বরিশালে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন

বরিশাল অফিস :: নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পাকা সড়কের পাশ দিয়ে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে। তবে বালু উত্তোলণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া-সরিকল সড়কের বছার নামক এলাকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পাকাসড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে গত কয়েকদিন থেকে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মনির হোসেন আকন অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলণ করে আসছেন। ফলে হুমকির মুখে পরেছে পাকা সড়ক।

এ বিষয়ে মনির হোসেন আকন বলেন, ডোবার মালিকের কাছ থেকে বালু কিনে তা উত্তোলণ করা হচ্ছে। যা পাকা সড়ক থেকে অনেক দুরত্বে।

বরিশাল গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৬

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯৯৬ জন।

শনিবার (২ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১২৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬৯, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৭২, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৮০, খুলনা বিভাগে ৮১ জন রয়েছেন। এছাড়াও রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪০ জন, রংপুর বিভাগে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে, গত এক দিনে সারাদেশে ৭৯১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৭২৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৬৩ হাজার ১৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩১০ জনের। গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।




কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বিএনপি : ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিএনপি দেশের কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার আমরা কারা? এ বিষয়ে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। এটা আরেকটা চক্রান্ত শুরু হয়েছে।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ও কূটনীতিক সাবিহ উদ্দিন আহমদের স্মরণসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, দেশে একটা অনিশ্চয়তা আবার শুরু করার জন্য এ ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। যেটা কোনো ইস্যু না, সেটাকে ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। আমি মনে করি এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সচেতন হওয়া দরকার।




আমু হয়ে উঠেছিলেন গডফাদার, ‘বিশেষ চাপ’ দিয়ে করতেন জমি দখল

বরিশাল অফিস :: বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র। জাতীয় নেতা হলেও তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি ছিল ঝালকাঠিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছিল জেলায়, যারা আমুর হয়ে জেলার সব ধরনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ–বাণিজ্য, কমিটি গঠন, নির্বাচনী মনোনয়ন বিক্রি করত। এই চক্রের মাধ্যমে আমু হয়ে উঠেছিলেন ঝালকাঠির গডফাদার।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ (মালেক) থেকে। এর পরের যত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছিল, সব কটিতেই দলের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ২০০০ সালের উপনির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে দায়িত্ব পান শিল্পমন্ত্রীর। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন আমু।

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, গত ১৬ বছর সব সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন আমির হোসেন আমু। নৈশপ্রহরী থেকে শুরু করে সব চাকরিতে আমুকে টাকা দিতে হতো। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এরপর আমুর ঝালকাঠির বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ওই বাড়ি থেকে পোড়া-অক্ষত মিলিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এর আগেই আমু পালিয়ে যান। এর পর থেকে আমুর অবস্থান সম্পর্কে জানে না কেউ। তাঁর নামে একাধিক মামলা হয়েছে। ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশনায় তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছিল জেলায়, যারা আমুর হয়ে জেলার সব ধরনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ–বাণিজ্য, কমিটি গঠন, নির্বাচনী মনোনয়ন বিক্রি করত। এই চক্রের মাধ্যমে আমু হয়ে উঠেছিলেন ঝালকাঠির গডফাদার।

ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা দখল করে আমির হোসেন আমু নিজের মা-বাবার নামে আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রায় ছয় একর জমি জোর করে নামমাত্র মূল্যে লিখে নেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলেছেন, আমু নিজেই পুলিশের ভয় দেখিয়ে লোক দিয়ে জমি দখল করেন।

কলেজের পাশে ঝালকাঠি শহরের লবণ ব্যবসায়ী ফজলুল হক হাওলাদারের ৩৬ শতক জমি ছিল। তাঁর জামাতা প্রবাসী আতিকুর রহমানের আরও ৭৫ শতাংশ জমি নিয়ে ফজলুল হক যৌথভাবে হাওলাদার ফিলিং স্টেশন নামে একটি পাম্প নির্মাণ শুরু করেন। স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে ৩৬ লাখ টাকা খরচ করেন। কিন্তু আমু তাঁর প্রতিষ্ঠিত কলেজের জন্য সেই জমি লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। ফজলুল হক অস্বীকৃতি জানানোয় আমুর ‘খলিফা’ জিএস জাকিরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা প্রায়ই তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জমি লিখে দিতে হুমকি দিয়ে আসতেন। একদল পুলিশ প্রায়ই তাঁর ছেলে রিয়াজুল ইসলামকে তুলে নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখত। ভয় দেখাত ‘ক্রসফায়ারের’।

ফজলুল হক বলেন, ‘একদিন আমুর বরিশালের বগুড়া রোডের বাসায় আমাকে ও আমার জামাতাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে তিনি বলেন, “আমার নামে জমি লিখে না দিলে তোমাদের পরিণাম হবে ভয়াবহ।” পরে ভয়ে আমি ও আমার জামাতা তাঁর বাসায় বসে জমি লিখে দিই। সেদিন রাত ১২টার দিকে ঝালকাঠি সদর সাবরেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তাঁর বাসায় বসে জমি রেজিস্ট্রি হয়। আমাকে কাঠাপ্রতি তিন লাখ টাকা নামমাত্র মূল্য দেওয়া হয়। অথচ এ জমির প্রতি কাঠার মূল্য ১০ লাখ টাকা। জমি লিখিয়ে নেওয়ার জন্য একজন দলিল লেখক সব সময় প্রস্তুত থাকতেন। এ কাজে সহায়তা করতেন জিএস জাকির ও পিপি আবদুল মান্নান রসুল।’

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছিল জেলায়, যারা আমুর হয়ে জেলার সব ধরনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ–বাণিজ্য, কমিটি গঠন, নির্বাচনী মনোনয়ন বিক্রি করত। এই চক্রের মাধ্যমে আমু হয়ে উঠেছিলেন ঝালকাঠির গডফাদার।

ব্যবসায়ী ফজলুল হক আরও বলেন, ‘আমার ব্যবসায়ী অংশীদার সালেক শরীফের সঙ্গে একটি লবণের মিল নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই মিলে আমি প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু সালেক শরীফের ছেলে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরীফ (এক ‘খলিফা’) আমাকে মিলের অংশ দিতে অস্বীকার করেন। পরে সব তথ্যপ্রমাণ দেখানো সত্ত্বেও মীমাংসার নামে আমু পুরো মিলের মালিকানা সালেক শরীফকে দিয়ে দেন। আমার পক্ষে কথা বলবেন বলে আমু আমার কাছ থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা নেন। সেই টাকাও আজ পর্যন্ত ফেরত পাইনি।’

আওয়ামী গডফাদার তাহেরের ‘সাম্রাজ্যে’র নতুন অধিপতি ছিলেন ছেলে টিপু
খলিলুর রহমান নামে অপর এক জমির মালিক বলেন, ‘আমার অনেক কষ্টে জমানো টাকায় ৬ শতক জমিতে একটি পাকা টিনশেড ঘর তৈরি করি। সেই জমি লিখে নিতে জাকির চাপ সৃষ্টি করেন। পরে আমার বাড়ির প্রবেশপথ কলেজের সীমানাপ্রাচীর দিয়ে আটকে দেন আমু। কিছুদিন আমি ও আমার স্ত্রী মই দিয়ে প্রাচীর টপকে বাড়িতে প্রবেশ করতাম। আমুর ঢাকার বাসায় গিয়ে আমার স্ত্রী কিছুদিন গৃহকর্মীর কাজ করেছে, যাতে জমিটি লিখে দিতে না হয়। কিন্তু আমুর মন গলেনি। একপর্যায়ে মাত্র আট লাখ টাকার বিনিময়ে বাড়িসহ ছয় শতক জমি লিখে দিতে বাধ্য হই।

একইভাবে আমু তাঁর প্রতিষ্ঠিত কলেজের জন্য আবদুর রাজ্জাক, পাদুকা ব্যবসায়ী সম্রাট শু হাউসের মালিক পরিমল চন্দ্র দে, সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কসের মালিক মো. সামসুল হক ও তাঁর ভাই-বোনদের ৩৬ শতকসহ অনেকের জমি দখল করে নেন। এসব জমি ভরাটের জন্য জেলা পরিষদ থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়।

আমুর ঢাকার বাসায় গিয়ে আমার স্ত্রী কিছুদিন গৃহকর্মীর কাজ করেছে, যাতে জমিটি লিখে দিতে না হয়। কিন্তু আমুর মন গলেনি। একপর্যায়ে মাত্র আট লাখ টাকার বিনিময়ে বাড়িসহ ছয় শতক জমি লিখে দিতে বাধ্য হই
খলিলুর রহমান।

২০১৫ সালে আমুর নির্দেশে জেলা প্রশাসন পরিচালিত কালেক্টরেট স্কুল ভবনের দুটি কক্ষ ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদারের লোকজন। কালেক্টরেট স্কুলের পাশেই আমুর স্ত্রীর নামে বেগম ফিরোজা আমু ঝালকাঠি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য এ ভাঙচুর চালানো হয়। ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সুগন্ধা নদীর তীরে কালেক্টরেট স্কুলটি নির্মাণ করা হয়।

বিদ্যালয়টির সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য জেলা প্রশাসন সামনেই একটি পুকুর ও চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে। কালেক্টরেট স্কুলটির পাশেই নির্মাণ করার কথা ছিল বেগম ফিরোজা আমু ঝালকাঠি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভবন। পরে সেখানে আর সেই প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়নি, যদিও জমি দখলে রয়েছে। পরে ওই জমির পেছনে ২০২৩ সালে বেগম ফিরোজা আমু হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নামে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়।

জানতে চাইলে বেগম ফিরোজা আমু ঝালকাঠি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, ‘কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য যে জমির প্রয়োজন, সমঝোতার মাধ্যমে একটু জমি নিয়েছি। পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

কালেক্টরেট স্কুলের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান বলেন, ‘আমি এ জেলায় নতুন যোগ দিয়েছি। বিদ্যালয়ের জমি অবৈধভাবে ব্যবহার করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝালকাঠিতে উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ মানেই আমুকে কমিশন দিতে হতো। এ কাজে নিজের একটি বাহিনী তৈরি করেছিলেন তিনি। আমুর হয়ে বেশির ভাগ কাজ করতেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান সুরুজ ওরফে রাঙ্গা ভাই, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির ওরফে জিএস জাকির এবং জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরীফ।

স্থানীয়ভাবে তাঁরা ‘চার খলিফা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমুর ভায়রা ও এপিএস ফখরুল মজিদ কিরণ, ঢাকার বাসার আমুর ব্যক্তিগত সহকারী শাওন খানকেও কিছু ভাগ দিতে হতো। আমুর নামে তাঁরা ৩০-৪০ শতাংশ কমিশন নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের কাছে দরপত্র বিক্রি করে দিতেন।

এলজিইডির অন্তত তিনটি সূত্রে জানা গেছে, ‘চার খলিফা’র নেতৃত্বে ঢাকার এলজিইডি ও সওজ অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয় থেকে অপ্রয়োজনীয় কালভার্ট ও সেতুর প্রকল্প তৈরি করে নিয়ে আসা হতো। অনেক সময় ভালো সেতু ভেঙেও নতুন সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ আনা হতো। আমুর আধা সরকারি চিঠির (ডিও লেটার) মাধ্যমে নেওয়া এসব কাজে অতিরিক্ত বরাদ্দ ধরা থাকত। পরে এসব কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশনে বিক্রি করে দেওয়া হলেও ঠিকাদারের লাভ থাকত।

ঝালকাঠি সওজের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঠিকাদার নির্বাচনে আমুর সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। ই-টেন্ডার চালু হওয়ার পর দরপত্র (গুচ্ছ) নেওয়া গেলেও জমা দিতে দরপত্রের কাগজ তুলে দিতে হতো চার খলিফার হাতে। কথা না শুনলে সরকারি কর্মকর্তাদের কেবল বদলি নয়, হেনস্তা করা হতো। সড়ক বিভাগের মতো এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর, গণপূর্ত, জেলার চার উপজেলা প্রকৌশলী, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল একই নিয়ম।

ঝালকাঠি এলজিইডির ঠিকাদার মেসার্স মনোয়ারা এন্টারপ্রাইজের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে এলজিইডিতে কাজ করছি। লটারির মাধ্যমে কয়েকটি কাজ পেয়েও আমুকে ৫ পার্সেন্ট হারে কমিশন দিতে হতো। টাকা না দিলে কাজ করা সম্ভব হতো না। আমার কাছ থেকে ৬৮ লাখ ও ৩৩ লাখ টাকার দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ৪ লাখ টাকা কমিশন নেওয়া হয়েছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদার ওরফে মনির হুজুর ছিলেন আমুর বিশ্বস্ত সহচর। মনিরুলের বাবা লিয়াকত আলী তালুকদার ছিলেন পৌরসভার মেয়র। পৌরসভার সব ঠিকাদারির কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন মনিরুল। তিনি প্রতিটি ঠিকাদারি কাজ শুরু করার আগেই আমুর কমিশনের ভাগ হিসাব করে ঢাকায় পাঠিয়ে দিতেন। তাঁর পরিবার কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে।

দলীয় মনোনয়ন ও কমিটি নিয়ন্ত্রণ
নিজের আসন ঝালকাঠি-২ তো বটেই, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের রাজনীতিতেও আমুর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। প্রতিটি সাংগঠনিক কমিটিতে তাঁর মনোনীত ব্যক্তিরা স্থান পেয়ে এসেছেন। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিএনপিপন্থী ব্যক্তিদের বড় পদে বসানোর অভিযোগ রয়েছে। সাবেক বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী তালুকদারকে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে, ২০০৪ সালে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহাবুব হোসেনকে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রশিদকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বসান আমু।

পদবঞ্চিত অন্তত পাঁচ নেতা বলেন, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে দ্বিতীয়বারের মতো সরদার মো. শাহ আলম সভাপতি ও খান সাইফুল্লাহ সাধারণ সম্পাদক হন। সম্মেলনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া ৪টি উপজেলা, ২টি পৌরসভাসহ ৩২টি ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে একমাত্র আমুর মনোনীত নেতারাই স্থান পেয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস করতেন না। কারণ, সামান্য প্রতিবাদেও শেষ হয়ে যেত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। আমুর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে জেলা আওয়ামী লীগের একসময়ের দাপুটে দুই নেতা সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান দল থেকে ছিটকে পড়েন। আমুর সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পৌরসভায় আফজাল হোসেন এবং উপজেলা পরিষদে সুলতান হোসেন নির্বাচন করে পরাজিত হন।

নগদ টাকা ছাড়া নিতেন না :
জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, সব টাকাই নগদে দিতে হতো আমুকে। লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন তাঁর ভায়রা কিরণ। কিরণের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হ‌ুমায়ূনের ছোট ভাই কিরণ তাঁর নিজের এলাকা বাদ দিয়ে পড়ে থাকতেন ঝালকাঠিতে। কেবল কমিশন আদায় নয়, নির্বাচনী এলাকায় আমুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করতেন তিনি। নলছিটি উপজেলার আওয়ামী লীগের এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অনুমতি নিতে হতো কিরণের। নলছিটির সব কাজের ভাগ-বাঁটোয়ারা করতেন তিনি।

ঝালকাঠির রোনালস রোডের বাড়ি, বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডের আলিশান বাংলোবাড়ি ও ঢাকার ইস্কাটনে বাংলোবাড়ি রয়েছে আমুর।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ব্যাংকে টাকা না রেখে আমু বাড়িতেই রাখতেন। যার প্রমাণ মেলে ৫ আগস্ট। আমুর ঝালকাঠির বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে আগুন নেভানোর সময় কয়েকটি পোড়া লাগেজ থেকে টাকার বান্ডিল বেরিয়ে পড়ে। তখন সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা এসে ওই টাকার লাগেজগুলো উদ্ধার করেন। এর মধ্য থেকে তাঁরা গণনা করে একটি লাগেজে অক্ষত ১ কোটি এবং অপর লাগেজগুলো থেকে গণনা করে আংশিক পোড়া ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উদ্ধার করেন। এ ছাড়া সেখানে ডলার, ইউরোসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যমানের মুদ্রা ছিল বলে জানায় পুলিশ।

ঝালকাঠির রোনালস রোডের বাড়ি, বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডের আলিশান বাংলোবাড়ি ও ঢাকার ইস্কাটনে বাংলোবাড়ি রয়েছে আমুর। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ব্যাংকে টাকা না রেখে আমু বাড়িতেই রাখতেন। যার প্রমাণ মেলে ৫ আগস্ট।
নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ, মামলা, হয়রানি
প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে এলাকায় অবস্থান করে প্রভাব বিস্তার করতেন আমু। ঝালকাঠিতে ‘এক ভোটের চেয়ারম্যান’ বলে একটি কথার প্রচলন রয়েছে। এর মানে হলো নির্বাচনে জিততে একজন প্রার্থীকে কেবল আমুর ভোট পেতে হতো। আমুকে টাকা দিয়ে যিনিই নৌকার মনোনয়ন পেতেন, তিনি নিশ্চিত বিজয়ী হতেন। নির্বাচনের মৌসুম এলেই ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাতায়াত বেড়ে যেত।

অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সম্পদ বিবরণীতে যে তথ্য আছে, তা তাঁর প্রকৃত সম্পদের সামান্য অংশ।

ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবদুল মান্নান রসুল আমুর প্রভাব বিস্তার করে জেলা আইনজীবী সমিতিতে টানা ১১ বছর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান জানান, আমুর নির্দেশে আবদুল মান্নান রসুল বিএনপি ও ভিন্নমতের নেতা–কর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়ে ফাঁসাতেন। আমুর পরেই তিনি ছিলেন ঝালকাঠির অঘোষিত সম্রাট। সরকারি মামলায় টাকা না দিলে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি করতেন তিনি। সাধারণ আইনজীবীরা তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকতেন। জেলা জজ আদালত ও চিফ জুডশিয়াল আদালতে গত ১৬ বছরে সব ধরনের নিয়োগ–বাণিজ্যে আমির হোসেন আমুর নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবদুল মান্নান রসুলের বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের হলফনামায় দেখা যায়, আমুর কৃষিজমি, বাড়ি, দোকান, চাকরি ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ৬০ লাখ ৩০ হাজার ৬০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও স্থায়ী আমানত ২৩ লাখ ৭০ হাজার ২৩৫ টাকা।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় আমুর নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩ টাকা। ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তাঁর নগদ অর্থ বেড়ে হয় দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেখানো হয় আট কোটি টাকা।

২০১৮ সালের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আমুর বার্ষিক আয় ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ওই সময়ে তাঁর আবাসিক ভবন ছিল দুটি, যার মূল্য ছিল ৯৪ লাখ টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১২টি। ২০২৪ সালের হলফনামায় দেখা যায়, আমুর কৃষিজমি, বাড়ি, দোকান, চাকরি ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ৬০ লাখ ৩০ হাজার ৬০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও স্থায়ী আমানত ২৩ লাখ ৭০ হাজার ২৩৫ টাকা। তাঁর বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেলের মূল্য ৭৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া আসবাবসহ অন্যান্য খাতে আরও ১৩ কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার ৮৩৮ টাকার সম্পদ আছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। তাঁর আবাসিক ভবন রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটির মূল্য ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাকি দুটির মূল্য অজানা লেখা হয়েছে।

ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি সত্যবান সেনগুপ্ত বলেন, হলফনামার বিবরণীতে আমুর সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সম্পদ বিবরণীতে যে তথ্য আছে, তা তাঁর প্রকৃত সম্পদের সামান্য অংশ।




বরগুনায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান পরিষদের বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও সাম্প্রতিক সময়ে সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্ত, হিন্দু নেতা রাদাশগুপ্ত, চিন্ময় প্রভুসহ সমগ্র দেশব্যাপী সনাতনী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে বরগুনা জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ ও সংখ্যালঘু সকল সংগঠন ঐক্যমোর্চার উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনা আখড়াবাড়ী প্রাঙ্গণে সমাবেশে বক্তব্য দেন, বরগুনা জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিবু সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মানিক কুমার পঙ্কজ, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুশান্ত বেপারী, সাধারণ সম্পাদক জয়দেব রায়, বামনা উপজেলা পূজা পরিষদ সভাপতি অঞ্জন চ্যাটার্জী, শ্রীগুরু সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পরিমল কর্মকারসহ বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল সনাতনী বিক্ষোভ মিছিল আখড়াবাড়ী থেকে শুরু হয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।




বরিশালে নৌপথে নাব্যতা বৃদ্ধি করতে ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ শুরু

বরিশাল অফিস :: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট ভোগাচ্ছিল যাত্রী ও নৌযান শ্রমিকদের। বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ) এই নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবশেষে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে এই নৌরুটে প্রথম তিনটি ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটারের এই পথটি দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে ভোলার যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম। শুষ্ক মৌসুমে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে পানির স্তর কমে যায়, যার ফলে বেশ কিছু এলাকায় ডুবোচর সৃষ্টি হয়। এতে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে সমস্যা হয় এবং যাত্রীরা পড়েন সীমাহীন দুর্ভোগে।

এই নৌরুটে প্রায় ১৫-২০টি ডুবোচর জেগে উঠায় সাধারণত তিন ঘণ্টার পথ এখন পার হতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে শুধু সময়ের অপচয় নয়, অতিরিক্ত তেলের খরচও বাড়ছে।

কৃষাণী ফেরির মাস্টার আতিকুর রহমান জানান, ডুবোচরের কারণে ২৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে ৩৬ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হচ্ছে, ফলে অতিরিক্ত সময় ও খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাটার সময় পানির স্তর মাত্র চার ফুট থাকায় ফেরিগুলোকে নানা পথে ঘুরে যেতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ দূর করতে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। ভেদুরিয়া এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য ডুবোচর এলাকাতেও ড্রেজিং হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ ভোলা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম। ডুবোচরগুলো অপসারণ হলে যাত্রী ও নৌযান চলাচলে আর কোন সমস্যা থাকবে না বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল লাহারহাট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সিহাব উদ্দিন জানান, নাব্যতা সংকট নিরসন হলে ফেরি সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে, যার ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে আটটি ফেরি চালু আছে। ডুবোচর সংকটের সমাধান হলে এই সংখ্যা বাড়িয়ে জনগণের যাতায়াত আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




পুকুরে ধরা ১০ কেজির কোরাল, বিক্রি ১২ হাজারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি পুকুরে ধরা পড়েছে ১০ কেজি ওজনের একটি কোরাল মাছ। শনিবার (২ নভেম্বর) মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের ধূলাসার গ্রামের বাসিন্দা সাইমুন ইসলামের পুকুরে মাছটি ধরা পড়ে। এই বিশাল আকৃতির কোরাল মাছটি দেখতে স্থানীয় জনতা ভিড় জমায়।

স্থানীয় বাসিন্দা কাদের পহলান জানান, “এত বড় কোরাল পুকুরে আগে কখনো দেখিনি।” স্থানীয় চাঁন মিয়াও এই ঘটনায় কোরাল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কোরাল চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি।”

পুকুরের মালিক সাইমুন মাছটি স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান, তবে উপযুক্ত দাম না পেয়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেন। এরপর আমতলীর ইয়াকুব ঘরামী ১২ টাকা কেজি দরে মোট ১২ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, “কোরাল মাছ দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রজাতির মধ্যে একটি। সঠিক খাবার পেলে বছরে এটি প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এই মাছটি সম্ভবত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে পুকুরে ছিল এবং পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছিল, তাই এটি এত বড় আকার ধারণ করেছে। উপকূলের চাষীরা যদি সঠিক পুষ্টির খাবার দিয়ে কোরাল চাষ করেন, তবে তারা ভালো ফল পাবেন।”




ক্ষতিপূরণ পাবে পরিবার, ববি শিক্ষার্থী মাইশার নামে হচ্ছে ফুটওভার ব্রিজ

বরিশাল অফিস ::  ক্ষতিপূরণ পাবে নিহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা ফৌজিয়া মিমের পরিবার। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা ও বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারে বিভিন্ন উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ছাড়া বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে ফুটওভার ব্রিজটি মাইশার নামে করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে এসব নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক ফয়সাল মাহমুদ রুমি।

তিনি বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, মানবিকতা ও তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাস চাপায় মাইশা ফৌজিয়া মিম নিহতের ঘটনায় শুক্রবার (১ নভেম্বর) রাতে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে।

সভাসূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া সভাটি শনিবার ভোররাত পর্যন্ত চলে।

যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ব্যতীত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, সিন্ডিকেট মেম্বার, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, র‌্যাব-৮’র উপ অধিনায়ক, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, ডিজিএফআইর আঞ্চলিক প্রধান, বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির ও নারায়ণগঞ্জ বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জ ট্রাভেলসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা ফৌজিয়া মিমের পরিবারকে বাস মালিক ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ৫ লাখ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও ৫ লাখ টাকাসহ মোট ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্রিজটির নাম নিহত মাইশা ফৌজিয়া মিমের নামে করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বরিশাল-কুয়াকাটা ও বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে গতিসীমা নির্ধারণ করে সাইনবোর্ড স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান জানাতে অদূরে আরও কিছু সাইনবোর্ড স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সামনের মহাসড়কে স্পিড ব্রেকার, রাম্বল স্ট্রিপ বসানো, মহাসড়কের পাশে ফুটপাত নির্মাণ, দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা নিশ্চিত করে রাতের সড়কে পল্লি বিদ্যুতের সহায়তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সামনে স্থায়ী ট্রাফিক বক্স নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরমধ্যে কিছু কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক ফয়সাল মাহমুদ রুমি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈঠকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা বাস মালিকের আর্থিক অবস্থা ও নিহত সহপাঠীর পরিবারের দিক বিবেচনা করেই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রী নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বাস চালককে পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। চালকের নাম মো. জামিল হোসন (২৫)। তিনি ওই এলাকার হায়দার হাওলাদারের ছেলে।

তিনি জানান, প্রথমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সেখানে না পেয়ে পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে জামিলকে আটক করা হয়। যেহেতু ঘটনাটি বন্দর থানাধীন তাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্টার (নিরাপত্তা শাখা) কে এম সানোয়ার পারভেজ লিটন বাদি হয়ে সেখানে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু দাবি দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম দাবি ছিল চালককে আটক করা। আমরা সেটি করতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি হেলপারকে আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বাস মালিকের কাছ থেকে নিহত মাইশার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এর বাহিরেও যে দাবিগুলো রয়েছে সেগুলো মেনে নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্বদ্যিালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টায় ববির সামনে নারায়ণগঞ্জ ট্রাভেলস পরিবহনের বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইশা ফওজিয়া মিম নিহত হন। তিনি ববির ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।




গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরে কমিটি ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর-এর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২ নভেম্বর) গণভবনের গেটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এ কমিটি ঘোষণা করেন।

উপদেষ্টার দপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন কিউরেটর, শিক্ষক, লেখক ও ফিল্ম মেকার ড. এবাদুর রহমান।

কমিটিতে যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী মুসতাইন বিল্লাহ; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক জাহিদ সবুজ; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞানের শিক্ষক ড. নুরুল মোমেন ভূঁইয়া; আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক তানজিম ওয়াহাব; লেখক ও গবেষক সহুল আহমেদ মুন্না; স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম; বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক; আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি; গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী; স্থাপত্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া; ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের সভাপতি বা উপযুক্ত প্রতিনিধি; নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের লিড আর্কিটেক্ট বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার; ডিজাইন ওয়ার্কস গ্রুপের আর্কিটেক্ট তানজিম হাসান সেলিম। এছাড়াও কমিটিতে এক বা দুজন ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত হবেন।

কমিটি ঘোষণার পর উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে নিপীড়নের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে, সেগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি এই জাদুঘরে ছাত্র-জনতার বিজয়ের স্মৃতিচিহ্নও সংরক্ষণ করা হবে। জাদুঘরে ‘আয়না ঘর’- এর একটি রেপ্লিকা তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে। স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবেও এই জাদুঘরকে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, ছাত্র-জনতার বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে জনগণ এ জাদুঘরকে ধারণ করবে।

প্রেস বিফ্রিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম বলেন, দেশের জনগণ নিজেদের মানবিক মর্যাদা রক্ষার্থে গণভবনে প্রবেশ করে ফ্যাসিবাদী সরকার-প্রধানের দম্ভ ভেঙে দিয়েছে। গত ১৬ বছরে এই গণভবন দেশের মানুষের দুঃখ-যাতনার জায়গায় পরিণত হয়েছিল। আবার এই গণভবনে জনগণের বিজয়ের স্মৃতিচিহ্নও রয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়ের চিহ্নও এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, এই জাদুঘর শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য নয়, সারা বিশ্বের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। চলতি সপ্তাহে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নবগঠিত কমিটি কাজ শুরু করতে পারবে।




ডেঙ্গুতে বরিশাল বিভাগে আরও ৩ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ  িনউজ :: বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুই নারীসহ তিনজন মারা গেছেন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এই বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে আছেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আফসার উদ্দিন (৫০), বরগুনা সদর উপজেলার পারভীন (৪৫) এবং বরগুনার বামনা উপজেলার লাবিবা (১৯)।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আরও ১২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৩২৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগের দুইটি মেডিকেল কলেজসহ অন্যান্য হাসপাতালে মোট ৫,৪৮৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ৫,১২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।