প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ভোলার তারুয়া সমুদ্রসৈকত

বঙ্গোপসাগরের বুকে বিস্তৃত ঢালচর ইউনিয়নের তারুয়া সমুদ্রসৈকত এখন ভোলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঝাউবন, ম্যানগ্রোভ বন, লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর এই সৈকত প্রতি বছর শীত মৌসুমে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরে অবস্থিত তারুয়া সৈকতে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনা থাকে সবচেয়ে বেশি। ঈদ কিংবা ছুটির মৌসুমে সাগরের ঢেউয়ের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন এখানে।

ঢালচরের মাঝের চর বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহে আলম ফরাজী জানান, “প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক তারুয়া সৈকতে আসেন। লাল কাঁকড়া, ঝাউবন আর সাগরের ঢেউ পর্যটকদের বিমোহিত করে। এই সময়টাতেই হোটেল-রেস্টুরেন্টে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়।”

পর্যটকদের জন্য স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট ও ট্রলারে ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে। ঢালচরের সেভেন স্টার হোটেল ও রেস্টুরেন্টে থাকা-খাওয়ার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আছে। হোটেলটির মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতাব্বর বলেন, “শীত মৌসুম সামনে রেখে হোটেলটি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের জন্য আমরা সিঙ্গেল ও ডাবল রুম ছাড়াও তাঁবু টানিয়ে থাকার ব্যবস্থা রেখেছি।”

মোটরসাইকেল চালক নুরউদ্দিন ও সেলিম জানান, “শীত মৌসুমে পর্যটক বাড়লে আমাদের আয়ও বেড়ে যায় ২০–২৫ গুণ পর্যন্ত। তবে ঢালচরের সড়ক সংস্কার প্রয়োজন, না হলে চলাচলে কিছুটা কষ্ট হয়।”

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি বলেন, “তারুয়া সৈকত ভোলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় ৫০ হাজার ঝাউ গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের বসার জন্য ২১টি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। আরও কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।”

সমুদ্রসৈকতে যা দেখবেন:

  • নীল ঢেউয়ের নাচ, হিমেল বাতাস ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য
  • ঝাউবন, ম্যানগ্রোভ বন ও পোড়া বনের রহস্যময় সৌন্দর্য
  • অসংখ্য লাল কাঁকড়া, হরিণ ও পরিযায়ী পাখির সমারোহ
  • জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য

যেভাবে যাবেন:
ঢাকার সদরঘাট থেকে ভোলার ইলিশা বা চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চে পৌঁছাতে হবে। ইলিশা থেকে সিএনজিতে ভোলা বাসস্ট্যান্ড, সেখান থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে চরফ্যাশন। চরফ্যাশন থেকে দক্ষিণ আইচা বাজারে গিয়ে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে চর কচ্ছপিয়া ঘাট। এরপর ট্রলার, স্পিডবোট বা লঞ্চে ঢালচর পৌঁছে মোটরসাইকেলে মাত্র ৪০ টাকায় তারুয়া সৈকতে যাওয়া যায়।

থাকা-খাওয়া:
সেভেন স্টার হোটেলে সিঙ্গেল রুম ৫০০ টাকা, ডাবল রুম ১,০০০ টাকা। সিঙ্গেল তাঁবু ৫০০ টাকা ও পারিবারিক তাঁবু ১,০০০ টাকা। আনন্দ বাজার ও মাঝের চর বাজারের রেস্টুরেন্টগুলোয় তাজা মাছসহ নানা খাবার পাওয়া যায়।

তারুয়া সৈকত তার স্বচ্ছ নীল জলরাশি, সাদা বালুকাবেলা ও প্রকৃতির নিসর্গে হারিয়ে যাওয়ার এক অনন্য স্থান—যা প্রতিটি ভ্রমণপিপাসুর মনে ছুঁয়ে যায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আধুনিক রূপে ভোলার গজনবী স্টেডিয়াম, ক্রীড়াপ্রেমীদের মুখে হাসি

দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপজেলা ভোলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস লিখছে গজনবী স্টেডিয়াম। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যে সজ্জিত হয়ে এটি এখন ভোলার ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রাণের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় এই স্টেডিয়াম যেন নতুন রূপে ফিরে এসেছে।

১৯৬২ সালে প্রস্তাবিত এবং ১৯৯২-৯৩ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয় ভোলার প্রখ্যাত ফুটবলার এস. এম. গজনবীর নামে। বহুদিন ধরে ভোলার ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রতীক এই মাঠে একসময় নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতো কাবাডি, ভলিবল, হ্যান্ডবলসহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ।

সরকারি ‘ভোলা গজনবী স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণ, ইনডোর স্টেডিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে এই অবকাঠামো। ১৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গ্যালারি, ৩০০ জনের ভিআইপি আসন, আধুনিক অফিস কক্ষ, ড্রেসিং রুম, খেলোয়াড়দের আবাসন, ডাইনিং ও কনফারেন্স রুমসহ এতে যুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক সুবিধা।

এছাড়াও নির্মিত হয়েছে নেট প্র্যাকটিস এরিয়া, বাস্কেটবল কোর্ট, ইনডোর স্টেডিয়াম ও ১২টি প্রশস্ত গেট। চারপাশের সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি এখন ভোলাবাসীর গর্বের প্রতীক।

স্টেডিয়ামের আধুনিক রূপে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় খেলোয়াড়রা। নিয়মিত অনুশীলনরত ক্রিকেটার সিয়াম, সাদী ও তালহা বলেন, “এখন আমাদের প্র্যাকটিসের জন্য উন্নত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষকরাও এখানে অনায়াসে কোচিং দিতে পারবেন।”

ভোলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন বলেন, “স্টেডিয়ামটির আধুনিকায়নের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের খেলোয়াড়রা এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে জাতীয় লিগ আয়োজন করতে পারবেন। ভোলার ক্রীড়াঙ্গন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।”

ভোলা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাঠের অভাবে ফুটবল খেলাগুলো বন্ধ ছিল। এখন সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আবারও ফুটবলে প্রাণ ফিরবে।”

ভোলা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. সাফায়েত হোসাইন জানান, “এই আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোলার ক্রীড়াঙ্গন আবারও প্রাণ ফিরে পাবে, যা তরুণ প্রজন্মের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।”

গজনবী স্টেডিয়াম এখন শুধু ভোলার নয়—বরং দক্ষিণাঞ্চলের ক্রীড়াঙ্গনের এক নতুন আলোকবর্তিকা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




বরিশালে ট্রাকের ধাক্কায় কলেজ ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় শাকিল আহমেদ (২২) নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে বোর্ড স্কুল ক্লাব ঘর নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শাকিল আহমেদ ঢাকার মিরপুর কলেজের ছাত্র। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া সদর উপজেলার মাছরং দরবেশ গেট এলাকার বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রবের ছেলে। এছাড়া তিনি লন্ডন প্রবাসী এটিএন বাংলার সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শামিমের ছোট ভাই

নিহতের স্বজন কাজী তমাল জানান, শাকিল আহমেদ মোটরসাইকেলে করে বরিশাল থেকে বানারীপাড়ায় ফিরছিলেন। পথে বোর্ড স্কুল ক্লাব ঘরের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ বলছে, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক পলাতক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাসনাত আব্দুল্লাহ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দিতে হবে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ ড. মুহাম্মদ ইউনুসকেই দিতে হবে। তিনি বলেন, “যদি এই আদেশ ‘চুপ্পুর কাছ থেকে’ নিতে হয়, তবে তা হবে বিপ্লবের কফিনে শেষ পেরেক।”

রবিবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির জেলা ও মহানগর সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, “আমরা তিনশ’ আসনেই সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছি। গুণগত ও কাঠামোগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে যেতে পারি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচন কমিশন ও প্রতীকের প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “শাপলা প্রতীক কেন দেওয়া হবে না—এর কোনো ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশন দেয়নি। এতে কমিশনকে ঘিরে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে যদি কোনো অনিয়ম হয়, তারা কি তার ব্যাখ্যা দেবে—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। সভার সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা

সভায় জেলা ও মহানগর নেতারা দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতে তিন বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটের দিন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “গত দেড় বছরে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে তিন বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।”

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরা জানান, ভোটের সময় মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর প্রায় ৯০ হাজার সদস্য, নৌবাহিনীর আড়াই হাজার এবং বিমানবাহিনীর একটি অংশ দায়িত্বে থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় এক কোম্পানি করে সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া, বৈঠকের শেষাংশে আগামী ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা।


আল-আমিন



১৩৩ বছরের পুরোনো পটুয়াখালী পৌরসভায় আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশন নেই

১৩৩ বছরের পুরোনো পটুয়াখালী পৌরসভা আজও আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান পায়নি। শহরের কোথাও নেই নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন। ফলে প্রতিদিনের বাসা-বাড়ি, দোকানপাট এমনকি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে, নদীর তীরে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন পৌর নাগরিকরা।

পৌর শহরের লোহালিয়া নদীর পাড়েই এখন আবর্জনার পাহাড়। সেখানে গৃহস্থালির ময়লার সঙ্গে ফেলা হচ্ছে ইনজেকশন, সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন দূষিত বর্জ্য। বাতাসে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি জানলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি

বাসিন্দারা জানান, “ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সবাই নদীর ধারে ফেলে দেয়। এতে পানি দূষিত হচ্ছে, দুর্গন্ধে থাকা দায়।” কেউ কেউ বলেন, “ছোট বাচ্চারা এই জায়গায় খেলে, তাতে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।”

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউল করিম বলেন,
“মেডিকেল বর্জ্য অত্যন্ত সংক্রামক। এটি সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মেশানো বা উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন,
“আমরা সমস্যাটি জানি। মেডিকেল বর্জ্যের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জায়গা নির্ধারণ ও প্রাথমিক কাজ চলছে।”

এদিকে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী ও পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। তারা বলেন, “যেভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে লোহালিয়া নদী একদিন সম্পূর্ণ মৃতপ্রায় হয়ে যাবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৮০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে বাজুসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের বাজারে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকা।
এছাড়া—

  • ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৯৬ টাকা,
  • ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮১ টাকা,
  • এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা দরে।

বাজুস জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ বার বেড়েছে এবং ২৩ বার কমানো হয়েছে

স্বর্ণের বাজারে এই ধারাবাহিক উত্থান নিয়ে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে স্থানীয় বাজারেও প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গ্রামীণ নারীরা পুষ্টি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, গ্রামীণ নারীরা হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল পালন করে শুধু নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হচ্ছেন না, বরং দেশজুড়ে ডিম, দুধ ও মাংস সরবরাহের মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিত করছেন। এ কারণে দেশের পুষ্টি ও অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীদের অবদান অপরিসীম।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মিলনায়তনেজলবায়ু অভিযোজনে গ্রামীণ নারী” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

উপদেষ্টা আরও বলেন, মাইক্রো লেভেলে পুষ্টির অধিকাংশ অবদানই গ্রামীণ নারীদের। যদি তারা এই প্রাণী পালন না করতেন, বাংলাদেশ কখনও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারতো না। তিনি জানান, নারীরা ঠিকই আছেন, কিন্তু তাদের অবদান দৃশ্যমান করা হয় না। সামান্য উৎসাহ ও সহায়তা পেলে তাদের ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।

সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জেলেদের ন্যায্য মজুরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দাদন প্রক্রিয়ার কারণে জেলেরা যথাযথ মজুরি পাচ্ছেন না। এই প্রথার অবসান জরুরি। এজন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলে পরিবারের নারীদের স্বীকৃতি দেওয়াও সমানভাবে জরুরি।

উপদেষ্টা বাল্যবিয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে রোধ না করতে পারলে গ্রামীণ নারীরা সম্পূর্ণভাবে শক্তিশালী হতে পারবেন না। তাই জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা জরুরি এবং নারীদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে দিতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন:

  • ড. মো. হযরত আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক
  • ক্যাথারিনা কোয়েনিগ, সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের উপদলনেতা
  • রেহানা খান, সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার (গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও লিঙ্গ সমতা)
  • মেহের নিগার ভূঁইয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের “স্থিতিস্থাপক জীবিকা কর্মসূচি”–এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার

সেমিনারে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম স্বাগত বক্তৃতা দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প কর্মকর্তা (ক্যাম্পেইন ও যোগাযোগ) তাজওয়ার মাহমিদ

বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু সহনশীলতায় নারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সমাজে ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রায়ই অদৃশ্য থেকে যায়। তারা নারী-সংবেদনশীল কৃষি ও জলবায়ু নীতি প্রণয়ন, ভূমি, অর্থ ও প্রযুক্তিতে সমান প্রবেশাধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারী কৃষক, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশগ্রহণ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাবান্ধা দিয়ে নেপালে রপ্তানি ১,৪০৭ টন আলু

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে এক দিনে রপ্তানি করা হয়েছে ১,৪০৭ টন আলু। এই রপ্তানি কার্যক্রমে এস্টারিক্সসহ দেশের বিভিন্ন প্রজাতির আলু সংযুক্ত ছিল।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নুর হাসান জানিয়েছেন, একদিনে সর্বোচ্চ ৬৭টি ট্রাকে আলু নেপালের বাজারে পাঠানো হয়। এসব আলু উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ফার্ম থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং বাছাই করার পর রপ্তানি করা হয়।

এর আগে, গত বুধবার ২৮ ট্রাকে করে ৫৮৮ টন আলু নেপালে পাঠানো হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৩৯,০৩৯ টন আলু রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে দেশের আলু উৎপাদনকারী অঞ্চলের কৃষকদের আয়ের উৎসে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে এবং নেপালের বাজারে স্বচ্ছন্দে আলু সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

বাংলাবান্ধা বন্দরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগামীদিনেও রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল ও নিয়মিত করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত আলু বাজারজাতকরণ সহজ হবে এবং দুই দেশের মধ্যে খাদ্যপণ্য ব্যবসার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে ৩২ লাখ টাকার সেতু দুই বছরেও ব্যবহারের অনুপযোগী, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আসুরিয়ার সোতা খালের ওপর ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বক্স কালভার্ট সেতু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় দুই বছর আগে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু অ্যাপ্রোচ রোড না থাকায় এটি আজও অকেজো পড়ে আছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মই বেয়ে পার হওয়া হয়ে ওঠে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব আলী হাওলাদার বলেন, “৩২ লাখ টাকা খরচ করে সেতু বানানো হলেও আমাদের কোনো উপকার হচ্ছে না। প্রতিদিনই বাঁশের মই বেয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।” একই অভিযোগ করেন গৃহবধূ তাসলিমা বেগম। তিনি বলেন, “বৃষ্টি হলে মই পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। তখন শিশুদের নিয়ে পার হওয়া খুব বিপদজনক হয়ে যায়।”

শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাহার আলী মৃধা বলেন, “বিষয়টি আমরা এলজিইডি কার্যালয় ও ঠিকাদারকে জানিয়েছি। শিগগিরই অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”

ঠিকাদার মো. ইমরান হোসেন জানান, “বর্ষার সময় মাটির সংকটের কারণে রাস্তাটি করা সম্ভব হয়নি। এখন শুকনো মৌসুমে কাজ শুরু করা হবে।”

দুমকি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সেতুর মূল কাঠামো সম্পন্ন হলেও বর্ষার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করে সেতুটি চালু করা হোক, যাতে জনসাধারণের ভোগান্তির অবসান হয়।


আল-আমিন