বকেয়া পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি আদানির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ৭ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়ার ৮৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে ভারতের আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ড লিমিটেড। সময়মতো বকেয়া বিল না পেয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর বকেয়া পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭০ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র খোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করেনি বিপিডিবি। বকেয়া পরিশোধে বিলম্বের কারণে আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ড থেকে গত ৩১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) আদানির গোড্ডা প্ল্যান্ট এক হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে মাত্র ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। পায়রা, রামপাল ও এসএস পাওয়ার ওয়ানসহ অন্যান্য বড় কারখানাগুলোতেও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনটিপিসির যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির বাগেরহাটের রামপাল প্ল্যান্ট এবং এসএস পাওয়ার আই এরই মধ্যে কয়লার ঘাটতির কারণে অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে।

একটি সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বাংলাদেশ সময়মতো বকেয়া পরিশোধ না করায়, বকেয়া দিন দিন বেড়েছে। যদিও অক্টোবরে আদানি পাওয়ারকে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এর আগের মাসগুলোতে ৯০-১০০ মিলিয়ন ডলারের মাসিক বিলের বিপরীতে প্রতি মাসে ২০-৫০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।




ইউরোপে খেলার মতো ফুটবলার আছে বাংলাদেশের, বিশ্বাস কোচের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সিনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশের ফুটবলে শেষ অনেক বছর ধরে সাফল্য স্রেফ নারী দলই এনে দিচ্ছে। ২০২২ সালের পর ২০২৪ সাফের শিরোপাও জিতেছে সাবিনা খাতুনের দল। এমন ধারাবাহিক পারফর্ম্যান্সের সুফল ফুটবলাররাও পেতে শুরু করছেন। ইউরোপের ক্লাব যোগাযোগ করেছে নারী ফুটবলারদের সঙ্গে, দেখিয়েছে তাদেরকে দলে ভেড়ানোর আগ্রহ।

সে বিষয়ে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অঙ্গনে ইউরোপীয় একমাত্র তিনিই। তার হাত ধরে প্রস্তাব এলেও আসা সম্ভব। সে বিষয়ে অবশ্য বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ মুখ খোলেননি।

তবে এ কথাটি মেনে নিলেন যে, বাংলাদেশে ইউরোপে খেলার যোগ্য ফুটবলার আছেন। শুধু খেলারই নয়, সেখানে দারুণভাবে সফল হওয়ার সামর্থ্যও দলের খেলোয়াড়দের আছে।

তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দলে এমন তরুণ খেলোয়াড় আছে, যারা সঠিক পরিচর্যা আর কোচিং পেলে ইউরোপে খেলতে পারবে। তারা সেখানে গিয়ে ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

খেলোয়াড়দের সে প্রতিভা থাকলেও কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হবে। তবে সেটাও সামলে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘ফিজিক্যালিটি একটা সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে মনোযোগ, দৃষ্টিভঙ্গি আর নিয়মানুবর্তিতা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে।’

উত্তর মেসিডোনিয়ার একটি ক্লাব বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইতোমধ্যেই। তাকে সহ বাংলাদেশের ৪ ফুটবলারকে চায় দলটা। এখন মেসিডোনিয়ান সে ক্লাব ভিসা প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দিচ্ছে।

তবে তাদের ছাড়াও বাংলাদেশ নারী ফুটবলের বিশাল সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন কোচ বাটলার। সেজন্যে অবশ্য একটা শর্তও বেধে দিয়েছেন তিনি। বললেন, ‘বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বিশাল সম্ভাবনা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি সেটা করতে হলে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রণয়ন করা দরকার।’




ইন্টারপোল সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে গেলেন আইজিপি

চন্দ্রদীপ নিউজ :: ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল) এর ৯২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মো. ময়নুল ইসলাম। গতকাল শনিবার রাতে (২ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

রোববার (৩ নভেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর্ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।ইনামুল হক সাগর্ জানান, আইজিপি সম্মেলনে ২ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধিদলের অপর সদস্য হলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি আলী হায়দার চৌধুরী।

চার দিনব্যাপী (৪-৭ নভেম্বর) ইন্টারপোলের ৯২তম সাধারণ অধিবেশন যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত হবে। ইন্টারপোলের ১৯৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করবেন।

অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাথে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, কাতার, জার্মানী, মালদ্বীপ, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইতালি এ ১৩টি দেশের পুলিশ প্রতিনিধিদল এবং ইন্টারপোলের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা (এইচআরএম) বিভাগের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক পুলিশি সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশ পুলিশের বৈশ্বিক পুলিশি সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

ইন্টারপোলের এবারের সাধারণ অধিবেশনে বায়োমেট্রিক ফ্রন্টলাইন সক্ষমতা, এআই এবং পুলিশিংয়ের ভবিষ্যত, টেকসই বহুপাক্ষিকতা-একটি সমন্বিত বিশ্ব নিরাপত্তা স্থাপত্য ও আইন প্রয়োগকারীদের নেতৃত্বের ভবিষ্যত এ চারটি প্রধান ইন্টারেক্টিভ প্যানেল থাকবে, যা সংস্থাটির বৈশ্বিক অপরাধ ও আন্তর্জাতিক পুলিশিংয়ের ভবিষ্যত সম্পর্কে বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবে।

এছাড়াও ইন্টারপোলের বিভিন্ন আইন ও বিধি সংশোধন, এক্সিকিউটিভ কমিটির নির্বাচন, বাৎসরিক বাজেট প্রণয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

ইন্টারপোলের সদস্য দেশসমূহের পুলিশ প্রতিনিধিদলের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক পুলিশি সহযোগিতা অধিকতর কার্যকর করার ক্ষেত্রে এ অধিবেশন অতীব গুরুত্ববহ এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সম্মেলন শেষে বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান আগামী ৯ নভেম্বর দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।  উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালের ১৪ অক্টোবর ইন্টারপোলের সদস্যপদ লাভ করে।




বরিশালে অবৈধ পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযান

বরিশাল অফিস :: সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দেশব্যাপী নিষিদ্ধ পলিথিন ও পলিপ্রপাইলিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন।

রবিবার (০৩ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসন মো. দেলোয়ার হোসেন নেতৃত্বে বরিশাল নগরীর নতুন বাজারে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং, সহকারী কমিশনার মোঃ শহীদ উল্লাহ, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, মো: রবিউল হাসান ভূঁইয়া, বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর এর কর্মকর্তাবৃন্দসহ আরও অনেকে।

অভিযানে বেশ কয়েকটি দোকান থেকে নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হলেও প্রাথমিক ভাবে তাদেরকে জেল জরিমানা করা হয়নি। তবে সচেতনতামূক প্রচারনা চালানো হয়েছে।

একই সাথে পরবর্তিতে পলিথিন পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন।

পরিবেশ রক্ষায় সকল ধরনের পলিথিন ব্যবহার বন্ধে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক।




পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো সন্তানরা ডেঙ্গু-করোনার চেয়েও বিষাক্ত ভাইরাস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :খ্রিস্টগত জীবন জগত-পৃথিবীতে দুর্লভ! এরকম একটি দুর্লভ চরিত্রের কথা মনে পড়লো, বৃদ্ধাশ্রম-এ নিক্ষিপ্ত এক পিতামাতার পরিণতির কথা শুনে। এসব সন্তানরা মূলত করোনা বা চলমান ডেঙ্গুর চেয়েও বিষাক্ত ভাইরাস। মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা তাদের মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিচ্ছেন এমন খবর একেবারেই নগন্য। বর্ণাঢ্য পরিবারেই এমনটা ঘটছে। সেকালে জমিদার পুত্র বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ভাগ্যে বৃদ্ধাশ্রমের ঘটনা না ঘটলেও তাঁর জীবনের শেষবেলায় রক্তের আত্মীয় পরিজনের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের ব্যবহার কী দুঃসহের ছিল – তা ভিন্ন এক লেখায় লিখবো। বৃদ্ধাশ্রমের জন্য রাষ্ট্রকে আজ আইনও প্রনয়ণ করতে হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে কী হতো জানিনা। তবে এ বৃদ্ধাশ্রমের কথিত সংস্কৃতি বেড়ে ওঠার আগেই এর থেকে রাষ্ট্র ও সমাজকে বের হয়ে আসার দাবি করছি।

অপসংস্কৃতির বিপরীতে মা-ভক্ত এক দ্বারকানাথের জীবনবোধের আশ্রয় নেয়া যেতে পারে। যেসব সন্তন পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তারা সমাজের বিষাক্ত ভাইরাস। প্রাণঘাতী করোনা নামক ভাইরাসের প্রতিশেধকমূলক ওষুধ হয়তো আবিষ্কার হয়ে যাবে, কিন্তু এ মনুষ্যত্ববোধে যে ভাইরাসের সংক্রমণ তা দূর করা যাবে না, মানুষের মতো মানুষ না হলে।
আঠারো শতকের দ্বারকানাথ প্রসঙ্গে যাবার আগে বলে নিচ্ছি, প্রতি সপ্তাহের রবিবার একটি বিশেষ দিন। পৃথিবীর সবদেশের ন্যায় আমাদের প্রিয় বাংলাদেশেও জিয়া শাসনকাল পর্যন্ত রবিবার ছিল সরকারি ছুটির দিন।

খ্রিস্টিয় ধর্মানুরাগীদের জন্য রবিবার হলো, ঈশ্বরের প্রতি একটি পরীক্ষা, ত্যাগ ও প্রার্থনার দিন। খ্রিস্টধর্ম শাস্ত্র অনুযায়ী খ্রিস্টের ত্যাগস্বীকার, ক্ষমাশীলতা আর স্বর্গীয় অতুলন ধৈর্য, জীবনকার্যে প্রতিফলিত করলেই কেবলমাত্র তদীয় শিষ্যত্ববরণ করা সম্ভব! রবিবার খ্রিস্টশিষ্যের সাধনার দিন। ওদিন তার ভক্তরা বিশেষ আহারাদি থেকে বিরত থাকতেন। নির্জনে বসে শাস্ত্রপাঠে ও প্রার্থনাতে তাদের সময়টা যাপিত হতো।

খ্রিস্টশিষ্যত্বে অবতীর্ণ হন কট্টর হিন্দুপূজারী মায়ের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হওয়া এক সন্তান। এভাবেই প্রতি রবিবার প্রার্থনাতে মগ্ন হয়ে থাকতেন। তখন মা যেন অধিক বিষাদে, মনঃক্ষোভে, তিরস্কারে, পীড়নে, সন্তানের সংশোধন করবেন ভেবে নানাপ্রকার কষ্ট দিতেন। সন্তানের সাধনায় ব্যাঘাত ঘটাতেন। কিন্তু অবিচলিতভাবে সবই বহন করে ক্লেশকর বিষাদের মৃদু হাসিতে দ্বারকানাথ কেবল বলতেন- ‘মা আমার শাস্ত্রে কী আছে জানলে তুমি কখনও এমন করতে না। ’

পুত্রের প্রতি এরকম কঠোর ব্যবহার যে দেখতো সেই বিস্মিত হতো। সবাই বলাবলি করতো-এতো ধৈর্য কোথা হতে পেলো, মায়ের এতো অবিচার পুত্র কেমন করে সয়? নিপীড়নের শিকারী দ্বারকানাথ ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে লাহিড়ী বংশে জন্ম নেন।

লাহিড়ী বংশের হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ ইংরেজি শিক্ষার প্রচলনে বিরাট ভূমিকা ছিল। এক মাভক্ত বিস্ময়কর প্রতিভা! সেই কালে ইংরেজি বিদ্যায় পারদর্শী দ্বারকানাথের কন্যার ভাষায় ‘যে পরিবারের এরূপ পিতার স্মৃতি থাকে সে পরিবার ধন্য! যে বংশের সন্তান মায়ের পদদ্বয় তাম্রকুন্ডে স্থাপনপূর্বক পূজা করতে পারে, সে বংশের পক্ষে এই মাতৃভক্তি সম্ভ্রমের বিষয়।

১৮৫৭ খ্রীস্টাব্দে সিপাহি বিদ্রোহে, সিপাহিরা যখন আগরানগর আক্রমণ করে এবং প্রত্যেক ইংরেজ ও খ্রিস্টানকে হত্যা করতে প্রবৃত্ত হয়, তখন হিন্দুরাই দ্বারকানাথকে বাঁচাতে লুকিয়ে রাখে। প্রায় আটমাস আগরার কেল্লাতে দ্বারকানাথের সঙ্গে বন্দী থাকা ইংরাজ রেভারেন্ড ইভান্স দ্বারকানাথ সম্পর্কে বলেন, ‘Meek as a lamb, humble as a baby, true as steel’ (তিনি নিরীহতাতে মেষশাবক, বিনয়ে শিশু ও সত্যনিষ্ঠাতে ইস্পাত-দৃঢ়)

কৃষ্ণনগরে অনুমান ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে লাহিড়ীবংশে জন্মেছিলেন দ্বারকানাথ। শৈশবে পিতৃহীন হয়ে মায়ের সান্নিধ্যে মাতুলালয়ে তার বাস। পনেরো বছর বয়ঃক্রমকালে এরকম কোনো একটি ঘটনার সাক্ষাৎ ঘটে, যাতে দ্বারকানাথের মা দারুণ মনঃপীড়াপ্রাপ্ত হন। পঞ্চদশবর্ষীয় কিশোর প্রতিজ্ঞাপূর্বক মাতুলালয় ত্যাগ করেন, নিজে উপার্জনক্ষম হয়ে জননীর দুঃখ সংবরণ করতে না পারলে আর আত্মীয়স্বজনকে মুখ দেখাবেন না। কয়েক আনা পয়সা মাত্র পথের সম্বল নিয়ে পদব্রজে হেঁটে হেঁটে আগরাতে গিয়ে পৌঁছেন।

সেখানে শান্তিপুর নিবাসী একজন বাঙালি ভদ্রলোক তার প্রতি কৃপা-পরবশ হয়ে স্বীয় ভবনে আশ্রয় দেন এবং বিদ্যাশিক্ষার বন্দোবস্ত করে দেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে দ্বারকানাথ ইংরেজি বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন। কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আগরাতেই একটি উচ্চ বেতনের কর্ম পেয়ে গেলেন। প্রথম বেতন পেয়েই মাকে পত্র লিখলেন। ভগ্নহৃদয়া মা বহুবছর ধরে নিরুদ্দেশ সন্তানের পত্র এবং অর্থ পেয়ে ক্রন্দন করলেন। মাকে আগরাতে নিয়ে আসা হলো। মাতৃসেবা ও গৃহধর্ম প্রবৃত্ত হলেন দ্বারকানাথ। তিনি ধর্মতত্ত্ব নির্ণয়ের জন্য নানা শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

একজন উপরিতন কর্মচারীর সংশ্রবে এসে তার খ্রিস্টীয় ধর্মের প্রতি আস্থা জন্মালো। তিনি খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হলেন। তারপর আরাধ্যা মায়ের প্রতিকূলতায় তার জীবন ঘোর নির্যাতনময় হয়। দ্বারকানাথের কনিষ্ঠ কন্যা স্বীয় পিতার অপরাজিত ধৈর্যের বিবরণ দিয়েছেন একটি গ্রন্থে।

মায়ের বিশ্বাস ছিলো বাইবেল ধর্মশাস্ত্র পুড়িয়ে ফেললে, উপাসনাকালে ব্যাঘাত জন্মালে, মত বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা এবং এই ভ্রমবশত যতদূর সম্ভব পুত্রের ধর্মসাধনায় বাধা জন্মাতে অবহেলা করতেন না। কত যে ধর্মশাস্ত্র দগ্ধ করেছেন তা কি বলবো! বহুবার বাইবেল লুকিয়ে রেখেছেন। এমন দিন যেতো না, যাতে মায়ের দুর্ব্যবহারে ও কঠোর পীড়নে কষ্ট না পেতেন।

মা যতদিন জীবিত ছিলেন- ক্রমাগত বলতেন, এমন ছেলে বিধর্মী এ কি প্রাণে সয়? বহুকালব্যাপী এই ঘোর নির্যাতনেও প্রকৃতি কখনও চঞ্চল হয়নি। ধর্মবিশ্বাস বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি এবং একটি মূহুর্তের জন্যও কখনও মায়ের প্রতি অসম্মান বা অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেননি। সেই সদানন্দ শান্তমূর্তি সব প্রতিকূল অবস্থায় সমান ধীর থাকতেন। তিরস্কার উৎপীড়ন অম্লানভাবে অটল ধৈর্যের সঙ্গে বহন করেছেন। এমন গভীর মাতৃভক্তির দৃষ্টান্ত অতি বিরল!

উপার্জনের সব টাকাও মায়ের হাতেই দিতেন। মা সে থেকে যা দিতেন তাতেও কখনও দ্বিরুক্তি ছিলো না।

খ্রিস্টের ত্যাগস্বীকার, স্বর্গীয় অতুলন ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, জীবনের প্রতিকার্যে, তার প্রভুর আদর্শ যেন প্রতিফলিত করার জন্যই তদীয় শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন! লাহিড়ীবংশীয়দের সহৃদয়, সদাশয়, পরোপকারী ও সত্যনিষ্ঠ ছিলেন। এখনও লাহিড়ী পরিবারের সদস্যরা কৃষ্ণনগরে মানসম্ভ্রমে অগ্রগণ্য।

পাদটীকা: পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে প্রেরণ নয়, বরং পিতামাতার পদতলে স্বর্গ হয়ে উঠুক সন্তানের নিবাস।




ফ্যাসিস্টরা যাতে ফিরে আসতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আগামী দিনে নির্বাচনে যাতে ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশের ছাত্র-জনতা যেভাবে ফ্যাস্টিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে তা আর কখনোই গ্রহণ করা হবে না। দেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জনপ্রিয় নেতা ভোটে প্রতিযোগিতা করে জিতিছিলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টরা জোরপূর্বকভাবে সেই ফলাফল কেড়ে নিয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে ধন্যবাদ জানাই তারা ন্যায় বিচারের মাধ্যমে ডা. শাহাদাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তারা আদালতের রায় মেনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করিয়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার যে ইশতেহার ছিলো চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হবে গ্রীণ ও ক্লিন সিটি কর্পোরেশন-সেই লক্ষ্য আমি কাজ করে যাবো।

চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ ভুলু, যুগ্ম মহাসচিব মাহমুদ নবী সোহেলসহ চট্টগ্রাম বিএনপি মহানগর ও বিভাগীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীর জেলেদের মাছ ধরার প্রস্তুতি: সমুদ্র নিষেধাজ্ঞার সমাপ্তির পথে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আজ (রোববার) রাতের শেষ ভাগে শেষ হতে চলেছে সমুদ্র ও নদীতে মাছ ধরার ওপর আরোপিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি সুরক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মধ্যে ফিরে এসেছে নতুন উদ্যম ও আশা।

দীর্ঘদিন পর মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে তারা উৎসাহিত এবং সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ নতুন করে জাল তৈরি করছেন, কেউ বরফ সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করছেন। তাদের মুখে দেখা যাচ্ছে নতুন আশার আলো, যেন এবারের মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ আহরণ করে জীবন-জীবিকা এগিয়ে নিতে পারেন। পটুয়াখালীর বিভিন্ন মৎস্য বন্দরে জেলেদের এই প্রস্তুতির প্রাণচঞ্চল দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

এ নিষেধাজ্ঞার সময়কালে সরকার থেকে প্রণোদনা হিসেবে চাল বিতরণ করা হলেও তা সবার কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি বলে কিছু জেলের অভিযোগ রয়েছে। আর্থিক অনটন কাটাতে জেলেরা আশাবাদী যে, এবার সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ আহরণ করবেন।

রাঙ্গাবালীর জেলে মোতালেব হোসেন বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমাদের সামান্য চাল দেয়া হয়েছে, যা পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ধার-দেনায় জীবন কাটাতে হচ্ছে।” মহিপুরের জেলে সোহেল বলেন, “সরকারি সহায়তা পেয়েছি, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট নয়। আমরা আশা করি, এবার বেশি ইলিশ পেয়ে দেনা পরিশোধ করতে পারবো।”

প্রশাসনের সহযোগিতায় এ নিষেধাজ্ঞার কার্যকরী তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে বেশ কিছু জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পায়রা বন্দরের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবার নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে জেলেদের প্রচুর ইলিশ আহরণের সুযোগ তৈরি হবে।

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, কলাপাড়ার নিবন্ধিত ১৮,৩০৭ জন জেলেকে সরকারি প্রণোদনার চাল প্রদান করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবার জেলেরা ইলিশ আহরণ করে তাদের আর্থিক সংকট দূর করতে পারবেন।




লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বাংলাদেশির মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নামে ৩২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। লেবাননের স্থানীয় সময় শনিবার (২ নভেম্বর) রাতে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, শনিবার (২ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকালে একটি আবাসিক ভবনে সতর্কবার্তা ছাড়াই ইসরায়েল হামলা চালায়। তখন নিজাম সেখানকার একটি কফি শপে ছিলেন। হামলার পর ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। পরে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মাউন্ট লেবানন হাসপাতালে। সেখানে মর্গে তার মৃতদেহ রাখা আছে বলে জানিয়েছেন তারা।

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনও বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিহত নিজাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খারেরা এলাকার মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুসের ছেলে।

দূতাবাস কর্তৃপক্ষের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান রেমিট্যান্সযোদ্ধা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার বিদেহ আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানান তিনি।

 




শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক থ্রি বোল্ট কোর্ট চেম্বার্সের ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন গত ২৮ অক্টোবর এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত এবং মূল সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছেন এ আইনজীবী।

মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী এবং সরকারের অন্যান্য প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যে অবস্থিত লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন মামলার বাদী ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন।

সে সময় ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন বলেন, গত ২৮ অক্টোবর আমি এই অভিযোগ দায়ের করেছি। মালায় শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও জড়িত বিভিন্ন সংস্থার ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আবু সাঈদকে কীভাবে পুলিশ গুলি করেছে সেটি সারাবিশ্ব দেখেছে। আমরা এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়গুলো তুলে ধরছি।

ওই সময় বাংলাদেশের সরকার আন্দোলন দমনে পুলিশ, র‌্যাব ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে মাঠে নামায়। তারা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, লাইভ বুলেট ব্যবহার করে। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ২২ হাজার মানুষ আহত হয় বলে জানা গেছে। গণহত্যার পাশাপাশি গুলিতে অন্তত ৯২ জন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং শতশত মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় রোম স্ট্যাটিউটের ১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভা ও সংশ্লিষ্টদের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং ভিডিও প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে ।




নতুন আশায় বুক বেঁধে সাগরের পথে বরগুনার অর্ধলাখ জেলে

বরগুনা অফিস :: ইলিশের প্রজনন বাড়াতে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা সময় শেষ হয়েছে শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে। আশ্বিনের ভরা জোছনা থেকে গত ২২ দিন বরগুনা জেলায় সমুদ্র মোহনা ও নদ-নদীর ২০টি পয়েন্টের তিনশত ছিয়াত্তর কিলোমিটার জুড়ে অভয়াশ্রমে ইলিশ আহরণ, বিপণন, মজুদ, বহন ছিল আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারের বিধি নিষেধ মান্য করে বরগুনা জেলার প্রায় অর্ধ লাখ জেলে সাগর ও নদীতে মাছ ধরার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ছুটে চলছে ইলিশ আহরণে সাগর পানে, মাঝ নদীতে।

ইলিশের ভরা মৌসুমের দ্বিতীয় ধাপে মাছ ধরতে যাওয়ার পূর্ব মূহুর্তে জেলেরা ছিল মহাকর্ম যজ্ঞে ব্যস্ততার মধ্যে। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের অবরোধ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার সময়ে মাছ ধরা ট্রলারের ত্রুটি বিচ্যুতি পরখ করে নিচ্ছে। ট্রলার মেরামত ডকইয়ার্ড গুলোতে সারি সারি মাছ ধরা ট্রলার মেরামতের ছিল লম্বা লাইন।

কেউ আলকাতরা দিচ্ছে, কেউ কাঠের মেরামত করছেন, কেউবা রংয়ের ছোয়ায় শোভাবর্ধনের কাজ করছেন। জেলেদের একটা অংশ জাল বুনন করছে। কেউবা রশি ও অন্য সরঞ্জামাদি ঘুচিয়ে ট্রলারে ভরছে। কেউ বরফ ভরছে। মালিক পক্ষ সাগরে যাওয়ার জন্য রসদ কিনে দিচ্ছেন। মহাজনরা দিচ্ছেন আগাম টাকা। জেলে পাড়ায় কেউ দম ফেলার সময় টুকু পাচ্ছে না। শনিবার দিনভর এমন দৃশ্য ছিল জেলে পল্লীতে।

দেশের দ্বিতীয় মৎস অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি মার্কেট ও তালতলী উপকেন্দ্র আবার প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কর্মযজ্ঞে সকলে ফিরে আসায় যেন ঈদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল।

পাথরঘাটা মৎস আড়তদার সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান হিরু বলেন, ভরা মৌসুমে সাগরে বারবার লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় সাগর উত্তাল ছিল। বড় বড় কোম্পানির ট্রলার ছাড়া মাঝারি ও ছোট ট্রলারে তেমন বেশি মাছ পাওয়া যায় নাই। এবার ভারতীয় ট্রলার প্রবেশ করতে না পারায় এবং আবহাওয়া অনূকূল থাকায় আশা করছেন মাছ ধরা পড়বে এবং লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে।

পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটের সাইফ ফিশিং কোম্পানির মনিরুল হক মাসুম বলেন, আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে আল্লাহর রহমতে জালে মাছ ধরা পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন বাজারে চাল, ডাল, পিঁয়াজ, এলপিজি গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্যে জেলেদের রসদ ক্রয়ে আহরিত মাছের দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলার নিবন্ধনকৃত চার শত ট্রলার মাছ ধরাতে সাগরে গেছে। রাত বারোটার পর থেকে অনেকে গেছে, আবার অনেকে রোববার সকালে সাগরে চলে যাবে। তিনি বলেন, শত শত ট্রলার সাগরে নির্বিঘ্নে যেতে পারে সেজন্য সাগরে যেন সরকার টহল নিরাপত্তা আরও জোরদার রাখা উচিত।

বরগুনা জেলা মৎস্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মৎস বিভাগ অতীতের চেয়ে এবার ছিল সতর্ক অবস্থায়। ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধি করতে ২২ দিনের অবরোধ চলাকালীন সময়ে আইন অমান্য করে মৎস শিকার ঠেকাতে তারা ৭৭টি মোবাইল কোর্ট ও ৩৬১টি অভিযান পরিচালনা করেছে।

এসময় তারা ৫০ জন জেলের থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা নগদ অর্থ জরিমানা আদায় ও তাদের বিরুদ্ধে ১৯ টি মামলা দায়ের করেছে। এক লাখ চুয়ান্ন হাজার সাত শত ছেচল্লিশ টাকা মূল্যের তিন হাজার আট শত আটান্ন মিটার জাল জব্দ করার পাশাপাশি এক দশমিক আট মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করেছে। এসময় জেলার ৪৭ হাজার চার শত চল্লিশ জন নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে মানবিক কর্মসূচীর আওতায় ৩৬ হাজার ১০ জন জেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৯০০.২৫০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়।

বরগুনা জেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ মহসিন বলেন, এবছর মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পূর্ব থেকে জেলার ৬টি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা করা হয়েছে। ফলে এবারের এই নিষেধাজ্ঞার সময় অতীতের তুলনায় সাগর মোহনা ও নদ নদীতে অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলেদের দেখা মিলে নি।

এছাড়াও এবার আমরা কৌশলগত ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে সেখানে আমাদের নিয়মিতভাবে লোকজন অবস্থান রেখেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, গত ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা বন্ধে বরগুনা জেলা মৎস বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ২৫ সেন্টিমিটার বা ১০ ইঞ্চি মাপের ছোট ইলিশ ঝাটকা ধরা, ক্রয় বিক্রয়, পরিবহন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, বেহুন্দী জাল, চড়গড়া জাল, খুটা জাল, কারেন্ট জাল ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী মামলা দায়ের, জেল, জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড, পুলিশ এবং মৎস বিভাগ যৌথভাবে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞায় একসঙ্গে কাজ করছে। অন্তত বরগুনা জেলায় কোন ভাবে যেন ইলিশ মাছ ধরা না হয় বাজারজাত না হয় সেজন্য আমরা কাজ করেছি। একাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই সহয়তা করেছে।

তিনি আরো বলেন, ইলিশের ধারাবাহিক উৎপাদন রক্ষা করতে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময়টুকু যাতে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে তার ব্যবস্হা গ্রহণ বরগুনাবাসী ও আমরা সচেষ্ট ছিলাম।