বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট, পুরোটাই শুভঙ্করের ফাঁকি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ হিসাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ১১ মে ২০১৮ মধ্য দিয়ে ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশের তালিকায় যোগ হয় বাংলাদেশ। এই প্রকল্পটি তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কর্তৃক বাস্তবায়িত হয় এবং এটি ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ রকেটের প্রথম পেলোড উৎক্ষেপণ ছিল।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলেও, কোনো স্থানীয় বিজ্ঞানী বা গবেষক সেই প্রকল্পে অবদান রাখার সুযোগ পায়নি।

দেশের মানুষ ভেবেছিল,বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটি বাণিজ্যিক বিবেচনায় উৎক্ষেপণ করার কারণে এখান থেকে বাংলাদেশ অনেক মুনাফা অর্জন করবে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) সর্বশেষ নিরীক্ষা স্যাটেলাইটের অবচয় বা ডেপ্রিসিয়েশন আমলে না নিয়েই, প্রতিবেদনে বলছে,(২০২১-২২) কোম্পানিটির মুনাফার পরিমাণ দেখানো হয় ৮৫ কোটি টাকা।




শ্রীলঙ্কান যুবক প্রেমের টানে পটুয়াখালীতে এসে বিয়ে

পটুয়াখালীর দশমিনায় প্রেমের টানে ছুটে এসে বাংলাদেশি তরুণী সুবর্ণা আক্তারকে বিয়ে করেছেন শ্রীলঙ্কার যুবক দিলশান মাদুরাঙ্গা। গত বুধবার (৬ নভেম্বর) তিনি পটুয়াখালীর দশমিনায় পৌঁছান এবং বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য গছানী গ্রামের নিজাম উদ্দিন সিকদারের মেয়ে সুবর্ণা পাঁচ বছর আগে কাজের সন্ধানে জর্ডানে যান। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় পরিচয় হয় দিলশান মাদুরাঙ্গার সঙ্গে, যিনি সেই কারখানায় সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কটি পাঁচ বছরের দীর্ঘ প্রেমে রূপ নেয়।

সুবর্ণা এক মাস আগে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন। পরিবারের সম্মতিতে দিলশানকে বাংলাদেশে আসতে বলেন। দিলশান পটুয়াখালী আসার পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে দিলশান ইসলাম নাম নেন। পরের দিন, পটুয়াখালী নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। একই দিনে সুবর্ণার গ্রামের বাড়িতে ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে নব দম্পতিকে এক নজর দেখতে স্থানীয়রা সুবর্ণার বাড়িতে ভিড় জমান। সুবর্ণার বাবা নিজাম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আমার মেয়ের সুখেই আমার সুখ। আমি ওদের জন্য দোয়া করি।”

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম জানান, “শ্রীলঙ্কার এক নাগরিক প্রেমের টানে দশমিনায় এসেছেন বলে শুনেছি, তবে বিস্তারিত তথ্য জানা নেই।”

অন্যদিকে, ইউএনও ইরতিজা হাসান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে আইনে কোনো বাধা না থাকলে সমস্যা নেই।”

 




বরিশাল খাল উদ্ধার অভিযান নেমেছে প্রশাসন ও তরুণ

 বরিশাল অফিস :: বেদখল আর দুষণে অস্তিত্ব হারিয়ে যাওয়া বরিশাল খাল উদ্ধারে নেমেছে প্রশাসন। একদল তরুণের সহযোগিতায় শুরু হয় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নার কার্যক্রম। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে এই অভিযান চালিয়ে যাবার কথা জানায় তরুণরা। উদ্ধারের পর খালে পানি প্রবাহ টিকিয়ে রাখতে খালের দুইপাড়ের বাসিন্দাদের এগিয়ে আসার আহবান জানান জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার সকালে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস-২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশ গ্রহণ করে যুব সংগঠন ও বিডি ক্লিন।

জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের ইটেরপুল থেকে ডাসার উপজেলার পাথুরিয়ারপাড় পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকা বরিশাল খাল নামে পরিচিত। খালটি দীর্ঘদিন প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে । সংস্কার না হওয়ায়, দখল আর দুষণে বন্ধ হয়ে যায় খালের পানি প্রবাহ। ময়লা-আবর্জনায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। একইসাথে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। পরে খালটি উদ্ধারে উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে শহরের কুকরাইল এলাকায় শুরু হয় কার্যক্রম। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন-এর একদল তরুণ অংশ নিতে পেরে খুশি তারা। পাশে থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরাও।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ এবং এলজিইডি’র যৌথ উদ্যোগে বরিশাল খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানাও পরিষ্কার করা হয়। সে সময়ে খালটি খননের উদ্যোগ নেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। শুধু পরিস্কার-পরিচ্ছনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আশপাশের দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তা না হলে আবারও অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে এই বরিশাল খাল।

বিডি ক্লিন-এর সদস্য মো. শাকিব হোসেন বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাল টিকিয়ে রাখার কোন বিকল্প নেই। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদফতর যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে আমরা সাধুবাদ জানিয়ে তাদের সাথে কাজ করছি। এমন কাজ করতে পেরে আমরা বিডি ক্লিন-এর সদস্যরা সবাই খুশি।’

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল তালুকদার বলেন, অযত্ন আর অবহেলায় বরিশাল খালটির এখন কোন অস্তিত্ব নেই। অথচ ছোটবেলায় দেখেছি এই খাল দিয়ে বড় বড় নৌযান চলাচল করেছে। এই খালটি পুনরায় পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হোক। তাহলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘খালটির পানি প্রবাহ টিকিয়ে রাখতে এগিয়ে আসতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। প্রশাসনের একার পক্ষে এমন কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আশপাশের বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে, ময়লা আর আবর্জনা খালের ভেতর না ফেললে এর পানি প্রবাহ ঠিক থাকবে।’




বরিশালে দুই কাউন্সিলরসহ পাঁচ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার দুই কাউন্সিলরসহ পাঁচ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, জেলার কলাপাড়া পুলিশের সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাতে কুয়াকাটা থেকে গৌরনদী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজন, ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মিলন খলিফা, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রোলান্ড প্রিন্স বেপারী, সদস্য টিপু ও সাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ছয়টি মামলা রয়েছে।




কুয়াকাটায় আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহ বিক্রি: ঘর বরাদ্দের ৭ মাস পরই চলে গেছেন বাসায়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলি মাত্র সাত মাসের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে, যেখানে কিছু পরিবার তাদের মূল বসত বাড়িতে ফিরে গেছেন। আশ্রয়ন প্রকল্পের এই অনিয়মের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনরা।

কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও ফাসিপাড়া আবাসন প্রকল্পের ৬৪টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যে চারটি ঘর বিক্রি হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ঘর বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব ঘর আসল গৃহহীনদের না দিয়ে ধনীদের হাতে চলে গেছে, যারা মুনাফা অর্জনের জন্য এগুলি বিক্রি করছেন।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ৩৭ নম্বর ঘর বরাদ্দ পাওয়া নুরুন্নাহার বেগম স্থানীয় বাসিন্দা মো: হানিফের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন, একইভাবে ৪১ নম্বর ঘর বিক্রি করা হয়েছে মো: নূর হোসেনের কাছে ৫০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, ৫৩ নম্বর ঘর শহীদ ফকির ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন আশাদুল বেপারীর কাছে। এমনকি ১১ নম্বর ঘর ভাড়া দেয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া, আশ্রয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ঘরের চাল থেকে বৃষ্টির পানি পড়ছে, প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং বাড়ির সামনে পানি জমে যাওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। রান্নার পানির ব্যবস্থা এবং পানির নলও নেই, আর পাশের খালটির পানি লবণাক্ত হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রবিউল ইসলাম বলেছেন, “যদি কেউ ঘর বিক্রি করে, তবে তার বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে নিখোঁজের দুইদিন পর নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী শহরের লাউকাঠি সরকারি গোডাউন ঘাট সংলগ্ন নদীর পাড় থেকে নিখোঁজের দুইদিন পর আল আমিন খন্দকার নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা নদীর উত্তরপাড়ে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে, তারা এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আল আমিন খন্দকার সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ব্রিজ এলাকার মৃত খালেক খন্দকারের ছেলে। জানা গেছে, আল আমিন পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে কাজে যোগদানের কথা বলে বাসা থেকে বের হন আল আমিন। এরপর থেকে তিনি আর বাসায় ফেরেননি। নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার বিষয়টি মৌখিকভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়। তার নিখোঁজ হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সবাই তাকে খুঁজতে শুরু করে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শুক্রবার সকালে লাউকাঠি নদীর পাড় থেকে আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”




শেবাচিম হাসপাতালে পরিচালক পদে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে নতুন পরিচালক হিসেবে একজন সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন পরিচালকের দায়িত্ব হচ্ছে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে উন্নয়ন ঘটানো।

নতুন পরিচালক একজন সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় হাসপাতালে শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

হাসপাতালের রোগীসেবা, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




দুমকিতে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার কৃষকরা আশা করছেন, চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হবে। উপজেলার শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া, পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের আমন ক্ষেত গাঢ় সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় মাঠগুলো দিগন্ত জোড়া আমনের চারা হেলে দুলে প্রকৃতিকে স্বাগত জানাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে কৃষকরা সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনছেন।

বিগত বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের বীজ তলা নষ্ট হয়ে গেলেও তারা পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে চড়া দামে আমন চারা কিনে জমিতে রোপণ করেছেন। বর্তমানে আমন ধানের চারায় জমি ভরে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজের সমারোহ যেন প্রকৃতিকে বিমোহিত করে তুলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার মোট ৬ হাজার ৬শ ১ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষত, উঁচু জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ করা হয়েছে এবং অনেক জমিতে ধান পাকা শুরু হয়ে গেছে। কিছু জমিতে ধানের শীষ সোনালী রং ধারণ করে নুইয়ে পড়তে শুরু করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব মাঠেই আমন ধানের চারা সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ মৃধা বলেন, “এ বছর সবাইকে চড়া দামে আমন চারা কিনে বপন করতে হয়েছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন আশা করছি।” মুরাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুশীল মৌয়ালী বলেন, “যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে এবছর আমাদের এলাকায় আমনের বাম্পার ফলন হবার সম্ভাবনা রয়েছে।”

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, কৃষকদের আমন ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে প্রণোদনা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই এলাকার জমি আমন ধান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নানা সমস্যার সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ প্রদান করছেন, বিশেষ করে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হতে পারে।




এক চিঠির কারণে গলাচিপা-দশমিনার রাজনীতি উত্তপ্ত

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হাসান মামুন বলেছেন, হঠাৎ একটি চিঠির কারণে গলাচিপা-দশমিনার রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ওই চিঠির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জোটের নেতারা বৈঠক করেছেন এবং তারা অভিযোগ করেছেন, তারা কোথাও জনসভা বা জনসংযোগ করতে পারছেন না। এর পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা একে অপরের ওপর হামলা করছে।

হাসান মামুন আরও বলেন, “গলাচিপা-দশমিনায় কখনো কোনো জোটের নেতা-কর্মী বিএনপির দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছে?” তিনি এসব মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “যারা জাতীয়তাবাদী দলকে ছোট করতে চায়, তারা এবং যারা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গলাচিপা-দশমিনাকে দাঁড় করাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকবেন, বিশেষ করে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত।”

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপায় অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।

এ সময় হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বাইরে থেকে কাউকে এই আসনে মনোনয়ন দিলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ গোলাম মোস্তফা, জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ারা শাহজাহান এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. শামীম চৌধুরী, সদস্যসচিব জাকারিয়া হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল-আমীন হাওলাদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মোহন প্রমুখ।

এদিকে, গত ২২ অক্টোবর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুরকে (ভিপি নুর) পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) এলাকায় সহযোগিতা করতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ২৯ অক্টোবর নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় সমুদ্র থেকে নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে

কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না মিললেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে সামুদ্রিক নানা প্রজাতির মাছ। ২২ দিনব্যাপী নিষেধাজ্ঞার পর যখন ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে নদী ও সাগরে মাছ শিকারের ওপর বন্ধ ছিল, তখন গভীর সমুদ্রে গিয়ে সেগুলোর পরিবর্তে ধরা পড়ছে অন্য প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে রয়েছে বড় সাইজের কোরাল, পাঙাশ, পোয়া মাছসহ আরও অনেক ধরনের সামুদ্রিক মাছ।

জেলে মো. ইলিয়াস মাঝি জানান, ২২ দিনের অবরোধ কাটিয়ে তারা যখন সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যান, তখন তাদের জালে লাক্কা মাছের পাশাপাশি ধরা পড়ে সামুদ্রিক পোয়া মাছও।

মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “ইলিশের পাশাপাশি এখন পাঙাশ, পোয়া, কোড়ালসহ সামুদ্রিক অনেক মাছের প্রজনন এবং বড় হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে জেলেরা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

এ পরিস্থিতি থেকে একদিকে যেমন জেলেরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রজনন মৌসুমে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে বাজারে মাছের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার আশা করা যাচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম