এসআইবিএলের ৫৭৯ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল) তাদের বর্তমান পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিতর্কিত নিয়োগ প্রাপ্ত ৫৭৯ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে। এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্ববর্তী পর্ষদ এ নিয়োগ দিয়েছিল, যা ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ আইনসম্মত বলে মনে করেনি। গত বৃহস্পতিবার এসআইবিএলের মানবসম্পদ বিভাগ এই কর্মকর্তাদের বরখাস্তের চিঠি প্রদান করে।

এসআইবিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার এবং এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পরীক্ষা, সার্টিফিকেট যাচাই কিংবা সার্কুলার প্রকাশ করা হয়নি। মূলত, এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি নিয়মবহির্ভূত ছিল।

২০২৪ সালে এই কর্মকর্তারা শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পর্ষদ সভায় নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রক্রিয়াটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়। ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরখাস্তের চিঠি প্রেরণ করে।




সার্কফিন্যান্স নেটওয়ার্কের চেয়ারপারসন পদে দায়িত্ব নিলেন ড. আহসান এইচ মনসুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করা সংস্থা সার্কফিন্যান্স নেটওয়ার্কের নতুন চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পেলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গত ২৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম সার্কফিন্যান্স গভর্নরস গ্রুপ মিটিংয়ে তাকে আগামী এক বছরের জন্য এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক সাঈদা খানমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের জুন মাসে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ৪৫তম গভর্নরস্ গ্রুপ মিটিংয়ে সার্কভুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গভর্নরদের অনুরোধে সার্কফাইন্যান্স নেটওয়ার্কের চেয়ার কান্ট্রি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে সম্মতি জানায় বাংলাদেশ।

ড. আহসান এইচ মনসুর এর আগে সার্কফাইন্যান্স নেটওয়ার্কের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. মনসুর সার্কভুক্ত দেশগুলোর আর্থিক উন্নয়নে কার্যকর নীতিমালা ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সার্কফাইন্যান্স নেটওয়ার্কের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর সার্কভুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গভর্নর এবং অর্থসচিবদের অংশগ্রহণে দুটি গভর্নর গ্রুপ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটি সাধারণত সার্কফাইন্যান্স চেয়ার কান্ট্রিতে এবং অন্যটি আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের অক্টোবর বা নভেম্বর মাসের বৈঠকের সময় সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।




উপকূলীয় মানুষদের কাছে এক আতঙ্কের নাম ‘নভেম্বর’

বরিশাল অফিস :: নভেম্বর মাসের কথা শুনেলে আতঙ্কে থমকে যায় উপকূলীয় এলাকার লাখ লাখ মানুষের জনজীবন। নভেম্বর মাসের এক রাতে সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হেনেছিল উপকূলে। এই রাতে হাজারো পরিবার হারিয়েছে তাদের আত্মীয়-স্বজন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে উপকূলের শত শত মানুষ, স্বজনরা ফিরে পায়নি তাদের পরিবারের সদস্যদের মরদেহের শেষ চিহ্নও।তাই নভেম্বর মাসের কথা শুনলেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারগুলোতে।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন সিডর। ১৬ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলও সেই আতঙ্ক এখনো ভুলতে পারেনি উপকূলের মানুষ। নভেম্বর মাসের শুরুতেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে ।নভেম্বরের এক রাতে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী পাথরঘাটা, বরগুনা, বেতাগী, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, পিরোজপুর জেলা এই সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অনন্য জেলাগুলো হচ্ছে, ঝালকাঠি, বরিশাল ও ভোলা, সাতক্ষীরা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী সাইক্লোন সিডরের কারণে সারাদেশে তিন হাজার ৪৪৭ জন লোক মারা যায়। নিখোঁজ হয় এক হাজার তিন জন, মারাত্মক আহত হয় ৫৫ হাজার মানুষ। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি। ধ্বংস হয় নয় লাখ ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি, দুই লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এই সাইক্লোনে প্রায় দুই লাখ ৪২ হাজার গৃহপালিত পশু এবং হাঁসমুরগী মারা যায়।

সিডরে বরগুনা জেলায় মারা যায় এক হাজার ৩৪৫ জন। নিখোঁজ ছিলেন ১৫৬ জন। পাথরঘাটায় মাত্র ১৫ মিনিটের জলোচ্ছ্বাসে ৩৯৪ জন মানুষ মারা যায় । ঝড়ের তাণ্ডবে পুরো এলাকা হয়ে যায় লণ্ডভণ্ড। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৯১ জনের জেলে এখন রয়েছে নিখোঁজ।

সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান,  সিডরের পর দীর্ঘসময় অতিক্রম হলেও মজবুতভাবে সংস্কার হয়নি বিষখালী বলেশ্বর নদী তীরবর্তী এলাকার বেড়িবাঁধ গুলি। পাশাপাশি এসব এলাকায় নির্মাণ হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার। এখনো একের পর এক দুর্যোগের কথা শুনলেই আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করেন উপকূলবাসীরা।

পাথরঘাটার সোহাগ বলেন , আমার জন্মের পর থেকে এরকম আর কোন বন্যা দেখিনি। বন্যার পরের সকালে সূর্য উঠার সাথে সাথে দেখি পানিতে ভাসছে গবাদি পশুর সহ মানুষের লাশ। নভেম্বর মাসের কথা শুনলেই মনে পড়ে যায় সেই দুর্বিসহ রাতের কথা।

পাথরঘাটার পদ্মা গ্রামে সিডরের রাতে জন্ম নিয়েছিল একটি শিশু। এলাকাবাসীরা এই শিশুটির নাম রেখেছেন সিডর কন্যা। সিডর কন্যার মা জাকিয়া বেগম বলেন, সিডরের রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় যখন বাবার হাত থেকে আমি ছুটে যাই তখন বাঁচা-মরা নিয়ে আমার কোনো ভাবনাই ছিল না। একটাই চিন্তা ছিল পেটের বাচ্চাটার কি হবে। অনেক চিৎকার করেছি কিন্তু রাতে প্রচণ্ড বাতাসে কেউ শুনতে পায়নি। পরে আমার বাবা আমাকে খুঁজে পায়। যখন আমাকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় তখন পেটের ব্যথা আর সহ্য করতে পারছি না। তখন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মাসহ কয়েকজন প্রতিবেশী নারীর সহায়তায় মেয়ের জন্ম হয়। আমি সহ স্থানীয় অনেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজন হারিয়েছে। নভেম্বর মাসের কথা শুনলেই মনে পড়ে যায় সেই ভয়াবহ রাতের কথা। ভয়ে শিহরিত হয়ে ওঠে সমস্ত শরীর।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকনুজ্জামান খান বলেন, সিডর বাংলাদেশের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে একটি। এই ঝড় কেড়ে নিয়েছে উপকূলের মানুষের সম্বল। কেড়ে নিয়েছে আপনজনদের। তাই এ ক্ষতি অপূরণীয়।তবু সরকারি ও সহায়তাদানকারী সংস্থাগুলো সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করলে উপকূলবাসীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। একইসঙ্গে পরবর্তী ভয়াবহতার হাত থেকেও রক্ষা পাবে।




দেশের ব্যাংকে বাড়ছে সাইবার আক্রমণ, সতর্কতার পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে সাইবার আক্রমণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য সাইবার আক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতামূলক ১৭টি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম তোফায়েল আহমাদ এক চিঠিতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ অনুরোধ জানান।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) পাঠানো এ চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সাইবার সিকিউরিটি ইনটেলিজেন্সের (বিসিএসআই) নিয়মিত তথ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনায় বাংলাদেশের কিছু ব্যাংকে ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার ব্যবহার করে বেআইনিভাবে লেনদেন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এই লেনদেনের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এমন তথ্যও জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এসব সাইবার অপরাধী প্রতিনিয়ত দেশের সাধারণ মানুষ তথা ব্যাংকের গ্রাহকদের হয়রানি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বিশ্বব্যাপী সাইবার আক্রমণের প্রবণতা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতেও সাইবার আক্রমণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকারও হচ্ছে। এ ধরনের সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ব্যাংকগুলোকে ১৭টি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




ড. ইউনূসকে নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন সজীব ওয়াজেদ জয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সজীব ওয়াজেদ জয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লিখেছেন, অনির্বাচিত ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাসিস্ট।

তিনি লেখেন– বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন, বৃহত্তম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল কারও কথায় নিষিদ্ধ হয়ে যাবে না।

এর আগে জয় গণমাধ্যম প্রসঙ্গে দেয়া এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বাংলাদেশে মিডিয়ার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অতীতের সামরিক স্বৈরশাসকের চেয়ে ইউনূস সরকার কোনোভাবে ভালো নয়।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট পার্টির (আওয়ামী লীগ) কোনো জায়গা নেই।

প্রফেসর ড. ইউনূস আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ফ্যাসিবাদের সব বৈশিষ্ট্যই দেখিয়েছে। তাই নিকট ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো জায়গা নেই। তবে আওয়ামী লীগের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না অন্তর্বর্তী সরকার। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত ঐক্যমতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।




দশমিনায় কাল ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। আজ শুক্রবার স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ তথ্য জানায় পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

দশমিনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) মো. আবুল কালাম আযাদ জানান, ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছের ডাল ঝুলে থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই সমস্যার সমাধানে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে শনিবার দিনব্যাপী গাছের ডালপালা কাটা হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।

গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এজিএম আবুল কালাম আযাদ বলেন, “আমরা আশা করছি, এই কাজটি সম্পন্ন হলে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবায় আর কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।”




পটুাখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হলো জাতীয় যুব দিবস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুাখালীতে জাতীয় যুব দিবসটি আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শহরের সার্কিট হাউস চত্বরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল রানা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশের সৌন্দর্য্য রক্ষায় একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পরে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় “দক্ষ যুব গড়বে দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসানসহ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব, আত্মকর্মী, যুব সংগঠক এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা সভায় বক্তব্য রাখেন। বক্তারা যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে উপকারভোগীদের মধ্যে ঋণের চেক, প্রশিক্ষণ সনদ ও যাতায়াত ভাতা বিতরণ করা হয়। যুবকদের মধ্যে সঞ্চয়ের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এছাড়া, ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে ২৪টি গাছ লাগানো, জলাশয় পরিষ্কার এবং মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী সচেতনতামূলক সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্যক্রম যুবদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে বলে বক্তারা মনে করেন।




ভোলায় আরো ১৯টি গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা: জ্বালানি উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, ভোলায় ২০২৮ সালের মধ্যে আরো ১৯টি গ্যাস কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, গ্যাস সংকট দূর করতে ভোলাতে ২০২৫ সালের মধ্যে ৫টি গ্যাস কূপ খনন করা হবে এবং পরে ২০২৮ সালের মধ্যে মোট ১৯টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার ভোলার ইলিশা-১ গ্যাস ক্ষেত্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচুর পরিমাণ জ্বালানি গ্যাসের সংকট বিরাজ করছে। এ কারণে গ্যাস আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। আমাদের এখন ৪ হাজার এমসি গ্যাস প্রয়োজন, অথচ বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ২ হাজার। ফলে ঘাটতি মেটাতে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো নতুন-নতুন গ্যাস ফিল্ড তৈরি করে গ্যাস উৎপাদনে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, আগামী দিন থেকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়া কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না এবং টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এতে বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে আমরা বড়-বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছি, কিন্তু মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিইনি, যার ফলে দুর্নীতির শিকার হয়েছে অনেক প্রকল্প। তাই এবার জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ মুহূর্তে বাসা-বাড়িতে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আপাতত একটি মিথ্যা আশ্বাস। তিনি বলেন, যেহেতু আমি রাজনীতি করবো না, তাই এমন মিথ্যা আশ্বাস দেবো না। তবে ভবিষ্যতে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বাড়লে এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।

ভোলায় বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান ও গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার আশ্বাসও দেন তিনি। সফরের অংশ হিসেবে তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র, ভোলা নর্থ-১, নর্থ-২ ও ইলিশা-১ নং গ্যাস ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গ্যাসচালিত ২২৫ ও ২২০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন।

এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম মঈন আহমেদ, পেট্টোবাংলার চেয়ারম্যান এবং ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পিরোজপুরে সেনাবাহিনীর টহলে ৪ চাঁদাবাজ আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল চলাকালীন সময়ে মাগুরা বাজার এলাকা থেকে ৪ চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টায় চাঁদা তোলার সময় তাদের হাতে নাতে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে ছারছীনা গ্রামের মো. লোকমান, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. ফরিদ হোসেন এবং জগৎপট্টি গ্রামের মো. ইব্রাহীম। সকলেই পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার বাসিন্দা।

আটকের সময় চাঁদাবাজদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের রসিদ ও নগদ ৮ হাজার ৪৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের জব্দকৃত টাকাসহ নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. বনি আমিন জানান, সেনা সদস্যদের নিয়মিত টহলের সময় আটককৃত ৪ চাঁদাবাজকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান।




বরিশালে সড়কে সড়কে ময়লার স্তূপ, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বরিশাল নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। ডাস্টবিন এবং সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের অভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা জমতে থাকে। ফলে ময়লার দুর্গন্ধে নাক চেপে পথচারীদের চলতে হয়, যা নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

নাজিরারপুল, বাংলাবাজার মোড়, নবগ্রাম রোড, চৌমাথা খাল সংলগ্ন রাস্তা ও বিএম কলেজ রোডসহ অন্তত ১৫টি সড়কে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, রাতের দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা সরালেও ডাস্টবিনের অভাবে প্রতিদিন বিকেল থেকেই পুনরায় রাস্তার পাশে ময়লা জমতে থাকে। এতে করে রাস্তার অর্ধেক অংশ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

বিএম কলেজ এলাকার সড়কে হাঁটতে গিয়ে কলেজছাত্রী স্নেহা ইসলাম বলেন, “প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রাস্তার ময়লার দুর্গন্ধে হাঁটা দুঃসহ হয়ে উঠেছে। নাক চেপে না হাঁটলে রাস্তায় চলা কষ্টকর হয়ে যায়। পুরো রাস্তাটাই যেন এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।”

একই অবস্থা নবগ্রাম রোডের। এখানে স্থানীয় বাসিন্দা সুজন হাওলাদার বলেন, “এ রাস্তায় যাওয়া যায় না, দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। ভাগাড়ের অভাবে মানুষজন ময়লা রাস্তায় ফেলে, যা দ্রুত সরানো না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

ক্যাবের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত বলেন, “প্রতিদিন বরিশালে প্রচুর পরিমাণে ময়লা-আবর্জনা তৈরি হচ্ছে। এগুলো নির্দিষ্ট স্থানে না রেখে রাস্তায় ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, প্রতিদিন প্রায় দুই শ মেট্রিক টন ময়লা নগরী থেকে সংগ্রহ করা হলেও পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় অনেক জায়গায় রাস্তার ওপরই ময়লা জমতে থাকে। তিনি বলেন, “ডাস্টবিন এবং সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের অভাবে মানুষ ময়লা সড়কে ফেলে যায়, তবে রাতের মধ্যেই সেগুলো অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছি, যাতে নগরবাসীর ভোগান্তি কমে।”

নগরবাসীর এ অভিযোগ এবং নগরীর জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।