বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অবস্থা শোচনীয়

বরিশাল অফিস : ময়লা আবর্জনার ভাগারে পরিনত হয়েছে বরগুনার ২শ৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল । এর মধ্যেই দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু, শিশু ও জরুরী চিকিৎসা সেবা।

স্তুুপ করে রাখা হয় খাবারের উচ্ছিষ্ট ও হাসপাতালের বর্জ্য সহ নানা আর্বজনা।কোথাও কোথাও ছড়িয়ে সিটিয়ে আছে ময়লা।দীর্ঘদিন ধরে ময়লা পড়ে থাকায় বের হচ্ছে পঁচা দুর্গন্ধ। আর মলমূত্র ছড়িয়ে সিটিয়ে আছে সৌচাঘরেও।সৌচাঘরের পানি বেড়িয়ে রুগীদের রুমে ডুকছে। আর এই ময়লা পানির উপর দিয়ে যেতে হয়েছে রুগী,রুগীর স্বজন,নার্স ও চিকিৎসকদেরকেও।এটি বরগুনা ২শ৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র। একই অবস্থা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বর্হিবিভাগ,গাইনী বিভাগ সহ পুরো হাসপাতাল।

রোগীর স্বজনরা বলেন, গেল কয়দিন যাবৎ হাসপাতালের চারপাশে ময়লা আবর্জনার ভাগারে পরিনত হলেও দেখার কেউ নেই। তীব্র দুর্গন্ধের পরেও প্রয়োজনের তাগিদে দুর্গন্ধ সহ্য করে চলতে হচ্ছে তাদের। চিকিৎসা নিতে আসা স্বজনরা কেউ বা ঝাড়ু হাতে দিচ্ছেন ঝাড়ু ও পরিষ্কার করে রুগীর বেড তৈরি করছেন। চিকিৎসা সেবা নিয়ে রুগীদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতাল টিতে না পাওয়ায় বাহিরের ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীরা।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে, জেলার ছয় উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসে এই হাসপাতালে।

জানুয়ারী থেকে এখন পর্যন্ত ৮শ২৮ জন শুধু ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া শিশুরাও ডেঙ্গু ও শ্বাসকষ্ট রোগ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর এখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয় প্রতিদিন প্রায় দুশতাধিক রোগী। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় প্রায় সহস্রাধিক রোগী।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ তাসকিয়া সিদ্দিকী এ বিষয়ে বলেন,জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ ঠিক রাখা যাচ্ছে না। আর জন্য তিনি রোগী এবং রোগীর সাথে আসা স্বজনদের অসচেতনাকে দায়ী করেন।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এ.কে.এম.নজমুল আহসান জানিয়েছেন ,সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা অক্ষম হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের চুক্তি ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তারা ঠিক মতো কাজ করে না।




বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব জাতিসংঘের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশে দুই দিনের সফরে আসেন। বুধবার (৩০ অক্টোবর) তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভলকার তুর্ক জানান, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন।

ভলকার তুর্ক বলেন, “আজকের বৈঠকে আমরা বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ক নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেছি। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে জাতিসংঘের সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য কর্মকর্তারাও, যারা মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করেন এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন। ভলকার তুর্কের সফরের শেষ দিন সেনাপ্রধান, বাণিজ্য উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে, যা সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে সহায়তা করবে।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের সমাধান এবং বাংলাদেশে চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সুদৃঢ় কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর। ভলকার তুর্ক বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশের জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক এবং এজন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে জাতিসংঘ।”

এই সফর থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সহযোগিতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

 




বানারীপাড়ায় শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবের ১৩ টি ল্যাপটপ চুরি

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বানারীপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী খলিশাকোটা হাই স্কুলের শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবে রহস্যজনক চুরি সংঘটিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে এ চুরি সংঘটিত হয়। এসময় দুর্বৃত্তরা ১৩টি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায়।

জানা গেছে,মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার খলিশাকোটা হাই স্কুলের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দুটি কলাপসিবল গেট ও ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবের কক্ষের মোট তিনটি তালা ভেঙে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ১৩টি আধুনিক ল্যাপটপ নিয়ে যায়। স্কুলের দ্বিতীয় তলায় কম্পিউটার ল্যাবের পাশের কক্ষে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী তাইজুল ইসলাম ঘুমানো ছিলেন।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে  তিনি বের হতে চাইলে কক্ষের বাহির থেকে দরজার আটকানো দেখতে পান। এসময় তিনি জানালা থেকে পাশের প্রাইমারী স্কুলের নৈশপ্রহরী কামালকে ডেকে তার মাধ্যমে দরজা খুলে বের হয়ে মুঠোফোনে চুরির বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানান। খবর পেয়ে খলিশাকোটা হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. অন্তরা হালদার,থানার ওসি মো. মোস্তফা,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সহিদ চৌধুরী,কমিটির অভিভাবক সদস্য লতিফ মীর প্রমুখ ঘটনাস্থলে যান।

এসময় ইউএনও ডা. অন্তরা হালদার নৈশপ্রহরীকে শোকজ ও চুরির বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সহিদ চৌধুরী জানান,বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এ ব্যপারে বানারীপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই ল্যাবের ১৭ টি ল্যাপটপের মধ্যে চারটি অফিসিয়াল কাজে শিক্ষকদের রুমে থাকায় ১৩ টি চুরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা বলেন,পাশের কক্ষে নৈশপ্রহরী ঘুমিয়ে থাকবে আর ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবে চুরি সংঘটিত হবে তিনি টের পাবেন না এটা সন্দেহজনক। তাকে জিঙ্গাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও খলিশাকোটা হাই স্কুলের সভাপতি ডা. অন্তরা হালদার জানান, নৈশপ্রহরীকে শোকজ ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’




ভাঙনের হুমকিতে কাউখালীর আমরাজুরি ফেরিঘাট মসজিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ব্যস্ততম আমরাজুরি বাজার ফেরিঘাট এলাকার জামে মসজিদটি সন্ধ্যা নদী ও গাবখান চ্যানেলের ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের ফলে যেকোনো সময় মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গাবখান চ্যানেল ও সন্ধ্যা নদীর মোহনায় অবস্থিত মসজিদটি এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাউখালী-বরিশাল ভায়া নেছারাবাদ সড়কের আমরাজুরি ফেরিঘাট এলাকার মূল সড়ক ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কয়েকবার ফেরিঘাট পরিবর্তন করেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

সম্প্রতি আবারও এলাকাটি ভাঙনের কবলে পড়েছে, আর সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ফেরিঘাট জামে মসজিদটি। মসজিদটি মুসল্লিদের কাছে স্মৃতি হয়ে যেতে পারে যেকোনো সময়। প্রশাসন ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় কয়েক মাস আগে মসজিদটি সংস্কার করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি খুবই সংকটাপন্ন।

গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় প্রায় ১৭ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় জনগণ দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

 




ভান্ডারিয়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলাম মিঠু সিকদারকে হত্যার প্রধান আসামি মোঃ জহির সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর কাম্পানি কমান্ডার মোঃ অমিত হাসান সিপিএসসি এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল সদরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত জহির সরদার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত এছাহাক সরদারের পুত্র। র‌্যাব আটকের পর তাকে ভান্ডারিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে।

প্রসঙ্গত, পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৫ আগস্ট রাতে মিঠুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে প্রতিপক্ষ। পরের দিন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর, ১৬ আগস্ট মিঠুর স্ত্রী পলি আক্তার ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই র‌্যাব আসামি আটকের অভিযান চালিয়ে আসছে।

ভান্ডারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়া উদ্দিন জানান, মিঠু হত্যা মামলার প্রধান আসামি জহির সরদারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।




ঝালকাঠিতে ২১৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ, বাজারে দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ঝালকাঠির চারটি উপজেলায় এ বছর মোট ২১৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। আবহাওয়ার কিছু প্রতিকূলতার মধ্যেও কৃষকরা জমিতে আখের আবাদে সফলতা পেয়েছেন। এ অঞ্চলের মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, ১২৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। ভীমরুলি, শতাদশকাঠি, জগদীশপুর, সাহাগাছি, কাপড়কাঠি, এবং খাজুরা এলাকাগুলোতে কৃষকরা প্রচলিত কান্দি পদ্ধতিতে আখ চাষ করছেন।

চাষিরা আখ রোপণের ৭ থেকে ৮ মাস পর সংগ্রহ করে বাজারজাত করেন। চলতি বছরে আখের বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা আখের প্রতি শত (১০০টি আখ) ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে পারছেন। এই অঞ্চলের আখের বেশিরভাগই চিবিয়ে খাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হলেও কিছু অংশ স্থানীয়ভাবে গুড় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বিএসআরআই-৪১, ৪২, ও ৪৭ জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, গ্যান্ডারি, মিশ্রিদানা এবং তুর্পীন জাতের আখ চাষও এ অঞ্চলে প্রচলিত।

ঝালকাঠি সদর ছাড়াও নলছিটিতে ৩০ হেক্টর, রাজাপুরে ২০ হেক্টর, এবং কাঠালিয়ায় ৪০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে আখের উৎপাদন প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন।




বরিশালে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সমাবেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশজুড়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে বরিশালে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নগরীর সদর রোডের অশিনী কুমার হলের সামনে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল জেলা কমিটির উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নৃপেন্দ্র নাথ বাড়ৈ। বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠছে, অথচ সরকার উন্নয়নের কথা বলে যাচ্ছে। বাস্তব চিত্র টিসিবির ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখলেই বোঝা যায়। এখন মধ্যবিত্তরাও টিসিবির পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়াচ্ছে, যা সমাজের আর্থিক অস্থিরতার পরিচয় বহন করে।

বক্তারা সরকারের মদতপুষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হলেও সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিও জানান।

এছাড়া বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. জলিলুর রহমান, জেলা কমিটির সদস্য উপাধাক্ষ হারুন অর রসিদ, অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান খোকন, অধ্যাপক ধীরেন্দ্র নাথ রায় এবং জাফর আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।




ইলিশ ধরায় বরিশাল বিভাগে ৫১৭ জেলের সাজা, অভিযান অব্যাহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অপরাধে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযান চালিয়ে গত ১৭ দিনে ৫১৭ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি ২৪ লাখ এক হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বিভাগীয় মৎস্য অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ২ হাজার ৪০৭টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং ৭২৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার পাশাপাশি ৮১৭টি মামলা করা হয়েছে।

এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ৪৫৫ বার বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, তিন হাজার ২৪৪ বার মাছঘাট, ছয় হাজার ৮৭ বার আড়ত, এবং তিন হাজার ৬৯০ বার বাজার পরিদর্শন করেছেন মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

অভিযানে ১৭ দিনে ১৫ হাজার ৮২৪ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬ কোটি ৫২ লাখ ৯৪ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ মিটার অবৈধ জালও জব্দ করা হয়েছে। নৌকাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিলাম করে তিন লাখ ৪৭ হাজার ২০০ টাকা আদায় হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের উপ-পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, গত ১৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য উপকূলের সাত হাজার বর্গ কিলোমিটারের মূল প্রজননস্থলসহ সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮৩০ জেলে পরিবারের জন্য ৭৯ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টনের বেশি চাল বিতরণ করা হবে।




রেমিট্যান্স পাঠানোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত বাৎসরিক রিপোর্ট বুলেটিনে উঠে আসে এমন তথ্য।

তবে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দেশটিতে বাংলাদেশি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা খোলার দাবি প্রবাসী বাংলাদেশিদের। ২০২৩ সালে মালদ্বীপ থেকে বিদেশি কর্মীদের পাঠানো তহবিল ছিল ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ৮৪ শতাংশ বিদেশি কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মধ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীরাই পাঠিয়েছে ৫৪ শতাংশ।

ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ, এর এক চতুর্থাংশই প্রবাসী বাংলাদেশি। চলতি বছর বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য ভিসা চালু করলেও জালিয়াতির অভিযোগে ফের বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ।

তার ওপর প্রতিদিনই চলছে বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় অভিযান। দেশটিতে প্রবাসীরা সংকটে থাকলেও প্রভাব পড়েনি রেমিট্যান্সে। বরং ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এর প্রবাহ। আর সেই হিসাব প্রকাশ করেছে মালদ্বীপ মনিটরিং অথরিটি। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত বাৎসরিক পেমেন্ট রিপোর্টে দেখা যায়, মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম স্থানে।

যা আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো বেড়েছে। যদি দ্বিপাক্ষীয় কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় রেমিট্যান্স পাঠানো যায়, তবে এই সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে যাবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

মালদ্বীপে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা স্থাপনের মাধ্যমে যেমন প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান হবে, তেমনি অবৈধ হুন্ডির অপতৎপরতা বন্ধের পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে জানান প্রবাসীরা।

প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে আরও জোরালো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।




পটুয়াখালীতে তিন শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচ শিক্ষক, একক প্রতিষ্ঠার স্কুল চলছে একক আধিপত্যে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৯নং ধুলাসার ইউনিয়নের ১২৮নং চর ধুলাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫ জন শিক্ষক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যদিও কাগজে কলমে বিদ্যালয়ের মোট ১১৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে।

প্রতিদিন সকালে সাড়ে ৯টায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিকের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যালয়টি নিজেদের নিয়মে চলছে। সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর ও শিক্ষিকা আকলিমা সাধারণত ১০টার কিছু পরে ক্লাসে আসেন, এবং প্রধান শিক্ষক আল আমিন বিশ্বাস সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর অভাব দেখা যায়।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সহকারী শিক্ষক আকলিমা অফিস কক্ষে প্রবেশ করে বিগত কয়েক দিনের স্বাক্ষর দ্রুত সেরে ফেলেন। তবে হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির তথ্য লক্ষ্য করা যায়। অন্য সহকারী শিক্ষক সাওদা ছুটিতে রয়েছেন বলে জানানো হলেও, তার ছুটির কাগজ দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে ৩ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন এবং মোট ১১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকদিগের অশোভন আচরণ ও অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে উঠেছে। ম্যানেজিং কমিটি কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থেকে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। বিদ্যালয়ের সামনে বড় করে একক প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের একক আধিপত্য প্রকাশ করে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস নেওয়া হচ্ছেনা। ফলে গত ৭-৮ বছর ধরে স্কুলটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একই পরিবারের সদস্যরা—প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, এবং তাদের মেয়ে—পালাবদল করে ক্লাস নিচ্ছেন। বাবা আসলে মেয়ে আসে, মা আসলে বাবা আসে; এ যেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চোর-পুলিশের খেলা।

স্থানীয় সজীব তালুকদারসহ একাধিক অভিভাবক আশা প্রকাশ করেন, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবার মুখরিত হয়ে উঠবে। অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ সুফিয়ান তালুকদার আক্ষেপ করে বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে আসেন না। তারা কখনো ১০টায়, কখনো ১১টায় আসেন এবং যথাযথ ক্লাস নেন না। প্রধান শিক্ষক, তার স্ত্রী ও মেয়ে তিনজনই একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন এবং তারা নিজেদের সুবিধামতো উপস্থিত হন।

স্থানীয় লিটন হোসেন তালুকদার বলেন, শিক্ষকদের অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়টি বর্তমানে প্রায় শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, যদি শিক্ষকদের স্থায়ীভাবে অপসারণ না করা হয়, তারা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, তিনি গত এক বছর আগে তার ছেলেকে এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন, কিন্তু তার ছেলে এখনো পর্যন্ত বই দেখেও পড়তে পারে না। বর্তমানে বিদ্যালয়ে কাগজে কলমে মোট শিক্ষার্থী ১১৭ জন হলেও, গড় উপস্থিতি হয় মাত্র ১০-১২ জন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আল আমিন বিশ্বাস জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী ও মেয়ে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও কখনো ব্যক্তিগত প্রভাব খাটাননি। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত দুই দিন বিদ্যালয়ে আসেননি এবং অনিয়মের দায় স্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, ছুটি না নিয়ে স্কুলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার রহমান জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ এর নিচে রয়েছে, তবে তারা বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।