গলাচিপায় বৃদ্ধ নারীকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি প্রদানে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় এক বৃদ্ধ নারীকে তার বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার গলাচিপা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অজুফা বেগম এ অভিযোগ করেন।

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা, মৃত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আকনের স্ত্রী অজুফা বেগম (৫০) জানান, তার স্বামীর বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য প্রতিবেশী মোহম্মদ ইউনুস আলী সরদার ও তার ভাই সহ পরিবারের সদস্যরা জমা-জমি নিয়ে ইচ্ছাকৃত ষড়যন্ত্র করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী অভিযোগ করেন, ইউনুস আলী ও তার ভাই সাবেক সরকারি প্রথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অবসরপ্রাপ্ত মোঃ সুলতান আহমেদ নানাবিধ ক্ষমতার হুমকি দিয়ে ওই তাকে তার স্বামীর সম্পত্তি ও বসত ঘর থেকে উচ্ছেদ করার পায়ঁতারা করছে।

জমা জমি সংক্রান্ত ইতিপূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের এক সদস্য দেওয়ানী আদালতে মামলা করে, যা চলমান রয়েছে মামলা সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বার বিষয়টি অসহায় মহিলার পক্ষে সামাজিকভাবে সমর্থন জানান।

দেশের পট পরিবর্তনে মোঃ ইউনুস আলী সরদার ও তার পরিবারের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জানিয়ে অজুফা বেগম জানান, তিনি গরীব মানুষ তার একমাত্র ছেলে নাসির উদ্দিন জীবন জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান ও নিরাপত্তার দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




পিআর নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা, তিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াতের ‘মিটিং’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকোন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রেক্স মোলার ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাক্স উইক্সের সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর গুলশানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের বাসায় এই ব্রেকফাস্ট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত মিটিংটি চমৎকার ও সন্তোষজনক হয়েছে। বৈঠকে নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন পদ্ধতি স্থান পায়। বর্তমানে নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি বিদ্যমান, এবং তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে এই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে পরামর্শ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে নরওয়ের ডেপুটি হেড অব মিশন মিস মারিয়ান রাবে ন্যাভেলসরুড উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন।

**ট্যাগ:** জামায়াতে ইসলামী, রাষ্ট্রদূত, নির্বাচন পদ্ধতি, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, গণতন্ত্র, ব্রেকফাস্ট মিটিং, রাজনীতি




শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য জানালেন মতিউর রহমান চৌধুরী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক  :: শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে কোনো পদত্যাগপত্র নেই বলে জানা যাওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা শুরু হয়।

সাপ্তাহিক ‘জনতার চোখ’ প্রকাশনায় সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, তার কাছে কোনো হার্ডকপি নেই।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিলেন একটি বই লেখার কাজের জন্য। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্রের কপি অনেক জায়গায় খোঁজা হয়েছে, কিন্তু সেগুলি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে বিষয়টি জানতে গিয়েছিলেন এবং ঘণ্টাখানেক কথা বলেছেন।

এদিকে, সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন কি না, এ বিষয়ে আইনজীবীরা ভালো বলতে পারবেন। তবে, তিনি এ বিষয়ে বিতর্কে জড়াতে চান না, বলেই তিনি মনে করেন হার্ডকপি দেখালে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, যদি রাষ্ট্রপতি কিংবা স্পিকার না থাকেন, তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস অথবা জাতীয় সরকারের মতো একটি সরকার গঠন করা হতে পারে। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় সরকারের গঠন করলে সংকট মোকাবেলার সম্ভাবনা থাকবে, অন্যথায় সংকট আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।




১৫৭.৯০ টাকা দরে ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং দেড় লাখ মেট্রিক টন (এমটি) সার সংগ্রহের জন্য পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির (এসিসিজিপি) অষ্টম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

রাষ্ট্র পরিচালিত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রায় ৮৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা দিয়ে সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড থেকে স্থানীয় ওপেন টেন্ডার মেথড (ওটিএম) এর আওতায় ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল সংগ্রহ করবে। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫৭.৯০ টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত নথি অনুযায়ী, সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এসিসিজিপি সভায় মোট পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিনটি পৃথক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রায় ৮৭২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় চীন, মরক্কো ও সৌদি আরবের তিনটি কোম্পানি থেকে এক লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার সংগ্রহ করবে। কোম্পানি তিনটি হলো- চীনের বনিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেড, মরক্কোর ওসিপি এবং সৌদি আরবের মা’আদেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) চলতি অর্থবছর (অর্থবছর ২৪) সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির অধীনে ৪র্থ লটে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করবে। যার ক্রয়মূল্য ১২৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ সারের প্রতি টনের দাম পড়বে ৩৫৯.৩৩ মার্কিন ডলার।




মিয়ানমার থেকে ৬০০ টন পেঁয়াজ আসলো টেকনাফে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: মিয়ানমার থেকে আরও ৬০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে। সোমবার বিকেলে ইয়াঙ্গুন বন্দর থেকে ছেড়ে আসা দুটি কার্গো ট্রলারে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য পৌঁছেছে টেকনাফে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফের ব্যবস্থাপক সৈয়দ মো. আনোয়ার হোসেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম ৭৮ টাকা, যা পরিবহন খরচসহ ৮৬ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করা হবে। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ পেঁয়াজের আমদানি হয়েছিল। এরপর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে আমদানি বন্ধ ছিল।

টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস সূত্র জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত বাণিজ্যে অচলাবস্থা চলছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরও দুই হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

পণ্য খালাসে শ্রমিকরা ব্যস্ত থাকলেও, দীর্ঘদিন সীমান্ত বাণিজ্যে অচলাবস্থার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় শ্রমিকনেতা আলী আজগর মাঝি বলেন, বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 




১৯ দিনে এলো ১৮ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অক্টোবর মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে বৈধ পথে ১৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার (১.৫৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, দৈনিক গড়ে ৮ কোটি ডলার বা ৯৬৮ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪০ কোটি ডলার, একটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ কোটি ৮১ লাখ ডলার এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১০৫ কোটি ডলার এসেছে। এছাড়া, বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪০ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে।

তবে উল্লেখযোগ্যভাবে, ১১টি ব্যাংকে প্রবাসীরা কোনো রেমিট্যান্স পাঠাননি। এর মধ্যে রয়েছে বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেন্স ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি বেসরকারি এবং বিদেশি ব্যাংক।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্সের আগমন আরও আশাব্যঞ্জক ছিল, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাসে মাসে বাড়তি রেমিট্যান্স দেখা গেছে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড তৈরি হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে, যখন প্রবাসীরা দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন।

 




শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিলেন রাষ্ট্রপতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ, দেশত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (২১ অক্টোবর) রাতে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে তা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতার ওপর যত ধরনের প্রশ্ন জনমনে উদ্রেক হয়েছে সেগুলোর যাবতীয় উত্তর স্পেশাল রেফারেন্স নং-০১/২০২৪ এ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গত ৮ আগস্ট, ২০২৪-এর আদেশে প্রতিফলিত হয়েছে।’

‘সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি ৮ আগস্ট, ২০২৪ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এ মতামত দিয়েছিলেন।’




সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যু: বঙ্গভবনের বিবৃতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক সৃস্টি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল কিংবা বিব্রত করা থেকে বিরত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক প্রেস রিলিজে বলা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন মিডিয়ায় যে প্রচারণা চালানো হয়েছে তা জনমনে বিভ্রান্তির সৃস্টি করেছে। এ বিষয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সুস্পস্ট বক্তব্য হচ্ছে, ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতার উপর যত ধরনের প্রশ্ন জনমনে উদ্রেক হয়েছে সেগুলোর যাবতীয় উত্তর স্পেশাল রেফারেন্স নং-০১/২০২৪ এ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের গত ০৮ আগস্ট, ২০২৪ এর আদেশে প্রতিফলিত হয়েছে।
সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ০৮ আগস্ট, ২০২৪ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের মতামত চাওয়ার প্রেক্ষিতে আপীল বিভাগ এই মতামত দিয়েছিলেন।
মীমাংসিত এই বিষয়ে নতুন করে কোনো বিতর্ক সৃস্টি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল কিংবা বিব্রত করা থেকে বিরত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সকলের প্রতি আহ্বান জানান।




শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো নথিপত্র আমার কাছে নেই : রাষ্ট্রপতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নিজের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। দৈনিক মানবজমিন পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই।

সাক্ষাৎকারটি শনিবার মানবজমিন পত্রিকাটির রাজনৈতিক ম্যাগাজিন সংস্করণ ‘জনতার চোখ’- এ প্রকাশিত হয়। পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন।

মতিউর রহমান চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র যদি সত্যিই জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটির অনুলিপি কারও না কারও কাছে থাকার কথা। কিন্তু তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালালেও এর খোঁজ কেউ দিতে পারেনি তাকে। এমনকি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও যোগাযোগ করা হয়েছে, যেখানে সাধারণত প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। তাই শেষমেষ রাষ্ট্রপতির কাছেই সরাসরি এর উত্তর জানার সুযোগ মেলে।

৫ আগস্ট ছাত্র-আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের মুখে দেশত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবিধানের ৫৭ (ক) ধারা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, তার কাছে শেখ হাসিনার কোনো পদত্যাগপত্র বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রমাণ পৌঁছায়নি।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্যে, ‘আমি বহুবার পদত্যাগপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। হয়তো তার সময় হয়নি’।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বঙ্গভবনে ফোন আসে, যেখানে বলা হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আসবেন। এরপরই বঙ্গভবনে প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি ফোন আসে যে তিনি (শেখ হাসিনা) আসছেন না।

তিনি বলেন, ‘চারদিকে অস্থিরতার খবর। কী হতে যাচ্ছে জানি না। আমি তো গুজবের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে পারি না। তাই সামরিক সচিব জেনারেল আদিলকে বললাম খোঁজ নিতে। তার কাছেও কোনো খবর নেই। আমরা অপেক্ষা করছি। টেলিভিশনের স্ক্রলও দেখছি। কোথাও কোনো খবর নেই। এক পর্যায়ে শুনলাম, তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। আমাকে কিছুই বলে গেলেন না।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার যখন বঙ্গভবনে এলেন তখন জানার চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন কি না? একই জবাব। শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। মনে হয় সে সময় পাননি জানানোর।’

তিনি বলেন, ‘সব কিছু যখন নিয়ন্ত্রণে এলো তখন একদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এলেন পদত্যাগপত্রের কপি সংগ্রহ করতে। তাকে বললাম, আমিও খুঁজছি’।

মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বিষয়ে আর বিতর্কের সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী চলে গেছেন এবং এটাই সত্য। তবুও এই প্রশ্নটি যাতে আর কখনও না ওঠে তা নিশ্চিত করতে আমি সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়েছি।

রাষ্ট্রপতির পাঠানো রেফারেন্সের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট এ সম্পর্কে তাদের মতামত দেন। এতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক শূন্যতা দূর করতে এবং নির্বাহী কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টামণ্ডলীকে শপথবাক্য পাঠ করাতে পারবেন বলে আপিল বিভাগ মতামত দেন।

তবে গত ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী আসসালামু আলাইকুম, আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।




জামায়াত-বিএনপি একে অপরের ‘বন্ধু’ ভুল বোঝাবুঝিতে মারামারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতে ইসলামীর তিন সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনায় পালটাপালটি বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের পর বিএনপি ও জামায়াতের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমঝোতা করেছেন।

রোববার রাতে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. রফিকুল ইসলাম দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করেন। পরে তারা বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেনের কাছে গিয়ে তাদের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি অবহিত করেন।

গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজারে মো. মনিরুজ্জামান ওয়াজিবুল্লাহ (৩০), নাইম আবদুল্লাহ (২৮) ও মো. আলামিন (২৫) নামে তিন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের কর্মী দাবি করে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয় কনকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের অনুসারীরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান। জামায়াতের ওই বিক্ষোভের প্রতিবাদে কনকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. তোফাজ্জেল হোসেন (তপু) বলেন, “যারা আহত হয়েছেন তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছেন। এখন তারা জামায়াত সেজে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। এ কারণে ভুক্তভোগী লোকজন তাদের মেরেছে।”

এ ঘটনাকে সাধারণ নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি আখ্যা দিয়ে দুই পক্ষেরই সমালোচনা করেন। পরে রোববার রাতে জামায়াত ও বিএনপির নেতারা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমঝোতা করে দেন। এই সমঝোতায় কোনো বিনিময় ছিল না।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “জামায়াত ও বিএনপি এক অপরের বন্ধু। একটু ভুল বোঝাবুঝির কারণে তুচ্ছ একটা ঘটনা ঘটেছে, যা কোনো বিনিময় ছাড়াই সমঝোতা করে দেওয়া হয়েছে।”

ওসি মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে দুই পক্ষকেই বলে দেওয়া হয়েছে।”