বরিশালের হিজলায় নৌ-দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতা নিহত

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় মেঘনার একটি শাখা নদীতে দুই ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংঘর্ষে বিএনপির এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আব্দুর রহমান সরদার (৩৫), যিনি হিজলা উপজেলার চর মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তার পিতা ছিলেন মেমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি, মৃত আব্দুর রাজ্জাক সরদার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আব্দুর রহমান চর মেমানিয়া থেকে বড়জালিয়ার উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রা করছিলেন। এ সময় প্রশাসনের ধাওয়ায় পালানো একটি জেলে নৌকা দ্রুতগামী হয়ে তাদের নৌকাকে ধাক্কা দেয়। নৌকার মাস্তুলের আঘাতে রহমান নদীতে পড়ে যান। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরিশাল হিজলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ওয়াহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধাক্কা দেয়া জেলে নৌকাটি ঘটনার পর পালিয়ে যায়। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, নিহত আব্দুর রহমান সরদার স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



মির্জাগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল খালেক মৃধাকে (৫৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের চালতাবুনিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর আজ শনিবার দুপুরে খালেক মৃধাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মো. নসা মিয়া ২২ জনকে আসামি করে মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এজাহার গ্রহণ করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করা হলেও, খালেক মৃধাকে অজ্ঞাত হিসেবে দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।




জলোচ্ছ্বাস আতঙ্কে পটুয়াখালীতে ৩০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস, দিন কাটে পানিবন্দী অবস্থায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় বেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের সময় তাদের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়, আর বর্ষা মৌসুমে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার রাতে এই মানুষগুলোকে কাটাতে হয় বিনিদ্র। এই ভয়াবহ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললেও, এখনও সমস্যা সমাধানের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

ধানখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের মতো অনেকেই প্রতিনিয়ত পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। মিজানুরের বসবাস লোন্দা সেতুর ওপারে, বেড়িবাঁধের বাইরে। দশ বছরের চরম কষ্টের পর তার ঘরের ভিটি কিছুটা উঁচু করা হয়েছে, তবে বর্ষা মৌসুমে ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। শুধু মিজানুর নয়, তার ভাইসহ আরও কয়েকটি পরিবারের একই দশা। ধানখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়াজউদ্দিন তালুকদার জানান, শুধুমাত্র লোন্দা থেকে নমরহাট বাজার পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় এক হাজার পরিবার বসবাস করছে। ইউনিয়নজুড়ে আরও পাঁচ শ’ পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও পটুয়াখালীর অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতেও বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। চম্পাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম বাবুল জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৬০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। দেবপুর, গোলবুনিয়া এবং পাটুয়ার মতো এলাকার পরিবারগুলো বর্ষার সময় অস্বাভাবিক জোয়ারে পানিবন্দী হয়ে থাকে। একইভাবে বালিয়াতলীর চরনজীব থেকে বাবলাতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই শ’ পরিবার এবং ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আরও শতাধিক পরিবার চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লার মতে, এই ইউনিয়নের প্রায় ১,৮৭০টি পরিবার অস্বাভাবিক জোয়ারের সময় পানিবন্দী অবস্থায় থাকে। গোড়া আমখোলা পাড়া, মম্বিপাড়া, দক্ষিণ মুসুল্লিয়াবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব পরিবার বসবাস করছে। ধুলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, গঙ্গামতি ও চরগঙ্গামতি এলাকায় তিন হাজারেরও বেশি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছে। বর্ষা মৌসুমে তাদের ঘরবাড়ি প্রায়ই পানিতে ডুবে যায়।

এসব পরিবারের জীবন মান দিন দিন আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা বেড়িবাঁধের অভাবে পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। সিডরের মতো দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পটুয়াখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা প্রায় ৯০০ পরিবারকে সেমিপাকা ঘরসহ জমি দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ আবাসনে স্থানান্তর করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।




মাদক বিক্রেতাদের তালিকা করছে বরিশাল জেলা পুলিশ

 

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলায় মাদক বিক্রেতাদের পুরোনো তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে নতুন তালিকা করে অ্যাকশনে যাবে পুলিশ জানিয়েছেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, গত এক বছরে বরিশাল জেলায় ৪ হাজার ২২৫ জন মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

তবে এসব মামলার আসামিদের কী অবস্থা বা নতুন করে মাদক বিক্রি কারা করছে এ সব বিষয়ে তথ্য নেয়ার জন্য প্রতিটি থানায় নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আপডেট তালিকা তৈরি হচ্ছে। তালিকা তৈরি শেষ হলে আইনগত সকল বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ সুপার এসময় আরো বলেন, অনেক সময় আমরা শুধুমাত্র মাদক বহনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেই।

কিন্তু এর গডফাদারদের বিষয় কোন তথ্য থাকে না। আমরা এবার এই তালিকায় গডফাদার থেকে শুরু করে যারা মাদক বহন করে এবং মজুদ করে তাদের সবাই কে এই তালিকায় নিয়ে আসবো। অনেক সময় দেখা যায় এসব লোকরা সমাজে প্রভাবশালী।
তিনি বলেন, এর আগে আমরা দেখেছি রাজনৈতিক কোন পাতি নেতার ছত্র ছায়ায় এসব মাদকের ব্যবসা চলে।

পুলিশ, সাংবাদিক, পাতি নেতারা এখান থেকে অর্থ নেয়। আমরা এই জরিপে সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করব, যাতে করে মাদকের বিস্তার রোধ করা যায়।

বরিশালের সীমান্তবর্তী এলাকা ও নৌপথে মাদক চলাচলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জনগণ সচেতন হলে অর্থাৎ আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের পুলিশিং করি তাহলে এর সমাধান সম্ভব বলেও জানান এই পুলিশ সুপার।

মতবিনিময় সভায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিসুর রহমান খান স্বপনের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাসহ জাতীয়, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা।




 বাউফলে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফল আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোতালেব হাওলাদার ও তার ছেলে মোঃ হাসান মাহমুদ এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ জনগণ। শনিবার বেলা ১১ টায় পটুয়াখালীর বাউফলের বগা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় ১ হাজার পুরুষ ও মহিলারা মোতালেব হাওলাদার ও তার ছেলে মোঃ হাসান মাহমুদ এর ফাঁসি দাবি নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

বগা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি মোঃ মনির মৃধা হত্য মামলার আসামি মোঃ মোতালেব হাওলাদার ও তার ছেলে মোঃ হাসান মাহমুদকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দেলোয়ার হোসেন মুন্সি ও আঃ জলিল মুন্সি ডাবল হত্য মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদেরকে হাইকোর্ট দিয়ে খালাসের রায় বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেন সাধারণ জনগণ।

এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আঃ গনি সিকদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম জসিম, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোঃ কালাম মৃধা, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল সিকদার, শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ আনিচ মৃধা, বিএনপির নেতা মোঃ তোফায়েল মোল্লা, মোঃ মাসুদ সিকদার, মৃত মনিরের স্ত্রী শাহিনুর বেগম, মৃত মনিরের মেয়ে শুমাইয়া আখতার শর্ণা (২৪), আঃ কাদের মুন্সি, মোঃ মিলন মুন্সী, ইনজামামুল হক দোলন, মৃত জলিল মুন্সীর ছেলে মোঃ সাদনাম সাকিব, মৃত মনির হত্য মামলার বাদী মোঃ জাকির হোসেন প্রমুখ।




সংস্কার শেষে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন চায় গণফোরাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাষ্ট্র সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে অবাধ-সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে গণফোরাম বলে জানিয়েছে দলটির সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসিন মন্টু।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি।

সংবিধান, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ড. কামাল হোসেন কথা বলেছেন বলে জানান সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসীন মন্টু। তিনি বলেন, বাজারে পরিস্থিতি নিয়ে জোর দিয়েছি। সিন্ডিকেট অবশ্যই ভাঙতে হবে।

তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের বিদেশি এজেন্টরা বাংলাদেশটাকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, তা থেকে উদ্ধারে আমাদের সবাইকে জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

গণফোরাম অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন চায় জানিয়ে মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, সবাইকে একমত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ সরকার জনগণের সরকার। এ সরকারকে রক্ষার স্বার্থে অর্থাৎ আমাদের নিজেদের রক্ষার স্বার্থে আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করব। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) যেকোন বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাইবেন। আমরা যেটা উপলব্ধি করবো সেটাই পরামর্শ দেব। জনগণের জন্য দরজা খোলা আছে বলে প্রধান উপদেষ্টা আমাদের বলেছেন।

পাচার হয়ে যাওয়া লাখ কোটি টাকা ফেরত আনতে হবে। দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। সেটা উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সেটা কোন দলীয় চিন্তা চেতনা নয়, জাতীয় ঐক্যমতের চিন্তায় এগুতে হবে।

নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন কমিশন করতে হবে এটার জন্য সার্চ কমিটি বা কিছু করার প্রয়োজন আছে, ভালো লোক নিয়োগ দেওয়ার দরকার আছে। যাতে অতীতের মত কোন সমস্যা না হয়।

রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে– মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, আমরা কোন তারিখ উল্লেখ করেনি। বলেছি সংস্কার শেষ অতিদ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য। তবে সংস্কার শেষ না হলে সবই একই হবে, নির্বাচনের আগে থাকি রাম, নির্বাচনের পরে হই রাবণ। ওই ধরনের নির্বাচন কমিশন চাই না। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশন চাই।

সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দুই একদিনের মধ্যে আলোচনা করে লিখিত আকারে দেব। আটটি দিবস বাতিল করা হয়েছে, এ নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছে, জবাবে মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, জাতীয় দিবস ছাড়া কোন দিবসই রাখা উচিত না।

সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে গণফোরাম সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারসহ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ বেশ কিছু ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছি। সরকার সেটা ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানান মিজানুর রহমান। সরকার গঠিত কমিশনের বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব কয়েকদিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার দফতরে দেওয়ার কথা জানান মিজানুর রহমান।

এদিন বিকেলে পৌনে ৩টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আমন্ত্রণে সংলাপে অংশ নিতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল যমুনায় প্রবেশ করে।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- গণফোরামের সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসিন মন্টু, কো-চেয়ারম্যান এস এম আলতাফ হোসেন, সুব্রত চৌধুরী, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, সদস্য একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহিউদ্দিন আবদুল কাদের, মোশতাক আহমেদ ও সুরাইয়া বেগম।




‘ইন্টারনেটের দাম কমালেই হবে না, মানসম্মত হতে হবে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ইন্টারনেটের শুধু দাম কমালেই হবে না; মানসম্মত হতে হবে। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে হবে। তাই এখনো যারা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাননি তাদের অন্তর্ভূক্ত করতে ইন্টারনেটের দাম কমাতে ভ্যাট-ট্যাক্স মডারেট করতে হবে।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বিটিআরসির ক্ষমতায়ন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী ২০১০ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা ডিজিটালও না স্মার্টও না। আমরা আফ্রিকার পর্যায়ে রয়েছি। আফগানস্তানের কিছুটা ওপরে। ভয়েসের দিন শেষ হলেও এখনো দেশের মোবাইল অপারেটররা এখান থেকেই ৫০-৬০ শতাংশ আয় আসে। মানসম্মত সেবা দিতে হলে এখনই টেলিযোগাযোগ নীতিমালা হালনাগাদ করা দরকার।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। আমরা চাই সেই শিক্ষা নিয়ে অতি দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইন্টারনেটকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা করবেন। আমরা আশা করব, আইএসপি বা টেলিকমরা কখনোই সরকারের সঙ্গে থাকবেন না, ইন্টারনেট বন্ধ করবে না। সেজন্য বিটিআরসিকেও জবাবদিহিতার অধীনে আনতে হবে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আলোচক হিসেবে ছিলেন টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক ফিদা হক, মোস্তাফা মাহমুদ হুসাইন, আইআইজিএবি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকতবর রহমান, আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, অ্যাডভোকেট ইসরাত হাসান, সিপিবি’র সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের টেকনিক্যাল রেগুলেশন্স এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর অনামিকা ভক্ত, প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাসের প্রমুখ।

এদের মধ্যে টেলিকম খাতের ভোক্তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্টেকহোল্ডার বৈঠকের আহ্বান জানান আইআইজিএবি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকতবর রহমান। অপরদিকে অনামিকা ভক্ত জানান, প্রতি বছর রবি বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করলেও মুনাফা ৩ শতাংশের বেশি হয় না। ফলে মান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সরকার এ দিকটায় দৃষ্টি দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ফিদা হক বলেন, ডাটার দাম যৌক্তিকী করণ ও ইন্টারনেট পরিকাঠামো পুণর্বিন্যাস করা জরুরী। সহজলভ্য ও দেশের সব প্রান্তে সমান গতিশীল ইন্টারনেট আমাদের লাইফ লাইন। ভয়েস ও এসএমএস এর দিন এখন শেষ। তাই ডাটার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া দরকার।

আবু নাসের বলেন, বিটিআরসি কী রাজস্ব আদায় করবে না সেবা নিশ্চিত করবে সেটা আমাদের আগে পরিস্কার করতে হবে। এই বাজারের মনোপলি ভেঙে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে হবে। এখানে বিস্ময়কর ভাবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান আকাশ-কে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। করাপশন ও ডিক্টেটরশিপ কমাতে বিটিআরসি-কে এই জায়গায় রোল প্লে করতে হবে। ইনস্টিটিউশন শক্তিশালী হলেই বৈষম্য কমবে।

সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিলো। আমরা চাই সেই শিক্ষা নিয়ে অতিদ্রুত অন্তর্তীকালীন সরকার ইন্টারনেটকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা করবেন। আমারা আশা করবো আইএসপি বা টেলিকমরা কখনোই সরকারের সঙ্গে থাকবে না, ইন্টারনেট বন্ধ করবে না। বিটিআরসি-কে জবাবদিহিতার অধীনে আনতে হবে।

আরও বক্তব্য রাখেন, রাষ্ট্র সংস্থার আন্দোলনের দিদারুল ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের ঢাকা মহানগর সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া, ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।




‘বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা অপরিহার্য’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। যার বাস্তবায়নে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মনে করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে সিএসও অ্যালায়েন্সের আয়োজনে ‘নাগরিক সমাজ : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক জাতীয় মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কারে নিজেদেরও পরিবর্তন করতে হবে। সরকারের কোনও উদ্যোগে ঘাটতি থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিভিন্ন কমিশন আলাপ-আলোচনা করছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্রদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। প্রথাগত সরকার থেকে বর্তমানে সবকিছু ভিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থার অবদান রাষ্ট্রের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে।

জিএনসিসির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী কেবিনেটে এ বিষয়ে কথা হবে। এনজিওগুলোর আত্মনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। এনজিও ব্যুরোকে স্বচ্ছ হতে হবে। আমাদের নিজেদের পরিচয় ধরে রাখতে হবে। সমষ্টিগতভাবে ভাবতে হবে। নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থাকে অগ্রাধিকার ঠিক করে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ক্যাম্পের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহসহ অন্যান্য অতিথি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

এই অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) গুরুত্বপূর্ণ অংশীদাররা অংশগ্রহণ করেন।




লালন স্মরণোৎসব শেষ হবে আজ, আখড়াবাড়ি ছাড়ছেন ভক্ত-সাধুরা

চন্দ্রদ্বীপ  নিউজ :: কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৪ তম তিরোধান দিবস শেষ হচ্ছে আজ শনিবার (১৯ অক্টোবর)। সকাল থেকেই মহাগুরু ফকির লালনকে বিশেষ ভঙ্গিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, গুরুকার্য শেষে গুরু শিষ্যের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আখড়াবাড়ি ছাড়ছেন সাধুরা। তারা বলছেন, হিংসা রাগ দূর করার অর্জিত লালন শিক্ষা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। দেশে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানবতার মুক্তির দর্শন প্রচার চালাবেন।

আজ রাতে মূল মঞ্চের আলোচনা ও লালন সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে লালন উৎসবের সমাপ্তি হবে। শেষসময়ে আখড়াবাড়ি মাঠে বাউল মেলায় মেতে উঠেছেন সবাই। আখড়াবাড়ির ভেতরে সাধু আস্তানায় এখনও গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার চলছে।

একতারা, দোতারা আর ঢোল-বাঁশির সুরে প্রকম্পিত হয়ে ওঠা ভবের হাটের সাধুসঙ্গ শেষ হয়েছে। আখড়াবাড়ি ছাড়ছেন লালন অনুসারী ও সাধুরা। মহামানবের দর্শন, নিজেকে চেনা, অজানাকে জানার জন্য কয়েক দিন ধরে অবস্থান নেওয়া সাধু ভক্তরা বলছেন, অর্জিত লালন শিক্ষা নিজের ও পৃথিবীর শান্তির পথ হবে।

১৩৪ বছর আগে ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক আধ্যাত্মিক সাধক লালন ফকির দেহত্যাগের পর থেকে এই সাধুসঙ্গ উৎসব চলে আসছে। প্রথমে লালন ফকিরের অনুসারীরা পরে লালন একাডেমি এ উৎসব চালিয়ে আসছে। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ আধ্যাত্মিক এই বাণীকে সামনে নিয়ে এবারও পহেলা কার্তিক ১৭ অক্টোবর তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব শুরু হয়।

মহামানবের দর্শন পেতে দিনক্ষণ ঠিক রেখে এবারও কয়েক দিন আগেই জাত পাত ভুলে দেশি-বিদেশি লালন ভক্তরা কুষ্টিয়ার অক্ষরবৃত্তে জড়ো হয়। লালন অনুসারীরা নিজেদেরকে খাটি করে গড়ে তুলতে সহজ মানুষের সন্ধান করেছেন। লালনের রীতি অনুযায়ী অষ্টপ্রহরব্যাপী সাধুসঙ্গ শেষ করে আখড়াবাড়ি ছাড়ছেন সাধু-ভক্তরা।

গত ৩০ বছরে এবার সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাগম হয়েছে আখড়াবাড়িতে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে। চিরদিনের অবাধ্য মনকে শুদ্ধ করতে ভক্তরা আবারও ফিরে আসবেন এই ভবের হাটে।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা বাউল ফকির শান্ত আলী শাহ বলেন, ২৫ বছর ধরে এ ধামে আসা-যাওয়া। আমরা অপেক্ষায় থাকি দোল উৎসব আর তিরোধান দিবসের। তিনি বলেন, সহজ মানুষ খোঁজা আর ভজার কাজে দীক্ষা নিয়েছি। এ পথেই সারাজীবন কাটাতে চাই।

আত্মিক প্রশান্তি পেতে লালন আখড়াতে তাই এসেছেন অগণিত ভক্ত ও অনুসারী। এ ছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এসেছেন বাস্তব জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে, এসেছেন গবেষক এবং বিদেশি লালনপ্রেমীরাও।

আখড়াবাড়িতে কথা হয় ফকির হৃদয় শাহয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে এলে মনে প্রশান্তি আসে। তাই তো এখানেই ছুটে আসি। এখানে এলে মানুষের আলাদা একটা রূপ চোখে পড়ে। মানুষকে ভালোবাসার মন্ত্র শেখা যায়।

লালন একাডেমির সভাপতি কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আখতার বলেন, সাধু সঙ্গ শেষে বাউলরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে তার জন্যও আশপাশের সড়কগুলোতে নজরদারি রাখা হয়েছে। তারা মানবকল্যাণে কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন আয়োজকরা।




অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পোষণ করে না: ধর্ম উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিসিএস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহীতে বিজিপি সদর দফতর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকারের নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে, তবে এটি পৃথকভাবে সমাধান করা যাবে না। যারা মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে যোগদান করেছেন এবং যারা অন্য উপায়ে প্রবেশ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগদানে বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ পুরোদমে কাজে ফিরতে পারেনি, যা সত্যি। ৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে এখনও মানসিক চাপ কাজ করছে। উন্নতি ধীরগতিতে হলেও এগিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণ এবং সারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, এর তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এবং ইতোমধ্যেই দুই-একজনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বিজিপির সিইও, সিনিয়র সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।