক ধরে বানারীপাড়া, উজিরপুর ও নেছারাবাদ সহ কয়েকটি এলাকার বিল অঞ্চলে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজিসহ নানা ধরনের বীজের আবাদ হচ্ছে। ফলে এসব বীজতলা থেকে বর্ষা বিদায়ের সাথে শীতকালীন সবজির চারা উত্তোলন করে রোপন সম্ভব হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম সময়ে সবজির আবাদ ও উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে জমিতে আদ্রতা বিরাজ করার সাথে শীতকালীন সবজি সহ বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ সহজতর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে বিশে^র শতাধীক দেশে বর্তমানে বাংলাদেশের যে কৃষি পণ্য রপ্তানী হচ্ছে সেখানে বরিশাল অঞ্চলের সবজি রয়েছে। এরমধ্যে শীতকালীন সবজিই অন্যতম প্রাধান কৃষিপণ্য। আগামীতে এ বাজার আরো সম্প্রসারণের লক্ষে সরকার দেশে সবজির আবাদে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

আসন্ন রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে অন্তত ১৪ লাখ হেক্টরে শীতকালীন সবজি সহ বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে শুধু ৪ লক্ষাধীক হেক্টরে বোরো ধান আবাদের মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকা হওয়ায় এখনো বরিশাল অঞ্চলের জমিতে আমন ধান থোর পর্যায়ে রয়েছে। এ অঞ্চলে আমনের কর্তন শুরু হতে আরো অন্তত ৩০-৪৫ দিন বাকি রয়েছে।

তবে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা এখন ক্রমে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন শীতকালীন সবজি আবাদে। আসন্ন রবি মৌসুমে কৃষি মন্ত্রণালয়  দেশের প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমিতে আবাদের মাধ্যমে প্রায় সোয়া ২ কোটি টন শীতকালীন সবজি উৎপাদন লক্ষ্য অর্জনে কাজ করেছে। এরমধ্যে শুধু বরিশাল কৃষি অঞ্চলেই প্রায় ৭৮ হাজার ৭৯৫ হেক্টরে ১৬ লাখ ৮ হাজার ৫৫ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষে কাজ শুরু করেছেন কৃষি যোদ্ধারা। ইতোমধ্যে অপেক্ষাকৃত উচু জমিতে লালশাক ও পালং শাক এর কিছু আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। শিম, পটল, ফুলকপি, বাধাকপি, শালগম, গাজর, মুলা সহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হবে চলতি মাসের শেষভাগে। তবে এর বাইরে লাউ সহ বেশ কিছু সবজি এখন ১২ মাসই আবাদ ও  উৎপাদন হচ্ছে।

কৃষকরা বর্ষা বিদায়ের সাথে দ্রুততম সময়ে শীতকালীন সবজি আবাদের মাধ্যমে তা বাজারজাত করে ভাল মুনাফা ঘরে তুলতে জমি তৈরী সম্পন্ন করে ভাসমান সবজি বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপনের চেষ্টা করছেন। এ অঞ্চলে শীতকালীন সবজির আবাদ বিলম্বিত হওয়ায় এখনো দেশের  দক্ষিণÑপশ্চিমাঞ্চলের সবজি বরিশাল অঞ্চলের বাজারে আসছে। ফলে পরিবহন ব্যয়জনিত কারণে দামও কিছুটা চড়া। এবার ভাদ্রের পূর্ণিমা ও আশি^নের অমাবশ্যার ব্যাপক বর্ষণে বরিশাল অঞ্চলের গ্রীষ্মকালীন সবজির অন্তত ৮০ ভাগই বিনষ্ট হয়েছে। ফলে সবজির দামও অনেক বেশি।

কৃষকরা আশা করছেন আগামী ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি বরিশাল অঞ্চলের বাজারে আসতে শুরু করলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, দেশে গত বছর প্রায় ২ কোটি টনের মত শীতকালীন সবজি উৎপাদন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে চলতি অর্থ বছরে তা প্রায় ২.১০ কোটি টনের কাছে পৌঁছতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে গবেষনা কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্যসব ফসলের মত বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট ‘বারী’। ফলে কম জমিতে অধিক সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ ঘটছে।