দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর প্রধান উপদেষ্টার

 

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২১ অক্টোবর) সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে সব সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ই-রিটার্ন পোর্টালের মাধ্যমে কর বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং বড় করপোরেশনগুলোকে তাদের পুরো সংস্থায় ই-রিটার্ন গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা।

বৈঠকে ডিজিটালাইজেশন সম্পর্কে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি এনবিআারের এক দরজায় সব সেবা (ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো) প্রকল্পকে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার ওপর নতুন করে জোর দেওয়া হয়।

অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা, একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রোডম্যাপ এবং ভূমি সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য বাস্তবায়ন সময়সূচি নির্ধারণ করা।

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




রাশেদ খান মেননের হাজার কোটি টাকার সম্পদ গোপনের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :: বামধারার রাজনৈতিক নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন প্রতিবার নির্বাচনের আগে হলফনামায় গোপন করেছেন সম্পদের তথ্য। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের হলফনামায় মাত্র ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ২২৬ টাকার সম্পদ থাকার কথা জানিয়েছিলেন মেনন ও তার স্ত্রী লুৎফুন্নেসা খান। অথচ তাদের রয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ। কেবল দেশেই নয়, বিদেশেও মেনন পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে প্রমাণ মিললে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে মেনন ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।

নৌকায় ওঠার পর খাতা খোলেন দুর্নীতির : রাশেদ খান মেননের বাবা বিচারপতি আব্দুল জব্বার ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার। কট্টর বাম রাজনীতিক মেনন তখন বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে প্রথম লাইমলাইটে আসেন। ১৯৭৯ সালে আদর্শিক পথে চলা শ্রদ্ধার মানুষ পরিচয়ে তিনি প্রথম সংসদ-সদস্য হন। তার এ ধারা অব্যাহত থাকে ’৯১ সাল পর্যন্ত। সেবার নিজের দল ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা হিসাবে তিনি বরিশাল-২ নির্বাচনি এলাকায় সংসদ-সদস্য হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এসে অবশ্য তিনি পুরোপুরি পালটে যান।

ততদিনে তার দলসহ আরও ১৩ দল মিলে গঠিত হয়েছে ১৪ দলীয় জোট। ওই বছর নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচনি প্রতীক কাস্তে, হাতুড়ি ফেলে নৌকা প্রতীকে নিজের নির্বাচনি এলাকা বরিশাল ছেড়ে রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করে সংসদ-সদস্য হন মেনন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও ঘটে একই ঘটনা। নৌকার মাঝি হয়ে সংসদ-সদস্য হন ওয়ার্কার্স পার্টির মেনন। ২০২৪-এর নির্বাচনে আরও একটি দুঃখজনক ঘটনার সাক্ষী হন বরিশালের বাসিন্দারা।

এবার মেনন ভোট করেন বরিশাল-২ অর্থাৎ উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনে। অথচ তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল-৩ নির্বাচনি এলাকার বাবুগঞ্জ উপজেলায়। মেননের পৈতৃক বাড়ি বাবুগঞ্জের দেহেরগতী এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘২০০৮ সালে নৌকায় ওঠার পর থেকেই মূলত বদলে যান মেনন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ তাকে দুবার মন্ত্রীও বানিয়েছে। আজন্ম আদর্শের রাজনীতি করে দারিদ্র্যের সঙ্গে থাকা মেনন পালটে যান মন্ত্রী হওয়ার পর। বিত্তবৈভবের নেশায় পেয়ে বসে তাকে। যে কোনো মূল্যে সংসদ-সদস্য হওয়াই মুখ্য হয়ে ওঠে তার কাছে। তাই কেবল আদর্শ কেন, জন্মভূমি আর পিতৃভিটার মানুষকে ছেড়ে যেতেও তিনি দ্বিধা করেননি।’

হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন যেভাবে : ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার নামকরা উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আইডিয়াল স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন মেনন। তার দুর্নীতির হাতেখড়িও মূলত এ তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই। উইলসের সভাপতি থাকাকালে অবৈধ পন্থায় ১২৮ জনকে শিক্ষকসহ স্কুলের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন মেনন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুস বাবদ তিনি নেন কোটি কোটি টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ৪২ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেন বিপুল অঙ্কের অর্থ। অথচ গভর্নিং বডির কোনো আইনগত ক্ষমতা ছিল না পদোন্নতি দেওয়ার। একইভাবে অবসর ভাতা প্রদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং অবকাঠামো নির্মাণ খাত থেকে বিপুল অর্থ সরান এই বামপন্থি নেতা।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল-ভাউচারেও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে। এক হিসাবে দেখা যায়, সাত বছরের দায়িত্ব পালনকালে এই এক বিদ্যালয় থেকেই তিনি প্রায় ৮০ কোটি টাকা হাতিয়েছেন। এ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ দাখিল রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। প্রাথমিক তদন্তে দুদক কর্মকর্তারাও এসব দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন। উইলসের মতোই ভিকারুননিসা এবং আইডিয়ালেও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়েন রাশেদ খান মেনন।

বিদ্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের কোনো বিধান না থাকলেও মেনন একক ক্ষমতায় একজন সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দিয়ে অবকাঠামো খাত নির্মাণে তৈরি করেন কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ। এ দুটি প্রতিষ্ঠানেও নিয়োগ, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন খাত দিয়ে টাকা হাতান তিনি। উল্লিখিত তিনটি বিদ্যালয়ে মেনন সবচেয়ে বড় দুর্নীতি করেছেন ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে। এ তিনটি স্কুলে শিক্ষার্থীপ্রতি ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার ভর্তি বাণিজ্য করে মেনন ও তার চক্র।

৭ বছর সভাপতি থাকাকালে এ ভর্তি বাণিজ্যে মেননের হাজার কোটি টাকা হাতানোর প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এর পাশাপাশি বিমান-পর্যটন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী থাকাকালে এ দুটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকেও শত শত কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্য, সব ধরনের বরাদ্দে কমিশন আদায়, বিমান ক্রয়, অবৈধ বরাদ্দ ও স্বর্ণ চোরাচালানের মতো গুরুতর দুর্নীতির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা লোপাটের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক।

হাজার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন : আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ-সদস্য, মন্ত্রীদের মতো মেননও হলফনামায় হাজার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। অবশ্য হলফনামার হিসাবেও লাখ থেকে কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন মেনন ও স্ত্রী লুৎফুন্নেসা খান। মেননের স্ত্রী একসময় চাকরি করতেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দাখিল করা হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর মিলিয়ে ২৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দেন মেনন। এর মধ্যে নিজের ২৩ লাখ ৬০ হাজার এবং স্ত্রীর মাত্র ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার সম্পদ থাকার কথা তিনি উল্লেখ করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেই তাদের সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছে যায়। সেবারের হলফনামায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৯ হাজার ৪০০ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছিলেন মেনন দম্পতি।

মেননের ৯৬ লাখ ৬ হাজার টাকার সম্পদের পাশাপাশি স্ত্রী লুৎফুন্নেসার সম্পদ দেখানো হয় ২৮ লাখ ৩ হাজার ৪০০ টাকার। হলফনামার হিসাবেই ২০২৪ সালের নির্বাচনেও অব্যাহত থাকে সম্পদ বৃদ্ধির এই ম্যাজিক। এবার দাখিল করা ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ২২৬ টাকার সম্পদের বর্ণনায় নিজের ১ কোটি ৮৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫৭১ টাকার সম্পদের পাশাপাশি স্ত্রীর ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দেন মেনন। যদিও এসব হলফনামার প্রতিটিতেই মিলেছে ব্যাপক ঘাপলা। ২০২৪ সালের হলফনামায় শেয়ার, চাকরি এবং অন্যান্য মিলিয়ে বছরে তিনি ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৫ টাকা বার্ষিক আয়ের তথ্য দেন। দাখিল করা এই হিসাবে মাসে ৫৮ হাজার ২৮ টাকা আয় করা মেনন তার যানবাহনের বর্ণনায় যে গাড়ির মালিকানার কথা লেখেন, এর দাম উল্লেখ করা হয় ৪৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর গাড়ির দাম দেখানো হয় এর প্রায় আড়াই গুণ, অর্থাৎ ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা।

আয়ের সঙ্গে জীবনযাপনের ব্যয়নির্বাহে এমন অনেক অসংগতির পাশাপাশি সম্পদের প্রশ্নেও তিনি অনেক কিছু গোপন করেন। স্থাবর সম্পদ প্রশ্নে দেড় বিঘা কৃষিজমি আর রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠা অকৃষি জমির কথা উল্লেখ করলেও রাজধানী ঢাকার তোপখানা এবং বরিশালের বাবুগঞ্জে থাকা শতকোটি টাকার পৈতৃক সম্পদের তথ্য তিনি বেমালুম চেপে যান। সেই সঙ্গে গোপন করেন নামে-বেনামে থাকা হাজার কোটি টাকার সম্পদের তথ্যও। পূর্বাচলে ১০ কোটি টাকার একটি প্লট থাকার কথা হলফনামায় উল্লেখ করলেও সেই পূর্বাচলেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা ৫ কাঠার আরও ৪টি প্লট রয়েছে মেনন দম্পতির। সেই তথ্য তিনি দেননি হলফনামা বা আয়কর ফাইলে।

ভূমি দপ্তরের রেকর্ডরুম ও রেজিস্ট্রি দলিল অনুযায়ী আরও যেসব সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন মেনন, এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার গুলশান-২, রোড নং-৫, বাড়ি নং-২৭-এ ৪টি ফ্ল্যাট; বনানী রোড নং-৪, বাড়ি নং-১৬তে ২টি ফ্ল্যাট; ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় ১৬০ বিঘা জমি; কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ হাইওয়ে সড়কে ২০ বিঘা জমির ওপর রিসোর্ট এবং বরিশালের উজিরপুরে ৩০০ বিঘা জমিসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি প্লট ও ফ্ল্যাটের তথ্য। আর্থিক মূল্যে এসব সম্পদের দাম কয়েক শ কোটি টাকা। এর বাইরে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার এফডিআর-শেয়ার, আমেরিকায় চিকিৎসক কন্যার জন্য বাড়ি কেনা এবং লন্ডনেও একাধিক ফ্ল্যাট-বাড়ি থাকার অভিযোগ রয়েছে মেননের বিরুদ্ধে।

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে ওয়ার্কার্স পার্টির একাধিক নেতা বলেন, ‘ক্ষমতা আর বিত্তের লোভে শেষের দিকে নীতি-আদর্শ সবই বিসর্জন দেন একসময়কার ডাকসাইটে বাম রাজনীতিক মেনন। নিজে সংসদ-সদস্য হতে গিয়ে দলকেও একপর্যায়ে করে ফেলেন ধ্বংস। আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনাকে খুশি রাখতে গিয়ে অবস্থান নেন সাধারণ জনগণ আর দেশের মানুষের একান্ত চাওয়ার বিরুদ্ধে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে স্ত্রীকে সংসদ-সদস্য বানান মেনন। এ নিয়ে দলের ভেতরে সৃষ্টি হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার। এমনিতেই মেননের আদর্শহীন কর্মকাণ্ডে ক্ষুদ্ধ ছিলেন দলের তৃণমূল ও মাঠ পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মী।

২০১৮ সালের নির্বাচনে স্ত্রীকে সংসদ-সদস্য বানানোর পর আরও তীব্র হয় তা। দলে ত্যাগী, পরীক্ষিত বহু নেত্রী থাকা সত্ত্বেও মেননের এ কাজে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার চরম স্বার্থপরতা ও ক্ষমতার লোভের বিষয়টি। দলের ভেতরেও তাকে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের চাওয়াতেই অটল থাকেন ক্ষমতা আর বিত্তলোভী মেনন। ৫ আগস্টের পর পলাতক থাকা মেননকে ২২ আগস্ট গুলশান থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। এছাড়া তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। দুদকের পক্ষ থেকেই এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।




বরিশালে মা-মেয়ের ওপর হামলায় আটক ১

বরিশাল অফিস :: পূর্ব বিরোধের জেরধরে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করা হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বেলা এগারোটার দিকে জেলার গৌরনদী উপজেলার উত্তর পালরদী গ্রামে।

আহতরা হলেন-ওই গ্রামের সালাম বেপারীর স্ত্রী মাহফুজা বেগম (৬০) ও তাদের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম (২৭)। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদিয়া ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী চাচাতো ভাই রায়হান বেপারী আমাকে উত্যক্ত করে আসছে।

রায়হানের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা আমাকে দ্ররুত বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। সেই থেকে তাদের সাথে আমাদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। এছাড়াও গত কয়েকদিন যাবত জমির গাছ কাটা নিয়ে রায়হানদের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। সোমবার বেলা এগারোটার দিকে রায়হান তার ভাই রাশেদ, আসাদ ও আহাদ বেপারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে (সাদিয়া) কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে। হামলাকারীরা আমরা মা মাহফুজা বেগমকেও পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও নাম্বার বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রায়হান বেপারীকে গ্রেপ্তার করেছে।




পটুয়াখালীতে দেশী মাছ বিলুপ্তির পথে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে দেশী মাছের সংকট নতুন মাত্রা ধারণ করেছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে দেশী মাছের অভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে মাছের দাম বেড়ে গেছে। মৎস্যজীবী ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে দেশী মাছের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা স্থানীয় মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
আগে পটুয়াখালী জেলার পুকুর, নদী-খাল ও জলাশয়ে প্রচুর দেশী মাছ পাওয়া যেত, যেমন: চিংড়ি, রুই, কাতলা, শিং, বোয়াল, কই, মাগুর, ট্যাংরা, টাকি এবং পুটি। তবে বর্তমানে এসব মাছের মধ্যে বেশ কিছু প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। বিশেষত, দেশী চিংড়ি, পুটি, বোয়াল এবং কই মাছ এখন প্রায় মিলছে না।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে মাছের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। দেশী চিংড়ি আগে ছিল ৩০০-৪০০ টাকা, বর্তমানে ৯০০-১২০০ টাকা; বোয়াল আগে ছিল ৪০০-৫০০ টাকা, বর্তমানে ১২০০-১৫০০ টাকা; কই আগে ছিল ২০০-২৫০ টাকা, বর্তমানে ৪০০-৫০০ টাকা; শিং আগে ছিল ৩০০-৪০০ টাকা, বর্তমানে ৭০০-৮০০ টাকা; মাগুর আগে ছিল ২৫০-৩০০ টাকা, বর্তমানে ৬০০-৭০০ টাকা; ট্যাংরা আগে ছিল ২০০-২৫০ টাকা, বর্তমানে ৫০০-৬০০ টাকা।
স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা আবদুল গনি (৬৭) বলেন, “আগে যে সব মাছ খেতাম, এখন তা চোখেও পড়ে না। কালে ভাদ্রে ২-১ বার দেখি, কিন্তু কিনে খেতে পারি না। ছোট সময় এমন কিছু মাছ খেতাম, যা বর্তমান প্রজন্মের অনেকে নামই জানে না।”
এদিকে, পৌর নিউ মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী দুলাল হাং (৪২) বলেন, “দেশী মাছ এখন আর পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বাজারে আসে, কিন্তু দাম এত বেশি যে, মানুষ কিনতে পারে না। মাছ বিক্রির বাজারে এমন পরিস্থিতি যে, আর কয়েক দিন গেলে দেশী মাছ চোখেই দেখা যাবে না।”
বিভিন্ন কারণে মাছের সংকটের মূল কারণ হিসেবে পরিবেশগত পরিবর্তন, নদী ও জলাশয়গুলোর দূষণ এবং অবৈধ মাছ ধরার কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, নদী ও পুকুরের অবস্থার অবনতি ঘটেছে, ফলে দেশী মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
মৎস্যজীবীরা জানান, জাল ফেলে মাছ ধরার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় মাছের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় মানুষদের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, “আমরা দেশীয় মাছের সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। মাছের উৎপাদন বাড়াতে জলাশয়গুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। পাশাপাশি, অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।”
দেশী মাছের সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে পটুয়াখালীর জনগণ তাদের প্রিয় খাদ্য পুনরায় সহজে পেতে পারেন।



ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হলো শিক্ষার্থীদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এর ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, ২১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ডিএমপির ‘ট্রাফিক পক্ষে’র কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ শিক্ষার্থীকে সম্মানীসহ যুক্ত করা হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ডিএমপি ট্রাফিক পক্ষ-২০২৪ উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।




হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মিথ্যাচার করেছেন : আসিফ নজরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

সোমবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, তার এই পদে থাকার যোগ্যতা আছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উনি যদি তার বক্তব্যে অটল থাকেন তাহলে বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদে যাবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




৬ সরকারি ব্যাংকের নতুন এমডি নিয়োগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বিডিবিএল এবং বেসিক ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২১ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত ছয়টি পৃথক চিঠি ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠানি বিভাগ।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডিও) শওকত আলী খান, রূপালীতে মো. আব্দুর রহিম, অগ্রণীতে আনোয়ারুল ইসলাম, জনতায় মজিবর রহমান, বিডিবিএলে জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকে কামরুজ্জামান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর একসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ৬ ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে (এমডি) অপসারণ করে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গত এক মাস রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) এমডি ছাড়াই চলেছে। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতাও সৃষ্টি হয়েছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী পদত্যাগে বাধ্য হন। আর ব্যাংকটির এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আফজাল করীমকে। সোনালী ব্যাংকে সদ্য চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। তার বাড়ি চট্টগ্রামে।

জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকের মধ্যে নাজুক অবস্থায় আছে বেসিক ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক। বেসিক ব্যাংকের ৬৫ শতাংশ ঋণ এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে, যার পরিমাণ ৮ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। গত জুনে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক শতাংশ বা ৪৮ হাজার কোটি টাকায়। এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে খেলাপি ঋণ।




পিরোজপুরের সুস্বাদু আমড়ার খ্যাতি দেশজুড়ে

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের সুস্বাদু আমড়ার খ্যাতি দেশজুড়ে। বর্ষা মৌসুমের এ ফলটি যেমন জেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোর শোভা বর্ধন করে, তেমনি এই ফলের বাগান জেলার আয়ের এক অন্যতম মাধ্যম। ফলটি যেমন আমাদের মুখের রুচি যোগায়, তেমনি আয়ের পথও সুগম করে।

সুরুচির যোগান দিতে পিরোজপুরের উৎপাদিত আমড়া শুধু ঢাকা নয়, দেশের প্রায় সব জেলায় পৌঁছে যায়। আর পিরোজপুর বৃহত্তর বরিশালের একটি জেলা হওয়ায় এটি বরিশালের আমড়া হিসেবেই বেশি পরিচিত। বরিশালের আমড়া যেমন সুস্বাদু, তেমনি আকারেও বেশ বড়। পিরোজপুরের আবহাওয়া ও জলবায়ু আমড়া চাষের জন্য উপযোগী থাকলেও এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় এর উৎপাদন কিছুটা কমেছে। ফলে কমেছে সরবরাহ, বেড়েছে দাম।

আমড়া ব্যবসায়ীরা বলেন, পিরোজপুরের আমড়া বাংলাদেশে বিখ্যাত। বরিশাল থেকেই ঢাকা-সিলেট কুমিল্লা নোয়োখালীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। সর্বত্রই আমাদের আমড়ার খুব চাহিদা রয়েছে। বিগত দিনে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা কিছুটা খারাপ থাকার কারণে ও বন্যার কারণে আমরা যারা ব্যবসায়ী তারা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থায় আছে, এভাবে থাকলে বিগত দিনের যে ক্ষতি হয়েছে আমরা সেটা কাটিয়ে উঠতে পারব।

পিরোজপুরের আমডার বেশি চাহিদার কারণ হচ্ছে এই আমড়ায় কোনো ধরনের সার কীটনাশক এবং ফরমালিন ব্যবহার করা হয় না। এ কারণে দেশজুড়ে এর খ্যাতি রয়েছে। এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বরিশালের আমড়ার অনেক প্রশংসা করে থাকে। তাই পিরোজপুরে পেয়ারার পাশাপাশি আমড়াও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক ড. মো: নজরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং জলবায়ু আমড়া চাষের উপযোগী থাকায় এর ফলনও বেশি। ফলে এটি চাষে কৃষকের আগ্রহও বেশি। তাছাড়া বর্তমানে পদ্মা ব্রিজ হওয়ায় এটি বিপণনের সুবিধাও বেড়েছে। ফলে কৃষকের আগ্রহ আরো বেড়েছে। পাশাপাশি এর চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের রয়েছে সর্বোচ্চ সহযোগিতা।

এ বছর জেলায় মোট ৫০৯ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ হয়েছে। এবং হেক্টর প্রতি এর উৎপাদন ২০ মেট্রিক টন।




সাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড় ডানায় রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর আন্দামান সাগরের তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড় হলে তার নাম হবে ‘ডানা’, যা কাতার থেকে দেওয়া হয়েছে।

কানাডার সাস্কাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, লঘুচাপটি মঙ্গলবার নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বুধবারের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ডানা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ। এটি ২৩-২৪ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বরিশাল ও খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পটুয়াখালী জেলা সহো দেশের কিছু এলাকায় সাময়িক বৃষ্টি হতে পারে। তবে লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার বিষয়ে এখনও সতর্কতা জারি হয়নি।

**ট্যাগ:** লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড় ডানা, আবহাওয়া পূর্বাভাস, বঙ্গোপসাগর, খুলনা, চট্টগ্রাম, বৃষ্টি, ঝড়




বরিশালের বিসিকের কাশবন অপরাধীদের আস্তানা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীর ৩৫ একর জমিতে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্লটের বালুর ওপর জন্ম নেওয়া আগাছা ও কাশফুলের বন অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,এই এলাকাটি বর্তমানে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

সেখানে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিসিকের বিশাল কাশবন প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে আকৃষ্ট করছে, যারা কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসে। কিন্তু সেই সঙ্গে মাদকাসক্ত ও বখাটেরা এই বনের আড়ালে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বনের গভীরে মাদক সেবন ও বিক্রি থেকে শুরু করে, অনৈতিক কার্যক্রমের মতো বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদুল হাসান বলেন,এই কাশবনের কারণে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। বহিরাগত চোর-ডাকাত এবং মাদকাসক্তদের আনাগোনা এখানে বেড়েছে। কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায়, তারা যখন-তখন এলাকায় ঢুকে পড়ে।

এদিকে, কাশবনে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়ছে। সোহাগ নামে এক ব্যক্তি জানান,পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছিলাম, কিন্তু কিছু যুবক এখানে উশৃঙ্খল আচরণ করছিল, যা খুবই অস্বস্তিকর ছিল।

বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন আলম দ্রুত এই কাশবন অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা বিষয়টি জেলা বিসিক কার্যালয়কে জানিয়েছি, তারা আমাদের দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিসিক বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন,কাশবন এলাকায় মাদকাসক্ত ও বখাটেদের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। শিল্প মালিকদের নিজ উদ্যোগে ঘাস অপসারণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অবিলম্বে এই কাশবন সরিয়ে অপরাধ দমন করতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।