বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মনে করে না অন্তর্বর্তী সরকার: উপদেষ্টা নাহিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মনে করে না অন্তর্বর্তী সরকার। আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে আট জাতীয় দিবস বাতিল প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মনে করে আওয়ামী লীগ। এ দেশের, এই ভূখণ্ডের জন্য বহু মানুষের অবদান আছে।’

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘যেসব জাতীয় দিবস বাতিল করা হচ্ছে, সেগুলো চাপিয়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ফ্যাসিস্ট আচরণ ছিল সেটা। সরকার মনে করেছে সেগুলো অগুরুত্বপূর্ণ, তাই বাতিল করা হচ্ছে।’

৭ই মার্চ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা জাতীয় দিবসের গুরুত্ব পায় না বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। প্রয়োজনে আরও কোনো দিবস বাতিলের প্রয়োজন মনে হলে করা হবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্ব হিসেবে কোনো কোনো দিবস প্রতিষ্ঠিত করা হবে বলেও জানান তিনি।




ঢালাও মামলা, ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় ঢালাওভাবে মামলা করে বাছবিচার ছাড়াই আসামি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি চক্র মেতেছে মামলাবাণিজ্যে।

রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে প্রকৃত অপরাধী পার পেয়ে আহত ও নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

জানা গেছে, ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর থেকে ১৩ অক্টোবর (রোববার) পর্যন্ত সারা দেশে দায়ের হওয়া প্রায় ১২ হাজার মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৩২ হাজার জনের বেশি। যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা মামলা।

সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষ থেকে গঠিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি। প্রাথমিক তালিকায় মোট এক হাজার ৫৮১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে তারা। তবে সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ৭১৭ জন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ এবং অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নিহতদের অধিকাংশেরই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। যে অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে আলামত হিসেবে সেগুলোও উদ্ধার বা শনাক্ত নেই। উদ্ধার হয়নি হত্যায় হত্যায় ব্যবহৃত বা গুলির খোসা। আবার অনেক আগেই মারা গেছে- এমন ব্যক্তিদের অনেককে এজাহারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ড চালানোর কথা উল্লেখ করে আসামি করা হচ্ছে।

অধিকাংশ মামলাতেই দেখা গেছে, বাদী সব আসামি বা সাক্ষীকে চেনেন না। মামলায় অপরাধ প্রমাণের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এমন দুর্বল দিকগুলো ভাবিয়ে তুলেছে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের। অনেকেই মনে করছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে আলোচিত এসব মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে আসামি করে ঢালাও মামলা হয়েছিল। যে ঘটনা ঘটেনি, সেই অভিযোগে করা এসব মামলা গায়েবি মামলা নামে পরিচিতি পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ নেতা এবং দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলায় তারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।

বাছবিচারহীন মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপিও। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মামলা নথিভুক্ত করার আগে প্রাথমিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের প্রতি। সম্প্রতি তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খাগড়াছড়িতে ঘটনা ঘটলে, মামলা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। এমন কোনো মামলা দেবেন না, যার সারবস্তু থাকবে না।

আইন ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করেছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিটির সভাপতি, পুলিশ সুপার (মহানগর এলাকার জন্য পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনার) ও পাবলিক প্রসিকিউটরকে (মহানগর এলাকার মামলাসমূহের জন্য মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর) সদস্য এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু তদন্তের জন্যও একটি পৃথক সেল করা দরকার। এতে করে মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতা থেকে রেহাই পাবে। ক্ষতিগ্রস্তরাও সঠিক বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর শুরু হয়েছে ভিন্নধারার গ্রেফতার অভিযান। আগস্টে গ্রেফতার হয় ৮ হাজার ৫৫৯ জন। সেপ্টেম্বরে ১৪ হাজার ১৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী। অক্টোবরে এসে গত শনিবার পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা-হত্যার ঘটনায় গত ৬ আগস্ট থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সাবেক ও বর্তমান ৪৫১ পুলিশ কর্মকর্তা আসামি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ২০ জন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, ১১ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ৪২ জন পুলিশ সুপার এবং ২৬ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার। সাবেক দুই আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং এ কে এম শহীদুল হকসহ ১৭ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এদের প্রায় সবাই হত্যা মামলার আসামি।

ঢালাও মামলার বিষয়ে অপরাধবিষয়ক সিনিয়র আইজীবী ব্যারিস্টার খালিদ আদনান বলেন, ৩০২ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ফৌজদারি আইনে অধিকাংশ মামলা হয়েছে থানায় বা আদালতে। এসব মামলায় হুকুমের আসামিও রয়েছেন। ফৌজদারি আইনে একটি হত্যা মামলার অপরাধ তদন্তে এবং বিচারে কিছু আলামতের গুরুত্ব অনেক বেশি। যেমন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। এতে করে আঘাত এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিশদ তথ্য পাওয়া যায়।আরেকটি হচ্ছে, হত্যার ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হলে ব্যবহৃত অস্ত্র ও বুলেট শনাক্ত এবং সেগুলো উদ্ধার করা। সেগুলো কি সম্ভব হয়েছে? আমার জানা মতে, সিংহভাগ ঘটনাতেই হয়নি। সংঘর্ষে মারা গেলেও কার গুলিতে বা কোন অস্ত্রের গুলিতে মৃত্যু ঘটেছে তাও নির্ণয় করা জরুরি। এখানে সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না? হুকুমদাতার নাম আছে, কিন্তু হুকুম পালন করে কে হত্যা করল সেটা তদন্তে বের হয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠন করা হলে ভালো হতো। এখনও সেটা করা সম্ভব। এমনও ব্যক্তি আছেন যার বিরুদ্ধে দেড় থেকে দুইশ মামলা হয়েছে। এখন বিচ্ছিন্নভাবে এসব মামলার তদন্ত করতে গেলে এবং আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে কত বছর লেগে যাবে সেটাও ভেবে দেখা দরকার। এতে তদন্ত ও বিচার শেষ করতে অনেক সময় পার হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।




১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ওঠা হাইকোর্টের ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান বিচারপতি তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের দপ্তরে চায়ের দাওয়াতে একে একে প্রবেশ করছেন অভিযোগ ওঠা হাইকোর্টের বিচারপতিরা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চারজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির চায়ের দাওয়াতে এসেছেন। তারা হলেন- বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান ও বিচারপতি শাহেদ মো. নুরউদ্দিন। তাদের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

এদিকে, বিতর্কিত ও আওয়ামীপন্থি বিচারকদের অপসারণের দাবিতে হাইকোর্ট চত্বরে আন্দোলন করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। তাদের স্লোগান, অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল পুরো হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই,’ ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ,’ ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান,’ ‘ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, হাইকোর্ট ঘেরাও হবে,’ ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ,’ ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা,’ ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম,’ ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।




অভিযোগ ওঠায় ১২ বিচারপতিকে চায়ের আমন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় ১২ বিচারপতিকে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

মঙ্গলবার সকালে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এই ১২ বিচারপতির বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তারা সাবেক ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে এই ১২ বিচারপতি আর বিচারকার্যে ফিরতে পারবেন না। তারা বিচারিক ক্ষমতা হারাতে পারেন।

এদিকে আওয়ামীপন্থী বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম আজ বুধবার বেলা ১১টায় এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।




৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অন্তর্বর্তী সরকার ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ মোট আটটি জাতীয় দিবস বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার (১৬ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাতিল হতে যাওয়া দিবসগুলো হলো ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস, এবং ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস।

সরকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। ৭ অক্টোবর তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।




সাবেক এমপি রশীদুজ্জামান মোড়ল গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সহিংসতা ও বিস্ফোরক দ্রব্যের তিন মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রশীদুজ্জামান মোড়লকে গ্রেফতার করেছে র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍‍্যাব)।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) ভোর রাতে পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকা থেকে র‍‍্যাব-৬ ও র‍‍্যাব-৮এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍‍্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।




৭ মার্চ, ১৫ আগস্টসহ জাতীয় আট দিবস বাতিল হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকসহ আটটি দিবস বাতিল করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার (১৬ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়– ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট শেখ হাসিনার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস ও ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস বাতিল হচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে উপদেষ্টা পরিষদ এসব জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৭ অক্টোবর তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।




বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাইকোর্ট ঘেরাও

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিতর্কিত ও আওয়ামী পন্থি বিচারকদের অপসারণের দাবিতে হাইকোর্ট ঘেরাও করেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে তারা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের হাইকোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এরপর তাদের সঙ্গে যোগ দেন আইনজীবীরাও। তবে আগে থেকেই হাইকোর্ট গেটসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এদিন বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল হাইকোর্টের উদ্দেশ্যে বের হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনী হাসিনার ফাঁসি চাই’; আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’; স্বৈরাচারের দালালেরা, হুশিয়ার সাবধান’; ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, হাইকোর্ট ঘেরাও হবে’; দালালী না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’; ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) আওয়ামীপন্থি বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম।পোস্টে তারা লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল সকাল ১১টায় হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি।




সাকিব ঢাকায় আসছেন বৃহস্পতিবার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাকিব আল হাসান সদ্যসমাপ্ত ভারত সিরিজের মাঝামাঝিতে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন। জানান দেশের মাটিতে খেলতে চান নিজের সবশেষ টেস্টটা। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তা পড়ে গিয়েছিল শঙ্কায়। অবশেষে সব শঙ্কা উড়িয়ে সাকিব কাল আসছেন ঢাকায়, মিরপুরের মাটিতেই খেলবেন তার বিদায়ী টেস্টটা।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সে টেস্টটা শুরু হবে আগামী ২১ অক্টোবর। এই সিরিজ খেলতে ঢাকায় আজ পা রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা দল। তবে সাকিব আসবেন তার পরদিন, মানে বৃহস্পতিবার। বিষয়টি স্পোর্টসবাংলাকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টিম অপারেশন্সের একটি সূত্র।

গেল জানুয়ারিতে সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের প্রার্থী বনে মাগুরা ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। এরপর গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনিও পড়ে গেছেন রোষানলে। গত ২৪ আগস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি হত্যা মামলায় তাকেও আসামী করা হয়।

সাকিব এর আগে জুলাই মাসের শুরু থেকেই ছিলেন দেশের বাইরে। সরকার পতনের পর থেকে তিনি আর ঢাকায় পা রাখেননি। এরই মধ্যে তিনি ঘোষণা দেন ঢাকায় শেষ টেস্টটা খেলার। তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সাকিবের এই চাওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

অবসরের ঘোষণার আগেও সাকিবের দেশে আসা নিয়ে কথা বলেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যরা। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ‘আশাবাদ ব্যক্ত করেন’ যে সাকিবকে গ্রেফতার করা হবে না, ‘সাকিবের বিরুদ্ধে স্রেফ একটা মামলা করা হয়েছে। মামলা হওয়া বা এফআরআই হওয়া মানে গ্রেপ্তার না। আমি আশা করি তাকে গ্রেফতার করা হবে না।’

এরপর তার অবসর ঘোষণায় সাকিব ফাঁক রেখে দেন এই বলে যে, ‘যদি সিলেক্টেড হই’ তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেই হবে শেষ টেস্ট। বোর্ড সভাপতি ফারুক আহমেদ জানান বিষয়টা সরকারের হাতে।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই বিষয়ে জানান, ‘খেলোয়াড় সাকিবের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আছে। তবে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে জনমনে তৈরী হওয়া ক্রোধের বিপরীতে নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া অবান্তর।’ সেদিন ক্রীড়া উপদেষ্টা সাকিবকে তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার বিষয়ে আহ্বান জানান। এরপর সাকিব সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটা ফেসবুক পোস্টও করেন, যেখানে জানান ‘তার মাগুরার উন্নয়নের’ জন্য সংসদ সদস্য হতে চেয়েছিলেন তিনি।

এরপর তার বিষয়ে খানিকটা নমনীয় সুর শোনা যায় ক্রীড়া উপদেষ্টার কণ্ঠে, ‘তিনি (সাকিব) এমন একজন খেলোয়াড়, যার দেশের জন্য অনেক অবদান রয়েছে। তিনি যেহেতু বাংলাদেশে নিজের শেষ টেস্ট খেলতে চান, আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই সেই ‍সুযোগ তিনি পান।’

গত ১৩ অক্টোবর মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেট পরিদর্শনকালে সাকিবের বিষয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তখন তিনি তার জবাবে বলেন, ‘সাকিব বাংলাদেশের নাগরিক ও একজন ক্রিকেটার। তার আসা ও যাওয়ার (দেশে) ক্ষেত্রে তো আমি কোনো বাধা দেখি না। তবে দেয়াল লিখন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে যেমনটা আমরা দেখেছি, এটা আসলে ইমোশনের ব্যাপার। আর যারা এটা করছে তাদেরও ওই রাইটসটা আছে গণতান্ত্রিক দেশে, যে কোনো আন্দোলন বা যে কোনো কিছু করার। তবে এক্ষেত্রে আমার কথা থাকবে, কারো নিরাপত্তা যেন আমরা হুমকির মুখে না ফেলি। যদি আইনগত কোনো বিষয় থাকে, তাহলে সেটা আইন দেখবে, আমি এই আইনগত বিষয়ে কোনো কমেন্ট করতে পারব না। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।’

এরপরই দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক। আগামীকাল সে প্রক্রিয়া শেষে ঢাকায় পা রাখবেন তিনি। আগামী শুক্রবার থেকে সাকিব যোগ দেবেন দলের সঙ্গে। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষেই সাকিব সাদা পোশাককে বিদায় বলবেন।




হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচিতে নাগরিক কমিটিও আছে ছাত্রদের সঙ্গে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামীপন্থী বিচারপতিদের মিছিলের প্রতিবাদে তাদের অপসারণ চেয়ে বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। একই সময়ে হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত গণমাধ্যমকে জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর থেকে একটি গণজমায়েত হাইকোর্টের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে সেখানে আগেই আমাদের লিগ্যাল উইংয়ের সদস্যরা থাকবেন।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের ডাকে সাড়া দিয়ে সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ ঘটনায় হাসনাত আব্দুল্লাহ হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের ডাক দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতা রাস্তায় ইনসাফ কায়েমের জন্য রক্ত দেবে, আর আপনারা আদালতে বিচারকের আসনে বসে জুলুম কায়েম করবেন?