পাসপোর্ট নেই, ৩১ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিন্নমূল জীবন বরিশালের সান্টুর

বরিশাল অফিস :: মালয়েশিয়ায় ছিন্নমূল হয়ে পথে পথে ঘুরছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সান্টু মিয়া। বিদেশি নারীকে বিয়ে করে সেখানেই সংসার পাতা সান্টু সব হারিয়ে এখন ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান, তা খেয়ে খোলা জায়গায় রাত্রি যাপন করছেন। দীর্ঘদিনেও তাঁর কোনো খোঁজ পাননি বাংলাদেশে থাকা পরিবারের লোকজন।

গত মঙ্গলবার কুয়ালালামপুর শহরের বুকিবিন্তান এলাকায় সান্টুর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন আগৈলঝাড়ার শাহিন ফকির। সেই ভিডিও দেখে তাঁকে চিনতে পারেন পরিবারের লোকজন। তাঁরা ৩১ বছর আগে মালয়েশিয়া যাওয়া সান্টুকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাগধা গ্রামের আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে সান্টু ১৯৯৩ সালে মালয়েশিয়া যান। কিছুদিন পর ওই দেশের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীর ভাইয়েরা তাঁকে নেশা করার অভিযোগে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়। অন্যদিকে প্রথম কর্মস্থলে তাঁর পাসপোর্ট জমা থাকায় অন্য কোথাও কাজ পাননি।

এরপরই তাঁর ভবঘুরে জীবন শুরু হয়। কয়েকবার জেলেও যান। এর মধ্যে ওই দেশে রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া ইউএন কার্ডে নিজেকে তালিকাভুক্ত করায় দেশে ফেরার পথও বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার তাঁর ভিডিও দেখার পর দুজন প্রবাসী আত্মীয় বুধ ও বৃহস্পতিবার ওই এলাকাসহ আশপাশে খুঁজেও তাঁর সন্ধান পাননি।

সান্টুর বড় ভাই সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমার ছোট ভাই সান্টু মিয়া ৩১ বছর আগে মালয়েশিয়া যায়। পাসপোর্ট না থাকা ও রোহিঙ্গা ইউএন কার্ড থাকার কারণে সে দেশে আসতে পারছে না।’

এ ব্যাপারে বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি বলেন, ‘সান্টুকে মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর পরিবার আমার সহযোগিতা চাইলে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’




“সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেনের ইতিবাচক মনোভাব”

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় আস্থা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন। আজ, ২ নভেম্বর, তিনি রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকার নিজ কার্যালয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সদস্যরা ড. কামালকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, “সংবিধানকে সমসাময়িক করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।” তিনি সংবিধানকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকের সময় ড. কামাল ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের কথা স্মরণ করেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এদিকে, কমিশনের সদস্যরা সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। ড. কামাল হোসেন উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ বৈঠক সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি ইতিবাচক ধারা সৃষ্টি করবে এবং জনগণের স্বার্থে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।




দুইভাবে সুবিধা নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, করছেন পকেট ভারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বর্তমান সময়ে বিশ্ব বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরেই পণ্যের দাম কমে যাবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই দাম কমার ফলে আমদানির খরচও হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের পরও বাজারে পণ্যের দাম কমার পরিবর্তে বেড়ে চলেছে। ফলে দুভাবে ব্যবসায়ীদের পকেট ভারি হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম আরও ৯ শতাংশ কমবে। জ্বালানি তেলের দাম কমে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারে আসবে। কিন্তু দেশে যেসব ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়, তার প্রায় সবগুলোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে। যদিও এর প্রতিফলন দেশের বাজারে ঘটছে না।

উদাহরণ হিসেবে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ৫.৫২ শতাংশ, কিন্তু দেশে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে ১৬০ টাকা প্রতি লিটার হয়েছে। একইভাবে, পাম অয়েলের দামও বেড়েছে ১৫০ টাকা প্রতি লিটারে। দেশের খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিলাররা সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।

চালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও দেশের বাজারে দাম বেড়েছে। বর্তমানে মোটা জাতের চালের দাম প্রতি কেজিতে ৫২-৫৬ টাকা। একইভাবে, আটা এবং চিনির দামও বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গম ও মুরগির মাংসের দাম কমলেও দেশে দাম বেড়েছে।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের এই পকেট ভারির কারণে ভোক্তাদের জন্য জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও, ব্যবসায়ীদের কারণে দেশের বাজারে দাম কমছে না, বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি ভোক্তাদের জন্য একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।




গণহত্যায় জড়িত ও মদদদাতাদের বিচারে কৌশলপত্র প্রণয়ন করবে অর্থনীতি সমিতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি গণহত্যায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এবং মদদদাতা রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য একটি কৌশলপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ড. আজিজুর রহমান।

তিনি জানান, অর্থনীতি সমিতির গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সংগঠনটির নেতারা সচেষ্ট রয়েছেন। এ সময় তিনি ‘ড. কাজী খলীকুজ্জমান-অধ্যাপক আইনুল’ কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, ড. কাজী খলীকুজ্জামান, আবুল বারকাত, আইনুল ইসলাম ও জামাল উদ্দীন সিন্ডিকেট ঐতিহ্যবাহী এই সমিতিকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনে পরিণত করেছে।

নেতারা আরও বলেন, সমিতির ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ধ্বংসের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। তারা পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার উপায় এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে জাতীয় ভিত্তিক কর্মকৌশল নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনকে কালো টাকার প্রভাব মুক্ত রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

গত ১ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমানকে সভাপতি করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মাহবুব ই জামিল।

এডহক কমিটি জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির জরুরি সভায় গত মে মাসে অনুষ্ঠিত একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি ২০২৪ গঠন করা হয়।




অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেই ভালোর দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার: রিজওয়ানা হাসান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে সাংবাদিক এহসান মাহমুদের বইয়ের পাঠ আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা গত তিন মাস ধরে অর্থনৈতিকভাবে সততার সঙ্গে কাজ করছেন, যা বিগত সরকারের সময় দেখা যায়নি। তবে ঋণ এবং পাওনা পরিশোধের জন্য নতুনভাবে অর্থের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, যা একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।”

তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ায় নতুন পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে কিছুটা মানসিক দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা রয়েছে, এবং বিপুল আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বিগত সরকারের নেতিবাচক এনার্জি আমাদেরও বিভ্রান্ত করে।”

অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহারাব হোসেন মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংস্কৃতির শিকার। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা যেন দখলদার হয়ে ওঠে। এটি দূর করতে পারলে দেশের বৈষম্য কমবে।”

সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, “অন্দোলনকারীরা যদি দাবি করে, তাহলে পূর্ববর্তী সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। ভিন্ন মতের চর্চা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সমঝোতা প্রয়োজন, যাতে অস্থিরতা তৈরি না হয় এবং স্বৈরাচারের মিত্ররা আবার ফিরে আসতে না পারে।”

 




টানা পাঁচ বছর পর সচল হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দীর্ঘ পাঁচ বছরের স্থবিরতার পর দেশের আমদানি বাণিজ্য আবার সচল হওয়ার পথে রয়েছে। ২০২০ সালে করোনার সংক্রমণ, বৈশ্বিক মন্দা, দেশের ডলার সংকট এবং অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে আমদানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

এখন দেখা যাচ্ছে, আড়াই বছর ধরে চলা ডলার সংকট ক্রমশ কেটে যাচ্ছে, এবং বৈদেশিক ঋণের স্থিতি কমতে শুরু করেছে। ফলে ঋণ পরিশোধের চাপও কমছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির দিকে ইঙ্গিত করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং আগামী বছরে তা আরও কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দামও কমে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারে নেমে আসতে পারে। এর ফলে আশা করা হচ্ছে, আমদানি বাণিজ্য আগামীতে বাড়বে।

গত পাঁচ বছরে আমদানি কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতার কারণ ছিল করোনার সংক্রমণ ও বৈশ্বিক লকডাউন। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর তা আরও বেড়ে যায়।

ডলার সংকটের কারণে আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বপ্রথম অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বাদে অন্যান্য পণ্যে ২৫% এলসি মার্জিন আরোপ করে। পরে তা বৃদ্ধি করে শতভাগ মার্জিন আরোপ করা হয়। এর ফলে আমদানিনির্ভর শিল্পগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।

২০১৮ সাল থেকে দেশটি অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছিল, যা করোনার কারণে আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়ে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার ২৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এলসি মার্জিন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই অবস্থার কারণে ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে এখন বেশি পণ্য আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে, যা আমদানিনির্ভর শিল্পগুলোর উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।




১৭ ব্যক্তির অর্থ পাচার অনুসন্ধানে সিআইডি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। পাচারকারীর তালিকায় রয়েছেন হেভিওয়েট রাজনীতিক ও আওয়ামীঘেঁষা ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রতিবছর ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার অর্থ পাচার হচ্ছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সরকারের পতনের পর বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। বর্তমানে সিআইডি ১৭ ব্যক্তি ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাচারের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি পাঠিয়েছে ব্যাংক হিসাবের তথ্যের জন্য। সিআইডি প্রধান মো. মতিউর রহমান শেখ জানিয়েছেন, অনুসন্ধান মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডির অনুসন্ধানের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, এস আলম গ্রুপের মো. সাইফুল আলম, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, এবং অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার সংকট, অর্থনৈতিক সংকট এবং মূল্যস্ফীতি সহ নানা কারণে দেশে অর্থ পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। সিআইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দুই মাস পিছিয়ে যাচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: করোনাকালের ধাক্কা সামলে তিন বছর পর এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের মতো ফেব্রুয়ারিতে শুরু হলেও আগামী বছরের পরীক্ষা আবারও পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রায় দুই মাস পিছিয়ে এসএসসি পরীক্ষা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর এপ্রিলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষাবোর্ডগুলো।

এছাড়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও প্রায় দুই মাস পিছিয়ে যাচ্ছে। এ পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সাধারণত এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে ও এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে হতো। করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে শিক্ষাপঞ্জি এলোমেলো হয়ে যায়। ২০২৩ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ৩০ এপ্রিল। এরপর চলতি বছর থেকে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। কিন্তু আগামী বছর আবার তা পিছিয়ে যাচ্ছে।

কারিগরি শিক্ষার মানে অধিকাংশই সন্তুষ্ট নয়
এক লাখ শিক্ষক নিয়োগের ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি আসছে
ঢাকা শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচিতে অনুষ্ঠিত হবে। সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও সময়ে হবে পরীক্ষা।

এদিকে ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা হবে এমনটি ধরে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিল শিক্ষাবোর্ডগুলো। সেই লক্ষ্যে এখন স্কুলগুলোতে চলছে নির্বাচনী পরীক্ষা। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এসএসসির ফরম পূরণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কী কারণে পরীক্ষা পেছানো হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। এজন্য ঠিকমতো পাঠ্যসূচি শেষ করা সম্ভব হয়নি। আবার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও আবেদন আছে। তাই ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা নিয়ে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর এইচএসসি পরীক্ষা পবিত্র ঈদুল আজহার পর নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে ৩১ মার্চ বা ১ এপ্রিল। আর পবিত্র ঈদুল আজহা হতে পারে আগামী বছরের ৭ জুন।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা হবে পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচিতে। সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও সময়ে এ পরীক্ষা হবে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হবে ২০২৩ সালের মতো সংক্ষিপ্ত বা পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে। তবে পরীক্ষা হবে সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বরে।




পঙ্গু বাবার চিকিৎসা ও সংসার চালাতে জন্য ভিক্ষা করেন শিশু নুসরাত

বরিশাল অফিস :: মায়াভরা চোখের শিশুটির নাম নুসরাত। বয়স মাত্র পাঁচ-ছয় বছর। মিষ্টি ও বিনয়ী স্বভাবের এই শিশুটি প্রতিদিন তার পঙ্গু বাবার চিকিৎসা সংসার চালানোর অর্থ যোগাতে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নিয়ে ভিক্ষা করে বেড়ায় বরিশাল শহরের বিভিন্ন জায়গায়।

শনিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বরিশালের জিলা স্কুলের সামনে এমনই এক দৃশ্য দেখে মর্মাহত হন চা দোকানে বসা মানুষজন।

এ সময় শিশুটি অসহায়ভাবে জানায়, আমার বাবা কাজ করতে পারে না। সংসারের খরচ ও বাবার চিকিৎসারখরচ জোগাতে বাধ্য হয়েই ভিক্ষাবৃত্তি করতে হয়।

নুসরাতের বাবা নুরে আলম জানান, ২০১৪ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার পায়ে গুরুতর আঘাত পায়। এরপর পায়ে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে ২০২১ সালে পুরো পা কেটে ফেলতে হয়। এখন তিনি হুইল চেয়ারে চলাচল করেন। বরিশালের কাউনিয়া বিসিক রোডের একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। নুসরাত তাদের বড় মেয়ে এবং ছোট একটি ছেলে আছে। ভিক্ষা করেই চলছে তাদের সংসার।

বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে আরও করুণ তথ্য। নুরে আলমের পরিবার প্রায় ১০ বছর ধরে কাউনিয়ার একটি ছোট টিনের ঘরে থাকছেন। ঘরভাড়া ৩ হাজার টাকা, এবং লাকড়ির চুলায় রান্না করেন তারা।

নুসরাতের মা কাকলী বেগম জানান, খাদ্য সংকটের কারণে তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে শিক্ষাদান করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় সরকারি সহায়তা চাইলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য পাননি।

পরিবারটির অসহায় অবস্থার কথা জানিয়ে বাড়িওয়ালা রেনু বেগম বলেন, ওরা খুব ভদ্র মানুষ, তবে আমার পক্ষে তাদের সাহায্য করা সম্ভব হচ্ছে না।




ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন কাঠামোর দাবি মাসুদ সাঈদীর

বরিশাল অফিস :: দেশের প্রথিতযশা আলেমদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দেশের সব মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন কাঠামো ও চাকরি নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়েছেন জিয়ানগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান, পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াত মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী।

দেশের ইমামগণের অর্থনৈতিক দূরাবস্থার কথা উল্লেখ করে সাঈদীপুত্র বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নীতি নৈতিকতার অধঃপতনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমগণ এক কঠিন সময় পার করছেন।

নিতান্ত অল্প বেতনে বর্তমান সমাজ ইমামগণের জীবন নির্বাহ করাই এখন দুঃস্কর। এর কারণ হলো আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ ইমাম মুয়াজ্জিনদের যেভাবে কোনো বেতন স্কেল নেই, তেমনিভাবে নেই ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে তাদের মান-সম্মানের নিরাপত্তার জন্য আলাদা কোনো আইন, নেই মসজিদ পরিচালনার শক্তিশালী কোনো নীতিমালা।

এমতাবস্থায় দেশের প্রথিতযশা আলেমদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দেশের সকল মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন কাঠামো ও চাকরির নীতিমালা তৈরি করার জন্য আমি বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি কর্তৃক আয়োজিত উপজেলা ইমাম সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে ইমামতি কোনো পেশা নয়, বরং এটা হচ্ছে একটি মহান দায়িত্ব। ইমামের কাজের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে নবী করীম (স) ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য এই বলে দোয়া করেছেন, ‘ইমাম হচ্ছেন জিম্মাদার আর মুয়াজ্জিন হচ্ছেন আমানতদার।

যেহেতু ইমামতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তাই ইমামকে এ কাজের জন্য যেমন যোগ্য হতে হবে তেমনি তাকে মহৎ গুণের অধিকারীও হতে হবে। তাকে হতে হবে সৎ নিষ্ঠাবান তাকওয়াধারী আল্লাহওয়ালা আলেম। একজন ইমাম শুধু মসজিদের ইমামই নন; বরং তিনি সমাজেরও ইমাম। একজন ইমাম হলেন মানবতার পথপ্রদর্শক।

ইমামদের দ্বায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, সম্মানিত ইমামগণ জনসাধারণকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দানের পাশাপাশি তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

মসজিদে নববিতে আখেরি নবী সাইয়্যেদুল মুরসালিন ইমামুল আম্বিয়া মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স) আজীবন ইমামের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। মসজিদে নববীকে তিনি শুধু নামাজের জন্য সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সমাজ উন্নয়নের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি তা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমরা যদি প্রতিটি মসজিদকে নবীজির দেখানো সেই মসজিদে নববীর রোল মডেল রূপে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমাদের সমাজ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে, সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর হবে, সমাজে ব্যাপকভাবে জনকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, মসজিদের ইমামগণ যেমন জাতির আমলগত সংস্কারের জিম্মাদার, তেমনি আক্বীদাগত সংস্কার ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করারও পুরাপুরি দায়িত্বশীল। বাতিল আক্বীদা ও মতবাদকে খণ্ডন করা এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারার মূলোৎপাটন করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। যদি আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদ পরিপন্থী কোন আওয়াজ রাষ্ট্রে ওঠে অথবা রাসূল (সা)-এর রিসালাতের অবমাননা করা হয় তাহলে বাতিল শক্তির এইসকল ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করা ও প্রতিবাদ প্রতিরোধ করা ইমামদের কর্তব্যও বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা ইমাম সম্মেলনের প্রধান অতিথি মাসুদ সাঈদী আরো বলেন, আল্লাহর স্বার্বভৌমত্ব ও রাসুল (সা) এর আনুগত্যের পরিবর্তে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর থেকে এ যাবৎ দলের স্বার্বভৌমত্ব ও দলীয় নেতাদের আনুগত্য, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব চলছে। যার কারণে মানুষ সুশাসন ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, গুম-খুন, ধর্ষণ, মাদক ইত্যাদি মানবতা বিরোধী অপরাধের সয়লাবে জাতীয় জীবনে চরম দুর্ভোগ ও অশান্তি চলছে।

আল্লাহর ভয় ও ধর্মীয় শিক্ষা না থাকার কারণে শেখ হাসিনা সমাজসেবক থেকে দানবে পরিণত হয়েছেন উল্লেখ করে মাসুদ সাঈদী বলেন, ক্ষমতার মোহে দেড় দশক ধরে শত শত মানুষকে গুম, খুন ও নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছে খুনি হাসিনা।

কুণ্ঠাবোধ করেনি দেশের স্বার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে। বন্ধুত্বের নামে ভারতের দাসত্বের জিঞ্জিরে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে আবদ্ধ করে রেখেছিল। দেশের প্রতিটি সেক্টরকে শেখ হাসিনা দুর্নীতি, লুটপাট এবং হাজারো অনিয়মে ধ্বংস করে দিয়েছে। হাসিনা জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। ৫ আগষ্টের গণবিপ্লবের পর আমরা বাংলাদেশে আর কোনো দানব, আর কোনো স্বৈরাচার, আর কোনো খুনিকে দেখতে চাই না। দানব স্বৈরাচারদের হাত থেকে বাঁচতে আল্লাহভীতি সম্পন্ন সত্যিকারের জনগণের খাদেম ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মী যাকে যেখানে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।

একটি শান্তিময় ইনসাফপূর্ণ ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বেশি বেশি করে আলেম নির্বাচিত করে পার্লামেন্টে পাঠাতে হবে।

সময়ের দাবি অনুযায়ী খুৎবার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করার আবেদন জানিয়ে উপস্থিত ইমামদের উদ্দেশ্যে মাসুদ সাঈদী বলেন, ধরাবাঁধা ছাপানো বারো চান্দের একই খুৎবা বছরের পর বছর পড়া উচিত নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট, সমসাময়িক অবস্থা ও ঘটনাবলি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামনে রেখে খুৎবার ভাষণ প্রস্তুত করা প্রয়োজন। পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে খুৎবা প্রদান প্রয়োজন। খুৎবায় আকীদার বিষয়বস্তুকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। কারণ আকীদা শুদ্ধ হলে ইবাদত শুদ্ধ, আর তা ভুল হলে ইবাদতও ভুল হয়ে যায়। আকীদার বিভ্রান্তিতে একজন মুমিন কখনো কখনো ঈমান থেকেও খারিজ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির জিয়ানগর উপজেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল জলিল হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা জামাল হোসেনের সঞ্চালনায় উপজেলা ইমাম সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমাম সমিতির পিরোজপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুল হালিম। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হারুন অর রশিদ, ওলামা বিভাগের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা শওকত আলী, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ইয়াহইয়া হাওলাদার, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির পিরোজপুর জেলার উপদেষ্টা মোঃ হাবিবুর রহমান, ইমাম সমিতির জিয়ানগর উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মোঃ আলী হোসেন, উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদুর রহমান রাতুল, উপদেষ্টা মাওলানা মোঃ ছারোয়ার হোসেন মোল্লা।

বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়নে স্থানীয় কেওতা ঘিগড়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সহযোগী সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদী। তিনি জামায়াতের শহীদ নেতৃবৃন্দের সততার সাথে মন্ত্রী ও এমপির দায়িত্ব পালনের উদাহরণ টেনে বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাদের ত্যাগ আমাদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। মন্ত্রী বা এমপির দায়িত্ব পালনের সময় তাদের কারো একবিন্দু দুর্নীতি খুঁজে পায়নি তখনকার সরকার।

মাসুদ সাঈদী সহযোগী সদস্যের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ৫টি কাজ করতে হবে। যথা- কুরআন পড়তে শেখা ও কুরআন বুঝে পড়ার চেষ্টা করা, প্রত্যেক গ্রাম ও মহল্লার ইউনিটে সাপ্তাহিক বৈঠকে উপস্থিত থাকা, সংগঠনের তহবিলে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা করা, আত্মীয়- স্বজন পাড়াপ্রতিবেশিদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে শরিক হওয়ার দাওয়াত দেয়া। এই কাজগুলি আঞ্জাম দেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াতের কর্মী ও রুকন হিসেবে শপথ নিয়ে নিজেকে সংগঠনের সাথে একাকার হয়ে যেতে হবে।

সহযোগী সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল হক, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম, রাজাপুর উপজেলা আমীর মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি মোহাম্মাদ কবির হোসেন, ঝালকাঠি পৌরসভা আমীর মাওলানা মোঃ মনিরুজ্জামান, ঝালকাঠি জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর মোঃ সিদ্দিক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি মোঃ সায়েম, জেলা সেক্রেটারি এনামুল হাসান, বরিশাল জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী মোঃ শাহ আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।