ভুটানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল বড় জয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে। সেমিফাইনালে ভুটানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বাংলার মেয়েরা ৭-১ গোলে জয় লাভ করেছে। এই ম্যাচে তহুরার হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের জয়কে নিশ্চিত করেছে।

রোববার (২৭ অক্টোবর) নেপালের দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে প্রথম গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা, যিনি ডি বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শটে বল জালে জড়ান।

বাংলাদেশ গোলের পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে। ম্যাচের ১৫ মিনিটে তহুরা চমৎকার ড্রিবলিংয়ের পর একটি অসাধারণ শটে বল জালে জড়ান। এরপর অধিনায়ক সাবিনা ম্যাচের ২৬ মিনিটে গোল করেন, ডান দিক থেকে বাড়ানো বলে পা ছুঁয়ে বল জালে প্রবেশ করান।

তহুরা ৩৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এবং সাবিনা ৩৭ মিনিটে আরও একটি গোল করে বাংলাদেশকে ৫-১ এগিয়ে নিয়ে যায়। বিরতির পর ভুটান একটি গোল শোধ করে, কিন্তু বাংলাদেশ ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতি নেয়।

বিরতি পর তহুরা ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। পরে ৭২ মিনিটে সানজিদার কর্নার কিক থেকে মাসুরা পারভীন হেড করে গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে পৌঁছায়।




জাতি গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জাতি গঠনের সুযোগ কাজে লাগাতে বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এই সুযোগ নষ্ট হলে দেশ অনেক পিছিয়ে যাবে।”

রোববার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসে নৌ ও বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ গঠন অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতেও নৌ ও বিমান বাহিনী জনগণের পাশে থাকবে এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।

সশস্ত্র বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে ড. ইউনূস বলেন, “নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যেভাবে আপনারা অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন, তা পেশাদারিত্বের নিদর্শন।” তিনি আগামী দিনেও এই ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

দেশের স্বার্থে সকলের একত্রে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতের মতোই ভবিষ্যতেও জনগণ যেন সঠিক সেবা পায়। এজন্য বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।




রাষ্ট্রপতি অপসারণ ইস্যুতে হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়: মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে রাষ্ট্রপতি অপসারণ ইস্যুতে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে যুবদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “রাষ্ট্রপতি অপসারণের বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সবকিছু করা উচিত। আমরা মনে করি, জাতীয় ঐক্য গঠন করে গণঅভ্যুত্থানের ফসলকে সংরক্ষণ করতে হবে, এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন বিলম্বিত হলে কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি, তাই দ্রুত একটি সাংবিধানিক রাজনৈতিক শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা প্রয়োজন। আমাদের সংগ্রাম জনগণের স্বাধীনতার জন্য এবং তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব।”

এ সময় যুবদলের ভূমিকাকে প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “যুবদল আমাদের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সঠিক পরিণতিতে তাদের অবদান থাকবে।”

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি অপসারণ ইস্যুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে বিএনপি আলোচনায় বসবে এবং সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা শেষে অবস্থান নির্ধারণ করবে।




শহীদদের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানালেন জামায়াত আমির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে তাদের জীবনীকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। রোববার (২৭ অক্টোবর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের অবদান সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “প্রতি শহীদ পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের সহানুভূতি ও সমর্থন থাকা উচিত এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং বিচার নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক দলকে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধুমাত্র ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পারব।”




বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত সরকার: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাজধানীর টিএসসি মিলনায়তনে ভোক্তা অধিকার সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে সরকার। তিনি বলেন, সরকার কর্পোরেটদের হাতে বন্দি নয় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স সক্রিয় রয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কমাতে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, অর্থ পাচার ও ঋণ খেলাপির কারণে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্মীদের চিন্তার কিছু নেই, কারণ প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে সরকার সচেষ্ট।

তিনি জানান, টাস্কফোর্সে ছাত্র প্রতিনিধি যোগ করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং ভোক্তা অধিকার আইন আরও শক্তিশালী করতে সংশোধন করা হচ্ছে। বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের থেকে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।




৭ ব্যাংকে সালমান এফ রহমানের ঋণ ৪১ হাজার ৭৬৯ কোটি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের অন্যতম শীর্ষ ঋণখেলাপি ও বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান সাতটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৪১ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। সাবেক বিনিয়োগ উপদেষ্টা হওয়ার সুবাদে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এ ঋণ নিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা পরিশোধ করেননি, ফলে ঋণগুলো খেলাপি হয়ে গেছে।

অনানুষ্ঠানিক সূত্র মতে, সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে জনতা ব্যাংক থেকে ২৩ হাজার কোটি, সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৮৩০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ১ হাজার ৪০৯ কোটি এবং রূপালী ব্যাংক থেকে ৯৬৫ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও এবি ব্যাংক থেকে যথাক্রমে ২ হাজার ৯৫২ কোটি, ১১ হাজার কোটি এবং ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ নেন তিনি।

এই ঋণ খেলাপির কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, জনতা ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নেয়ার পর থেকে ব্যাংকটি সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের ১৭টি কোম্পানির নাম ব্যবহার করে নানা নামে ঋণ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গ্রেফতার হন এবং বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।




সাবেক ডিবি প্রধান হারুনসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদসহ ১৭ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ নির্দেশনা জারি করেন। চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম তাদের আদালতে হাজিরের জন্য আবেদন করেন।

এদিন, গণহত্যার মামলায় সাবেক ১০ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ১৮ নভেম্বর তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে। প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন: শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, আনিসুল হক, দীপু মনি, আ ক ম মোজাম্মেল হক, সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনায়েদ আহমেদ পলক, শেখ সেলিম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, বিপ্লব কুমার সরকার, প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ মামুনসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তদন্তের স্বার্থে বাকিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।




গণহত্যার দায়ে ১৪ জনকে গ্রেফতার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২৭ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত আদেশ দেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। ১৮ নভেম্বর এই ১৪ জনকে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেল এ গ্রেফতার আদেশ জারি করেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন: সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।

এর আগে, ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরদিন থেকে নতুন এজলাসে কার্যক্রম শুরু করে এবং প্রসিকিউশনের আবেদনে প্রাথমিক আদেশ জারি করে।

এতে, ১৮ নভেম্বরের মধ্যে গ্রেফতারদের হাজির করে যথাযথ বিচারিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




বরিশা‌লে ৩শ’ কেজি প‌লি‌থিন জব্দ

বরিশাল অফিস :: ঢাকা-ব‌রিশাল মহাসড়‌কের বিমানবন্দর থানাধীন রহমতপুর ব্রিজ এলাকায় ইকরা পরিবহন থেকে তিন বস্তায় প্রায় ৩শ’ কেজি নি‌ষিদ্ধ‌ঘো‌ষিত প‌লি‌থিন উদ্ধার ক‌রে‌ছে শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকরা। পরে বরিশালের প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেন তারা। এসময় বাসের সুপারভাইজার পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শনিবার (২৬ অ‌ক্টোবর ) রাতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ব‌রিশাল প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্ত‌রের পরিদর্শক বি এম রকিব উদ্দিন।

তি‌নি ব‌লেন, গোপন সংবাদের ভি‌ত্তি‌তে ‌শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দর থানা সংলগ্ন গড়িয়ারপাড় এলাকায় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় অ‌ভিযান চালানো হয়। এসময় স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের ইকরা পরিবহন থে‌কে প্রায় ৩শ’ কেজি প‌লি‌থিন উদ্ধার করা হয়।

এদিকে,পরিবহন থেকে উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ পলিথিন ছাড়াতে বরিশালের কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সুপারিশ করেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রলোভনও দেখায় তারা। তবে, শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে কোনো আর্থিক সুবিধা না নিয়ে তারা সকল বাঁধা কাটিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে সোহান নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের এক পরিচিতজনের মাধ্যমে একটি সংবাদ পাই যে, নিষিদ্ধ পলিথিন একটি গাড়িতে ঢাকা থেকে বরিশাল আসতেছে।

পরবর্তীতে, আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইকরা নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর এসে পলিথিনগুলো জব্দ করে নিয়ে যায়।




বরিশাল বিভাগে ৮ মাসে ৯৫ খুনের মামলা

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। বরিশাল বিভাগে বেড়েছে বীভৎস, বিকৃত, রোমহর্ষক খুনের ঘটনা।

আপনজনরাও ঘটাচ্ছে অবিশ্বাস্য খুনখারাবি। স্ত্রী খুন করছে স্বামীকে, স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে, ভাই খুন করছে ভাইকে। খুনের পর লাশ রাখা হচ্ছে রাস্তায়, বালুর ভেতর, বস্তার ভেতর, কাদার ভেতর, ড্রেনে কিংবা ডাস্টবিনে। প্রায়ই এ ধরনের খুনের ঘটনা ঘটছে।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দ্বই অধিকাংশ খুনের ঘটনার কারণ। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন যত দ্রুত সম্ভব এদিকে নজর না দিলে এর প্রভাব দিন দিন আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

অন্যদিকে দ্রুত বিচার ব্যবস্থা না থাকায় বারবার আইনের ফাঁক দিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। এতে অপরাধীদের সাহস বেড়ে যাচ্ছে।

বরিশাল ডিআইজি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, (চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট) বরিশাল বিভাগে সর্বমোট খুনের মামলা হয়েছে ৯৫টি। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে বরিশাল জেলায় ২৫টি। আর সব চেয়ে কম সংখ্যক খুনের মামলা হয়েছে পিরোজপুর জেলায় ১১টি।

এছাড়া পটুয়াখালীতে ২৫টি, দীপ জেলা ভোলায় ১২টি, বরগুনায় ১৪টি, ও ঝালকাঠিতে ১৩টি খুনের মামলা হয়েছে।

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খুনের মতো এতো বড় অপরাধী একদিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘদিনের অপরাধের লাগাম টেনে না ধরা ও বার বার ছোট ছোট অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে এক সময় খুনের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। এ জন্য ছোট বেলা থেকে প্রশাসনের পাশাপাশি বাবা-মায়েরও খেয়াল রাখতে হবে। তার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে? এদিকে বাবা মায়ের নজর দিতে হবে। তাহলে হয়তো আস্তে আস্তে খুনের মতো অপরাধের সংখ্যা কমে আসতে পারে।

এদিকে, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির (এপিপি) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মাদ মোর্শেদ বলেন, পূর্বে আমরা দেখতাম ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের কারণে খুন হতো। তবে এখন আর তা হচ্ছে না। এখন বেশিরভাগ খুনের ঘটনার পিছনে পারিবারিক বিরোধ ও জমি নিয়ে বিরোধ থাকে। আসলে পারিবারিক বিরোধ কখনোই প্রশাসন বা আইন দিয়ে নিরোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার পারিবারিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা ও সকলে সকলের প্রতি সহমর্মিতা বজায় রাখা।

বরিশাল ল’কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফা জামাল খোকন বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি‍‍`ই খুনের প্রধান কারণ। সমাজের ছোট অপরাধ থেকেই এক সময় বড় অপরাধ সংঘটিত হয়। অপরাধের শুরুর দিকে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলে খুনের মতো ঘটনা কম ঘটে। কিছু কিছুক্ষেত্রে খুনের ঘটনায় জন্য প্রতিহিংসা, সামাজিক রাজনৈতিক শত্রুতা, ও অবৈধ উপায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টায়ও খুন হয়ে থাকে।