প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর (রোববার) সেনাপ্রধান তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।




অদক্ষ ক্যাপটিভ খাচ্ছে গ্যাস, বেকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::অদক্ষ ক্যাপটিভে গিলে খাচ্ছে মূল্যবান গ্যাস, বেকার পড়ে থাকছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে ক্যাপটিভে কমবেশি ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, একই পরিমাণ গ্যাসে কম্পাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।

অর্থাৎ একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে দেড়গুণ বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। তবুও বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে ক্যাপটিভে (নিজস্ব জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপাদন) চলে যাচ্ছে চড়া দামে আমদানি করা গ্যাস। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে মোট ৯ হাজার ৭২৪ মিলিয়ন ঘনমিটার, আর একই সময়ে ক্যাপটিভে ৫ হাজার ৩১০ মিলিয়ন ঘনমিটার।

পেট্রোবাংলার উৎপাদন বিবরণী বরাবরে এমন রিপোর্ট দিলেও গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা ৬টি কোম্পানির বার্ষিক রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। সবচেয়ে বড় বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাসের ২০২২-২৩ অর্থবছরের রিপোর্টে গ্যাস বিক্রির পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ওই বছর কোম্পানিটি ৩ হাজার ২৮৫ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস দিয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। আর ক্যাপটিভে সরবরাহ দিয়েছে ৪ হাজার ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিতরণ কোম্পানি কর্নফূলীর রিপোর্টও বলছে ক্যাপটিভে বেশি সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৭২ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস ক্যাপটিভে আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছে ৫২২ মিলিয়ন। তবে জালালাবাদ ও বাখরাবাদ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বেশি গ্যাস সরবরাহ দিয়েছে। ৬টি কোম্পানির দৈনিক গড় সাড়ে ২৬ মিলিয়ন (বিদ্যুৎ কেন্দ্র) ও সাড়ে ১৪ মিলিয়ন ঘনিমটার (ক্যাপটিভ)। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছে ক্যাপটিভে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ৭ নভেম্বর ২০২৪ এর রিপোর্ট বলছে ওইদিন দেশের ৫৯টি গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি পুরোমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ পেয়েছে। ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ ছিল, আর বাকিগুলো কোনটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কোনটি আংশিক উৎপাদন করেছে গ্যাস ঘাটতির কারণে।

পেট্রোবাংলার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৭ নভেম্বর ৮৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ওই দিন গ্যাসের চাহিদা ছিল ২ হাজার ৪৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের এই সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার শঙ্কা দেখা যাচ্ছে। প্রতি ঘনমিটার গ্যাস দেশীয় ফিল্ড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১ টাকা দরে। একই পরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে ৭১ টাকার মতো ব্যয় হচ্ছে। দাম যখন চড়া তেমনি অবকাঠামো না থাকায় ২ বছরের মধ্যে আমদানি বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

গ্যাসের এই সংকট মোকাবিলায় ক্যাপটিভের (৩৪৬০ মেগাওয়াট) গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা গেলে প্রায় ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি পাওয়া সুযোগ রয়েছে।

ক্যাপটিভ প্রশ্নে শিল্প মালিকদের বক্তব্য হচ্ছে তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, তাই বাড়তি বিনিয়োগ করে ক্যাপটিভ বসাতে হচ্ছে। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েক সেকেন্ডের জন্য লোডশেডিং হলেও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যায়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেলে কেউই ক্যাপটিভে যাবে না। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বক্তব্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা আংশিক সত্য বলছেন। ২০১২ সালে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের গ্যারান্টি দিয়ে কিউ শ্রেণি চালু করা হয়েছিল। বিশেষ লাইন দিয়ে তাদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় একজন উদ্যোক্তাও আবেদন নিয়ে আসেননি।

বিইআরসিতে দাখিল করা পিডিবির এক চিঠিতে বলা হয়, ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে বিতরণ কোম্পানির অবহেলার শিকার হচ্ছে দক্ষ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। অন্যদিকে কোম্পানিগুলো ক্যাপটিভে গ্যাস দিলে বেশি দাম পান, তাই সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবর্তে ক্যাপটিভে দিতে তাদের আগ্রহ বেশি।

গ্যাসের অভাবে যখন অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, তখন দেদারছে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন বিস্ময় রয়ে গেছে। ১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভ গ্যাস সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পুর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতা এড়াতে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়ায় অবস্থিত এনআর গ্রুপকে ভিন্ন তিনটি গ্রাহক সংকেত দিয়ে ২৪.৯২ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ দেওয়া হয়েছে বিগত সরকারের সময়ে। এভাবে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে অনেকেই সংযোগ পেয়েছেন।

ক্যাপটিভ সংযোগের ক্ষেত্রে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশনএন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (টিজিটিডিসিএল) ও কর্ণফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ভূমিকা বেশি সমালোচিত। কঠোরভাবে বিধি নিষেধ আরোপ করা থাকলেও শত শত ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ দিয়েছে কোম্পানি দু’টি। কখনও বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে, কখনও বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই। দীর্ঘদিন ধরেই কোম্পানি দু’টির বোর্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিবগণ। যে কারণে অন্যরামুখ খোলার সাহস দেখাননি।

ক্যাপটিভে গ্যাসের অপচয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে থাকায় ঘাটতি বাড়ছে বিপিডিবির। বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলুক আর না চলুক মাসে প্রায় ১৮’শ কোটি টাকার মতো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষমতা যত বৃদ্ধি পাবে ক্যাপাসিটি চার্জের অংক সমানতালে বড় হবে। এতে করে বিদ্যুৎ খাত সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিপিডিবি ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪০ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে এখন বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির একটি মাত্র পথ খোলা রয়েছে শিল্প। শিল্পায়ন হচ্ছেও, কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিদ্যুতের চাহিদায় তারতম্য দেখা যাচ্ছে না। শিল্পে বিদ্যুতের ব্যবহার আশানুরূপ না হওয়ায় অনেকদিন ধরেই শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে গণহারে ক্যাপটিভ বসানো। একে রোধ করা না গেলে সমুহ বিপদের শঙ্কা দেখছেন অনেকেই।

ইন্সটিটিউট ফর এনার্জি ইকনোমিক ফাইন্যান্সিয়াল এনালাইসিস এর লিড এনালিস্ট শফিকুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ক্যাপটিভের চেয়ে কম্পাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এনার্জি সাশ্রয়ী। একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। শুধু ক্যাপটিভ নয়, অনেক ক্ষেত্রে বয়লারে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এরচেয়ে বৈদ্যুতিক বয়লার অনেক এনার্জি সাশ্রয়ী। ধীরে ধীরে ক্যাপটিভ থেকে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া উচিত।




শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে রেড অ্যালার্ট জারি করছে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করতে যাচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

রোববার (১০ নভেম্বর) সকালে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) দেয়া আওয়ামী লীগের অভিযোগ সরকার আমলে নিচ্ছে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই সরকারের বিরুদ্ধে আইসিসিতে অভিযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অভিযোগটি কোনোভাবেই গৃহীত হওয়ার কারণ নেই।’




১ জানুয়ারি থেকে স্মার্ট কার্ডেই মিলবে টিসিবির পণ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য দেয়া হবে। হাতে লেখা কার্ডে আর পণ্য দেয়া হবে না।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ে রমজান উপলক্ষে আগাম প্রস্তুতি বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যেসব পণ্য আমদানি করা হয়, সেসবেরও প্রস্তুতি নেয়া শেষ। রমজানে পণ্যের কোনো সংকট হবে না।’

‘তেল, ডাল, চিনির পাশাপাশি খেজুর ও ছোলা ঢাকা ও অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় দেয়া হবে। ছোলা ও খেজুরের জন্য এরইমধ্যে চুক্তি হয়ে গেছে। জানুয়ারির ভেতর পণ্য টিসিবির গুদামে চলে আসবে’, যোগ করেন টিসিবির মুখপাত্র।

হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘একটি পরিবার থেকে যেন এক ব্যক্তির বেশি না পায়। এজন্য স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড করা হচ্ছে। ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন ডিলার নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে ডিলারের প্রয়োজন হলে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে বিঘ্ন হচ্ছে না। তবে মনিটরিংটা ঠিকমতো হচ্ছে না। ভোক্তার কাছে সঠিকভাবে যেতে যে সহযোগিতা দরকার, সেটাতে কমতি রয়েছে।’

বর্তমানে স্থানীয় প্রতিনিধিরা নিজ নজ এলাকায় না থাকায় পণ্য সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ডিসি অফিস ও সিটি করপোরেশনে চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও জানান টিসিবির মুখপাত্র।

তিনি বলেন, ‘বণ্টন ও মনিটরিংয়ের জন্য স্থানীয় প্রশাসন দায়বদ্ধ থাকে। তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সভার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।




পটুয়াখালীতে সাবেক এমপি রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

পটুয়াখালী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওসমান গনী নামের এক ভুক্তভোগী। শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে ওসমান গনী বলেন:
জিরো পয়েন্ট এলাকায় আমাদের পরিবারের বাড়ির মোট জমির মধ্যে ১/৪ শতাংশ জমি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আমাদের বাকি জমি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এরপর, সংসদ সদস্য থাকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হয়। ফলে, ২৮ শতাংশ জমি থেকে ২৩ শতাংশ জমি জোর করে দখল করে নেন। আমরা বহু চেষ্টা করেও জমি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলে রুহুল আমিন হাওলাদার মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাদের হয়রানি করেন। বর্তমানে জমি উদ্ধারের মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ওসমান গনী বলেন, “আমাদের জমি ফেরত পেতে সহায়তা করুন।”

অভিযোগের জবাবে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন:
তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “আমি ওসমান গনীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। বায়না রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে তাদের বিক্রির অনুমতিপত্র (পারমিশন) আনতে বলেছি। কিন্তু তারা সেই পারমিশন আনতে না পারায় সাব কবলা দলিল দিতে পারেনি। যখনই পারমিশন এনে দলিল দিতে পারবে, আমি বাকি টাকা পরিশোধ করব। ওসমান গনীর করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জীবনমান উন্নয়ন সামগ্রী বিতরণ

কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ জন মানুষের মাঝে জীবনমান উন্নয়ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির সহযোগিতায় এবং প্রগতিশীল তরুণ সমাজকল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রবিউল আউয়াল অন্তর, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি আবদুল মামুনসহ আরও অনেকেই। এসময় ১৫ জন গ্রামীণ নারীকে ১৫টি সেলাই মেশিন, ৫০ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ৫০ জেল কোরআন শরীফ, ১৫০ জন সাধারণ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাসামগ্রী এবং ৩৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার আদায়ে স্থানীয় যুব সমাজ গত ৫ সেপ্টেম্বর মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছিল। তাদের আন্দোলনের ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এই জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শারজায় সিরিজ বাঁচিয়ে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাটকীয় জয় তুলে নিল বাংলাদেশ দল। শারজার মাটিতে ৬৮ রানের ব্যবধানে আফগানিস্তানকে পরাজিত করে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা আনল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই জয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ পরিণত হয়েছে অলিখিত ফাইনালে, যা আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান ৪৩.৩ ওভারে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানে থেমে যায়।

আফগানদের ইনিংসে শুরুতেই সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। দলীয় ১৮ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। এরপর আফগান ব্যাটারদের রানের গতি আটকে রাখতে সফল হন বাংলাদেশি বোলাররা। নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও শরিফুল ইসলাম মিলে একের পর এক উইকেট তুলে নেন। বিশেষ করে, শেষদিকে মোহাম্মদ নবি ও গুলবাদিন নাইবের ঝুঁকিপূর্ণ জুটি ভেঙে ম্যাচে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন শরিফুল ও মিরাজ।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। মুস্তাফিজ ও মিরাজ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। তাসকিন ও শরিফুল পান একটি করে উইকেট।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ফজলহক ফারুকীর প্রথম ওভারে আক্রমণাত্মক শুরু করেন তানজিদ তামিম। তবে চতুর্থ ওভারে গজনফারের বলে ১৭ রান করে ফিরে যান তামিম। এরপর সৌম্য সরকার ও শান্ত মিলে ৭১ রানের জুটি গড়লেও রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সৌম্য আউট হন।

শান্তর অর্ধশতকের পর নানগেয়ালিয়া খারোটে এক ওভারে শান্ত ও মাহমুদউল্লাহকে আউট করে বাংলাদেশের বড় রানের আশা শেষ করেন। তবুও শেষদিকে জাকের আলির ২৭ বলে ৩৭ রান ও নাসুম আহমেদের ২৪ বলে ২৫ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫২ রান।

আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খান ও খারোটে সর্বাধিক ৩টি করে উইকেট নেন।

এই জয়ে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচটি পরিণত হয়েছে ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতিতে। শেষ ম্যাচে যে দল জিতবে, সিরিজ তাদের ঘরে যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রিজার্ভে উন্নতি

জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে প্রবাসী রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই আন্দোলন চলাকালে প্রবাসীরা ঘোষণা করেছিলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তারা রেমিট্যান্স পাঠাবেন না। গত ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা ছেড়ে ভারতের উদ্দেশে চলে যান এবং তিন দিন পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন। এর পরই প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে মুখ খুলেন।

এই সময়ে, আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৭০২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন থামানো সম্ভব হয়েছে এবং এটি ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ৬ নভেম্বর রিজার্ভ ২৫.৭৩ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছিল। আগের বছর একই সময়ের তুলনায়, রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

সেখানে, দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের ব্যাংকারদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে রিজার্ভের পতন রোধ হয়ে দেশীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অক্টোবর মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৩৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিমাণ অর্থ দেশে আসার ফলে, দেশের রিজার্ভের অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংকিং খাতেও, যেখানে ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় সংগ্রহ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রিজার্ভের পতন রোধ করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘অর্থপাচার রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং রিজার্ভ বাড়ানোর দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

অর্থনীতি এবং রিজার্ভের এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের জন্য একটি আশার প্রতীক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রমজানে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করবে ছোলা, খেজুরসহ ৯টি পণ্য

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এই উদ্দেশ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে ৯টি পণ্য বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে বাজার নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের উৎপাদকদের সরাসরি পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্ত করা।

টিসিবি জানিয়েছে, রমজান উপলক্ষে ছোলা, খেজুরসহ রাজধানী ও অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের জন্য ইতিমধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং জানুয়ারির মধ্যে পণ্য টিসিবির গুদামে চলে আসবে।

হুমায়ুন কবির আরও জানান, পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো সংকট হবে না এবং এসব পণ্য সহজলভ্য থাকবে। তিনি বলেন, “তেল, ডাল, চিনি, খেজুর ও ছোলা ঢাকা এবং অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় দেওয়া হবে।”

এছাড়া, টিসিবি বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে পণ্য পেতে ক্রেতারা কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নেপাল ভারত থেকে বাংলাদেশের জন্য ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে

নেপাল ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করার অনুমতি চেয়েছে। কারণ, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপালকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। ভারত নেপালের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিগগিরই অনুমতি প্রদান করবে, এমন আশ্বাস দিয়েছে নয়াদিল্লি।

নেপালের জ্বালানি ও পানিসম্পদমন্ত্রী দীপক খাড়কা ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের সফর করেন। সফরের সময় তিনি ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার এবং পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে তারা জ্বালানি, পানিসম্পদ এবং সেচ সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দীপক খাড়কা জানিয়েছেন, ভারত সফর শেষে নেপালে ফিরে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতীয় ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। নেপাল গত ১৫ জুলাই থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের জন্য এই অনুমতি পেয়েছে। তবে, নেপালের পক্ষে ভারতের সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় পক্ষ নেপালের অনুরোধকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং শিগগিরই অনুমতি দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ৩ অক্টোবর কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভারতের মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) এবং ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এর প্রতিনিধিরাও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম