দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পটুয়াখালীবাসীর নাভিশ্বাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী পৌর নিউ মার্কেট, পুরাতন বাজার, কলাতলা বাজার এবং হেতালিয়া বাধঘাটসহ জেলাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত এক সপ্তাহে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে ক্রেতাদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ১৬ অক্টোবর (বুধবার) সকালে বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা চড়া দামে পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদ ইব্রাহিম বলেন, “কাঁচামরিচের দাম শুনেই মাথা ঘুরে গেল। ২০০ গ্রাম কাঁচামরিচ কিনেছি ১৪০ টাকায়। আয়ের সঙ্গে খরচের সমন্বয় করতে পারছি না।”
পটুয়াখালীর পৌর নিউ মার্কেটে সবজির দাম বেশ চড়া। কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়, আলু ৬০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকায়, লাউ প্রতি পিস ১০০-১৩০ টাকায়, টমেটো ৩০০ টাকায়, করলা ১০০ টাকায়, বরবটি ১২০ টাকায়, লাউ শাক ৫০ টাকায়, কাঁকরোল ১০০ টাকায়, গাজর ২০০ টাকায়, বেগুন ১৩০ টাকায় এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
শহরের গৃহবধূ শাহিদা বেগম বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যেই সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। সরকার যেন এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়।”
ব্যবসায়ীদের মতে, বর্ষার কারণে সবজি উৎপাদনে ভাটা পড়েছে এবং তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন হ্রাস এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধির ফলে এই মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে।
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে পটুয়াখালীর বাজারে মাছের সরবরাহও কমে গেছে, যার ফলে স্থানীয় মাছের দামও বেড়েছে। ক্রেতা মো. ওরম ফারুক বলেন, “মাছের দাম এত বেড়ে গেছে যে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য মাছ খাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে, বাজারদর নিয়ন্ত্রণের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করেছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য বাজার নিয়ন্ত্রণ করা। পটুয়াখালীতে কোনো সিন্ডিকেট চলতে দেওয়া হবে না। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”









