বরিশালে পরিবেশ কর্মীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

বরিশাল অফিস :: নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহবান জানিয়ে বরিশালে পরিবেশ কর্মীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত। বুধবার সকাল ১০ টায় নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ রোডে প্রান্তজন, কোস্টাল লাইভলিহুড এন্ড এনভায়রনমেন্টাল একশন নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি এন্ড ডেভলপমেন্ট, ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভলপমেন্ট বরিশাল নামের চারটি পরিবেশবাদি উন্নয়নমূলক সংগঠনের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে বক্তারা জানান, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেমন সৌর, বায়ু এবং অন্যান্য কম-কার্বন প্রযুক্তিতে আরও বিনিয়োগ করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজের মতো তথাকথিত ক্লিন এনার্জির নামে ভুয়া প্রযুক্তির প্রকল্পগুলো থেকে সরে আসা। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যে প্রযুক্তির জন্য তহবিল বরাদ্দ করছে তা বাস্তবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকর নয় এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নির্ভরযোগ্য ও টেকসই সমাধানের জন্য রিনিউয়েবল এনার্জিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের বর্তমান বিনিয়োগ নীতিমালার সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে এখনো পুরানো এবং অকার্যকর প্রযুক্তির জন্য তহবিল বরাদ্দ করা আছে যা জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক নয়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বর্তমান নীতি অনুসারে তারা আর কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করবে না বলে জানিয়েছে তারপরেও তারা রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট এবং সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়েক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এমন কিছু প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে যেগুলোর প্রভাব অস্বচ্ছ এবং কার্যকারিতা প্রমাণিত নয় যেমন এনার্জি মিক্স এবং কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আইএমএফের উচিত জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে আসা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী থেকে বিশ্বব্যাংকের প্রতি বক্তারা আহবান জানান, যেন তারা তাদের বিনিয়োগ নীতি পুনর্বিবেচনা করে এবং বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানিতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে এসময় উপস্থিত ছিলেন, ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভলপমেন্ট বরিশাল এর সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী, ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভলপমেন্ট এর সদস্য সচিব অ্যাড. সুভাষ দাস, প্রান্তজনের প্রধান নির্বাহী তৌহিদুল ইসলাম শাহজাদা, ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভলপমেন্ট সদস্য মো. খোরশেদ আলমসহ জলবায়ু কর্মী, সেচ্ছাসেবক, সুশীল সমাজের সদস্য বৃন্দ, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ।




বিভেদে লিপ্ত হবার সময় হয়নি-মামুনুল হক

বরিশাল প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেছেন, বিভেদে লিপ্ত হবার সময় হয়নি। বিএনপি, জামাত সহ সকল রাজনৈতিক দলকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। যদি দলগুলো দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় তাহলে এই স্বাধীনতা আবারও ইজারা রাখতে হবে।

আজ বুধবার সকালে বরিশাল নগরীর শহীদ মিনার চত্বরে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গনহত্যার বিচারের দাবি এবং নৈরাজ্যবাদ প্রতিরোধে আয়োজিত গন সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক আরও বলেন অন্তবর্তীকালিন সরকারকে অবিলম্বে রোডম্যাপ ঘোষনা করতে হবে। আমরন ক্ষমতায় বসে থাকার ইচ্ছা যেন আপনাদের মাঝে না জাগে। এই সরকারকে দেশের মানুষ ভালোবেসে এখনও ক্ষমতায় রেখেছে। কোন আনুষ্ঠানিক সংলাপ নয়। সব রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে সবার সমন্বয়ে এই সরকারকে সফল হতে হবে। যদি এই সরকার ব্যার্থ হয় তাহরে আগষ্ট বিপ্লব ব্যার্থ হবে।

ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন মোদি সরকার ও ভারতের পররাষ্ট্র নীতির প্রতি নিন্দা জানাই।আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করতে যা করা দরকার তাই করেছে ভারত। সবশেষ শেখ হাসিনার মতো খুনের আসামীকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আবস্থান নিয়েছে। খুনি শেখ হাসিনাকে দেশে হস্তান্তর করতে হবে। আর অন্তবর্তীকালিন সরকারকে বলতে চাই শেখ হাসিনার বিচার করতে হবে। খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে যদি আরেকটি আন্দোলন করতে হয় করা হবে।

বরিশাল জেলা খেলাফত মজলিসের আহ্বায়ক মাওলানা মুহাম্মদ জোবায়ের গালিবের সভাপতিত্বে আয়োজন বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা ও উপজেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 




পায়রা বন্দর থেকে ৫৯৫ কিমি দূরে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ পায়রা বন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহওয়াবিদ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান খান ঘূর্ণিঝড়ের ৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আবহাওয়া অফিস জানায়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং একই এলাকায় ঘনীভূত হচ্ছে। আজ দুপুর ১২টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

এছাড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




গভীর নিম্নচাপটি কক্সবাজার থেকে ৬৫০ কিমি দূরে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৫০ কিমি দূরে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘ডানা’।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) মধ্যরাতে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার ৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৫.৯০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.১০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি মঙ্গলবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭২৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৫০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৩০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৮০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিমি এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিমি, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছ।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয় যেতে পারে।




বঙ্গভবনের সামনে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ সাংবাদিকসহ আহত ৫

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বঙ্গভবনের সামনে পুলিশের ছোড়া সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়ে সাংবাদিকসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতরা হলেন- বার্তা২৪.কম এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাজু আহমেদ (২৫), ভিডিও জার্নালিস্ট রিপন রেজা (২৮), শ্যামপুর বহুমুখী স্কূল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বিশাল (২৪), হকার শফিকুল ইসলাম (৪৫), কুমিল্লা ভিক্টরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী আরিফ খান (২০)।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে তারা বঙ্গভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছোড়া সাউন্ড গ্রেনেড-শটগানের গুলিতে আন্দোলনকারীরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।




পায়রা বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অফিস আশঙ্কা করছে যে, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। সোমবারের তুলনায় আজ পানির উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কায় পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মাছধরার ট্রলারগুলোকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম জানান, নদ-নদী ও সাগরে ১১ অক্টোবর থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে, যা এখনও চলমান। তাই সব ট্রলার মহিপুর শিববাড়িয়া নদীতে আশ্রয় নিয়েছে।

কলাপাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার শরীফ জানান, আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে ভারি বর্ষণ, বাতাস এবং সাগর নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সবাইকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে বলা হয়েছে।




সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছে কোটি টাকার গাছ, তদারকি নেই বন বিভাগের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, বালু ক্ষয়, এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কুয়াকাটা সৈকতের বালু প্রতিনিয়ত ঢেউয়ের ঝাপটায় ধুয়ে যাচ্ছে। সৈকতের লাগোয়া বনাঞ্চলে হাজার হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পড়ে রয়েছে সৈকতে।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ঝাপটায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পূর্ব দিকে কাউয়ার চর নামক স্থান পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সৈকতে বিভিন্ন প্রকারের বড় গাছ পড়ে আছে। জোয়ার পানিতে এসব গাছ গভীর সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছে।

সৈকত ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, “কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব দিকে গেলে দেখা যায় বিভিন্ন রকমের বড় গাছ এলোমেলোভাবে সৈকতে পড়ে আছে। কিছু গাছ ইতিমধ্যে বালুর নিচে চাপা পড়েছে। অনেক গাছ ভেসে যাচ্ছে। গাছগুলো নিলামে দিলে সরকারের কোটি টাকা আয় হবে এবং সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব মাঝি জানান, “কয়েক কিলোমিটার বনাঞ্চল ইতিমধ্যে সমুদ্রে বিলীন হয়ে গিয়েছে। আকাশমনি, রেনটি, ঝাউ, জাম, কেওড়া, সইলা, নারিকেল, তালগাছসহ কোটি কোটি টাকার গাছ বালুর নিচে চাপা পড়ে নষ্ট হয়েছে। এগুলোর দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।”

গত কয়েক দিনের সাগরের বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। সৈকত লাগোয়া টুরিজম পার্ক, মসজিদ, মন্দির, টুরিস্ট পুলিশ বক্স ও বিশাল বনাঞ্চল এখন হুমকির মুখে রয়েছে। বর্তমানে ১৮ কিলোমিটার সৈকত একেবারেই সৌন্দর্যহানি হয়ে পড়েছে।

ফরিদপুরের সালথা থেকে আসা জাকারিয়া ও রুমানা দম্পতি বলেন, “সৈকতে যে সারি সারি গাছগুলো পড়ে আছে, তার কারণে সূর্য উদয় পয়েন্ট, লাল কাঁকড়াচর যাওয়াটা অনেক কষ্টসাধ্য। গাছগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বন বিভাগের নজর দেওয়া উচিত। এতে সরকারের আয় হবে এবং পর্যটকদের ভোগান্তি কমবে।”

পরিবেশবিদদের মতে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, “পর্যটন এলাকার লোকাল কমিউনিটির জন্য বিচ পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা দরকার, যাতে সজুব গাছ প্রতিনিয়ত ধ্বংস হতে না পারে।”

এ বিষয়ে উপকূলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, “গাছগুলি প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করবে। সাগর প্রতিনিয়ত ভাঙছে এবং সাগরের ঢেউ প্রতিরোধ করে, পাশাপাশি মাটির ক্ষয় রোধ করে। এই গাছগুলো অপসারণ বা নিলামে বিক্রি করা হবে না।”




পটুয়াখালীতে কলেজ মাঠ উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজের মাঠ উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বক্তৃতা প্রদান করেন শিক্ষার্থী মো. নাঈম, সাগর হোসেন, নেছার উদ্দিন ও মিম আক্তার। তারা অভিযোগ করেছেন যে, বিগত সরকারের সময় একটি পক্ষ বাণিজ্য মেলার নামে কলেজ মাঠটি দখল করে নিয়েছে, যা এখনো উন্মুক্ত করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক বিকাশে বিঘ্ন ঘটছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাঠটি উন্মুক্ত করা না হলে তারা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।




একাত্তরের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব’ – জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “একাত্তরের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন।”

তিনি বলেন, জামায়াত তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের দায় নেবে, তবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তার দল ‘এক পাকিস্তানের’ পক্ষে ছিল এবং কিছু সদস্য ব্যক্তিগতভাবে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, কিন্তু সাংগঠনিকভাবে জামায়াতকে দায়ী করা যাবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, “যদি সন্দেহাতীতভাবে এ ধরনের কোনো ভুল বা অপরাধ প্রমাণিত হয়, আমি দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমা চাইব জাতির কাছে।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, “কোনো গোঁজামিল বা মিথ্যা চাপিয়ে দেওয়া হবে, আমি মিথ্যাকে সত্য বলব, এটা আমার পক্ষে সম্ভব না।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজাকার, আল বদর ও আল শামসের মতো সংগঠনগুলো জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল, কিন্তু তিনি বলেন, “এটা ব্যক্তির দায়বদ্ধতা।”

শফিকুর রহমান বলেন, “যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা পূর্ব পাকিস্তান জামায়াত ইসলামীর কোনো রেজ্যুলুশনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী দল গঠন হয়ে থাকে, সেটা অবশ্যই জাতি গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সহিংসতা যদি কেউ করে থাকে, স্বয়ং গোলাম আজম করে থাকলেও তার বিচার হোক।”

জামায়াতের আমির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “৪২ বছর পর এসে সবকিছু জামায়াতের ঘাড়ে ফেলে দেওয়া হলো।”

তিনি এও বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধের পর ২৪ হাজার মামলা হয়েছে এবং অনেকেই জেলে গেছেন। “৪২ বছর পর যে লোকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলো, তাদের বিরুদ্ধে তখন একটা অভিযোগ দিতে পারল না কেন?” – প্রশ্ন তোলেন তিনি।




ড. ইউনূসের মেডিকেল টিম: গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ বিএসএমএমইউ ভিসির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চিকিৎসার জন্য গঠন করা মেডিকেল টিম নিয়ে গুজব না ছড়ানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাতে তিনি এক বার্তায় জানান, এটি একটি সাধারণ বিষয় এবং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। তিনি সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন, এ নিয়ে কোন ধরনের গুজব না ছড়ানো যেন হয়।

বার্তা অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেস্থেসিয়া অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইন্টেনশিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টার জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আইসিইউ-২ এবং দ্বিতীয় বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি রাত্রিকালীন চিকিৎসার জন্য সাতজন চিকিৎসকের একটি টিম প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন কার্ডিয়াক, অ্যানাস্থেসিয়া ও সিনিয়র চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া আইসিসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও টিমের অংশ।

এ বিষয়ে উপাচার্য জানান, এটি একটি রুটিন বিষয় এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে রাষ্ট্র প্রধানদের জন্য প্রতিটি বিভাগের জন্য এমন টিম আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে। এটি প্রধান উপদেষ্টার অসুস্থতা নয় বরং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।