পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ করবে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সরকার কাজ করবে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, শেয়ারবাজারের বর্তমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আগের ব্যবস্থাগুলো যতরকম আছে সবকিছু রিমুভ করে যাতে আন্তর্জাতিক শেয়ার মার্কেট কিছুটা ভালো থাকে, সে চেষ্টা করবো।” সরকার কিছু ইমিডিয়েট ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা মিডিয়াম ট্রাম্প ও লং ট্রাম্প পরিকল্পনার আওতাধীন হবে।

ড. সালেহউদ্দিন তারল্য সমস্যা সমাধানের জন্য এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি আশাবাদী যে, শীঘ্রই কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করা নীতিগত বিষয়গুলো আজ তুলে ধরা হয়েছে এবং অর্থমন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত ফলাফল পাওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে নেগেটিভ ইক্যুইটি, তারল্য সাপোর্ট, ট্যাক্স রিফর্ম, বাইব্যাক ও ব্যাংক রিফর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা মুনাফা করল বিএটিবি, ৮১০ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিতরণের ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) চলতি বছরের ৯ মাসে ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এই মুনাফা থেকে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের জন্য মোট ৮১০ কোটি টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিএটিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কোম্পানিটি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসের মুনাফা থেকে শেয়ারধারীদের প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ১৫০ শতাংশ বা ১৫ টাকা করে লভ্যাংশ দেওয়া হবে। বিএটিবির মোট শেয়ারের সংখ্যা ৫৪ কোটি, তাই লভ্যাংশ বাবদ মোট ৮১০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।

কোম্পানিটির বিদেশি মালিকেরা (উদ্যোক্তা-পরিচালক) পাবেন প্রায় ৫৯১ কোটি টাকা, কারণ তাঁদের হাতে ৭৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাকি ২৭ শতাংশ শেয়ার ব্যক্তিশ্রেণি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে, যা থেকে তারা ২১৯ কোটি টাকা লভ্যাংশ পাবে।

বিএটিবির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৫ টাকা ১১ পয়সা। কোম্পানিটি মুনাফার প্রায় ৬০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করবে।




রমজান উপলক্ষে চিনি, ছোলা ও তেলের আমদানি অনুমোদন, ব্যয় ২১৫ কোটি টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজারে তেল, চিনি ও ছোলার চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকার ৫ হাজার টন চিনি, ৬ হাজার টন ছোলা এবং ৩২ লাখ ৬০ হাজার লিটার সয়াবিন তেলের আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এই আমদানি কার্যক্রমে মোট ব্যয় হবে ২১৫ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার টাকা।

(৩০ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ড. সালেহউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের মধ্যে স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে চিনি, ছোলা এবং সয়াবিন তেল আমদানি করা হবে, এবং শিগগিরই খেজুর আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এছাড়া, বৈঠকে স্থানীয়ভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫ হাজার টন চিনি ক্রয়ের অনুমোদন পেয়েছে সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা ৯২ পয়সায় চিনি কিনবে, যার মোট ব্যয় হবে ৬০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

আন্তর্জাতিক দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন ছোলা প্রতি কেজি ১০৭ টাকা ৩৯ পয়সা দরে কিনতে অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যার মোট ব্যয় ১০১ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

৩২ লাখ ৬০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন পেয়েছে বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, যেখানে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৬৩ টাকা ২৫ পয়সা।

মোট আটটি প্রস্তাব আজকের বৈঠকে উত্থাপিত হয়, যার মধ্যে জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় সার ও এলএনজির ক্রয়ের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত ২১ অক্টোবর ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোনো দরপত্র ডকুমেন্ট ক্রয় করেনি। তাই স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।




বাসচাপায় ববি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল অফিস :; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী মাইশা ফাউজিয়া মিম বাস চাপায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার ববির ১ নম্বর গেটে নারায়ণগঞ্জ পরিবহন তাকে চাপা দেয়। দুর্ঘটনার সময় মিম রাস্তা পার হচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখার সময় রাত পৌঁনে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবরোধ চলছিল। রাত পৌঁনে ১১টার দিকে ঘাতক বাসটিতে আগুন দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।

মহাসড়ক অবরোধের ফলে দুই পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস আটকে জনভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ঘাতক বাসটি বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ আসেনি। চালকসহ জড়িতরাও আটক হয়নি। নিহত মিম ববির পরিসংখ্যান বিভাগের ১২তম ব্যাচের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

ববি শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় মিমকে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নয়তো আমাদের আন্দোলন চলবে। এছাড়া ববির সামনের মহাসড়কে গতিসীমা নির্ধারণসহ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

নগর পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ববি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলের পাশে রয়েছি। ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি।

 




গলাচিপায় জামায়াতে ইসলামীর গণসমাবেশ ২৮ অক্টোবর স্মরণে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার হামলার বিচার ও নিহতদের স্মরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গণসমাবেশের আয়োজন করেছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ৪টায় গলাচিপা পৌর মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী গলাচিপা উপজেলা শাখার আমীর ডা. মাওলানা জাকির হোসাইন। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও পটুয়াখালী জেলা আমীর অধ্যাপক মু. শাহ আলম।

সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক মো. সানাউল্লাহ শামিম এর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল এর সহ সম্পাদক এ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা নায়েবে আমীর এ্যাড. মু. নাজমুল আহসান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক মু. শাহ আলম বলেন, “আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকার নির্বিচারে গুলি করে শত শত ছাত্র-জনতাকে শহিদ করেছে। তাদের রক্তের মূল্য আমরা ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিশোধ করব।” তিনি জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে সকল প্রকার চাঁদাবাজি, নিপীড়ন এবং অত্যাচার বন্ধ হবে বলে উল্লেখ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথিকে বরণ করতে বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় পৌর মঞ্চ চত্বরে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর স্মরণে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।




পটুয়াখালীতে দীপাবলীর উৎসবের রঙিন আয়োজন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী মহাশ্মশানসহ সকল উপজেলায় বুধবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান দীপাবলি অনুষ্ঠানে মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও পটুয়াখালী শ্মশান ঘাটে পালিত হচ্ছে এই মহোৎসব। পটুয়াখালীর লোহালীয়া নদীর তীরে অবস্থিত মহাশ্মশান ঘাটে ভূত চতুর্দশী পূর্ণ তিথিতে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ প্রিয় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করতে আসেন।

এ বছর দীপাবলীর এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বজনদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরলোকে গমন কৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা করা। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী স্বপন কর্মকার জানান, “আমি আমার দিদাসহ অনেক স্বজন ও পূর্বপুরুষের শান্তি কামনার জন্য এখানে এসেছি।”

এদিকে, শ্মশান দীপাবলীর আয়োজনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়েছেন, যেখানে পূজার সামগ্রী, খাবার, প্রসাধনী এবং খেলনার নানা বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ী রমেশ কুমার বলেন, “এ সময় আমাদের দোকান থেকে ভক্তরা বিভিন্ন পণ্য কিনে নেন, যা আমাদের জন্য ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি করে।”

শ্মশান দীপাবলী ও শ্যামা পূজা কার্যকরী কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার দাস জানান, “এবারের পূজায় ব্যাপক সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছে এবং এটি এলাকার দোকানদারদের জন্য একটি বড় সুযোগ।”

উৎসবের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পূজায় অংশ নিতে পারেন। শ্মশান দীপাবলীর এই মহোৎসব পটুয়াখালীর মানুষদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আজ ধর্মীয় আচার বিধি মেনে মহাশ্মশানে “শ্মশান কালী” পূজা অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামীকাল দিবাগত রাতে কালীপূজা (শ্যামা পূজা) অনুষ্ঠিত হবে।




খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতার ১০ মামলা বাতিল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর দারুস সালাম, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় দায়ের করা নাশকতার অভিযোগে ১০টি মামলা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন এবং অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।

এর আগে, একই আদালত মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও বাতিল করেছিল।

এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, এবং বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাতিলকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

 

 




চার ঘণ্টা করে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকবে ৭০০ যুবক: উপদেষ্টা আসিফ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সরকার ৭০০ যুবককে সহায়ক ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে নিয়োগ দেবে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বুধবার (৩০ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শিক্ষার্থীরা পার্ট টাইম হিসেবে চার ঘণ্টা করে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করবে।

পহেলা নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “প্রত্যেক সেক্টরেই ছাত্রদের কাজের সুযোগ দেয়া হবে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের এখন থেকেই প্রস্তুত করা হচ্ছে।”

এ বছর এক হাজার যুবক নিয়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক একটি কোর্স করা হয়, যেখানে ৭০০ জন শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন। আসিফ মাহমুদ জানান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিকভাবে ৩-৪০০ জন নেয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে ৭০০ জনের নিয়োগ হবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তারা কাজ করবেন। সকালে এবং বিকেলে যানজট বেশি থাকায় তারা চার ঘণ্টা করে এই দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদের পড়াশোনা শেষ হলে তাদের আগ্রহ থাকলে স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

এ সময় যুব উপদেষ্টা জানান, সারাদেশে ৬৪টি খাল পরিষ্কার করবে যুব ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ঢাকার রামপুরা-জিরানী খাল পরিষ্কার করার কার্যক্রমও চলবে।

আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, “সারাদেশে ২৬ লাখ গ্রাজুয়েট বেকার রয়েছে এবং মোট বেকারের সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। আগামী ২ বছরে ৫ লাখ যুবককে কর্মসংস্থান করার উদ্যোগ নেবে সরকার এবং ৯ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।”




রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট পার্টির জায়গা নেই: ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট পার্টির কোনো জায়গা নেই।”

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ফ্যাসিবাদের সব বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করেছে। ড. ইউনূস বলেন, “নিকট ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো জায়গা নেই।” তবে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের সময়ে জনগণের স্বাধীনতা ছিল না। রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্র তারা দখল করে রেখেছিল এবং নিজেদের স্বার্থে সবকিছু করেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে নিতে হবে। এছাড়া, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের চার্জ গঠন করা হলে ভারত সরকারের কাছে আপাতত তাকে ফেরত চাওয়া হবে না বলে জানান তিনি। সাজা ঘোষণা হলে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান।

এ সময়, ভারতের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূস বলেন, “প্রতিবেশি হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকা দরকার।”

 




বরিশালে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যানার প্রতিযোগিতা

বরিশাল অফিস :: দলের হাই কমান্ডের নির্দেশকে উপেক্ষা করে গত ৫ আগস্টের পর থেকে অদ্যবর্ধি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জেলার বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে বিএনপি নেতাদের ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে সয়লাব হয়ে গেছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় সম্ভ্রাব্য বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও সাবেক সাংসদদের ছবি সংবলিত এসব ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে স্ব-স্ব এলাকার দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার সমর্থকদের ছবিজুড়ে দিয়ে নিজেদের বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের বড় নেতা হিসেবে জাহির করা হচ্ছে। যারমাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

ব্যানার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই প্রবাসে অবস্থান করা বিএনপির কর্মী সমর্থকরাও। তারা অনেকেই তাদের লোকজন দিয়ে সু-বিশাল ব্যানার করে বিভিন্নস্থানে সাটিয়ে দিয়েছেন। অথচ ব্যানার প্রতিযোগিতায় নামা অধিকাংশরাই দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর রাতারাতি ওইসব সুবিধাভোগীরা ভোল্ট পাল্টে এখন নিজেদের বিএনপি নেতা দাবি করে সুবিশাল ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত বিষয়গুলো আঁচ করতে পেরেই কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ সেই নির্দেশ মানছেন না। যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার সাটাচ্ছেন। বিষয়টি দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের জেলার প্রবেশদ্বার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রতিটি বাসষ্ট্যান্ড থেকে শুরু করে হাট-বাজারের অলিগলি এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বরিশাল-১ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভ্রাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের পক্ষে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড স্থাপন করেছে।

একইভাবে বরিশাল-২ আসনে বিএনপি দলীয় সম্ভ্রাব্য প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর পক্ষে মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার অংশের দুই পাশে ব্যাপক ব্যানার ও বিলবোর্ড সাটানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই উপজেলার এক প্রবাসী বিএনপি কর্মীর পক্ষে এলাকায় ব্যাপক ব্যানার ও ফেস্টুন সাটিয়ে তার অনুসারীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে।

সার্বিক বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান বলেন, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও আমার (সোবাহান) ছবি ব্যবহার করে কর্মী সমর্থকরা ব্যাপক ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড সাটিয়েছিলো। এরইমধ্যে যত্রতত্রভাবে এসব প্রচারনা বন্ধে দলের হাইকমান্ডের নিষেধাজ্ঞার পর কর্মী সমর্থকদের ওইসব ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।