বিএনপি নেতার ফেসবুক লাইভ, দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে অসম্মানজনক ও কূরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কবির হোসেন (কুট্টি কবির)কে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে উপজেলা বিএনপি।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সদর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় নেতৃবৃন্দ মো. কবির হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় কবির হোসেনের অতিদ্রুত বহিষ্কারের দাবি জানান।

এসময় বক্তারা বলেন, কবির হোসেন (কুট্টি কবির) সম্প্রতি তার নিজের আইডিতে ফেসবুক লাইভে এসে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের বিরুদ্ধে অসম্মান, অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। সে তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। কবির হোসেন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলদারিত্বসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সে দলের নিয়ম বর্হিভূত কর্মকাণ্ড করে বিএনপিকে বিভ্রান্তি করে আসছে। যার ফলে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এসময় বক্তারা আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান স্বপ্ন দেখেন একটি সাম্য, সুশাসন ও মানবিক রাষ্ট্রগঠন। তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ভোলা জেলা বিএনপির নিবেদিত নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভোলা জেলা বিএনপি যখন সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই কবির হোসেন ফেসবুক লাইভে এসে এসব কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও মিথ্যাচার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে ভোলা জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় কবির হোসেনকে একাধিকার সতর্ক করলেও নেতৃবৃন্দের কথা না শুনে কবির হোসেন বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়ে। নেতৃবৃন্দের সতর্ক করায় তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে এসব মিথ্যাচার ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে সে। এসময় বক্তারা কবির হোসেনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রব আকন,

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বশির আহমেদ হাওলাদার, জেলা বিএনপির সদস্য মোস্তফা কামাল মিলন, লোকমান হোসেন গোলদার, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হেলাল উদ্দিন, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল কাজী, ফারুক সিকদার, ভোলা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন।

জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত তসলিম, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ হোসেন, কলেজছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত, সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন নিক্সন, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদারসহ সকল ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।




পুঁজিবাজারে মূলধন কমেছে ২৫ হাজার ৮৪ কোটি টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের উভয় পুঁজিবাজারে বিদায়ী সপ্তাহে (২০ থেকে ২৪ অক্টোবর) প্রধান সূচকের পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই-সিএসই) মোট বাজার মূলধন কমেছে ২৫ হাজার ৮৪ কোটি টাকা।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩.৩৮ পয়েন্ট বা ২.৭৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৫১.২২ পয়েন্ট বা ২.৬৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৭৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০.১২ পয়েন্ট বা ২.৫৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৪৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৮ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৬৯ হাজার ১৬৬ লাখ টাকা, ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এই সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ১ হাজার ২৭২ কোটি ২ লাখ টাকার তুলনায় ৪২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫১৮.৯০ পয়েন্ট বা ৩.৫০ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৩০২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সিএসইর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৯২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা।




মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ৪৫

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বসিলা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেজর নাজিম এই তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ছিনতাইয়ের, দুইজন দোকানে ডাকাতির এবং ৪০ জন সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী হিসেবে আটক হয়েছেন। মেজর নাজিম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে আগামীকাল মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ছিনতাই, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি কমাতে সহায়ক হবে।”

এই অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী ১৯৭ জনকে গ্রেফতার করেছে, এবং উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৬১ রাউন্ড গুলি, ১৯ রকমের মাদকদ্রব্য, একটি গ্রেনেড এবং ৭৫-৮০ রকমের দেশীয় অস্ত্র। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মেজর নাজিম জানান, সিসিটিভি এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২-৩ জন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাঙের সদস্যদের হাতে আলাদা আলাদা ট্যাটু বা উল্কি আঁকা ছিল, যা তাদের আলাদা পরিচয় নির্দেশ করে। সাধারণত তারা সকালে রাস্তা ফাঁকা থাকলে বা বিকেলে মানুষ অফিস থেকে ফিরার সময় ছিনতাই কার্যক্রম চালাতো।”




পুলিশে ‘ছাত্রলীগ’ খুঁজতে ৬ বিসিএসে ফের ভেরিফিকেশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পুলিশে নিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ছয়টি বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক দর্শন খুঁজতে তাদের বিষয়ে ২য় বার পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হচ্ছে। এজন্য সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা।
জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য মতে পুনরায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হতে যাওয়া ছয়টি বিসিএস হলো ২৮, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৪০ ও ৪১তম। এসব বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের আটটি তথ্য যাচাই করা হবে। পাশাপাশি তার রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ভূমিকা দেখা হবে।

গত ২০ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখা (এসসি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লিখিত ছয়টি বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের জীবন বৃত্তান্ত পুনরায় যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একজন সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কম নয় এমন একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রেখে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।




গণ অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পটুয়াখালীতে আনন্দ র‍্যালি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে গণ অধিকার পরিষদ (জিএপি) এর তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা আজ শনিবার সকালে আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করেন। বেলা ১০:৪৫ মিনিটে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট থেকে শুরু হওয়া এই র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে ঝাউতলায় এসে সমাপ্ত হয়।

র‍্যালিটি ঝাউতলা ও সার্কিট হাউস চত্বর হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। দুপুর ১২:০০ টায় নেতাকর্মীরা কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

এ অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলা গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম সোহেল রানা, যুব অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলার সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুম্মান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মোঃ মহসিন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ মনির মোল্লা এবং যুব অধিকার পরিষদ সদর উপজেলার আহ্বায়ক মোঃ মহসিন মৃধা ও সদস্য সচিব আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও গণ, যুব, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী ও আইনজীবী অধিকার পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “গণ অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ভিপি নুরুল হক নুর স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। এই যাত্রায় ছাত্র-জনতা এক হয়ে ৫ আগস্টের বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়েছে। আমাদের মুলমন্ত্র গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ। আমাদের অঙ্গীকার, দেশ হবে জনতার। আমাদের ট্রাক প্রতীক নিয়ে দেশবাসীর অধিকার আদায়ের লড়াই চলবে।”




কুয়াকাটায় সিসা দূষণ প্রতিরোধে মানববন্ধন ও সচেতনতা র‍্যালি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কুয়াকাটায় ‘সিসা দূষণ বন্ধ হলে, বাড়বে শিশু বুদ্ধি-বলে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ (২০-২৬ অক্টোবর) উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‍্যালি এবং সমুদ্রের তীরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের মধ্যে সিসা দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা ও এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ইয়ুথনেট গ্লোবাল এবং পিওর আর্থ বাংলাদেশ যৌথভাবে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে। পরে সেখান থেকে একটি সচেতনতা র‍্যালি বের হয়ে পর্যটন নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং সমুদ্র তীরে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশ’র সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কুয়াকাটা ট‍্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. আবুল কালাম আজাদ, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসাইন আমির, ইয়ুথনেট গ্লোবালের পটুয়াখালী জেলা সমন্বয়ক মো. জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানান, সিসা একটি অত্যন্ত বিষাক্ত ধাতু, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাংলাদেশে প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত, যার ফলে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা হ্রাস, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া এবং শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও সিসার ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। অনিরাপদে সিসা ব্যাটারি ভাঙা এবং পুনর্ব্যবহার যোগ্য কারখানাগুলো থেকে ব্যাপক হারে সিসা দূষণ ছড়াচ্ছে।

এসময় মানববন্ধনে সিসা দূষণ প্রতিরোধে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:

1. ভোগ্যপণ্য ও নিত্য ব্যবহৃত পণ্যে সিসার মিশ্রণ বন্ধ করা।

2. পণ্যের নিরাপদ মানদণ্ড ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা।

3. দেশের বিভিন্ন স্থানে অনিরাপদ সিসা ব্যাটারি কারখানা বন্ধ করে নিরাপদ রিসাইক্লিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

4. দূষিত এলাকাগুলো মনিটরিং করে পরিষ্কার রাখার পদক্ষেপ নেওয়া।

5. সিসা দূষণ প্রতিরোধে আইন পর্যালোচনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

 

ইয়ুথনেট গ্লোবালের জেলা সমন্বয়ক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সিসা দূষণ দূরীকরণে সকলকে সচেতন করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা যুব সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”




কলাপাড়ায় খেপুপাড়া রাডার স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অচল, ঝুঁকির মুখে উপকূলবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত খেপুপাড়া রাডার স্টেশনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে অচল হয়ে রয়েছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি গ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। ১৯৬৯ সালে জাপানি সংস্থা জাইকার সহযোগিতায় নির্মিত এই রাডার স্টেশনটি ২০০৮ সালে আধুনিকায়ন করা হয়। তবে ২০১৮ সালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০২১ সালে মেরামত সত্ত্বেও পুনরায় রেডিয়েশন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

রাডার স্টেশনের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর জব্বার শরীফ জানান, “ফ্রিকোয়েন্সি ইমেজ শাখার যন্ত্রাংশ মেরামত করা হলেও রেডিয়েশন সমস্যার কারণে ঘূর্ণিঝড়ের গতি ও তীব্রতা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। সমস্যার সমাধানের জন্য জাইকাকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে।”

মহিপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন মাসুম বলেন, “জেলেরা ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। সঠিক সময়ের পূর্বাভাস পেলে তারা নিরাপদে ফিরে আসতে পারত। আমরা দ্রুত রাডার স্টেশনটির মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় রেমাল ও দানায় খেপুপাড়া রাডার স্টেশনের প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে উঠেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি, এবং রাডার কর্তৃপক্ষ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।”

উপকূলীয় জনগণকে বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়, তাই রাডার স্টেশনটির কার্যকরী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাডারটি সচল হয়, তাহলে দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি নিতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করবে।




শেখ পরিবারের সদস্য হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে মঈন গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় রাজধানীর গুলশান-২ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বরিশালে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তিনি জানান, শেখ পরিবারের সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে গুলশান-২ থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

এর আগে বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ তার পরিবারের ৭ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা পরিবারের সদস্যরা হলেন, হাসানাত আবদুল্লাহর প্রয়াত স্ত্রী সাহান আরা আবদুল্লাহ, হাসানাতের তিন ছে‌লে- এফবিসিসিআইয়ের সা‌বেক পরিচালক সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ, সাদিক আব্দুল্লাহর সহধর্মিণী লিপি আব্দুল্লাহ ও তা‌দের পরিবারের আরেক সদস্য ফি‌রোজা সুলতানা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে হিসাব জব্দ করা হয়েছে।




কাটছে না মাছের বাজারের অস্থিরতা, দাম বাড়তেই থাকে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাজধানীর মাছের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে সব ধরনের মাছের দাম নিয়মিত বেড়ে চলেছে। ক্রেতাদের মতে, মাছের বাজারের এই পরিস্থিতি শীঘ্রই পরিবর্তিত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। অন্যদিকে, বিক্রেতাদের অভিযোগ, ফিডের দাম বৃদ্ধির কারণে মাছের দাম বাড়ছে, যা কমার সম্ভাবনা নেই।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি ও লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা, কক মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম আগের মতো ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় স্থির রয়েছে।

মাংসের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে, মাছের বাজারে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি চাষের কই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, রুই ৩৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, পাঙাস ২০০ টাকা, কাঁতল ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং চিংড়ি প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী তুহিন আহমেদ বলেন, “মাছের দাম দীর্ঘদিন ধরে কমেনি। একসময়ে পাঙাস, তেলাপিয়া ও চাষের কইয়ের দাম কম ছিল, কিন্তু এখন সেগুলোর দামও বেড়ে গেছে।”

আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, “সরকারের পক্ষ থেকে মাছের বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ নেই। বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে।”

রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা বিদ্যুৎ সরকার বলেন, “মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই বাজারে দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজার থেকে মাছ কিনতে গেলে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে বিক্রির উপর প্রভাব ফেলছে।”

এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।




মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে আইনজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ নিয়োগের সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে জনসাধারণ। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণে ভোক্তারা ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্দেশ্যে কাজ করার কথা থাকলেও, এখানে আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদের অভাব রয়েছে। এই কারণে, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারছে না কমিশন।

মার্জিয়া মুমু জানান, কমিশনের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ ও ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানির অভিযোগ উঠছে। আইন বিশেষজ্ঞরা কমিশনের কাঠামোর সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর থেকেই ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে।

কমিশন, স্বপ্রণোদিতভাবে বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পোলট্রি খামার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন না করেই। এর ফলে, জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হাইকোর্টে আপিল করেছে এবং কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পেয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিডারস এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কাজী জাহিন হাসান জানান, বাজার বিশ্লেষণের জন্য একজন অর্থনীতিবিদ নিয়োগ দেওয়া হলে সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ এ নাসের বলেছেন, কমিশনের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ প্রয়োজন। তিনি জানিয়েছেন, বাজার গবেষণা করার জন্য কমিশনে পর্যাপ্ত জনবল নেই।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির মন্তব্য করেন, কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিযোগিতা আইন ২০১২-এর কিছু ধারার সংস্কার করা জরুরি, অন্যথায় জনগণের আস্থা সংকটে পড়বে।