সাবিনাদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের কথা শুনলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ (শনিবার) বেলা ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এ সময় নারী ফুটবল দলের সদস্যরা তাদের স্বপ্ন ও খেলোয়াড় জীবনের প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন। অধ্যাপক ইউনূস বিজয়ী খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দাবি ও কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

গত ৩০ অক্টোবর কাঠমান্ডুতে সপ্তম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ। এই সাফল্যে দারুণ খুশি প্রধান উপদেষ্টা নারী ফুটবলারদের বলেন, ‘আমি পুরো জাতির পক্ষ থেকে তোমাদের অভিনন্দন জানাই। জাতি তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ সাফল্য চায়, আর তোমরা সেই সাফল্য এনে দিয়েছ।’

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। অনেক বাধা পেরিয়ে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। শুধু এই ফুটবল দলই নয়, বাংলাদেশের নারীদের সামগ্রিকভাবে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’

টানা ২য় বারের মতো সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে নিজেদের চাওয়া-

সাবিনা বলেন, ‘আমাদের অনেকে সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে এবং তাদের নিজেদের পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে হয়। আমাদের বেতন খুব বেশি নয়। এই বেতন দিয়ে পরিবারকে তেমন কোনো সাহায্য করতে পারি না।’

এই তারকা স্ট্রাইকার তার কয়েকজন সহযোদ্ধার সংগ্রামের গল্প, যেমন মারিয়া মান্দার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ময়মনসিংহের বিখ্যাত কলসিন্দুর গ্রামের মারিয়া, যেখান থেকে সাফজয়ী দলের ছয়জন খেলোয়াড় এসেছেন, ছোটবেলায় তার বাবাকে হারান এবং মা তাকে বড় করেন।

উইঙ্গার কৃষ্ণা রানী সরকার ঢাকায় তাদের আবাসন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, আর মিডফিল্ডার মানিকা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ফুটবলার হিসেবে উঠে আসার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।

মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী তার নিজ জেলা দিনাজপুরের রানীশংকৈল উপজেলায় তার গ্রামের দুর্বল অবকাঠামোর কথা বলেন।

কৃষ্ণা রানী প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ করেন যেন তাদের জন্য এশিয়ার বাইরে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী বার্সেলোনার সঙ্গে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তাদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা ও তাদের বিভিন্ন দাবি আলাদাভাবে কাগজে লিখে তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘তোমরা যা কিছু চাও তা লিখতে দ্বিধা করো না, আমরা তোমাদের দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। যদি কিছু এখনই করা সম্ভব হয়, আমরা তা করব।’

জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার এবং ম্যানেজার মাহমুদা আক্তার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




দেশের মানুষ সাফল্য চায়, তোমরা তা এনে দিয়েছ: প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ  :: সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতি তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। দেশের মানুষ সাফল্য চায়, আর তোমরা সেই সাফল্য এনে দিয়েছ।

শনিবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেওয়া শেষে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ৩০ অক্টোবর কাঠমান্ডুতে সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে পরাজিত করে বিজয় অর্জনকারী এই দলটি তাদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের কথা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শেয়ার করেন।

এসময় নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সাফল্যের জন্য আমি পুরো জাতির পক্ষ থেকে তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাই। জাতি তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ সাফল্য চায়, আর তোমরা সেই সাফল্য এনে দিয়েছ।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।

তিনি বলেন, অনেক বাধা পেরিয়ে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। শুধু নারী ফুটবল দলই নয়, বাংলাদেশের নারীদের সামগ্রিকভাবে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

২০০৯ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা সাবিনা তার আগের প্রজন্মের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আগের প্রজন্ম ফুটবলকে তাদের ভালবাসা হিসেবে বেছে নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।

সাবিনা বলেন, আমাদের অনেকে সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে এবং তার পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে হয়। তিনি বলেন, আমাদের বেতন খুব বেশি নয়। এই বেতন দিয়ে পরিবারকে তেমন কোন সাহায্য করতে পারি না।

এই তারকা স্ট্রাইকার তার কয়েকজন সহযোদ্ধার সংগ্রামের গল্প, যেমন মারিয়া মান্দারের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

উইঙ্গার কৃষ্ণা প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ করেন যেন তাদের জন্য এশিয়ার বাইরে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী বার্সেলোনার সঙ্গে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তাদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও তাদের বিভিন্ন দাবি আলাদাভাবে কাগজে লিখে তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলেন।

অধ্যাপক ইউনুস বলেন, তোমরা যা কিছু চাও তা লিখতে দ্বিধা করো না আমরা তোমাদের দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। যদি কিছু এখনই করা সম্ভব হয়, আমরা তা করব।




কুয়াকাটাসহ কলাপাড়ায় কৃষিজমি হ্রাসে খাদ্য উৎপাদনে বিপর্যয়ের শঙ্কা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কলাপাড়ার পর্যটন অঞ্চল কুয়াকাটা ও ধানখালীতে প্রায় ২০ হাজার একর কৃষিজমি কৃষকদের হাতছাড়া হয়ে গেছে, যার এক-তৃতীয়াংশ বর্তমানে স্থায়ীভাবে পতিত অবস্থায় রয়েছে। পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নে আরও প্রায় ১০ হাজার একর জমি কৃষি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪২ হাজার মেট্রিক টন ধানসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, এখানকার বেশিরভাগ জমি পতিত অবস্থায় থাকার ফলে কয়েক কোটি টাকার রবিশস্য ও শাকসবজির আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে, ধানখালী ও কুয়াকাটায় শত কোটি টাকার তরমুজের আবাদ বর্তমানে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটনের চাহিদা মেটাতে আবাসন প্রকল্পের জন্য বড় পরিমাণ কৃষিজমি অধিগ্রহণ করায় এখানকার খাদ্য উৎপাদন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা থেকে পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি এবং কাউয়ারচর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার একর কৃষিজমি পতিত অবস্থায় রয়েছে। একসময় যে কলাপাড়া খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, সেই এলাকাতেই বর্তমানে খাদ্যশস্যের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন জানান, একসময় ধান, শাকসবজি ও তরমুজের চাষ করতেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে এসব জমি অনাবাদী হয়ে পড়েছে। আবাসন প্রকল্পের জন্য প্রায় এক দশক ধরে জমিগুলি ফেলে রাখা হয়েছে, যেখানে কোনো কৃষি উৎপাদন হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা জানান, একসময় তারা নিজেদের উৎপাদিত ধান ও রবিশস্য এলাকার বাইরের বাজারে বিক্রি করতেন, কিন্তু বর্তমানে নিজেদের খাদ্যের জন্যও বাইরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এছাড়া কৃষি জমির মালিকানা বদল ও আবাসন প্রকল্পের জন্য কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় বহু কৃষিজীবি পরিবার কর্মসংস্থান হারিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের জমিজমা ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। অনেক কৃষককে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি ছেড়ে দিতে হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এখানকার কৃষির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, “সরকারিভাবে কলাপাড়ায় আট হাজার হেক্টর কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হতো। জমি হ্রাস পেলেও কৃষকরা উন্নত জাতের ধানের চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।”

সরকারিভাবে কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় পর্যটনের প্রভাবে এখানকার কৃষি উৎপাদন স্থায়ীভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে।




নারী ফুটবলারদের সমস্যার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে: আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা খুব ধৈর্য সহকারে নারী ফুটবলারদের কথা শুনেছেন। বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছেন এবং সেগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার জন্য বলেছেন। সেগুলো আমরা লিখিত পেলে খুব দ্রুত ব্যবস্থা যাতে নিতে পারি। নারী ফুটবলারদের সমস্যার বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে প্রধান উপদেষ্টার সংবর্ধনা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

নারী ফুটবলারদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, আবাসন সমস্যা, অনুশীলন, বেতন কাঠামোসহ সব কিছু নিয়ে কথা হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে ওনারা (ফুটবলার) আমাদেরকে তাদের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে দেবেন। সেটা আমি সরাসরি স্যারকে পৌঁছে দেবো।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, নারী ফুটবলাররা জানিয়েছেন যে, ক্যাম্পটা সারা বছর চলার কারণে এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে। সেটাকে যেন সারা বছর চলমান রাখা যায়, সে আবদার তারা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বাফুফের নতুন কমিটির সঙ্গে মিলে নারী ফুটবল দলের সমস্যা এবং ফুটবলের যে সমস্যা সবগুলো আমরা সমাধান করব।

এর আগে সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার বেলা ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সংবর্ধনার দেওয়া হয়।

তারও আগে এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় যমুনায় প্রবেশ করেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলটি।




গণভবন স্মতি জাদুঘর জনগণের ‘পেইন ও গ্লোরি’ ধারণ করবে: মাহফুজ আলম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: গণভবনকে জাদুঘরে রূপ দিতে ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

শনিবার (২ নভেম্বর) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম।

এ সময় ‘গণভবন স্মতি জাদুঘর জনগণের ‘পেইন ও গ্লোরি’ ধারণ করবে’ বলে মন্তব্য করেছেন মাহফুজ আলম।

তিনি বলেন, গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করতে একটি ‘আহ্বায়ক কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটির সঙ্গে এডভাইসরি কমিটিও থাকবে। খুব শিগগিরই কমিটি তার কার্যক্রম শুরু করবে। একটা সময় পরে এটা জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি বলেন, গণভবন যেটা আসলে গণবিরোধী ছিল। যেখানে বসে ছিলেন একজন ফ্যাসিস্ট ও খুনি। বাংলাদেশের মানুষের সাথে দম্ভের সঙ্গে আচরণ করত। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের মানবিক মর্যাদা বাঁচাতে এখানে এসে তার দম্ভে ভেঙে দিয়েছে।

গণভবনকে ‘দুঃখ ও বিজয়ের চিহ্ন’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, এই ভবনটা বাংলাদেশের মানুষের ১৬ বছরের দুঃখ-যাতনার জায়গায়। একই সঙ্গে বিজয়েরও স্মুতি চিহ্ন। মূলত এই জায়গায় ‘পেইন ও গ্লোরি’ ধারণ করবে। ফ্যাসিস্ট খুনির বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়কে দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরবে।




গণভবনকে জাদুঘরে রূপ দিতে ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: গণভবনকে জাদুঘরে রূপ দিতে ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

শনিবার (২ নভেম্বর) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাসভবন গণভবনে জুলাই-আগস্ট জুড়ে সারা দেশে পতিত আওয়ামী সরকারের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হবে। আয়নাঘরের রেপ্লিকা হবে। এখানে একটি গবেষণা কেন্দ্রও থাকবে। পরবর্তীতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এ জাদুঘর সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানান তিনি।

শিগগিরই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কাজ সম্পন্ন হবে, এরপরই জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম।

তিনি বলেন, গণভবন দেশের ১৬ কোটি মানুষের কষ্ট ও গৌরবের চিহ্ন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের প্রতীক। বিশ্ববাসীর কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সংবর্ধনার দেওয়া হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় যমুনায় প্রবেশ করেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলটি।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে গেছেন ২৩ জন ফুটবলার, ম্যানেজার মাহমুদা অনন্যা ও কোচ পিটার বাটলার যাওয়ার কথা। নেপালে সাফজয়ী বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের বাকি সদস্যরা– গোলরক্ষক কোচ, সহকারী কোচ, ফিজিও ও মিডিয়া অফিসার যেতে পারেননি যমুনায়। এছাড়া কোনো বাফুফে কর্তাও যাননি যমুনায়।

গত বুধবার বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয় বারের মতো সাফ জয় করে। ফাইনালে তারা হারায় স্বাগতিক নেপালকে। কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে পায় ২-১ গোলের জয়। এরপর দিন বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সেদিন সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের বরণ করে নিতে বাফুফে ভবনে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে অপেক্ষা করছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। বিকেল ৪টায় বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে রওয়ানা দেওয়ার তিন ঘণ্টা পর বাফুফে ভবনে এসে পৌঁছায় সাফজয়ী নারী ফুটবলাররা।

সাফজয়ী বাংলাদেশ দল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকার পুরস্কার পেয়েছে ইতোমধ্যেই। ওদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও সাবিনা খাতুনের দলের জন্য ২০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।




সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সংবর্ধনার দেওয়া হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় যমুনায় প্রবেশ করেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলটি।

নেপালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৪ জিতে গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সেদিন সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের বরণ করে নিতে বাফুফে ভবনে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে অপেক্ষা করছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। বিকেল ৪টায় বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে রওয়ানা দেওয়ার তিন ঘণ্টা পর বাফুফে ভবনে এসে পৌঁছায় সাফজয়ী নারী ফুটবলাররা।




প্রধান উপদেষ্টার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেলেন যারা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:: সাফজয়ী বাংলাদেশ দলকে আজ সংবর্ধনা দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সে সংবর্ধনার জন্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল পৌঁছে গেছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়।

আজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে গেছেন ২৩ জন ফুটবলার, ম্যানেজার মাহমুদা অনন্যা ও কোচ পিটার বাটলার যাওয়ার কথা। নেপালে সাফজয়ী বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের বাকি সদস্যরা– গোলরক্ষক কোচ, সহকারী কোচ, ফিজিও ও মিডিয়া অফিসার যেতে পারেননি যমুনায়। এছাড়া কোনো বাফুফে কর্তাও যাননি যমুনায়।

গত বুধবার বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয় বারের মতো সাফ জয় করে। ফাইনালে তারা হারায় স্বাগতিক নেপালকে। কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে পায় ২-১ গোলের জয়।

এরপর চ্যাম্পিয়ন দল দেশে ফিরেই বিশাল অভ্যর্থনা পেয়েছে। ছাদখোলা বাসে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে গেছে বাফুফে ভবনে। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সাফজয়ী বাংলাদেশ দল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকার পুরস্কার পেয়েছে ইতোমধ্যেই। ওদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও সাবিনা খাতুনের দলের জন্য ২০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।




সরকারি বরাদ্দে খাল ভরাট করে বাজার

বরিশাল অফিস :: খালটি দিয়ে একসময় নৌকা চলত। জোয়ার-ভাটার পানি আসত। নিষ্কাশন হতো জমে থাকা বৃষ্টির পানি। চলত সেচকাজ। পৌর কর্তৃপক্ষ সেই খাল ভরাট করে বাজার বসিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন যে যার মতো দখল করে দোকান তৈরি করেছে। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে খালটি।

এ চিত্র বরগুনার বেতাগী পৌরসভার টাউনব্রিজ এলাকার বেতাগী খালের। পাইলিং দিয়ে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে খালটির। বাজার বসিয়ে ইজারা দিয়ে রীতিমতো খাজনা আদায় করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, এ এলাকায় কাঁচাবাজার, দুধ বিক্রি ও চায়ের দোকানিদের বসার কোনো জায়গা নেই। সেতু ও রাস্তার ওপর পণ্য বিক্রি করা হয়। এতে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হয়। তাদের কথা চিন্তা করেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভূমি অফিসের সঙ্গে আলোচনা করে কাবিটা, টিআর ও উন্নয়ন খাতের অর্থ দিয়ে খালটি ভরাট করে বাজার বসানো হয়েছে।

এতে বছরে ১০ লাখ টাকার রাজস্ব আয় বেড়েছে। আক্ষেপ করে বরগুনা পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসান ঝন্টু বলেন, সাময়িক লাভের আশায় পরিবেশের এত বড় ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি কোন কোন প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। খাল রক্ষায় আইনের শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

বিষখালী নদীর মোহনা থেকে বেতাগী মৌজায় ৭ হাজার মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩৫ মিটার প্রস্থের খালটি বেতাগী সদর ও হোসনাবাদ ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। এ খাল ব্যবহার করে একসময় নৌকায় করে সরকারি খাদ্যগুদাম ও বেতাগী বন্দরের ব্যবসায়ীদের মালপত্র পরিবহন হতো। কয়েক বছর ধরে খালটি দখল ও ভরাট করছে স্থানীয় লোকজন। গত বছর এ কার্যক্রমে যোগ দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

এতে খাল দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া খাল ভরাটের কারণে পানি সরবরাহ, মৎস্য অভয়াশ্রমসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ পরিবেশবিদরা।

মৎস্য অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, খাল সংকুচিত হওয়ায় অভয়াশ্রম থেকে মাছসহ জলজ প্রাণী অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীন কাজে খালটি অস্তিত্ব হারানোর উপক্রম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমদ বলেন, খাল ভরাট হয়ে গেলে কৃষকের সেচ সুবিধা সংকুচিত হবে। ফসল আবাদে খরচ বেড়ে যাবে। এতে তাদের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। পাশাপাশি খাদ্য সংকট দেখা দেবে।

দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের জেলে আফজাল হোসেন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। মাছ ধরে খাই। খাল ভরাট হয়ে গেলে আমরা না খেয়ে মারা যাব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে খালটি স্থানীয় লোকজন বিভিন্নভাবে দখল করে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে বাধা দেওয়া হয়নি। খোদ পৌর কর্তৃপক্ষ কীভাবে খালটি ভরাট করল বোধগম্য নয়।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন বলেন, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়ার পর খালে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে পৌর প্রশাসক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সে অনুযায়ী কাজ করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কমিশনার ফারুক আহমদ বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া খাল ভরাটের এখতিয়ার ভূমি অফিস বা পৌর কর্তৃপক্ষের নেই। আমি এখানে যোগদানের আগেই এ কাজ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। সত্যতা পেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে খালের ভরাট অংশ উচ্ছেদেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, খালটি ভূমি অফিসের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। আমাদের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ভরাটে বাধা দেওয়া হয়নি।