জনগণের জানমাল আমাদের কাছে পবিত্র আমানত: জামায়াতের আমির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের জানমাল আমাদের কাছে পবিত্র আমানত। আমরা দেশ ও জাতির স্বার্থে সব সময় দায়িত্বশীল আচরণ করে এসেছি। কিন্তু এদেশে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত- নিপীড়িত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ২টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অপশাসন-দুঃশাসনমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, দেশ ও জাতির প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। বৈষম্য ও অপশাসনের কবর রচনা করে দেশকে দুঃশাসনমুক্ত এবং আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ৭ নভেম্বর সিপাহী- জনতা যুগপৎভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল। সংগ্রামী জনতা ফুলের পাপড়ি দিয়ে দেশপ্রেমী বিপ্লবীদের বরণ করে নিয়েছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশটাকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু বীর জনতা তাদের সে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। ৭ নভেম্বর ব্যর্থ হওয়ার পর তারা কথিত বিডিআর বিদ্রোহের নামে দেশের ৫৭ জন দেশপ্রেমী ও চৌকস সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তকে অরক্ষিত করে ফেলেছে। তাই ৭ নভেম্বরের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সকলকে শপথ গ্রহণ করতে হবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারী ড. মুহাম্মাদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য হেমায়েত হোসাইন, ইয়াছিন আরাফাত ও ড. মাওলানা আহসান হাবিব এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।




এশিয়া ডে অফ অ্যাকশন” উপলক্ষে বরগুনায় নৌ-র‌্যালি

বরিশাল অফিস :: “বাংলাদেশে গ্যাস সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে এশিয়া ডে অফ অ্যাকশন” উপলক্ষে বরগুনায় নৌ-র‌্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বড়ইতলা ফেরী ঘাট এলাকায় বিষখালী নদীতে নৌ- রেলী এবং তালতলীর কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে বুড়ীশ্বর (পায়রা নদীতে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশ, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি বরগুনা জেলা শাখা এবং পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি যৌথ ভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে ধ্রুবতারা ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, উৎসর্গ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এবং প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব।

এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সমন্বয়কমোঃ হাসানুর রহমান ঝন্টু, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ আবদুল খালেক দফাদার, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা’র) বরগুনার জেলা শাখার সদস্য সচিব মুশফিক আরিফ, ধরা’র তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, যুব বাপা’র সমন্বয়ক অলিউল্লাহ আলামিন, ধ্রুবতারা ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর সভাপতি রাসেল মাহমুদ প্রমূখ। এশিয়া ডে অফ অ্যাকশন জীবাশ্ম জ¦ালানির, বিশেষত প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজির প্রকল্পের সম্প্রসারণ এবং অর্থায়নের বিরোধিতা করে।

বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ¦ালানির উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা পরিবেশের ক্ষতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ, যেগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ইতোমধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে একটি ন্যায্য, টেকসই, এবং নবায়নযোগ্য জ¦ালানির ভিত্তিতে উন্নতির দিকে ধাবিত করার দাবি করা হয়।

বাংলাদেশের আটটি জেলার ১৫টি স্থানে নদীতে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা জীবাশ্ম জ¦ালানি থেকে উদ্ভূত দূষণ ও পরিবেশগত ক্ষতির প্রতিবাদ জানান।




‘বিশ্ব যেন আমাদের কাছে আসে সেভাবেই দেশকে গড়তে হবে’

চন্দদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা বিশ্বের কাছে যাব না, বিশ্ব যেন বাংলাদেশে আসে সেভাবেই দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স বিভাগের সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর মানুষ নতুন করে চিন্তার স্বাধীনতা পেয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বিপ্লবের সুফল পেতে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে সবার পরামর্শ চান।

এ সময় বিজ্ঞান চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে সংস্কারের চাহিদা নিয়ে কাজ করা হবে বলে উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এবং এসএনবিএনসিবিএস, কলকাতার সাবেক অধ্যাপক পার্থ ঘোষ প্রমুখ।




আইনি কাঠামো পাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, স্পষ্ট হচ্ছে মেয়াদ ও ক্ষমতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আইনি কাঠামোর মধ্যে আসছে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার (৬ নভেম্বর) দেশের শীর্ষস্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা এবং প্রধান উপদেষ্টা বা উপদেষ্টার পদ বলে কিছু নেই। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি ভিত্তি নিয়ে যাতে প্রশ্ন না ওঠে, সেজন্য ১৯ সেপ্টেম্বর ‘অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।

আইন ও বিচার বিভাগ প্রণীত এ অধ্যাদেশ জারি হলে আদালতে বৈধতার প্রশ্ন তুলে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ঘোষণা বা বাতিল করা যাবে না। আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকারের মেয়াদ হবে। এর আগে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মেয়াদ ধরা ছিল ৯০ দিন।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ কী হবে, তা-ও চূড়ান্ত করা অধ্যাদেশে ঠিক করে দেয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ধারায় বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অস্থায়ী বা সাময়িক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অধ্যাদেশটির খসড়ায় রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বিদ্যমান অন্যান্য আইনে যা কিছুই বলা থাকুক না কেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে কাজ করতে হবে।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার বৈধতার জন্য প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ নিতে হবে।তবে কবে নাগাদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি হতে পারে, তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি এই প্রতিবেদনে।




আরাকান আর্মির হাতে আটক ২০ জেলেকে ফেরালো বিজিবি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :; মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক ২০ বাংলাদেশী জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ৪টায় মায়ানমারের আরাকান আর্মি নাফ নদীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে আটককৃত এসব জেলেকে বিজিবির হাতে তুলে দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ।

গত ৫ নভেম্বর দুপুর ৪টায় টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ ট্রলারঘাট থেকে ২০ জন বাংলাদেশী জেলে ১৫টি হস্তচালিত ও ২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল। মাছ ধরার সময় ভুলবশত তারা বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করে। এসময় মায়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে নৌকাসহ আটক করে।

বিজিবির নিরলস প্রচেষ্টা ও আরাকান আর্মির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে আজ আটককৃত ২০ জেলেকে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে রয়েছেন: টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের শাহ আলম (২৮), আসমত উল্লাহ (১৮), আবদুস শুক্কুর (৩২), আবুল হোছন (৪৫), আয়ুব খান (৪৮), নুর হোছন (৪৫), মোঃ বেলাল (২৯), সলিম (৩৫), আবদুল কাদের (২৫), মোঃ হাশিম (৩৫), মোঃ হোছেন (২৮), মহি উদ্দিন (২৬), এনায়েত উল্লাহ (৩০), নুর হাফেজ (৪০), মোঃ ইয়াছিন (৩৫), আবদু রহিম (৪৪), হাছান আলী (৫৩), ওসমান গণি (৩০), মহেষখালীর ইন্নামিন (২৭) এবং উখিয়ার আবদু শুক্কুর (৪৬)।

পরে বিজিবি আটককৃতদের নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।




তালতলীতে ডাকাত সর্দারসহ ৪ ডাকাত আটক

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলীতে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ ৪ ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাইনিজ রাইফেলের দুই রাউন্ড গুলি ও ইয়াবা জব্দ করেছে। বুধবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার পরে বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়িয়া এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ অবস্থায় তাদেরকে আটক করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

জানা গেছে, বরগুনা ডিবি পুলিশের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়িয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ অবস্থায় তাদেরকে আটক করেন। আটককৃতরা হলেন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার মহসীন (৩২)। সে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার আরপাংগাশিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঘোপখালী গ্রামের জয়নাল গাজীর ছেলে। মহসীনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ, যশোর, গাজীপুর, চাঁদপুর সহ বিভিন্ন জেলায় ৭টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। অন্যরা হলেন ঢাকার তুরাগ এলাকার আঃ রহিমের ছেলে সাগর (২৬), কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মৃত গয়জদ্দিনের ছেলে উজ্জ্বল (৩৫) ও তালতলী উপজেলার পঁচাকোরালিয়া ইউনিয়নের তোফাজ্জেল গাজীর ছেলে ইউসুফ গাজী।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ বশির আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডিবির উপপরিদর্শক ইমাম হোসেন সোহাগ, সহকারী পরিদর্শক হাসানুজ্জামান ও নাসির উদ্দীন সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সংঘবদ্ধ থাকা অবস্থায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ ৪ ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাইনিজ রাইফেলের দুই রাউন্ড গুলি ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এ গুলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময় লুট হওয়া অস্ত্রের গুলি।

জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদেরকে তালতলী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোঃ আবুল কালাম খান জানান, জেলা গোয়েন্দা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ থাকা অবস্থায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ ৪ ডাকাতকে আটক করে। বৃহস্পতিবার তালতলী থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ায় আ.লীগের খুশি হওয়ার কিছু নেই: রাজন

 এস এল টি তুহিন ও জাকির নেগাবান,বরিশাল :: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের খুশি হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন। বৃহস্পতিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির র‌্যালি শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, বাংলাদেশের যে রক্তের হোলি খেলা গত ১৫ বছর ধরে হয়েছে, বিডিআর বিদ্রোহের যে নির্মম নির্যাতন, সামরিক বাহিনীর উপর যে হত্যাযজ্ঞ হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে জুলাই আগস্টের বিপ্লবে যে প্রাণ বাংলাদেশ থেকে ঝড়ে গেছে, তার হোতা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাটিতে এনে এই হত্যার বিচার না করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং বাংলাদেশের জনগণ ক্ষান্ত হবে না।কাজেই আজকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকরাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য বজায় রাখবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাইডেন, ওবামা বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এনে দেয় নাই। বাংলাদেশের মানুষ ও ছাত্রজনতা স্বাধীনতা এনেছে। বাংলাদেশের মানুষই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে ভোট ও ভাতের। অন্য কোন সন্ত্রাসী ও স্বৈরাচারী সরকার সেখানে কোন অবস্থান নিতে পারবে না।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মজিবুল মোল্লার সভাপতিত্বে এবং বাকেরগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন জীপু, উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক রিয়াজুল রহমান রিয়াজ, বরিশাল কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদের, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজান মোল্লা, পৌর যুবদলের সভাপতি মনির হোসেনসহ প্রমুখ।




মির্জাগঞ্জে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর ফরাজী বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর ফরাজীকে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার ভোরে সুবিদখালী এলাকায় তাঁর নিজ বাড়িতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর বাড়ির দুটি কক্ষ তল্লাশি করে একটি অত্যাধুনিক ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

মির্জাগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন রিমন রাফিন নিশাত জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “জব্দকৃত অস্ত্রটি আমেরিকায় তৈরি। জননিরাপত্তা রক্ষায় এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ক্যাপ্টেন রিমন আরও বলেন, জাহাঙ্গীর ফরাজীকে মির্জাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে এই অস্ত্র কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম আহম্মেদ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য অবৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।




পটুয়াখালীতে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা বিএনপির উদ্যোগে বৃহষ্পতিবার সকাল ৬:৩০ টায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। পটুয়াখালী সদর রোডে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় সংগীত এবং দলীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া এবং সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বেলুন এবং ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপির সভাপতি কাজি মাহাবুব হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সদস্য সচিব এড. হুমায়ুন কবির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মোহন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী, সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন, যুবদল নেতা গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লব, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মনির মাহমুদ, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহআলম হাওলাদার।

এছাড়া তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক শাহিন হাওলাদার, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সুজন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু তাহের, সদস্য সচিব আরিফুর রহমান রানা, সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাইউম সিকদার এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম সহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কৃষকদলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই দিবসটি দেশের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্যে সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনুষ্ঠানের শেষে দেশের সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




কলাপাড়ায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবিতে নৌ-র‌্যালি অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: এশিয়া ডে অফ অ্যাকশন উপলক্ষে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে রাবনাবাদ চ্যানেলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবিতে একটি নৌ-র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), কলাপাড়াবাসী এবং ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে এ নৌ-র‌্যালিটি আয়োজিত হয়।

র‌্যালিতে অংশ নেন ওয়াটারকিপারস কলাপাড়ার সমন্বয়ক মেজবাহউদ্দিন মাননু, আমরা কলাপাড়াবাসীর সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, সংগঠক কামাল হাসান রনি এবং স্থানীয় জেলে শহীদুল ইসলামসহ অনেকেই। তারা প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি প্রকল্পের সম্প্রসারণ ও অর্থায়নের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

ওয়াটারকিপার্সের সমন্বয়ক মেজবাহউদ্দিন মাননু জানান, “পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩২০ মেগাওয়াট ইউনিট চালু হয়েছে এবং আরও একটি ইউনিট চালুর অপেক্ষায়। সেইসাথে গ্যাস আমদানির জন্য পায়রা বন্দরে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্প বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা “গ্যাস সম্প্রসারণ বন্ধ কর”, “প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ কর”, “নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরই সমাধান” প্রভৃতি স্লোগান দেন। এ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভিত্তিতে করার দাবি জানানো হয়।