যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, সফরকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষা মিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং কানাডার উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর সেনাবাহিনী প্রধান নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জিন-পিয়েরে ল্যাক্রোইক্স, ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইলজে ব্র্যান্ডস কেহরিস, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল, ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল ও পিস বিল্ডিং অ্যাফেয়ার্সের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং প্যাসিফিক বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ খালেদ খায়েরি এবং ডিরেক্টর অব অফিস ফর পিস কিপিং স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপ জেনারেল যাই মেননের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।

ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আইএসপিআর জানায়, এসব বৈঠকে সেনাপ্রধান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নীতি নির্ধারণী/ফোর্স কমান্ড পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী প্রধান র‌্যাব ফোর্সেসে প্রেষণে নিয়োজিত থাকাকালীন সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের শান্তিরক্ষা মিশনে নির্বাচিত না করার বিষয় সকলকে অবহিত করেন।

এছাড়াও সেনাপ্রধান বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কর্মকাণ্ডের ওপর আলোকপাত করেন।

ওয়াকার-উজ-জামান বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনীর পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্থসামাজিক ও শান্তি শৃংখলার উন্নয়নে গৃহীত নানামুখী ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেনাপ্রধান বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী কন্টিনজেন্টগুলো কর্তৃক স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়ও তাদের অবগত করেন। মিশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে শান্তিরক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ বিনিময়, অভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ মিশন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াদি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জোরালো ভূমিকা ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও সেনাপ্রধান নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন পরিদর্শন করেন এবং স্থায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

আইএসপিআর জানায়, গত ২২ অক্টোবর সেনাপ্রধান ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে যুক্তরাষ্ট্রের চিফ অব স্টাফ অব দি আর্মি জেনারেল র‌্যান্ডি এ জর্জের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের সেনাবাহিনীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, প্রশিক্ষণ সহায়তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়ন ও পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, দুর্যোগ পরবর্তী মানবিক সহায়তা, যৌথ প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়াদি আলোচনা করেন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধানের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সেনাবাহিনী প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব ডিফেন্স অফিসের ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী সামরিক সচিব ড. এলি রাটনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় ইন্দো-প্যাসিফিক দেশগুলো এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী এবং দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিন্ডসে ডব্লিউ ফোর্ডসহ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী সচিব ডোনাল্ড লুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এবং সরকারের সমর্থনে সেনাবাহিনীর বিবিধ কার্যকলাপ সম্পর্কে অবহিত করেন। বৈঠকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কানাডা সফরকালে সেনাপ্রধান ভাইস চিফ অব কানাডিয়ান ডিফেন্স স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিফেন আর কেলসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য কথা বলেন। তিনি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা বিশেষ করে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রশিক্ষণার্থী বিনিময়ের কথা উল্লেখ করেন।

এছাড়াও কানাডিয়ান পার্লামেন্টের নাগরিকত্ব ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সালমা জাহিদ সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।




বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী (নভেম্বর) মাসে ভারতে এই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।

প্রতিবছর দুইবার বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হয়ে থাকে। এবারের বৈঠকটি আগামী ১৮ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হতো। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরও দুই দেশের বাহিনী প্রধানের মধ্যে এটি প্রথম বৈঠক হতো।

ভারতের সূত্রটি বার্তাসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠক স্থগিতের তথ্য জানানো হয়েছে এবং ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বৈঠকটির জন্য দ্রুতই নতুন আরেকটি সময় ঠিক করা হবে।

সবমিলিয়ে এটি ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ৫৫তম বৈঠক হবে। এই বৈঠকে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক ছাড়াও স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদক বিরোধী সংস্থা, কাস্টমস এবং অন্যান্য নির্বাহী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নিয়ে থাকেন। ঢাকায় গত মার্চে সর্বশেষ এই বৈঠকটি হয়েছিল।

বিএসএফের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে ফিল্ড ইউনিটগুলো উচ্চ সতর্কতায় আছে।

 




মোহাম্মদপুরে সোনালী ব্যাংকে গ্রাহকের পেনশনের টাকা চুরির অভিযোগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: মোহাম্মদপুরে যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য। প্রতিদিনই মোহাম্মদপুরের কোনো না কোনো এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও টাকা লুটের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় আসামি গ্রেফতারে পুলিশের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। গত কয়েকদিনে মোহাম্মদপুরে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতি, ছিনতাই ও টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে।

এবার ব্যাংক থেকে দিনে-দুপুরে সবার সামনে একজন বয়োজেষ্ঠ গ্রাহকের টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) মোহাম্মদপুরের সোনালী ব্যাংকের কলেজ গেট শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করে শপিং ব্যাগে রাখেন মো. খলিলুর রহমান (৭০) নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী। তিনজন দুষ্কৃতিকারী শপিং ব্যাগ ব্লেড দিয়ে কেটে খলিলুর রহমানের পেনশনের এক লাখ টাকা চুরি করে ব্যাংক থেকে সটকে পড়েন।

টাকা লুটের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী খলিলুর রহমান। তিনি মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান বলেন, ২৪ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে সোনালী ব্যাংকের কলেজ গেট শাখায় টাকা উত্তোলন করতে যান তিনি। তার অ্যাকাউন্ট থেকে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা উত্তোলন করে শপিং ব্যাগে রাখেন। পরবর্তীতে চেক বইয়ের পাতা শেষ হয়ে যাওয়ায় চেক বইয়ের পাতা উত্তোলনের সময় তার হাতে থাকা শপিং ব্যাগ ব্লেড দিয়ে কেটে এক লাখ টাকার একটি বান্ডিল অজ্ঞাত লোকেরা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে একটি জিডি করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভগী বলেন, ২০১৪ সালে খাদ্য বিভাগের ইনস্পেক্টর হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় অবসরে যাই। টাকাটা আমার পেনশনের জমানো। চাকরি জীবনে এক টাকাও হারাম খাইনি। কোনো ফ্ল্যাট কিনিনি। ঢাকায় এখনো ভাড়া বাসায় থাকি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান বলেন, ঘটনাটি আমাকে এখনো জানানো হয়নি। ভুক্তভোগীকে থানায় আসতে বলেন আমরা মামলা নিয়ে দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবো।




দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ আলোচনায়

বরিশাল প্রতিনিধি :: বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় হওয়ায় বরিশালজুড়ে একসময় তার ছিল একচ্ছত্র প্রভাব। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বরিশালের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, এবং সাধারণ মানুষের ওপর সাদিকের ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির খবর এখন সব মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সাদিক আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি গড়ে উঠেছে তার পারিবারিক পরিচয়ের ওপর। তার বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, ছিলেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সাদিক মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হওয়ার পর তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

সাদিকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়, যেখানে তার পছন্দের ব্যক্তিরাই স্থান পায়। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের সমর্থকদের নিয়োগ দিয়ে পুরো প্রশাসনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তিনি।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাদিকের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। নগরীর নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের কারণে ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করতেন। নগরীর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, নকশা অনুযায়ী ভবন তৈরি না করলে বুলডোজার দিয়ে ভবন ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ ও অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমেও ফ্ল্যাট ও কমিশন নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এক ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, যদি সাদিকের নির্দেশ অনুযায়ী না চলতাম, তাহলে আমাদের ভবনগুলো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হতো। বরিশালে তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস কেউ রাখত না।

সাদিক আব্দুল্লাহর শাসনামলে বরিশালের হাটবাজার, লঞ্চঘাট, খেয়াঘাট এবং বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোও ছিল তার অনুগতদের নিয়ন্ত্রণে। নগর আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুলকে দিয়ে তিনি এসব স্থানে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন। টুটুল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। শ্রমিক লীগ নেতা রঈজ আহমেদ মান্নার নামেও বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, সিটি করপোরেশনের প্ল্যান পাস করানোর বিনিময়ে ঘুষ নিতেন। এমনকি, রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগও সাদিকের বিরুদ্ধে রয়েছে।

সাদিকের ক্ষমতা ও প্রভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো বরিশাল ক্লাব দখলের অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবের সভাপতি হতে হলে ১০ বছরের সদস্যপদ থাকা আবশ্যক, কিন্তু মাত্র তিন বছরের সদস্য থাকাকালীন তিনি ক্লাবের সভাপতি হন। তিনি তার সমর্থকদের ক্লাবের সদস্য করে পুরো ক্লাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

সাদিক আব্দুল্লাহ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব এবং সেখানে সম্পদ লুকানোর অভিযোগ রয়েছে। তার মনোনয়নপত্রে এসব তথ্য গোপন করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষত, নিউ ইয়র্কের কুইন্স ভিলেজে সাদিকের একটি বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে, যার ঠিকানা ৮৯-৬৮, ২১৬ স্ট্রিট, কুইন্স ভিলেজ, নিউ ইয়র্ক সিটি, ১১৪২৭।

নির্বাচনী মনোনয়নপত্রে এসব সম্পদের তথ্য গোপন করায় সাদিকের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সাদিক আব্দুল্লাহর পরিবর্তে তার চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহকে (খোকন সেরনিয়াবাত) মনোনয়ন দেয়। এই নির্বাচনে সাদিককে সরিয়ে দেওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর বরিশালের মানুষ সাদিকের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, বরিশালের মানুষ সাদিকের সময়ে ভয় এবং শোষণের মধ্যে ছিল। এখন তারা মুক্ত হয়েছে।

সাদিকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে বরিশালে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরা সাদিকের শাসনামলের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিষয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন। অনেকেই মনে করছেন, সাদিকের শাসনের সময়কালের ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচিত হলে বরিশালের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও স্বচ্ছ হবে।

সদ্য সমাপ্ত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে সাদিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে মনে করছেন, তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বরিশালের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।




বরিশালে সূর্যের দেখা, স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন

বরিশাল অফিস :: প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ সরাসরি আঘাত না করলেও বরিশাল ও এর আশেপাশের এলাকায় কয়েকদিন ধরে বিরাজমান বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জনজীবনে নেমে এসেছিল চরম দুর্ভোগ। তবে শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বরিশালে আবারও সূর্যের দেখা মেলায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে অনেকটা সরে যাওয়ায় আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত কমিয়ে ২ থেকে ১ নম্বরে আনা হয়েছে, যদিও পায়রা সমুদ্র বন্দরে এখনো ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান,বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দেশে পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে, যা যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমিয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ ফিরে আসতে শুরু করেছে। বৃষ্টির কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে। বরিশাল শহরের বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে সূর্যের আলোতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বড় কোনো ঝুঁকি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




বরিশালে অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল পুনরায় শুরু

বরিশাল অফিস :: ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ উপকূলীয় অঞ্চলে সরাসরি আঘাত না করলেও বরিশালসহ আশেপাশের এলাকায় হালকা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে আবহাওয়ার অবনতির কারণে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে লঞ্চ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে।

বরিশাল নৌ বন্দরের উপপরিচালক আব্দুল রাজ্জাক জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। তবে আজ আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় লঞ্চ চলাচল আবার চালু করা হয়েছে।

এদিকে, বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত ২ থেকে কমিয়ে ১ নম্বরে আনা হয়েছে।

তবে পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এখনো বহাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।




পটুয়াখালীতে সকালে সূর্যের দেখা, জনমনে স্বস্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: টানা তিনদিনের ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ ও বৃষ্টির প্রভাব কাটিয়ে শুক্রবার সকালে পটুয়াখালীতে সূর্যের দেখা মিলেছে। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পূর্ব আকাশে সূর্যের উজ্জ্বল কিরণ চারপাশ আলোকিত করে দেয়, যা স্থানীয় জনজীবনে স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-এর প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে আজকের এই সোনালি রোদ যেন সব দুর্ভোগ মুছে দিয়েছে। কৃষকদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে জমিতে কাজ না করতে পারায় ফসলের ক্ষতির শঙ্কা ছিল।

দুমকির আঙ্গারিয়া উপজেলার কৃষক শহিন হাং (৪৯) বলেন, “তিন দিন ধরে কাজ করতে পারিনি। ফসলের অবস্থা দেখে খুব চিন্তিত ছিলাম। তবে আজকের সূর্যের আলো আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। শ্রমিকরাও কাজে নেমে গেছে, আশা করি ফসলের ক্ষতি আর হবে না।”

গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম (৫৩) বলেন, “আজকের রোদে আমার জমির ফসল নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বন্যায় ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, কিন্তু আজকের রোদে সেই চিন্তা দূর হয়েছে। আমরা দ্রুত ফসলের যত্ন নেওয়া শুরু করেছি।”

কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী গ্রামের দিনমজুর হালিম আলী বলেন, “আজ সকালে সূর্য দেখে কাজে বের হতে পেরেছি। বন্যার কারণে গত কয়েকদিন কোনো কাজ করতে পারিনি। এই রোদ আমাদের কাজে ফিরিয়ে এনেছে, আমরা আবারও ফসলের মাঠে ফিরেছি।”

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা রাহাত হোসেন জানান, “আজ সকাল ৭টায় রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিল ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আজকের দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কৃষির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।”

গত কয়েকদিনের ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ এবং বৃষ্টির প্রভাবে পটুয়াখালীর কৃষিতে যে ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল, আজকের রোদে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কৃষকরা পুনরায় তাদের ক্ষেতে ফিরে কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে ধানের ক্ষেতে পানির কারণে যে সমস্যা হচ্ছিল, তা রোদে শুকানোর ফলে মিটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় আজকের সূর্যোদয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এমন রোদ কৃষি ও অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ। আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




আমতলীতে ওয়াকফ্ জমিতে অবৈধভাবে ডেইরি ফার্ম নির্মাণ – প্রশাসনের সহায়তা দাবী ভুক্তভোগীদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আমতলী উপজেলার গুলাইশাখালী ইউনিয়নে ওয়াকফে জমিতে অবৈধভাবে ডেইরি ফার্ম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রিপন আকন ওয়াকফে এস্টেটের জমি দখল করে সেখানে স্থায়ী পাকা ঘর নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত আলী আহমদ তালুকদার তাঁর ৩ একর ২৬ শতক জমি ওয়াকফে দান করেছিলেন। এ জমির দেখভাল করছেন মোতয়াল্লি মোস্তফা তালুকদার, কিন্তু তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন আকনের সাথে অবৈধ চুক্তির মাধ্যমে ৫৭ শতক জমি দখল করেছেন।

ভুক্তভোগী আরিফ তালুকদার অভিযোগ করেন, “মোতয়াল্লি জমি শুধুমাত্র কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু স্থায়ী নির্মাণ সম্পূর্ণ ওয়াকফের নিয়মবিরোধী।” তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

অভিযুক্ত রিপন আকন দাবি করেন, তিনি জমিটি লিজ নিয়ে ব্যবহার করছেন, তবে লিজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেননি।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে এসিল্যান্ডকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষা করছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, যদি প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।

 




ঝড়ের মধ্যে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনন্দ, ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে উত্তাল সমুদ্রের দৃশ্য দেখতে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভিড় করেছেন শত শত পর্যটক। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে তারা সমুদ্রে গোসল করতে এবং বিভিন্ন আনন্দ আয়োজন করতে ব্যস্ত রয়েছেন, যা রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। যদিও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে, তবুও অনেকেই তা উপেক্ষা করছেন।

এদিকে, কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠছে। থেমে থেমে বৃষ্টির পাশাপাশি বইছে ঝোড়ো বাতাস, ফলে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ২-৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ৪০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও স্থানীয় ও পর্যটকদের মধ্যে তেমন উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না।

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে এ সময়ে যে পরিমাণ পর্যটক থাকার কথা, তার তুলনায় বর্তমানে সংখ্যা অনেক কম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন জানান, “বছরের এই সময়ে সাধারণত যে পরিমাণ পর্যটক আশা করা হয়, তা এখন দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, উপকূলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “জরুরি সভা ডেকে সব ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাইকিং করতে বলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।”




‘ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেই হবে না, আইনের আওতায় আনতে হবে’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেই হবে না, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “সর্বপ্রথম শেখ হাসিনাকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। তার বিচার করতে হবে।” সেলিমা রহমান অভিযোগ করেন, একটি নির্বাহী আদেশে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার দাবি উঠেছে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না।

তিনি আরো বলেন, “সাধারণ মানুষ আজ স্বস্তি পাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছে।” সেলিমা রহমান অভিযোগ করেন, সরকারের বিরোধী স্বৈরাচারী দোসররা পরিকল্পনা মাফিক দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, যেন সরকার সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা ও সুন্দর নির্বাচন দিতে না পারে।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া। কিন্তু বর্তমান সরকার পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।” তিনি দাবি করেন, দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কাজ করতে হবে।