নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় পটুয়াখালীতে অর্ধশত জেলে কারাগারে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় অর্ধশত জেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে লেবুখালী এলাকার নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার মিটার জাল ও ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করে। অভিযানের পর জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধার করা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ মাইনুল হাসান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত আরা জামান উর্মি, দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ এবং সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত পটুয়াখালীতে সাড়ে তিন লাখ মিটার জাল ও এক হাজার ৮০০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে এবং ৫০ জন জেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আজ পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আজ নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে এবারের আসরে প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে লাল-সবুজের দল। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

নেপালের মাঠ বাংলাদেশের জন্য বেশ সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখানে আগের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও তারা শিরোপা জিতেছিল। এছাড়াও অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ দলও এখানেই শিরোপা জিতেছে। দলের খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে কৃত্রিম টার্ফে প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে।

দলের ফরোয়ার্ড কৃষ্ণারানী সরকার ইনজুরি কাটিয়ে এবার মাঠে ফিরছেন, যা দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়াও স্বপ্না, ঋতুপর্ণা ও সানজিদা ভালো খেলার প্রত্যাশা করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৫-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্টের শুরুতেই চাপে রয়েছে।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা আশাবাদী যে দলটি আজকের ম্যাচেও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হবে।




বাউফলে জামায়াতের সদস্যদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের তিন সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজার ও নারায়ণপাশা গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুজ্জামান অজিবুল্লাহ (৩১), মোহাম্মদ আল-আমিন (২৭) ও নাঈম আব্দুল্লাহ (৩৪)। তারা নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন এবং আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, শনিবার সকালে নারায়ণপাশা গ্রামের আলতাফ হাওলাদার বাড়ির জামে মসজিদে জামায়াতের একটি পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আমিরাবাদ বাজারে পৌঁছালে সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের ছেলে রাসেল ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ছাত্রদল নেতা-কর্মী আহত অজিবুল্লাহ ও আল-আমিনের ওপর হামলা চালান। পরে তারা নারায়ণপাশা গ্রামে গিয়ে নাঈমের ওপরও হামলা চালান। আহতরা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে তাদের মারধর করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মুমিনুল ইসলাম মিরাজ বলেন, “হামলার ঘটনা আমরাও শুনেছি। তবে এতে ছাত্রদলের কেউই জড়িত নয়।” তিনি বলেন, “আহত নাঈম আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ববর্তী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার ওপর হামলা চালাতে পারে।”

বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “হামলাকারীদের আমরা কোনো দলের মনে করি না, তারা দুর্বৃত্ত। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। শাস্তি না হলে এমন ঘটনা চলতেই থাকবে।”

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শুনেছে। তিনি জানান, “লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 




জামায়াত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মালিক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মালিক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলার সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তাদের দুয়ারে দুয়ারে যাব এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করার সুযোগ নেব। জামায়াতের আমির বলেন, যারা অতীতে মালিক হয়েছেন তাদের পরিণতি আমাদের চোখের সামনে রয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কি হয়, ধোঁকা দিলে কি হয়, মালিক বনলে কি হয়, জলুম করলে কি হয়”-এর থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।

তিনি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “যারা জাতিকে টুকরা টুকরা করে, তারা কখনো জাতির মঙ্গল চান না। আমরা দল-মত নির্বিশেষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

জামায়াতকে বাংলাদেশের সবচাইতে মজলুম দল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা ও গুম করেছে।”

শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব দেশের ১৮ কোটি মানুষের। এই আন্দোলন মানুষের মুক্তির সংগ্রামের আন্দোলন ছিল।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলা শাখার আমির খ ম আব্দুল রাকিব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন ও রাজশাহী অঞ্চল সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম।




শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করলে কাউকে ছাড়া হবে না: নুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, প্রশাসনে এখনো ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা রয়ে গেছে এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করলে কাউকে ছাড়া হবে না।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ঝিনাইদহ গণ অধিকার পরিষদ এই গণসমাবেশের আয়োজন করে।

নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের তাড়া নেই। প্রশাসনে এখনো আওয়ামী প্রেতাত্মারা রয়ে গেছে। দেশের জনগণ আস্থা-বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের চেয়ারে বসিয়েছে। যদি চালাতে না পারেন, দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিন।

তিনি আরো বলেন, গত আড়াই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করলে কাউকে ছাড়া হবে না।

নুর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

নুরুল হক নুর বলেন, মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি। এখন মানুষ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। এই পরিবর্তন ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।

সমাবেশের প্রধান বক্তা গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, আগামী নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় গেলে জেলার চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন এবং বেকার শিক্ষিত যুবকদের চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।




বিদ্যুৎ বন্ধ করায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন পবিস কর্মকর্তারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তারা শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুক্তভোগীদের পরিবার এবং কর্মকর্তাদের ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা পবিস-১ এর জুনিয়র প্রকৌশলী (আইটি) তামজিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৭ অক্টোবর দেশের ৬৭টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ শাটডাউন করার বিষয়টি পরিকল্পিত ছিল না। নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাকে আটক করার পর অফিসাররা ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই কারণে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।” কর্মকর্তারা আরইবি কর্তৃক সৃষ্ট অস্থিতিশীল পল্লী বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া, গ্রাহকের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সমিতি ও বোর্ড সংস্কার করে একীভূত করার দাবি জানান।

নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “১৭ অক্টোবর আরইবি কর্তৃক উসকানি মূলক পদক্ষেপ হিসেবে ৩১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানেও বিভিন্ন সমিতিতে কর্মকর্তাদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

প্রতিক্রিয়ায় কর্মকর্তারা বলেন, “শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য নিরসন এবং উন্নত গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সংস্কার প্রয়োজন। সরকারকে অনুরোধ, প্রকৃত সত্য আড়াল করে কারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে অপচেষ্টা করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম পবিস-১ এর এজিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন, নরসিংদী পবিসের ডিজিএম (টেকনিক্যাল) আব্দুল্লাহ আল হাদী, এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।




বিজিএমইএ: শ্রমিক অসন্তোষে পোশাক শিল্পে ক্ষতি ৪০০ মিলিয়ন ডলার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আনুমানিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই তথ্য শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে কিছু অর্ডার প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।” এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন যে, আগস্টে মার্কিন পোশাক আমদানি বেড়েছে ১.৫%, তবে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ৩.৮%।

রফিকুল ইসলাম আরও জানান, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরোপে আমদানি বেড়েছে ৩.৩%, যেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়েছে মাত্র ২.৮%। অন্যদিকে, ভারত, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি জানান, “পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জিং সময় পেরিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।” সরকার, মালিক, শ্রমিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিজিএমইএ বোর্ড প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

সিকিউরিটির জন্য সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে। আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিজিএমইএ অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯টি পোশাক কারখানা সেপ্টেম্বর মাসের বেতন দিতে পারছে না। এসব কারখানার বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

এছাড়া, পোশাক শিল্পের ৪০ লাখ শ্রমিকের জন্য ন্যায্য মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা গত ১৬ অক্টোবর উদ্বোধন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।




লালন সাঁইজির শিক্ষা, অহিংস রাষ্ট্র নির্মাণের মূলমন্ত্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: লালন সাঁইজির ১৩৪তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি তিন দিনের ‘লালন স্মরণোৎসব’ আয়োজন করেছে। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছিল ১৮ অক্টোবর, যেখানে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ শীর্ষক সাধু মেলা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিল্পীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, “লালনের শিক্ষাই হলো অহিংস বাহাস এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের মূলমন্ত্র। লালনের গান হলো তত্ত্ব গান, যা সাধনার সঙ্গে যুক্ত।” তিনি আরো যোগ করেন, “লালনের বাণী অনুসারে, শিল্পকলার মাধ্যমে জ্ঞান অন্বেষণ করা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক মেহজাবীন রহমান। তিনি বলেন, “লালন সাঁইজি বৈষম্যবিরোধী এবং মানবতার কথা বলে গেছেন।”

দ্বিতীয় দিনে গান পরিবেশন করেন নবীন ও প্রবীণ বাউল শিল্পীরা। সন্ধ্যায় নন্দনমঞ্চে ‘এসো হে দয়াল কান্ডারি’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একক পরিবেশনায় ‘কী সন্ধানে যাই’, ‘এনেছে এক নবীন গোরা’, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ এবং ‘মিলন হবে কত দিনে’ গানগুলো পরিবেশন করা হয়।

এছাড়া তিন দিনের উৎসবের শেষ দিনে বিকেল চারটায় ‘জাতিসত্তার প্রশ্ন এবং বাউল-ফকির পরিবেশনার রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান হবে।




‘শেখ মুজিবকে জাতির পিতা হিসেবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শেখ মুজিবকে জাতির পিতা নামে প্রতিষ্ঠা করতে জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে থেকে ৯ মাস পর বাংলাদেশে এসে নিজেকে জাতির পিতা দাবি করবে, তা আমরা কখনোই মেনে নেবো না।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টায় কুমিল্লা নগরীর টাউনহল থেকে মশাল মিছিল শেষে নগরীর রাজগঞ্জ এলাকায় সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমানের অবদানকে অস্বীকার করা হয়েছে। যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে রাজাকার পর্যন্ত বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে যাদের অবদান আছে তাদের যথাযথ হিস্যা আমরা দাবি করি। সেখানে সকল শহিদসহ তাজউদ্দীন আহমদকে হিস্যা দিতে হবে।

হাসনাত বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগের নামে ধরে ধরে মামলা দিন। তাদের ঘর থেকে ধরে এনে পুলিশে সোপর্দ করুন। আওয়ামী লীগ যেভাবে মানবাধিকার হরণ করেছে, তাদের আর পুনর্বাসন করার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই। সন্ত্রাসী হিসাবে আইন করে তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। আপনারা যারা ছাত্রদল, শিবির, ডান বা বামদল আছেন। আমাদের সবার পরিচয় আমরা মাজলুম।

এসময় মশাল মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা,  ঢাকা; আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ, লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে ভাই, ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই’ স্লোগান তুলে।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ, কুমিল্লার সমন্বয়ক আবু মুহাম্মদ রায়হান, মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন, রাসেদুল হাসান, রুবেল হোসাইন প্রমুখ।




দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিসিএস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিসিএস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহীতে বিজিপি সদর দফতর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকারের নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে, তবে এটি পৃথকভাবে সমাধান করা যাবে না। যারা মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে যোগদান করেছেন এবং যারা অন্য উপায়ে প্রবেশ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগদানে বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ পুরোদমে কাজে ফিরতে পারেনি, যা সত্যি। ৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে এখনও মানসিক চাপ কাজ করছে। উন্নতি ধীরগতিতে হলেও এগিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণ এবং সারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, এর তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এবং ইতোমধ্যেই দুই-একজনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বিজিপির সিইও, সিনিয়র সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।