পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে হৃদয় তরুয়ার বোনকে চাকরি প্রদান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার বোন মিতু রানীকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম মিতুর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

হৃদয় তরুয়া গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামের চাটগাঁ এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হৃদয়ের বোনকে চাকরি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার প্রধান মুহাম্মদ ইমদাদুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিয়োগ প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হৃদয়ের বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া, মা অর্চনা রানী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।

এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে এবং হৃদয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি পালন করেছে।




সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর অনুমোদন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর অনুমোদন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে সুপারিশ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত কমিটি।

পুরুষ ৩৫ নারী ৩৭ : সরকারের কাছে চাকরির বয়সসীমার প্রতিবেদন জমা কমিটির প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী সে সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চাকরিতে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৫ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৩৭ করার সুপারিশ করা হয়েছে।




সংকটে পেশা, টিকে থাকার লড়াইয়ে কামার সৌরভ

বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরের উপকণ্ঠে ছাপরার একটি ছোট্ট দোকানে কাজ করেন সৌরভ দাস (৩৫)। পেশায় তিনি একজন কামার। কাছে গেলে সৌরভ আন্তরিকভাবে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানালেন। তবে না সূচক জবাব শোনার পর সেই হাসি মিলিয়ে গেল।

সৌরভ জানালেন, কামার পেশায় এখন আর টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। কয়লা, লোহা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিশ্রম অনুযায়ী উপার্জন করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সামান্য আয় দিয়ে চারজনের পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,জীবন এভাবে আর চলে না। এই পেশায় আর কেউ আসতে চাইবে না। আমার ছেলেমেয়েদের এই পেশায় আনবো না, আর আমি কেন যে এই পেশায় এসেছিলাম!।

কামার পেশার প্রসঙ্গ উঠতেই সৌরভের আক্ষেপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। একসময় গ্রামের বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় কামারদের নিয়ে বিশেষ জায়গাগুলোতে ‘কামারপাড়া’ গড়ে উঠত। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নয়নে এবং বাজারের পরিবর্তনের ফলে এই পেশাটি ক্রমশ বিলুপ্তির পথে। বরিশাল নগর ও এর আশেপাশে একসময় অনেক কামারের বসতি ছিল। নগরের হাটখোলা, নতুন বাজার, বাংলাবাজার, নথুল্লাবাদ, পলাশপুরসহ বিভিন্ন বাজারে কামারদের দোকান থাকত। কিন্তু এখন তাদের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। যাঁরা এখনো টিকে আছেন, তাঁরাও আর্থিক সংকটে ভুগছেন।

সৌরভ দাস বলেন, বরিশালের হাটখোলা এলাকায় এখন মাত্র দু-চারটি কামারের ঘর রয়েছে। এই প্রজন্ম শেষ হলে এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে তার ধারণা। এছাড়া ক্ষুদ্রঋণ সহায়তাও তারা পান না, কারণ তাদের ঘরবাড়ি নেই। গরিব মানুষের জন্য ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফেরার সময় সৌরভ হাপরের চেইন দিয়ে কয়লার আগুন চাঙা করতে করতে হতাশ কণ্ঠে বলেন,কামারদের কেউ মানুষ মনে করে না। আমরা অনেক পরিশ্রম করে লোহার হাতিয়ার বানাই, কিন্তু কিনতে আসলে দামাদামির শেষ থাকে না। এই দেশে গরিবদের সঙ্গে সব হিসাব। গরিবরা যেন না খেয়ে, না পরে দুবেলা খাওয়ার জন্য শুধু পরিশ্রম করবে, এটাই নিয়ম হয়ে গেছে। কেউ আমাদের কথা ভাবে না, অথচ আমরাও তো মানুষ, আমরাও তো একটা জীবন নিয়ে বাঁচি।




অটোপাসের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত

বরিশাল অফিস : একের পর এক অটোপাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

তারা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ দিন দিন কমে যাবে। তাই নীতিনির্ধারকদের এখনই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে একদল শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, ছয়টি পরীক্ষা বাতিল করে ম্যাপিং পদ্ধতিতে যে ফল প্রকাশ করা হয়েছে, তা বৈষম্যপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে নতুন পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান।

করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের শেষের দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। ২০২১ সালে স্কুল-কলেজ খুললেও স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ ফিরে আসেনি। সরকার তখন ‘অটোপাস’ পদ্ধতি চালু করে, যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় না বসেও উত্তীর্ণ হয়।

শিক্ষাবিদরা মনে করেন, এই অটোপাস পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ছাড়াই পাস করছে, যা ভবিষ্যতে তাদের মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আর কম মেধাবীরা সুযোগ নিচ্ছে।

শিক্ষক নেতা মহসীন উল ইসলাম হাবুল বলেন, অটোপাসের এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের জন্য ভয়ংকর। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মান হারাচ্ছে, এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণও কমে যাচ্ছে। এটি দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী জানান, বরিশাল বোর্ডের ফলাফল উন্নতি করেছে। তবে কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন করছে, যাদের দাবিগুলো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা হবে।




ঘূর্ণিঝড় দানা: দক্ষিণের কৃষিতে শঙ্কার ছায়া

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি যোদ্ধারা এখন চরম দুশ্চিন্তায় আছেন ঘূর্ণিঝড় দানার হুমকির মুখে। অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মধ্যভাগ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বড় ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে ৭০ সালের ‘হেরিকেন’ এবং ২০০৭ সালের ‘সিডর’ ছিল সবচেয়ে বিধ্বংসী। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ও কয়েক হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হওয়ার পর, এখন আবার নতুন করে একটি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় দানা মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে উপকূলের আকাশ মেঘলা, বইছে হালকা বাতাস এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

পটুয়াখালীর উপকূলবাসী, বিশেষত কলাপাড়ার মানুষ বিগত বছরগুলোর দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। দুর্বল বেড়িবাঁধগুলোর অবস্থা তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, কারণ আগের দুর্যোগগুলোতে সেগুলো অনেক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনো সেগুলো সঠিকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। জরুরি মেরামত হিসেবে জিও ব্যাগ এবং রিং বাঁধ ব্যবহার করা হলেও সেগুলো যথেষ্ট নিরাপত্তা দিতে পারছে না।

কলাপাড়া উপজেলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ঘূর্ণিঝড়ের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকূলের চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষজন ঘূর্ণিঝড়ের খবরে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে। বেড়িবাঁধের পাশে বসবাসরত হাজারো পরিবার প্রতিটি দুর্যোগেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে, বিশেষত নদী এবং সাগরের পানির স্তর বেড়ে গেলে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এর কলাপাড়ার ৭নং লতাচাপলী ইউনিয়ন এবং কুয়াকাটা পৌরসভার দলনেতা মো. শফিকুল আলম জানান, তারা ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের সচেতন করতে মাইকিং শুরু করেছে এবং তাদের টিমগুলো মাঠে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান জানান, বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের খবর পাওয়ার পরপরই তারা জরুরি সভা ডেকেছেন এবং আগাম প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। আগের দুর্যোগগুলোতে পূর্বপ্রস্তুতির কারণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো গেছে। এবারও তারা সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।




রাষ্ট্রপতির বিদায়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত, দুই-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ অথবা পদত্যাগ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কোন প্রক্রিয়ায় তাকে অপসারণ করা হবে, তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সরকারের সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নিজে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেই ভালো হয়। আবার সরকারের পক্ষ থেকেও পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করলে সম্ভাব্য পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও ভাবছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতামতও নিচ্ছে সরকার। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলেও তার কোনো দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। এরপরই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি, এটা মিথ্যাচার এবং ওনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল।’

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে মত দিয়েছেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ অনেকেই। তারাও রাষ্ট্রপতির পদে থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

গত সোমবার রাষ্ট্রপতির সেই সাক্ষাৎকার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। মঙ্গলবার রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।




‘ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করেছে সরকার’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানের ওপর আঘাত করেছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। নাছিম বলেন, “বর্তমান সরকার অবৈধ সরকার। এই সরকারের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। তাহলে দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ছাত্রলীগের মতো সংগঠনকে কীভাবে নিষিদ্ধ করা হলো?”

তিনি অভিযোগ করেন যে, অসৎ উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগ নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যোগ করেন, “ছাত্রলীগ এ মাটির সংগঠন এবং আগামী দিনেও থাকবে।”

 




৮ বছরের সাজা থেকে খালাস পেলেন লুৎফুজ্জামান বাবর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ১/১১ এর সময় দায়েরকৃত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা থেকে হাইকোর্ট বিভাগে খালাস পেলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এর ফলে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আট বছরের কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন।

হাইকোর্টের আপীলের রায়ে, ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকার অভিযোগে লুৎফুজ্জামান বাবরকে খালাস প্রদান করা হয়। বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার একক বেঞ্চে এ শুনানি হয়। বাবরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বাবরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এরপর তদন্তের পর ১৬ জুলাই আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়, এবং ১২ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়।

লুৎফুজ্জামান বাবর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ২০০৭ সাল থেকে কারাভোগ করছেন। তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসির আসামি।

তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।




ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে বিগত ১৫ বছর হত্যা, গণরুমকেন্দ্রীক নিপীড়ন,  ছাত্রাবাসে সিট বাণিজ্য,  টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ, যৌননিপীড়নসহ নানাবিধ জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। একই সাথে এই ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ক্ষমতাবলে এই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নানাবিধ জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগ জড়িত ছিল এবং এ সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য দেশের সব প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু সন্ত্রাসী ঘটনায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের অপরাধ আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গত ১৫ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা আন্দোলনরত ছাত্র–ছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে উন্মত্ত ও বেপরোয়া সশস্ত্র আক্রমণ করে শত শত নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিদের হত্যা করেছেন এবং আরও অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন করেছেন। এ ছাড়া সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, ধ্বংসাত্মক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।




বরিশালে বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসক

বরিশাল অফিস :: বরিশালে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

বুধবার ( ২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিনি নগরীর সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলেন এবং বাজারে পণ্যের দাম, মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও ভাউচার সংরক্ষণ সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি কৃষিপণ্য বিপণন আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের অধীনে নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের বিষয়ে বিক্রেতাদের সতর্ক করেন। এছাড়া ক্রেতাদেরও আইনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করেন।

পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার বরিশাল গৌতম বাড়ৈ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং, সহকারী কমিশনার মো: রবিউল হাসান ভূঁইয়া ও মো: আবু জাফর মজুমদার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশালের সহকারী পরিচালক সুমি রাণী মিত্র, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ আরও অনেকে।

জেলা প্রশাসনের এ ধরনের বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।