মহিষে সচল ভোলার গ্রামীণ অর্থনীতি

বরিশাল অফিস :: ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক বিচ্ছিন্ন চর রয়েছে। এসব চরে সরকারি হিসেবে ১ লাখ ৪০ হাজার মহিষের হিসেব থাকলেও সংখ্যায় প্রায় ২ লাখ মহিষ রয়েছে। ৯৭ টি মহিষের বড় বাতানসহ প্রায় ৭০৫ দুগ্ধ খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার দুধ আসে। এসব দুধ ও দুধের তৈরি দই দিয়ে জেলার ২১ লাখ মানুষের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা পূরণ করছে। নদীর মাঝখানে এসব চরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এলাকা জুড়ে সবুজ ঘাসের সমারোহ।

আর এসব চরে পালন করা হয় হাজার হাজার মহিষ। সবুজ ঘাস খেয়ে পালিত হয় এসব মহিষ। ১২২০ সালে বঙ্গোপসাগর মোহনায় জেগে উঠে দ্বীপ জেলা ভোলা। এরপর এখানে গত ৪০০ বছর ধরে ক্রমশই জনবসতি গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হলে তারা মহিষ, গরু, ছাগল পালন শুরু করেন। ভোলা দ্বীপ হওয়াতে এখানকার ছোট বড় অসংখ্য চরে মহিষ পালনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে অবস্থা সম্পন্ন গৃহস্থ পরিবারগুলোর শত শত মহিষ পালন করে। স্থানীয়দের ধারণা, প্রায় ২০০ বছর ধরে এই জেলায় মহিষের দুধ থেকে কাঁচা দই উৎপাদন শুরু করে। যা ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান সময়েও জনপ্রিয়। এখানে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ এমন কোনো অনুষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়নি।

মহিষ পালনকারী ভোলার চরের আব্দুল রশিদ বলেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২০০১ সালে চারটি মহিষ নিয়ে যাত্রা শুরু করি। এখন আমার ৪১টি মহিষ। বর্তমানে তার দুই একর জমি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। এ মহিষের দুধ বেঁচে তিনি তার সংসারের খরচ মেটান। ভোলায় এখন মহিষ পালনে চরাঞ্চলের সবাই ঝুঁকছে। এতোদিন শুধু বাতানে পালন হলেও এখন তা বাড়িতে বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশেও পালন হচ্ছে। মহিষ পালনে দিন বদলের এ গল্প জেলার অনেক কৃষকের।

মহিষের বাতান মালিক জাকির হাওলাদার বলেন, তার ৯৫টি মহিষ রয়েছে। এটা আমার দাদা পালন করেছে। তারপর চাচা পালন করেছে, এখন আমি করছি। তবে আগে মহিষ একটু কিছু না হতেই মরে যেত। তাই অনেকে বেশি পালন করতে চাইতো না। কিন্তু এখন কৃমিনাশক ওষুধ ও বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন দেয়ার কারণে মহিষ মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে। অন্যদিকে মাংস ও দুধের দাম বাড়ার কারণে লাভের পরিমাণও বেড়েছে। তাই অনেকের মতো আমারো বেশি মহিষ পালনের আগ্রহ বেড়েছে। আমি এ মহিষ পালন করে প্রায় ৫ একর জমি কিনেছি।

স্থানীয় দই বিক্রেতারা বলেন, সাধারণত দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের দই (টালির) চাহিদা বেশি। বর্তমানে দেড় কেজি ওজনের দধি ২০০ ও দুই কেজি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দই থেকে মাখন, ঘি ও ঘোল বানানো হয়। মাখনের কেজি ৯০০ ও ঘিয়ের কেজি ১২ শত ১৪ শত টাকায় বিক্রি হয়। এর ভালো দাম পাওয়ায় তাদের লাভও ভালো হয়।

তবে দুধের দাম বৃদ্ধি পেলে দইর দামও বাড়ে বলে জানান তিনি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভোলা সরকারি হিসেবে জেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার মহিষ রয়েছে। এতে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার দুধ আসে। এগুলো জলা মহিষ, এসব মহিষ পালন করে তারা মাংস ও দুধ উৎপাদনের জন্য। আমাদের মুদ্রাজাতের মহিষ উৎপাদনের জন্য বাগেরহাট ও টাঙ্গাইলে দুটি মহিষ প্রজনন খামার আছে। সেখান থেকে ভোলাতে আমরা ১৫০টির মত চেলা মহিষ বিতরণ করেছি, এই চেলা মহিষ দিয়ে বাতানের মহিষগুলোকে কোড়াছ করে উন্নত জাতের মুদ্রাজাতের মহিষ উৎপাদনের জন্য কাছ করছি যাহাতে প্রতিটি মহিষ প্রথম থেকেই ১০ থেকে ১৫ কেজি দুধ উৎপাদন করতে পারে।




শেবাচিমে অগ্নি নিরাপত্তা হীনতায় ঝুঁকিতে রোগী

বরিশাল অফিস :: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও, হাসপাতালের মূল ভবনসহ পাঁচতলা প্রশাসনিক ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। এমনকি ভবন নির্মাণের নকশাতেও কোনো অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গত রোববার সকালে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার স্টোররুমে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দাহ্য পদার্থের ধোঁয়ায় পুরো ভবনটি আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেও, আগুন নিচতলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। অব্যবস্থাপনার শিকার মেডিসিন ওয়ার্ডটি যেখানে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে প্রায় ৩শ রোগী মেঝেতে চিকিৎসাধীন থাকেন। অগ্নিকাণ্ডের সময়ও কয়েকশ রোগী পাঁচতলা ভবনে ভর্তি ছিলেন, যা রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তোলে।

হাসপাতালের আইসিইউতে প্রায় ৫০ জন রোগী ছিল, যাদের সরিয়ে আনতে দমকল কর্মী, পুলিশ এবং হাসপাতালের কর্মীরা একত্রে কাজ করেন। তবে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

অতীতে এমন কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালে শর্টসার্কিট থেকে করোনা ওয়ার্ডে আগুন লাগে। এরপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে হৃদরোগ বিভাগের আইসিসিইউতে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা এক রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।

রোববারের অগ্নিকাণ্ডের পর আবারও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনো অগ্নিকাণ্ডের উৎস চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। যদিও প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে ঘটনার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে পরিচালক পদে দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী নিয়োগ না থাকায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের মুখে পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম পদত্যাগ করেন এবং তাকে ওএসডি করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মহল থেকে সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোর থেকে নতুন পরিচালক নিয়োগের দাবি উঠেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি, ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই হাসপাতালটি চলছে অপ্রতুল ব্যবস্থাপনায়।

দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এই হাসপাতালটিতে রোগীদের চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।




লেবানন সংকট: অর্ধশত বাংলাদে‌শিকে দিয়ে প্রত্যাবর্তন শুরু করবে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : লেবানন চলমান যুদ্ধ প‌রি‌স্থি‌তি‌র কার‌ণে দে‌শে ফিরতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছে। প্রথম দফায় আগামী ২১ অক্টোবর ৫৩ জন বাংলা‌দে‌শির দে‌শে প্রত্যাবর্তন করার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বা‌কি‌দের দে‌শে প্রত্যাবর্তন করা হ‌বে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূ‌ত্রে এসব তথ্য জানা গে‌ছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় লেবানন থে‌কে দে‌শে ফেরার জন্য বৈরুতের বাংলা‌দেশ দূতাবাসে নিবন্ধন ক‌রে‌ছেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি। তা‌দের পর্যায়ক্রমে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। খুব দ্রুতই প্রথম দফায় ৫০ এর বে‌শি বাংলা‌দে‌শি‌কে দে‌শে প্রত্যাবর্তন করার কথা রয়েছে।

ঢাকার এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ব‌লেন, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ অক্টোবর প্রথম দফায় ৫৩ জন বাংলাদেশি ফেরত আসবে। পর্যায়ক্রমে বা‌কি‌দের দে‌শে আনা হ‌বে।

বাংলাদেশিদের ফেরা‌নোর প্রক্রিয়া সম্প‌র্কে এ কূটনী‌তিক ব‌লেন, সম্ভাব্য যে কটি প‌থে বাংলা‌দে‌শি‌দের ফেরত আনা যায় সেই প্রচেষ্টা করা হ‌চ্ছে। প্রথম দফায় যে দলটি ফিরবে তা‌দের লেবানন থেকে জেদ্দায় নেওয়া হ‌বে। প‌রে জেদ্দা থেকে ঢাকায় আনা হবে।

জানা গে‌ছে, লেবানন থে‌কে বাংলা‌দে‌শি‌দের প্রত্যাবর্তনের ক্ষে‌ত্রে প্রথমে আহত, অসুস্থ, নারী ও শিশুরা আসবে। পরে পর্যায়ক্রমে সবাইকে নিয়ে আসা হবে।

বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক‌টি সূত্র জানায়, লেবানন চলমান যুদ্ধ প‌রি‌স্থি‌তি‌র কার‌ণে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১১ জন বাংলাদেশি নাগ‌রিক আহত হ‌য়ে‌ছেন। আহত বাংলা‌দে‌শিরা হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসারত অবস্থায় র‌য়ে‌ছেন।




আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত : চাকরিতে প্রবেশের বয়স সবার জন্যই ৩৫ হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ৩৫ বছর করা হচ্ছে। একই বয়সসীমা নির্ধারণ করে একটি খসড়া প্রস্তাব আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উত্থাপন করা হবে। এজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নারী চাকরি প্রত্যাশীদের বয়সসীমা ৩৭ করা হলে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হবে। এছাড়া নারী চাকরি প্রার্থীরা এত বেশি বয়সে চাকরির আবেদন নাও করতে পারেন। তবে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন, স্বশাসিত সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা অধ্যাদেশ-২০২৪ নামে অভিহিত হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এদিকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি নিয়ে একেকবার একেক ধরনের সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের করিডরে সাংবাদিকদের বলেন, চাকরিতে প্রবশের বয়সসীমা মেয়েদের জন্য ৩৭ এবং ছেলেদের ৩৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেয়েদের এ ধরনের সুবিধা পাশের দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মঙ্গলবার পাঠানো প্রস্তাবে ছেলে ও মেয়েদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা একই (৩৫ বছর) করা হয়েছে।




সুদহার বাড়ছে সঞ্চয়পত্রের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ব্যাংকে আমানতের সুদহার বাড়ার কারণে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া এখন থেকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের প্রতি মাসে সুদের টাকা দেওয়া হবে। মাস শেষে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদের টাকা জমা হবে।

একই সঙ্গে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডসহ সঞ্চয় অধিদপ্তর পরিচালিত ১১টি সঞ্চয় স্কিমের বিনিয়োগগুলো মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে।

গতকাল মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত সরকারের রাজস্ব আয়ে

ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।




ভোটার তালিকা হালনাগাদে ইসির প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য সকল বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে আগাম তথ্য গ্রহণ করতে হলে ভিন্ন ভিন্ন সময়সূচি ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন।

ইসি সচিব শফিউল আজিম স্বাক্ষরিত ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সহজিকরণ এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নিমিত্ত সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কার্যালয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য কী পরিমাণ সরঞ্জাম আছে, কী পরিমাণ লাগবে, তার হিসাব চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বছর একসঙ্গে কত বছরের আগাম তথ্য নেওয়া হবে তা নির্ধারণ হয়নি। আগাম তথ্য নেওয়া হলেও কর্মপরিকল্পনা ও সময় থাকবে ভিন্ন ভিন্ন।

ইসি সচিব শফিউল আজিম বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ভোটার নিবন্ধন কাজে ব্যবহৃত মালামালের বর্তমান অবস্থা জানার জন্য মাঠ পর্যায়ে পত্র প্রেরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

 

সভায় সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-২) জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি, ২০২২ এ তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই কার্যক্রমে সময় দেয়া হয়েছিল ৩ সপ্তাহ, তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল বিদ্যমান ভোটারের ৭.৫%। কার্যক্রম শেষে তথ্য সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯.০৮% এবং রেজিস্ট্রেশন হয় ৮.৭৯%। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে বিভিন্ন ফরম মুদ্রণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, রেজিস্ট্রেশন, ডাটা আপলোড, AFIS Matching, খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, খসড়া ভোটার তালিকা উপর দাবি/আপত্তি দাখিল ও নিষ্পত্তি, এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য প্রায় ০১ (এক) বৎসর সময় লেগেছিল।

কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, যে কোনো সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এখন থেকেই সকল বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ১, ২ বা ৩ বছরের তথ্য সংগ্রহ করলে তার জন্য পৃথক পৃথক সময়সূচি ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ ২০২২ সালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। ওই সময় এক সঙ্গে ৩ বছরে তথ্য আগাম নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।




মতিয়া চৌধুরীর জানাজা বৃহস্পতিবার, দাফন বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অগ্নিকন্যা খ্যাত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর জানাজা বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্বামী প্রয়াত সাংবাদিক বজলুর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হবে।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রয়াত মতিয়া চৌধুরীর ভাই মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী।

মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কবরস্থান কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। জায়গা পেলে সেখানে দাফন করা হবে।এলাকার মানুষের দাবি থাকলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মতিয়া চৌধুরীকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় নেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বুধবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুর জেলায় মতিয়া চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

ইডেন কলেজের ছাত্রী থাকাকালীন তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত হন। ১৯৬২ সালে হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে যে প্রবল ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে, তারও সম্মুখসারির সংগঠক ছিলেন মতিয়া চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ১৯৬৩ সালে তিনি রোকেয়া হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পরের বছরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়ন মতাদর্শিক কারণে বিভক্ত হলে মতিয়া চৌধুরী এক অংশের সভাপতি নির্বাচিত হন। অন্য অংশের সভাপতি হয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন। সেই হিসাবে ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

মতিয়া চৌধুরী তার জ্বালাময়ী বক্তৃতার কারণে ‘অগ্নিকন্যা’ হিসাবে ছাত্র-জনতার কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পর ১৯৬৭ সালেই মতিয়া চৌধুরী যোগ দিয়েছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে। দ্রুতই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে খ্যাতি অর্জন করেন তার বক্তৃতার কারণে।

১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আইয়ুব খানের পতন হলে শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক রাজনৈতিক বন্দি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মতিয়া চৌধুরীও তখন জেল থেকে বেরিয়ে এসে মাঠের রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মতিয়া চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনী গঠনে তিনি একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ন্যাপের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি-গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ-এই ধারার রাজনীতি থেকে মতিয়া চৌধুরী কখনো বিচ্যুত হননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বামপন্থি রাজনীতিবিদদের ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মতিয়া চৌধুরীও ছিলেন তার পছন্দের তালিকায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠন করলে এর ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মতিয়া চৌধুরীকেও রাখা হয়।

১৯৭৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের যোগ দেন। তিনি দলটির কৃষি সম্পাদক হয়েছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। বর্তমান তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেলে জাতীয় সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন মতিয়া চৌধুরী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও একই দায়িত্ব পালন করেন।




জাতীয় ৮ দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আটটি জাতীয় দিবস বাতিল করার আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বুধবার (১৬ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে আদেশ পাঠানো হয়েছে।

বাতিল হওয়া দিবসগুলো হলো: ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস, এবং ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।




ঈদ ও পূজার ছুটি বাড়তে পারে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আগামী বছরের পবিত্র ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের ছুটি পাঁচ দিন এবং পূজার ছুটি দুই দিন করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

এ সংক্রান্ত প্রস্তাব বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উঠতে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদে পাঠিয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ওঠার পর অনুমোদন পেলে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, সাধারণত ঈদে তিন দিন ও পূজায় একদিন ছুটি থাকে। তবে এবার পূজার ছুটি নির্বাহী আদেশে একদিন বাড়ানো হয়েছিল।




পটুয়াখালীতে স্বামীর লাথিতে স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় পারিবারিক জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে স্বামীর লাথির আঘাতে আমেনা বিবি (৫৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালে রতনদী তালতলী ইউনিয়নের গুরিন্দা বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধের সময় আমেনার স্বামী নসু ঘরামী প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে নসু ঘরামীর লাথির আঘাতে আমেনা গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।