সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলে নীতিগত সিদ্ধান্ত

বরিশাল অফিস ::বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ত্ব করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্কিত এই আইন বাতিল বা সংশোধনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল। পরে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা উচিত। পরে যখন নতুন আইন হবে, এটার বেসিক অ্যাপ্রোচ থাকবে সাইবার সুরক্ষা দেওয়া, নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়া বিশেষ করে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলামও এ আইন বাতিলের কথা বলেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত বছর বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে তার বদলে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়েছিল।

কিন্তু এই আইন নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে আপত্তি ওঠে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা হয়। এখন আইনটি বাতিলের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল অন্তর্বর্তী সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া স্পিচ অফেন্স-সম্পর্কিত মামলাগুলো (মুক্তমত প্রকাশের কারণে মামলা) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ছাড়া এসব মামলায় কেউ গ্রেপ্তার থাকলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর অধীনে গত আগস্ট পর্যন্ত দেশের ৮টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মোট ৫ হাজার ৮১৮টি মামলা চলমান।

বর্তমানে স্পিচ অফেন্স-সম্পর্কিত মোট ১ হাজার ৩৪০টি মামলা চলমান, যার মধ্যে ৪৬১টি মামলা তদন্তকারী সংস্থার কাছে তদন্তাধীন। ৮৭৯টি মামলা দেশের ৮টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

এসব মামলার মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তমত প্রকাশের কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে ‘স্পিচ অফেন্স’ এবং কম্পিউটার হ্যাকিং বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিকে ‘কম্পিউটার অফেন্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্পিচ অফেন্স-সম্পর্কিত মামলাগুলোর মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে ২৭৯টি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৭৮৬টি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে ২৭৫টি মামলা চলমান বলে তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এতে আরও বলা হয়েছিল, বর্তমান সরকার স্পিচ অফেন্সসংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ হাজার ৩৪০টি স্পিচ অফেন্স-সম্পর্কিত মামলার মধ্যে বিচারাধীন ৮৭৯টি মামলা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে। তদন্তাধীন ৪৬১টি মামলা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।




দেশের বিচার বিভাগ সংস্কারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার আশ্বাস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। সাক্ষাৎকালে সারাহ কুক বিচার বিভাগ সংস্কারে বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে ঘণ্টাব্যাপী এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

তাদের মধ্যে বিচার বিভাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. আজিজ আহমেদ ভূঞা, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুন্সি মশিয়ার রহমান, প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব শরিফুল আলম ভূঞা উপস্থিত ছিলেন।




আমির হোসেন আমু ৬ দিনের রিমান্ডে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ৬ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকালে তাকে আদালতে আনা হয়। এদিন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিপ তাকে দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ইমরান আহম্মেদ তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আমির হোসেন আমুকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আমুর বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি ১৪ দলের সমন্বয়ক ছিলেন।

মামলা থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় পুলিশের গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ মারা যান। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে তার সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঝালকাঠির আমুর বাসবভনে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। পরে তার ওই বাসভবন থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ষাটের দশকের ছাত্রলীগ নেতা আমির হোসেন আমু ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বরিশাল থেকে প্রাদশিক পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হন।




বরিশালে আ.লীগের ৪১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল অফিস :: ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগের ৪১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হামলার শিকার প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বাদী হয়ে ৩ নভেম্বর মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এই মামলায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা এবং পৌর আওয়ামী লীগের ১১ নেতার নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ২০-৩০ জনকে।

বুধবার (১১ নভেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান। তিনি জানান, গত ৩ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

আসামিরা হলেন- মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনির জমাদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের মিন্টু জমাদ্দার, গনি জমাদ্দার, জাকির জমাদ্দার, আমির চৌকিদার, রাকিব পোদ্দার, আলী সরদার. বাহাউদ্দিন ঢালী, হারুন মোল্লা, মো. মনির ও হাসান জোমাদ্দার। এরা সবাই মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চুনারচর, চাঁনপুর, শ্রীপুর, চরহোগলা, মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা এবং আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর দুপুরে নেতাকর্মীদের নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে ফেরার পথে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রার্থী ফরহাদের ওপর হামলা করে। তখন তারা পিস্তল দিয়ে গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ করে। বোমার স্প্লিন্টারের সংসদ সদস্য প্রার্থীর সঙ্গে থাকা ৫ নেতাকর্মী আহত হন। এসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল সেট ছিনতাই করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।




ইসলামী আইন ছাড়া দেশে শান্তি আনা সম্ভব নয়: চরমোনাই পির

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও চরমোনাই পির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছেন, ইসলামি আইন বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে কেউ শান্তি দিতে পারবে না। তিনি বুধবার বাউফল পাবলিক মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে এসব কথা বলেন।

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয় রক্ষা, দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, সব বৈষম্যের মোকাবেলা ও ভোটাধিকার রক্ষার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সর্বদা সংগ্রাম করছে।” তিনি জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির বদলে সঠিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সময়, সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিগত সরকারে দেশের ভোটারধিকার ছিল না। জনগণ যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেওয়া প্রয়োজন।”

তিনি ছাত্র-জনতাকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরশাসকের হাত থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে।” আগামী জাতীয় নির্বাচনে হাত পাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাউফল উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাও. মুহা. সিরাজুল ইসলাম, মুফতি মো. হাবিবুর রহমান, কাজী গোলাম সরোয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




গলাচিপায় প্লাস্টিক কারখানার বিষাক্ত পানি ও শব্দ দূষণ, স্থানীয়দের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানার বিষাক্ত পানি ও শব্দ দূষণের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় শাকিল, সুলতান মৃধা, জব্বার, ইউসূফ, শেফালি, কোহিনুর ও আখিনুরসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, রান্নার পানি, গোসলের কাজে ব্যবহৃত খালে কেমিক্যাল যুক্ত বিষাক্ত পানি মিশে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামে।

বিষাক্ত পানির কারণে ফসলের জমির উর্বরতা কমে গেছে। দিনে রাতে প্লাস্টিক কুচি করার মেশিনের বিকট শব্দে ঘুম ও পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। কোনো দুর্ঘটনার সংবাদ বা বিপদে পরে একজন অন্যজনকে ডাকলেও কিছু শোনা যায় না। শব্দে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যাওয়ার অবস্থা শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে। প্লাস্টিকের বর্জ্য পোড়ানোর কালো ধোঁয়া পরিবেশ ও বায়ু দূষণ করছে। এলাকায় বেড়ে গেছে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগবালাই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে মশা মাছির উপদ্রব বেড়ে গেছে। ডেঙ্গুজ্বর সহ বিভিন্ন অসুখে ভুগছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আবাসিক এলাকায় প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা বন্ধ করে নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দিয়ে জনস্বাস্থ্য, প্রকৃতি, পরিবেশ ও ফসল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মেসার্স লিমন প্লাস্টিক কারখানার মালিক আলা আমিন বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স সবকিছু ওকে করে আমি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষের ভালো মন্দ মিলিয়ে কারখানা চালাতে হয়।” তার পরিবেশ ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্সে দেখা যায়, ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য লাইসেন্স আনা হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেখানে কারখানা খুলে বসেছে আল আমিন।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও সরেজমিনে কারখানাটি পরিদর্শন করে দেখবো। মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো”। তিনি দ্রুত বিষয়টি সমাধান করবেন বলেও জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তর পটুয়াখালীর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, “পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার পরে কোন কারখানা যদি পরিবেশ দূষণ করে, তাদের দ্বারা মানুষের ক্ষতি হয়, তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিবে”।




রাঙ্গাবালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাড়া শক্তিশালী করতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গত বুধবার এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল জরুরি সাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৌশলগত প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওডি) অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার সাহা। তিনি দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার বক্তব্যে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির গুরুত্ব এবং সঠিক সময়ে সাড়া দেওয়ার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত কুমার, উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, আইসিটি কর্মকর্তা মাসুদ হাসান, এবং রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এছাড়া, এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে উপস্থিত সকল ব্যক্তির মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়, যা পরবর্তীতে রাঙ্গাবালী উপজেলাকে আরও নিরাপদ এবং দুর্যোগ সহিষ্ণু করে তুলবে।

 




এনবিআর পেঁয়াজ আমদানির ওপর শুল্ক-কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পেঁয়াজ আমদানির ওপর থেকে শুল্ক-কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেছে। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বুধবার এনবিআর পেঁয়াজ আমদানির শুল্ক-কর প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পেঁয়াজের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য পেঁয়াজ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজ আমদানির ওপর প্রযোজ্য মোট করভার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।

এনবিআর এর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ বাড়বে এবং বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। ফলে, পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে, এমনটা আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাস ধরে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে, আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার উপরে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি এনবিআরকে পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছিল, যাতে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এনবিআরের শুল্ক-কর প্রত্যাহারের ফলে পেঁয়াজের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে আসবে এবং ভোক্তাদের জন্য পণ্যটির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে। এনবিআর এর এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনটা আশা করা হচ্ছে।

পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন, যার ৭৫-৮০ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদন দ্বারা পূর্ণ হয় এবং বাকিটা আমদানির মাধ্যমে পূর্ণ হয়। তবে, ভারতে উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতিবেশী দেশটি পেঁয়াজ রপ্তানি শিথিল করেছে। এখনো তারা ২০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক রাখছে, যার কারণে পেঁয়াজের দাম বেশি পড়ছে। এনবিআরের এই পদক্ষেপে পেঁয়াজের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।




সরকার প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৪৭ টাকা ও ধান ৩৩ টাকা দরে কিনবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সরকার বাজার থেকে প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৪৭ টাকা এবং ধান ৩৩ টাকা দরে কিনবে। এছাড়া, ৪৬ টাকা কেজি দরে আতপ চাল সংগ্রহ করবে সরকার।

৬ নভেম্বর সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং খাদ্যসচিব মো. মাসুদুল হাসান বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান।

অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার চাল ও গমের যতটুকু মজুত রয়েছে, তার চেয়ে কিছুটা বেশি সংগ্রহ এবং আমদানির নির্দেশনা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ধান ও চাল সংগ্রহের দাম নির্ধারণ করেছি। সেগুলি যেন ভোক্তা ও কৃষকদের জন্য যুক্তিপূর্ণ হয়, এবং বাজারে এর থেকে বেশি ব্যবধানে বিক্রি না হয়। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন কোনোভাবে সুবিধা না নিতে পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।”

এছাড়া, তিনি জানান, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও আমদানি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘‘আমরা যতটুকু মজুত আছে, তাতে কিছুটা বাড়তি সংগ্রহ করতে বলেছি, যাতে রমজান বা পরবর্তী সময়ের জন্য কোনো সমস্যা না হয়।’’ তিনি খাদ্য দ্রব্যের মনিটরিং ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেন, এবং জানান যে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্যসচিব মো. মাসুদুল হাসান জানান, সরকার আসন্ন আমন মৌসুমে ৩.৫ লাখ টন ধান, ৫.৫ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহ করবে। তিনি বলেন, ‘‘এই সংগ্রহ শুরু হবে ১৭ নভেম্বর থেকে এবং চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ১৭ নভেম্বর থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত।’’

এদিকে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিঙ্গাপুর থেকে ৫০ হাজার টন গম এবং ভারত থেকে ৫০ হাজার টন বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানির সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় হবে ৪৬৭ কোটি টাকা। গমের প্রতি টন দাম ধরা হয়েছে ৩০১.৩৮ মার্কিন ডলার এবং বাসমতি চালের প্রতি টন দাম ৪৭৭ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, বৈঠকে বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। খাদ্যসচিব মো. মাসুদুল হাসান বলেন, ‘‘আমরা সব সময় চেষ্টা করি, চালের দাম যেন নির্ধারিত দরের মধ্যে থাকে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।’’

এছাড়া, সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দেশের খাদ্য মজুত এবং আমদানির পথ সুগম করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।




রমজানে নিত্যপণ্যের আমদানিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ: অর্থ উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রমজান মাসে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য, যেমন চাল, চিনি, গম, ডাল, ও খেজুরের আমদানির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রমজানে বাজারে কোনো পণ্যের সংকট হবে না এবং ভোক্তারা যাতে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেজন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

৬ নভেম্বর সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, রোজার সময় পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না, এজন্য দ্রুত আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোলা, ডাল, চিনি, তেল এবং খেজুরের আমদানি ঠিক সময়ে নিশ্চিত করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে খাদ্যদ্রব্যের মজুত পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে এবং সরকার বেসরকারি পর্যায়েও আমদানি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের মজুত সঠিক রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং চাল-গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ধান ও চাল সংগ্রহের দাম যুক্তিপূর্ণ হবে এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।