গুলিস্তানে আ.লীগের বিচারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণজমায়েত

আওয়ামী লীগকে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিচারের দাবিতে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে গণজমায়েতের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ মঞ্চের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ জমায়েতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামীকাল দুপুর ১২টায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে জানান, “স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে গণজমায়েত, স্থান: গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, সময়: দুপুর ১২টা।”

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে “ফ্যাসিবাদী দল” হিসেবে আখ্যা দেন এবং আওয়ামী লীগের যেকোনো কর্মসূচি দমনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী এই দলকে বাংলাদেশে কোন প্রতিবাদ বা সমাবেশের সুযোগ নেই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের শক্তভাবে প্রতিহত করবে।”

উল্লেখ্য, আগামীকাল (১০ নভেম্বর) শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগও গণতন্ত্রের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




রাঙ্গাবালীতে বিএনপি নেতার অভিযোগ: হাসিনা খুন-গুম করে পালিয়েছেন

শেখ হাসিনা মানুষ খুন, গুম ও টাকা চুরির সাথে জড়িত থাকার কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। জনসভাটির আয়োজন করে রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

এবিএম মোশাররফ বলেন, “স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা হারানোর পরও দেশ ছেড়ে পালায়নি, অথচ শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে মোদীর আতিথ্য গ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা মামলার ভয়ে লুকিয়ে আছেন। আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কেমন নেতার দল করেছেন?” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের পর ২ শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, যেগুলো বিএনপি করেনি; বরং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মামলা করেছে।”

মোশাররফ আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, তার জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। তবে আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন—আমরা আওয়ামী লীগের মতো সহিংসতার রাজনীতি করবো না।”

তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “তোফায়েল বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে একদিনে অন্তত ৫ লাখ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিহত হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি। কারণ, বিএনপি গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, সদস্য মোস্তাক আহমেদ পিনু, জাফরুজ্জামান খোকন, এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক হারুন হাওলাদারও বক্তব্য দেন।

ছয়টি ইউনিয়ন থেকে আসা অন্তত ২০ হাজার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক এই জনসভায় অংশ নেন।

প্রতিবেদন: মো. আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে জলাধার উদ্ধার ও পরিষ্কার অভিযানে জেলা প্রশাসন

পটুয়াখালীতে দখল, দূষণ ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জলাধার উদ্ধার এবং ময়লা, আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য জেলা প্রশাসন একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে পটুয়াখালী শহরের টিবি ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় সরকারি পুকুরের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার মাধ্যমে এই কর্মসূচী শুরু হয়। বিডি ক্লিন পটুয়াখালী, স্থানীয় যুবক, জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এই কর্মসূচী বাস্তবায়নে কাজ করছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাগ হয়ে কাজ করবে এই দল এবং পুকুরের সব ময়লা পরিষ্কার করা হবে।

পানি ব্যবহারের উপযোগী রাখতে এসব জলাধারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এই অভিযানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে।

এ সময় জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের পরিবেশের উন্নয়ন এবং জলাধারের পানি নিরাপদে ব্যবহারের উপযোগী করতে কাজ করছে। এটি স্থানীয়দের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ, যাতে করে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইমামতি কোনো পেশা নয় এটি একটি মহান দায়িত্ব : হোসাইন সাঈদী

 চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ইমামতি কোনো পেশা নয় বরং এটি একটি মহান দায়িত্ব মন্তব্য করে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জিয়ানগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘ইমামের কাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করে রাসুল স: ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য এই বলে দোয়া করেছেন, ‘ইমাম হলেন জিম্মাদার আর মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার।’

এ সময় তিনি দেশের সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বেতন কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সিরাজুল হক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি আয়োজিত উপজেলা ইমাম সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

এ সময় সভা শেষে ২৫ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আমরা যদি প্রতিটি মসজিদকে নবীজির দেখানো সেই মসজিদে নববীর রোল মডেল রূপে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর হবে। সমাজে জনকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মসজিদের ইমাম যেমন জাতির আমলগত সংস্কারের জিম্মাদার তেমনি আকিদাগত সংস্কার ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করারও দায়িত্বশীল। বাতিল আকিদা ও মতবাদকে খণ্ডন করা এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারার মূলোৎপাটন করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। যদি রাষ্ট্রে আল্লাহর একত্ববাদ পরিপন্থী কোনো আওয়াজ উঠে অথবা রাসুলের স: রিসালাতের অবমাননা করা হয় তাহলে বাতিল শক্তির এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করা ও প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করা ইমামদের কর্তব্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় ইমাম সমিতি নাজিরপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হাফেজ হাবিবুল্লাহ বেলালীর সভাপতিত্বে ও মাওলানা আবু দাউদের সঞ্চালনায় উপজেলা ইমাম সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অধ্যক্ষ মো: জহিরুল হক, জাতীয় ইমাম সমিতি পিরোজপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা মুফতি আব্দুল হালিম, জাতীয় ইমাম সমিতি পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় ইমাম সমিতি নাজিরপুর উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা কাজী মো: মোসলেহ উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




বাউফলে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, ৬ জন আহত

পটুয়াখালীর বাউফলে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে বাউফলের কালাইয়া বন্দরের টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন রনজিত দাস (৬০), রাধা রাণী (৪০), রাজীব দাস (২৬), সজীব দাস (২০), মধু মেম্বর (৬৫), আশিশ (৩০), এবং আশিক (২৮)। এদের মধ্যে আশিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাকিদের বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দুই ভাই রনজিত দাস ও মধু মেম্বারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে দুই পরিবারের মধ্যে কথাকাটি হলে, একপর্যায়ে বড় ভাই মধু মেম্বার ছোট ভাই রনজিত দাসের উপর হামলা করেন। এরপর উভয় পরিবারের সদস্যরা দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

মধু মেম্বার বলেন, তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করেন, যা তার ছোট ভাই রনজিত দাসের কাছে অস্বীকার্য ছিল। তিনি দাবি করেন, “বিএনপি করার কারণে রনজিত আমার এবং আমার দুই ছেলে আশিষ ও আশিককে কুপিয়ে আহত করেছে।”

অন্যদিকে, রনজিত দাস তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার পরিবারের কেউ বড় ভাই মধু মেম্বারের উপর হামলা করেনি। উনি প্রথম হামলা করেছেন এবং জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এটি রাজনীতি সম্পর্কিত কোনো ঘটনা নয়।”

বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, “এ পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এই ঘটনা বাউফল উপজেলার স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, এবং এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাঙ্গাবালীতে বিএনপি সভাপতির আহ্বান, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আলোচনার ঝড়

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান ফরাজী সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। গত শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে ফরাজীকে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিএনপিতে আমন্ত্রণ জানাতে দেখা গেছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, শনিবার রাঙ্গাবালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ উপলক্ষে গত ৬ নভেম্বর বিকেলে রাঙ্গাবালী বাজার এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় আবদুর রহমান ফরাজী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “রাঙ্গাবালীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপি দলে স্বাগত জানানো হবে। আমি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান ফরাজী, আপনাদের পাশে আছি।” তার এই বক্তব্য ভিডিও আকারে ধারণ করে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

ফরাজীর আহ্বান সম্পর্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “এটি মূলত বিএনপির একটি রাজনৈতিক কৌশল। আমাদের দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের কোনো প্রশ্নই আসে না।” অন্যদিকে, অনেকেই মনে করছেন, ফরাজীর বক্তব্য আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে আবদুর রহমান ফরাজী বলেন, “আমি বিষয়টি ওভাবে বলিনি। আমি শুধুমাত্র নিরীহ ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। যারা সন্ত্রাসে লিপ্ত, তাদের কোনো ছাড় নেই। আমরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী, তাই নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

রাঙ্গাবালী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। ফরাজী সাহেবের বক্তব্য আমাদের দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আমরা আশা করি, আওয়ামী লীগের নির্যাতিত কর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করে আমাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবেন।”

এই ভিডিও ভাইরালের পর রাঙ্গাবালীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হচ্ছে। ফরাজীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে আলোচনা হচ্ছে এবং দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, “আমরা এই ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত আছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। কোনো পক্ষ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করে, তবে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ফরাজীর এই আহ্বান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ, আবার কেউ কেউ ভাবছেন, ফরাজী হয়তো সত্যিই আওয়ামী লীগের নিরীহ কর্মীদের রক্ষা করতে চান।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাজনীতির মাঠে এমন আহ্বান নতুন কিছু নয়। তবে আগামী নির্বাচনের আগে এমন বক্তব্য রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। আমরা আশা করি, দুই দলই সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটা বাজারে শীতের সবজির দাম কমায় ক্রেতাদের স্বস্তি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা বাজারে শীতের সবজি উঠতে শুরু করায় সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। লালশাক, করলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে কুয়াকাটার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির মধ্যে ঢেড়শ, পটোল, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার দাম ৪০-৫০ টাকা কেজি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা। এছাড়া বেগুন, করলা ও কাঁকরোল ৭০-৮০ টাকায় এবং পেঁপে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সপ্তাহ খানেক আগেও এসব সবজির দাম ছিল ১০০ টাকার ওপরে।

বাজারে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, লাউ ৬০-৭০ টাকা, টমেটো ১৮০ টাকা, এবং কাঁচা মরিচ ১২০-১৪০ টাকা কেজি। দুই সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২৫০ টাকার ওপরে। সবজির দাম কমায় বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

সবজি বিক্রেতা মো. এছিন বলেন, “শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণেই সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় আমরা কম দামেই এসব সবজি বিক্রি করতে পারছি।”

বাজারে সবজির দাম কমায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সবজি কিনতে আসা শিক্ষক সাঈদ বলেন, “সবজির দাম কিছুটা কমেছে, তবে আরও কমা উচিত। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানাচ্ছি যাতে দাম আরও কমানো যায়।”

এদিকে, মাংসের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা, এবং কক সাদা ২৯০ ও কক লাল ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১০-২০ টাকা কম।

বাজার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেউ যাতে অতিরিক্ত মূল্য নিতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের নজর রয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

এই সংস্করণটি সম্পূর্ণ কপিরাইট মুক্ত। আশা করি, এটি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত হয়েছে।

 




মিডিয়ার একাংশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ দেখতে পায় না”: মির্জা ফখরুলের মন্তব্য

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গত তিন মাসে অন্তর্বর্তী সরকার অনেক কাজ করেছে, তবে মিডিয়ার কিছু অংশ তা দেখতে পায় না।” শনিবার সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত বাংলাদেশ ইউথ পার্লামেন্ট-২০২৪-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই সংস্কারের অনেক উদ্যোগ নিয়েছে এবং কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। ফ্যাসিবাদী শক্তির বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে সবকিছু একসঙ্গে সম্ভব নয়। তরুণদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজের জন্য সময় দিতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, “কিছু মিডিয়া নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে ফ্যাসিবাদীদের উত্থানকে উসকে দিচ্ছে। এটি কখনোই জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে না। যারা এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করছি, এই প্রচারণা বন্ধ করুন।”

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন; এই ঐক্যবদ্ধ সাফল্য যেন টিকে থাকে, সে জন্য কাজ করুন। সংস্কার ও নির্বাচনের জন্য আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

মাও সেতুং-এর একটি উক্তির উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “যুবকদের ঘাড়ের মধ্যে বৃদ্ধদের মাথাটা বসাও। অর্থাৎ, বয়স্কদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে গ্রহণ করো এবং যুবকদের শক্তি দিয়ে নতুন কিছু গড়ে তুলো।”




গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ নভেম্বর জিরো পয়েন্টে আসার ডাক আওয়ামী লীগের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশে অপশাসন চলছে অভিযোগ করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ নভেম্বর রাজধানীর জিরো পয়েন্টে আসার ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। শনিবার (৯ নভেম্বর) দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এ ডাক দেওয়া হয়েছে।

পোস্টে লেখা হয়েছে, ১০ নভেম্বর আসুন – নূর হোসেন চত্তরে জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান, ঢাকা। আমাদের প্রতিবাদ দেশের মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রাকে ব্যহত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে আপনিও অংশ নিন।

১০ নভেম্বর ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মিছিলে শহীদ হন নূর হোসেন। দিবসটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূটি পালন করে থাকেন।




বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ বন্ধু নিহত, আহত ২

বরিশালের মুলাদীতে এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চরকালেখান ইউনিয়নের নোমরহাট বাজারসংলগ্ন একটি ব্রিজের কাছে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কবরস্থানের দেয়ালে ধাক্কা খেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও দুজন গুরুতর আহত হন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চরকালেখান ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. স্বপন ভূঁইয়া (৩৫) এবং মো. কাওসার হোসেন (২৫)। তারা উভয়েই পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। আহতরা হলেন একই গ্রামের মো. নাইম (২৫) এবং পথচারী মো. লোকমান চৌকিদার (৬২)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বপন তার দুই বন্ধু কাওসার ও নাইমকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নোমরহাট বাজারে যাচ্ছিলেন। বাজারের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ করে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কবরস্থানের দেয়ালে ধাক্কা খায়। এতে তিনজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন, এবং ঘটনাস্থলেই স্বপনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী পল্লি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। নাইম ও লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে কাওসারের মৃত্যু হয়। নাইম ও লোকমান চৌকিদারকে আজ শনিবার ভোরে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন (পঙ্গু) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত স্বপনের ভাই ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, স্বপন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে বের হয়। দুর্ঘটনায় আমরা তাকে হারিয়েছি, যা আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার জানান,এ দুর্ঘটনায় দুইজন মারা গেছেন এবং দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”