ভোলায় কোস্টগার্ডের অভিযান: গ্রেনেড ও দেশীয় অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসী গ্রেফতার

ছবি : সংগৃহীত

বরিশাল অফিস :: ভোলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পশ্চিম চরপাতা গ্রাম থেকে কোস্টগার্ড এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। সন্ত্রাসীর নাম সুজন, এবং তার কাছ থেকে তিনটি গ্রেনেড, একটি চাইনিজ ছুরি ও তিনটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত রাতে (মঙ্গলবার থেকে বুধবার ভোর) কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পশ্চিম চরপাতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুজনকে আটক করা হয়।

কোস্টগার্ডের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী সুজন দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানান, উপকূলীয় এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




কমলা হ্যারিসের স্বপ্নপূরণ হয়নি, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৭তম প্রেসিডেন্ট

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছেন, তবে ক্ষমতার দৌড়ে কমলা হ্যারিস ইতিহাস তৈরি করতে পারলেন না। ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে ২৭০টি ভোট পেতে না পারায় তিনি আর হোয়াইট হাউসে পৌঁছাতে পারেননি। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ২৭৭টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন, আর কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৬টি ভোট। এখনও ৩৫টি ইলেকটোরাল ভোট বাকি রয়েছে।

ইতিহাসের খোঁজে কমলা হ্যারিস :: কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ও প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন ২০২০ সালে। তবে এবার তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা শেষ হলো ইলেকটোরাল কলেজের “ম্যাজিক সংখ্যা”২৭০ ছুঁতে ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে। তার পরাজয় আবারও প্রশ্ন তুলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে নারীর নেতৃত্ব গ্রহণে জনগণের মানসিকতা ।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়,১৯১৯ সালে ১৯তম সংশোধনীর মাধ্যমে আমেরিকান নারীরা ভোটাধিকার পান, তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ সহজ ছিল না। ১৯৭৭ সালে, এক মার্কিন জরিপে ৫০% মানুষ মনে করেছিল নারীরা আবেগী সিদ্ধান্ত নেয়, তাই তাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় না আসাই ভালো। এরপর ১৯৭০-এর দশকে নারী আন্দোলন একটি বড় পরিবর্তন আনে, যদিও তখনও কংগ্রেসে নারীদের উপস্থিতি খুব কম ছিল।

হিলারি ক্লিনটনের দৌড় :: ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন** প্রথমবারের মতো নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ৩০ লাখ পপুলার ভোট পেলেও ইলেকটোরাল কলেজ** এর নিয়মের কারণে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে পুরুষ ভোটারদের কাছে ট্রাম্পই বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। এবারও কমলা হ্যারিসের ক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতি রয়ে গেছে, যেখানে পুরুষ ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে কমলা কম জনপ্রিয়**।

নারীর নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম :: বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার জনগণের মধ্যে নারীর নেতৃত্ব গ্রহণে এখনো সম্পূর্ণ পরিবর্তন আসেনি। কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা এ কথার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যে নারীরা যখন বড় রাজনৈতিক পদে আসেন, তখন তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব ততটা ইতিবাচক থাকে না।

কমলা হ্যারিসের ইতিহাস: কমলা হ্যারিস ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা শ্যামলা গোপালন একজন ক্যানসার গবেষক এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, এবং বাবা ডোনাল্ড জ্যাসপার হ্যারিস ছিলেন অর্থনীতিবিদ। কমলা হ্যারিসের নির্বাচনে আসা ছিল বেশ নাটকীয়, বিশেষত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হওয়া ছিল এক কঠিন যাত্রা।

বাইডেনের সহ-প্রার্থী হিসেবে কমলা :
২০২০ সালের নির্বাচনে, জো বাইডেনের সহ-প্রার্থী হিসেবে কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কমলা হ্যারিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার সঙ্গেই ইতিহাস তৈরি হয়, কারণ এটি ছিল **যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ও প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঘটনা।

কমলার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি : ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনে প্রথমে জো বাইডেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী হন। বাইডেনের পক্ষ থেকে কমলা হ্যারিসের নাম প্রস্তাব করা হয়, তবে তার নির্বাচনী প্রচারণায় ৪ মাস সময় মিলেছিল—এটি ছিল খুবই অল্প সময়। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সফল প্রচারণা** চালাতে পারলেন না।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এবারো কমলা হ্যারিসকেপরাজিত করে৪৭তম প্রেসিডেন্টনির্বাচিত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে ।




বরিশাল বিএনপির গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি বাস্তবায়ন হয়নি

বরিশাল অফিস:: বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১৫ ধারার বিশেষ বিধান ‘এক নেতার এক পদ’ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চের কাউন্সিলে যুক্ত করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি দলের কোনো পর্যায়ের কমিটির দুই পদে থাকতে পারবেন না। কিন্তু গত আট বছরে বরিশাল বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এই বিধান কার্যকর হয়নি। এমনকি সম্প্রতি ঘোষণা হওয়া মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠনতন্ত্রের এই বিধান লঙ্ঘন করেছে।

দ্বৈত পদ গ্রহণের অভিযোগ ::
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ওয়ার্ড এবং অঙ্গ সংগঠনের পদে থাকা নেতারা মহানগর বিএনপির কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। এর পাশাপাশি, জেলা বিএনপির নেতাদেরও মহানগর কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, দলের প্রবীণ নেতা, মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদের অবমূল্যায়ন। তাঁকে আহ্বায়ক কমিটির দুই নম্বর সদস্য করা হয়েছে, অথচ তার ভাগ্নে ওয়ায়ের ইবনে গোলাম কাদিরকে কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

এছাড়া, কমিটিতে ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়কদেরও দ্বৈত পদ দেওয়া হয়েছে, যা গঠনতন্ত্রের বিরোধী। বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সোহেল সিকদার, বিভিন্ন ওয়ার্ডের আহবায়ক মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, সাজ্জাদ হোসেন এবং অন্যান্য নেতারা মহানগর বিএনপির সদস্য পদ পেয়েছেন।

বিক্ষুব্ধ নেতাদের প্রতিবাদ:
নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ নেতারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং কমিটির প্রথম পরিচিতি সভা বর্জন করেছেন। ১৩ জন নেতার মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট কাজী বশির, হুমায়ুন কবির মাসুদ এবং অন্যান্য নেতারা অংশগ্রহণ করেননি। প্রতিবাদকারী নেতাদের দাবি, নবগঠিত কমিটি ‘মাই ম্যান’ কমিটি, যেখানে অনেকেরই যোগ্যতা নেই। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, সিনিয়র নেতাদের উপেক্ষা করে দলের কিছু নেতার ঘনিষ্ঠদের পদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আরিফুর রহমান বাবু, একজন প্রতিবাদকারী নেতা, বলেছেন, “এটা কোনো কমিটি নয়, এটা শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট মানুষের কমিটি।” তিনি আরও দাবি করেছেন যে, এই কমিটি গঠন করার আগে দলের নেতৃবৃন্দকে ভুল বুঝিয়ে এক ধরনের ভুয়া কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তারা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অভিযোগ জানাবেন।

:নতুন কমিটির পক্ষে অবস্থান : তবে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার কমিটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন যে, নতুন কমিটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র নেতা নূরুল আলম ফরিদের বিষয়টি তিনি দুঃখজনক হলেও কেন্দ্রের নির্দেশনার ফলস্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন।

সংশোধন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেছেন, “ওয়ার্ড নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়, আগামী ১৬ নভেম্বরের মহাসমাবেশের পর আমরা ওই কমিটিগুলো বিলুপ্ত করতে উদ্যোগ নেব।” তিনি জানান, যাঁরা মহানগর কমিটিতে রয়েছেন, তাদের আর ওয়ার্ড কমিটিতে রাখা হবে না।

বরিশাল মহানগর বিএনপির ৪২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। প্রবীণ নেতাদের অবমূল্যায়ন এবং ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি লঙ্ঘনের কারণে দলীয় অস্থিরতা বাড়ছে। বিএনপির নেতারা বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।




আমির হোসেন আমু গ্রেপ্তার, একাধিক হত্যা মামলার আসামি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমির হোসেন আমু জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় একাধিক থানায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি। তাকে আজই আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।”

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও জানান, আমির হোসেন আমু বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। তাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, আমির হোসেন আমুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর এবং তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আমু, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার গ্রেপ্তার দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।

এদিকে, আমির হোসেন আমু গ্রেপ্তারের খবরের পর তার রাজনৈতিক সহযোগীরা দাবি করেছেন, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার। তবে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।




দুমকিতে জরাজীর্ণ ডাকঘরের কার্যক্রম চলছে পলিথিন টাঙিয়ে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় অবস্থিত প্রধান ডাকঘরের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে ডাকঘরের কার্যক্রম চলছে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পরিবেশে। অফিসের কার্যক্রম চালাতে কর্মকর্তারা পলিথিন টাঙিয়ে বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

দুমকি উপজেলা সদরের একমাত্র ডাকঘরটি বহু বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে, যার ফলে ভবনটির মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কর্মকর্তারা এবং গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। পলিথিন টাঙানোর ফলে ভেতরের পরিবেশ আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে, এবং জরুরি জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে পরিদর্শন করার সময় দেখা যায়, ডাকঘরের দেয়ালগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটল দেখা যাচ্ছে। ছাদ এবং দেয়ালের পলেস্তরা উঠে গিয়ে রডগুলো বের হয়ে গেছে। এতে ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। ডাকঘরের কার্যক্রম চলমান থাকা সত্ত্বেও, বৃষ্টির সময় পানির কারণে ফ্লোরে জল জমে যায়, যা কাজকে আরও কঠিন করে তোলে।

দুমকি উপজেলা সদরে একতলা বিশিষ্ট প্রধান ডাকঘরের মূল কার্যক্রম প্রধান কক্ষে পরিচালিত হয়। ভবনটির সামনের দক্ষিণ অংশে ব্যাংক এশিয়া এবং উত্তর পার্শ্বে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চলমান রয়েছে। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ডাকঘরে সেবা নিতে আসেন, যার ফলে ক্রমাগত লোকসমাগমের কারণে পরিবেশ আরও চাপযুক্ত হয়ে পড়ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন যে, ডাকঘরের এই বেহাল দশা তাদের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করছে। ডাকঘরের কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী গ্রাহক রানার ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, “আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। যেন কোন সময় পলেস্তারা খসে পড়ে।”

ডাকঘরের ভিতরে পরিচালিত ব্যাংক এশিয়া’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান রনি জানিয়েছেন, “আমরা ডিজিটাল ডাক সার্ভিসের পাশাপাশি সকল ধরনের ডাক সার্ভিস প্রদান করছি। তবে ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ, যা আমাদের কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি করছে।”

১৯৮১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন কেবিনেট সচিব এম কেরামত আলী ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯৮৭ সালে নির্মাণ করা হয়। তবে এত বছর পরে, ভবনটির অবস্থা এখন অনেকটাই খারাপ। মূল ভবনের পিছনে পোস্ট মাস্টারের জন্য ফ্যামিলি কোয়ার্টারটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ডাকঘরের চারপাশের পরিবেশে ময়লা আবর্জনার দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মো. রুবেল হোসেন নামের একজন শিক্ষক বলেন, “আমি এখানে বেশ কয়েক বছর আসা-যাওয়া করি। ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটলের কারণে ঢুকতেই ভয় লাগে।”

এ বিষয়ে ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মজিবুর রহমান বলেন, “ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তাই পলিথিন টাঙিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলছে। অনেক লেখালেখির পর ৩/৪ বছর পূর্বে ছাঁদ মেরামত করা হলেও কিছু দিন পর আবার পানি পড়া শুরু হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল পটুয়াখালী বরাবর বেশ কয়েকবার লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।”

এদিকে, ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মাহাবুবুর রহমান জানিয়েছেন, “দুমকি উপজেলার ডাকঘরটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা ডিজি বরাবর লিখিতভাবে অবগত করেছি এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছি।”

ডাকঘরের এই অবস্থা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় জনগণ, যেন তারা একটি নিরাপদ এবং কার্যকর সেবা পেতে পারেন।




বাউফলে এইচটিভি টিকা গ্রহণের পর তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে এইচটিভি টিকা গ্রহণের পর বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠি কেচি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকালে ওই শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে এই টিকা প্রদান করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ১০৫ জন শিক্ষার্থীর টিকা গ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। তবে দুপুর ১২ টার দিকে তিনজন শিক্ষার্থী টিকা নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে বাকি ২০ জন শিক্ষার্থী আর টিকা গ্রহণ করেননি। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, “টিকার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হননি। মূলত তারা আতঙ্কে অসুস্থ হয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।”




বাউফলে জামায়াত নেতার জানাজায় জনতার বিশাল উপস্থিতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতে ইসলামী সাবেক সহকারী সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি মাস্টার ইউনুস বিশ্বাসের জানাজায় স্থানীয় জনতার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) নওমালা হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

এ সময় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। জানাজার পর মরহুম মাস্টার ইউনুস বিশ্বাসকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, মাস্টার ইউনুস বিশ্বাস সোমবার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, মাস্টার ইউনুস বিশ্বাস আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি হামলা-মামলার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, “যারা মাস্টার ইউনুস বিশ্বাসকে ঘরে থাকতে দেয়নি, আজ তাদের দেশ ছাড়া।” তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের অত্যাচারের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। তবুও ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে তাঁরা বিরত হননি এবং কখনো হবে না।

মাসুদ বলেন, “প্রত্যেকের ত্যাগ, রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশে ইসলামের প্রতিষ্ঠা হবে। অচিরেই বাংলাদেশ ইসলামী রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি সকলকে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, বরিশাল মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা মো: মতিউর রহমান, পটুয়াখালী জেলার সাবেক আমির অধ্যাপক শাহ আলম, বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা কাজী আব্দুল দাইয়ান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পটুয়াখালী জেলা সভাপতি মাহাদি হাসান নাহিদ এবং আরও অনেক নেতা-কর্মী।

পরে মরহুম মাস্টার ইউনুস বিশ্বাসসহ ইসলামী আন্দোলনে শাহাদত বরণকারী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে এবং সকল আহত ও পঙ্গুদের সুস্থতা ও দেশবাসীর জন্য দোয়া করা হয়।




কলাপাড়ায় ধসে পড়ল সড়ক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: কলাপাড়ায় গভীর রাতে একটি পিচঢালা সড়ক খালে ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত সড়কটি প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের একটি অংশ ধসে পড়েছে। শনিবার রাত ৩টার দিকে টিয়াখালী ইউনিয়নের টিয়াখালী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। সড়ক ধসের ফলে রজপাড়া, টিয়াখালী বাজার এবং পার্শ্ববর্তী ধানখালী ও চম্পাপুর ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, সড়কলাগোয়া একটি খালে মাছ চাষ করছে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। ওই রাতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পানি সেচের কাজ শুরু করলে, বিকট শব্দে সড়কটির বিশাল অংশ খালে পড়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় পুরো সড়ক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বশির আকন জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তিনি বলেন, “এটি একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি। সড়কটি ভেঙে পড়ায় আমাদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।” উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেবেন।




১৬ বছর ভোট দিতে পারেনি জনগণ, অভিযোগ এবিএম মোশাররফের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ধানখালী ডিগ্রি কলেজ মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫১টি আসনে অটো পাস এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাতের ভোট প্রদান করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। বর্তমানে ২০২৪ সালে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেটিও এক ধরনের তামাশা হবে বলে তার দাবি।

মোশাররফ বলেন, “শেখ হাসিনার পরিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিশাল পরিমাণ অর্থ চুরি করছে। ব্যাংকগুলো বর্তমানে সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং এর পিছনে রয়েছে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য।” তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক ভূমি মন্ত্রীর লন্ডনে ২৫৫টি বাড়ি থাকার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ১ লাখ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও করেন তিনি।

সভায় মোশাররফ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী দলের পতাকা তলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রীকে অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হয়েছে, কিন্তু তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাননি। আমরা সবাই মিলে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।”

এ সময় জনসভায় উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ধানখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আলমগীর হাওলাদার, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, সিনিয়র সহসভাপতি জাফরুজ্জামান খোকন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু ও অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভায় ধানখালী ও চম্পাপুরের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে কলেজ মাঠকে জনসমুদ্রে পরিণত করেন।

 




মাদক ও অস্ত্রবিরোধী সংগ্রামে তরুণদের পাশে জামায়াত নেতা মাসুদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে রক্ষা করতে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বাউফলে উপজেলা জামায়াত ইসলামীর যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “এখনো অনেকের ইশারায় দোকানগুলোতে চা ও চকলেটের চেয়ে মাদক বেশি বিক্রি হয়। আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার এ ষড়যন্ত্র বন্ধে আমি আজ থেকেই মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। তরুণদের রক্ষা করতে প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণদের হাত থেকে কলম ও খাতা ছিনিয়ে নিয়ে যারা অস্ত্র ও মাদক তুলে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা এক হাতে তরুণদের খাতা ও কলম দেব, অন্য হাতে কুরআন ও হাদিস তুলে দেব, যাতে তারা দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে।”

সম্মেলনে মাসুদ তার বক্তব্যে তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের তরুণ সমাজের জন্য এক কঠিন সময় চলছে। এ সময় তাদের নৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। আমাদের যুবকদের নেতৃত্ব দিতে হবে, যাতে তারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অগ্রগামী হয়।”

তিনি বলেন, “মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ আমাদের শেষ নয়। যেকোনো মূল্যেই এ বাউফলকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ করব। এ লড়াইয়ে হয় আমরা জিতব, নয়তো আরও বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। তারা মাসুদের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের শেষে সকল নেতাকর্মী মাদক ও অস্ত্রমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শপথ করেন।