কলাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সিক্সলেন সড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় আহত সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম পাঁচদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছেন। শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই মজিবর রহমান।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে আমতলীর বান্দ্রা থেকে কলাপাড়া আসার পথে যাত্রীবাহী বাস ‘রুদ্র তূর্য’ অটোরিকশাটিকে সিক্সলেন সড়কে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার আট যাত্রী আহত হন, এবং রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি ঘটলে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কলাপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




গলাচিপায় মেহেদী হত্যার বিচার চায় এলাকাবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় মেহেদী হাসান হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। রবিবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গলাচিপা থানা কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বজন, বন্ধুবান্ধব, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনগণ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম খান, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস দত্ত এবং নিহত মেহেদীর বাবা ইউনূস দুয়ারী। বক্তারা মোমেন হাওলাদার, মনির দুয়ারী, শাহাবুদ্দিন দুয়ারীসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে কঠোর শাস্তি চান।

এর আগে, ১৭ অক্টোবর আটখালী বাজারে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেহেদী হাসান ১০ অক্টোবর প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন এবং এক সপ্তাহ পরে, ১৬ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।




পুকুরে কোরাল চাষে সফল পটুয়াখালীর আনোয়ার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর লতাচাপলী ইউনিয়নের মৎস্য চাষি আনোয়ার প্রথমবারের মতো পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে কোরাল চাষে সফল হয়েছেন। আনোয়ার তার ৩০ শতাংশ জমির মিঠা পানির পুকুরে কোরাল চাষ শুরু করেন প্রায় এক বছর আগে। গবেষকদের তৈরি সিউইড সমৃদ্ধ কৃত্রিম ফিড ব্যবহার করে মাত্র এক বছরের মধ্যেই কোরালের ওজন ৩ থেকে ৪ কেজিতে পৌঁছেছে। এ সাফল্যে আনোয়ারের দেখাদেখি অনেকেই কোরাল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগে কোরাল চাষের এ নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। ড. আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে গবেষক দল থাইল্যান্ড থেকে ৭ শতাধিক কোরালের পোনা এনে আনোয়ারকে সরবরাহ করেন। পোনা গুলোকে কৃত্রিম ফিড দিয়ে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে কোরাল মাছগুলো দ্রুত বর্ধনশীল হয়েছে।

ড. আবদুর রাজ্জাক জানান, এই প্রযুক্তি কোরাল মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য চাষিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




পটুয়াখালীর ডাকাত বাহিনীর প্রধান জুয়েল গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হোটেল মালিকের বাসায় ডাকাতি মামলার প্রধান আসামি ও বরিশাল বিভাগের ডাকাত বাহিনীর প্রধান মো. জুয়েল মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জুয়েল মৃধা পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল বরিশাল বিভাগের ডাকাত বাহিনীর প্রধান এবং এ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে মোট ২০টি ডাকাতি মামলা রয়েছে।

মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, গত ৪ আগস্ট কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল মালিক মো. রনি মিয়ার বাসায় ডাকাতি করে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মহিপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন রনি মিয়া। তদন্তে জুয়েল মৃধাকে শনাক্ত করার পর আজ তাকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা ফিরল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। এখন থেকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে থাকবে।

রোববার (২০ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। এ রায়ের ফলে দীর্ঘ আট বছর পর নিষ্পত্তি হলো গুরুত্বপূর্ণ এ রিভিউ আপিলের।
বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন শুনানির দিন গত ১৫ আগস্ট আজকের দিন ধার্য করা হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আদালতে রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
এর আগে বেশ কয়েকবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন কার্যতালিকায় এলেও শুনানি হয়নি।



শিক্ষানবিশ পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা, রাজশাহীতে অনুষ্ঠিতব্য শিক্ষানবিশ পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় একাডেমিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪০তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের এ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ এবং প্যারেড পরিদর্শন করার কথা ছিল। এছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলাম এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রোববার সকালের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার জন্য শনিবার রাতে সারদা পুলিশ একাডেমিতে অবস্থান করছিলেন। তবে শনিবার রাতে জানানো হয়, অনিবার্য কারণবশত শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিত করা হয়েছে।

সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান স্থগিত করার এরকম ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটল। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়েছে।




ষোড়শ সংশোধনী : রিভিউ আবেদনের শুনানি চলছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে।

রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

গত ১৫ আগস্ট বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি আদালতে বলেন, অনেকদিন ধরে ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে রয়েছে। শুনানি হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে বেশ কয়েকবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন কার্যতালিকায় আসলেও শুনানি হয়নি।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ ৬ জন বিচারপতি শুনতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন আপিল বিভাগ।

২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন দাখিল করা হয়।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ ৯০৮ পৃষ্ঠার এ রিভিউ আবেদনে ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে ৯৪টি যুক্তি দেখিয়ে আপিল বিভাগের রায় বাতিল চাওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। ৮ মে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে ১১ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আপিল শুনানিতে আদালতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিকাস কিউরির (আদালতের বন্ধু) মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন।

অপর ৯ অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম হাসান আরিফ ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

২০১৬ সালের ১১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র।

রায়ে আরও বলা হয়, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ৬৩ শতাংশের অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল বা ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে দলের বিরুদ্ধে সাংসদরা ভোট দিতে পারেন না। তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ফলে সাংসদদের সব সময় দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তারা দলের বাইরে যেতে পারেন না। যদিও বিভিন্ন উন্নত দেশে সাংসদদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আছে।

রায়ে আরও বলা হয়, মানুষের ধারণা হলো, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে; এমন যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন।




নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ কিনতে পদ্মার পাড়ে ক্রেতাদের ভিড়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকারিভাবে ইলিশ শিকার, সংরক্ষণ, বিপণন, ক্রয় করা নিষিদ্ধ থাকলেও মাদারীপুর জেলার শিবচরের পদ্মা পাড়ের চিত্র একটু ভিন্ন। নদী থেকে সদ্য ধরে আনা তাজা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে নদীর পাড়েই।

আর তা কিনতে দুর্গম চরাঞ্চলে ছুটে আসছেন সাধারণ ক্রেতারা!। অনেকটা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন নিষিদ্ধ মৌসুমে গড়ে উঠা অস্থায়ী ইলিশের হাটে।

শিবচরের পদ্মানদী বেষ্টিত বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ী, চরজানাজাত ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ে এভাবেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। এদিকে গোপনে গড়ে উঠা এসব অস্থায়ী ইলিশের হাট দ্রুত গুড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পদ্মার পাড়েই মাছের হাট বসে। পদ্মা নদীর ৪/৫টি স্থানে প্রতিদিন ভোর এবং বিকেলে বিক্রি হয় ইলিশ মাছ।

দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ কিছুটা সস্তায় তাজা ইলিশ কিনতে ছুটে আসেন পদ্মা পাড়ে।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীতে উপজেলা মৎস্য অফিস, প্রশাসন, নৌপুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। সময় ভাগ করে একাধিক টিম পদ্মায় অভিযান পরিচালনা করছেন। জেলে আটকসহ জব্দ করা হচ্ছে লাখ লাখ মিটার কারেন্ট জাল। গত ৬ দিনে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিস ও নৌপুলিশ কমপক্ষে ৫ লক্ষাধিক মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করেছে। এছাড়াও ট্রলার জব্দ, জেলে আটক, জরিমানা এবং মা মাছ উদ্ধারও হচ্ছে।

তবে নদীতে অভিযান চলমান থাকলেও পদ্মার পাড়ে বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও বসেছে ইলিশের হাট! একশ্রেণির অসাধু জেলেরা মাছ ধরে এনে নদীর পাড়ে বিক্রি করছেন। মাছ বিক্রির খবর পেয়ে ব্যাগ নিয়ে নারী-পুরুষেরা ছুটছেন পদ্মার পাড়ে।




আওয়ামী লীগ নেতারা কীভাবে পালালো তদন্ত হচ্ছে: শফিকুল আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে কীভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তা তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। কেন, কীভাবে আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলেন তা নিয়ে সরকার তদন্ত করছে।

প্রেস সচিব বলেন, একটা বিষয় স্পষ্ট তা হলো ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না। প্রায় এক সপ্তাহের মতো পুলিশ ধর্মঘটে ছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শুনছেন যে—লোকটা পালাচ্ছেন, কিন্তু পুলিশ দিয়ে ধরতে হবে, সেই জায়গায় ওই সময় একটা গ্যাপ ছিল। কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল তাদের গ্রেপ্তার করা, এখনো চেষ্টা করছি যারা বাংলাদেশে আছেন তাদের গ্রেপ্তার করতে। তারা কীভাবে পালালেন তা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।




কী ছিলে আমার’ গানের জনপ্রিয় শিল্পী মনি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নব্বই দশকের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর রামপুরার বাসা থেকে শনিবার পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

মনি কিশোরের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। তবে রামপুরা থানা-পুলিশ জানিয়েছে, শিল্পী মনি কিশোরের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ গণমাধ্যমকে জানান, শিল্পী মনি কিশোর বাসায় একাই থাকতেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি ঘর থেকে বের হননি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

জানা গেছে মনি কিশোরের ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। বেশ কদিন ওই বাসা থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাননি প্রতিবেশীরা। এক সময় দুর্গন্ধ পেয়ে তারা জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে শিল্পীর মরদেহ উদ্ধার করে।

মনি কিশোর গেয়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক গান। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। কিন্তু এই মাধ্যমগুলোতে খুব কমই গান গেয়েছেন তিনি। মূলত নব্বইয়ের দশকের রমরমা অডিও বাজারের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী ছিলেন তিনি। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাসি’, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’ উল্লেখযোগ্য।