বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার পুলিশ কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিন রিমান্ডে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার জোবায়ের ওমর খান হত্যা মামলায় বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুর রহমান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন, আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক রাসেল সরদার আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলসহ জামিনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে বিচারক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, বরিশালের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আলেপ উদ্দিনকে বুধবার রাতে বরিশাল মহানগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

অপরদিকে, আলেপ উদ্দিনের স্ত্রী ওয়াফা নুসরাত অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয় থেকে গত মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে আলেপ উদ্দিনকে তুলে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জানা যায়, ৫ আগস্ট দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়া এলাকায় জোবায়ের ওমর খান গুলিবিদ্ধ হন। তাকে মিটফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় জোবায়েরের ভাই মামলার দায়ের করেন, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১২৭ জনকে আসামি করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বেনাপোলে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল উদ্বোধন করলেন উপদেষ্টা সাখাওয়াত

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্যজট কমাতে এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ‘কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল’ উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে এই টার্মিনালটির উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা। উদ্বোধনের পর, তিনি বেনাপোল বন্দর অডিটোরিয়ামে বাণিজ্যিক নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বেনাপোল বন্দরের দ্রুত পণ্য খালাস না হওয়ায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নানান অভিযোগ ছিল। তবে, এই নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে ১৫০০টি ট্রাক একসাথে পার্কিং করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাণিজ্য সহজীকরণ এবং গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।”

সরকারি অর্থায়নে ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১ একর জমিতে নির্মিত এই অত্যাধুনিক টার্মিনালটি ভারতীয় ট্রাকের জন্য দেড় হাজার পার্কিং সুবিধা, টয়লেট কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস, সিসি ক্যামেরা, রফতানি টার্মিনাল, এবং কেমিকেল শেডসহ নানান সুবিধা প্রদান করবে।

টার্মিনালটি চালু হলে, বন্দরের পণ্যজট এবং যানজট মুক্ত হবে এবং বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল বন্দর ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। তবে, অতিরিক্ত জায়গার অভাবে বন্দরের সক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না।

বেনাপোল বন্দরের মাস্টার প্ল্যানে অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ চলছে, যা খুব শিগগিরই সুফল দিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপদেষ্টা। বন্দরটিকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করার জন্য আরো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, যাতে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা সহজে এবং নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।

টার্মিনালটির উদ্বোধন অনেকদিন ধরেই পরিকল্পিত ছিল, কিন্তু বৈশ্বিক মন্দা, সীমান্তে বিএসএফের বাধা, এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনসহ কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে এটি পিছিয়ে যায়। তবে, সব বাধা অতিক্রম করে অবশেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে টার্মিনালটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারের পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, নতুন টার্মিনালটির মাধ্যমে পণ্যবাহী ট্রাকের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সুসম্পর্কের উন্নতি ঘটাবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ জানিয়েছেন, টার্মিনাল চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরো গতিশীল হবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক মামুন কবির তরফদার জানিয়েছেন, কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণের ফলে বেনাপোল বন্দরের পণ্যের ধারণক্ষমতা ৫৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বন্দরের চলমান সমস্যার প্রায় ৮০ শতাংশ সমাধান হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে এইচপিভি ভ্যাকসিনেশন ফিডব্যাক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীতে এইচপিভি ভ্যাকসিন কার্যক্রমের ফিডব্যাক নিয়ে এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউনিসেফের সহায়তায়, জেলা তথ্য অফিসের তত্ত্বাবধানে এবং পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার সঞ্চালনা করেন পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসার অনিমেষ চন্দ্র হালাদার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ভুপেন চন্দ্র মন্ডল, ডাব্লুএইচও প্রতিনিধি ডা. আবদুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক খোকন হাওলাদার, আবদুস সালাম আরিফ, ইসরাত লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং স্থানীয় দৈনিক গণদাবী পত্রিকার সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া।

কর্মশালায় বক্তারা এইচপিভি ভ্যাকসিনের গুরুত্ব এবং এর মাধ্যমে কীভাবে গর্ভাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তারা এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করার আহ্বান জানান। এছাড়াও, এইচপিভি ভ্যাকসিনেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আরও সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারতের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতীয় গণমাধ্যমের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত আমাদের নিয়ে মিথ্যাচার করছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতের মতো কোনো মিথ্যা রিপোর্ট যেন আমাদের গণমাধ্যম প্রকাশ না করে, এটি আমাদের সকলের প্রতি অনুরোধ।”

সভায় তিনি বরিশালের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রশংসা করে বলেন, “দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বরিশালের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। তবে, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জনবান্ধব করে তুলতে হবে। জনবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “আগে পুলিশ বাদী হয়ে অনেক আসামী দিতো, কিন্তু এখন পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে না। বরং সাধারণ মানুষই বাদী হয়ে মামলা করে আসামী করে। এই পরিবর্তন জনবান্ধব পুলিশিংয়ের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।”

বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সের গ্রাটিটিউড হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় বরিশাল বিভাগের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন: বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ ময়নুল ইসলাম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদু রহমান,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল আজিম,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম
,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

সড়কপথে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বরিশাল সার্কিট হাউজে পৌঁছান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এরপর পুলিশ লাইন্সে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে, বিকেলে তিনি বরিশাল কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২৫টি জেলা আদালতে ১৩শ সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নভেম্বর মাসের ৩ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত ১১ দিনে দেশের ২৫টি জেলার বিভিন্ন আদালতে ১ হাজার ২৯৯ জন আইনজীবীকে সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ড. মো রেজাউল করিম।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি কৌঁসুলি (জিপি), অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি, সহকারী সরকারি কৌঁসুলি, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে ১ হাজার ২৯৯ জন আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।




বাউফল ইউএনও মো. বশির গাজীর বদলি, স্বস্তিতে এলাকাবাসী

অবশেষে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বশির গাজীকে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বরগুনার বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফারুক আহমেদ। বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনের কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা থেকে ইউএনও মো. বশির গাজীর বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে দুইবার তাকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনের কার্যালয় ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলেও অদৃশ্য কারণে সেই আদেশ স্থগিত হয়েছিল।

সম্প্রতি বাউফল উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনে মো. বশির গাজীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেন তারা, যেখানে ইউএনওর বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং না করা, চাঁদাবাজি বন্ধে নিরব ভূমিকা পালন করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য, এবং জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

আব্দুর রশিদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সেলিম রাজা অভিযোগ করেন, “মাউশির দুই দফা তদন্তে আমার প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়োগ অবৈধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ইউএনও বশির গাজী তাকে পদে বহাল রাখেন। প্রতিবাদ করলে আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।”

বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিলন অভিযোগ করেন, “ইউএনও মো. বশির গাজী বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞাপনের বরাদ্দ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন। এতে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।”

বাউফল উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মুনতাসীর তাসরিপ বলেন, “অবশেষে তার বদলি হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তার মতো দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাহী অফিসার বাউফলে আগে কখনো আসেনি।”

৩৫তম বিসিএস ক্যাডারের মো. বশির গাজী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-০৭ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

বদলির আদেশ সম্পর্কে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সদ্য বিদায়ী ইউএনও মো. বশির গাজী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে বিএনপিপন্থিদের ক্ষোভ

পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন কর্মকর্তা (সরকারি কৌঁসুলি) নিয়োগ নিয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের নাম থাকায় এবং দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী আইনজীবীরা বাদ পড়ায় এ ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। বুধবার দুপুরে এই নিয়োগ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা প্রতিবাদ জানান।

তালিকা প্রকাশের পর বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। এ সময় নবনিযুক্ত কিছু আইন কর্মকর্তার চেম্বারে তালা লাগিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা। তাদের দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের অভিযোগ স্পষ্ট এবং বিএনপির পরীক্ষিত ও ত্যাগী আইনজীবীরা অবহেলিত হয়েছেন।

জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন বলেন, “নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত আইনজীবীরা। আমরা এ নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছি এবং এর বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনগত ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেব।”

নবনিযুক্ত পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উপদেষ্টা মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “নতুন তালিকায় আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের নাম থাকার কারণে আমাদের ত্যাগী আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।”

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সুপ্রিম কোর্টের সলিসিটর অনু বিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে ৭৮ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি), অতিরিক্ত পিপি ও সহকারী পিপি ৪৬ জন এবং গভার্নমেন্ট প্লিডার (জিপি), অতিরিক্ত জিপি ও সহকারী জিপি ৩২ জন রয়েছেন। পটুয়াখালী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে উপ-সলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং শীঘ্রই আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই নিয়োগকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করছেন এবং তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গভীর রাতে আহতদে নিটোরে চার উপদেষ্টা: হাসপাতালে ফিরলেন আহতরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বুধবার দিবাগত গভীর রাতে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান পঙ্গু হাসপাতালের সামনে আসেন। তাদের দাবি পূরণের আশ্বাসে সড়ক থেকে হাসপাতালে ফিরতে রাজি হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

এ সময় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সচিবালয়ে আহতদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হবে। কীভাবে তাদের পাশে সরকার থাকতে পারে, সে বিষয়ে সেখানে আলোচনা করা হবে।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা আছে, ভুল আছে। আপনাদের প্রতি আমাদের অনেক অনেক অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি। চেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু আমরা করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধান উপদেষ্টার কাছে গিয়েছি। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে বলেছিলেন যে সবার চিকিৎসাসহ যা কিছু দরকার, তা উনি করবেন। আমাদের অবশ্যই ঘাটতি ছিল। আপনাদের এভাবে বসে থাকা আমাদের ভালো লাগছে না। এটি আমাদের জন্যও হৃদয়বিদারক ঘটনা।

এদিন রাত ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় সেখানে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা যে চারজন উপদেষ্টাকে এখানে আসার দাবি জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন ঢাকার বাইরে, একজন বিদেশে ও আরেকজন ক্যানসারের রোগী। তারা চাইলে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এখানে আসতে পারেন। আর তা না হলে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া যায়, তখন উপদেষ্টাদের সঙ্গে বসা যাবে। উপদেষ্টাদের কাছ থেকে আহত ব্যক্তিদের দাবির বিষয়ে লিখিত নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

এ সময় আহত আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একজন বলেন, ‘আমরা হাসনাত ভাইয়ের সঙ্গে একমত। কালকে চার উপদেষ্টা আসা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।’ হাসপাতাল থেকে বিছানাপত্র নিয়ে এসে সবাই সড়কে অবস্থান করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। এরপর থেকে ক্ষুব্ধ আহতরা বিছানাপত্র নিয়ে এসে পঙ্গু হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।

ঘটনার শুরু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুককে সঙ্গে নিয়ে পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনে যাওয়ার পর। তারা চতুর্থ তলার পুরুষ ওয়ার্ড প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এক পর্যায়ে তারা চলে যেতে চাইলে তিন তলার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীনদের দেখতে না যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন গণআন্দোলনে আহতরা। পরে নিচে এসে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন কয়েকজন।

হাত, পা, চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা এই রোগীরা হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। তারা বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সবার সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বেন না। এ ছাড়া ঘোষণার পর এখনও আহত ব্যক্তিদের ১ লাখ করে টাকা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এর পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার অন্য গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন।




আসিফ নজরুলকে হেনস্তা: চাকরি হারালেন কাউন্সেলর

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরের সামনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে হেনস্তার ঘটনায় লেবার কাউন্সেলর মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম চাকরি হারিয়েছেন।

এছাড়া, সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী মিজান, যিনি লোকাল স্টাফ হিসেবে জেনেভা মিশনে কর্মরত ছিলেন, তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর, সরকার এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইজারল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থায়ী মিশনের মাধ্যমে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং জানতে চেয়েছে কেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রটোকল থাকার পরও এমন একটি ঘটনা ঘটল, এবং এর সঙ্গে কাদের যোগসাজশ রয়েছে।

জেনেভার বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া একজন কর্মকর্তা এবং এক লোকাল স্টাফের মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মিশনের প্রতিবেদনের আলোকে মুহাম্মদ কামরুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত ঢাকায় ফিরতে বলা হয়েছে।

হেনস্তার ঘটনার তিন হোতা শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম জমাদার, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সুইজারল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জেনেভায় আসিফ নজরুলের হেনস্তার পর, বাংলাদেশ সরকারের সব মিশনে একটি জরুরি পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। পরিপত্রে দুটি বিষয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে: এক, বিদেশে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরের সময় যথাযথ প্রটোকল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং দুই, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাষ্ট্রদূতসহ মিশনের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চিকিৎসকসহ জনবল সংকটে কলাপাড়া হাসপাতালের সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত

কলাপাড়া উপজেলা সদরসহ কুয়াকাটা ও মহিপুর অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট মারাত্মকভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত করছে। ৫০ শয্যার কলাপাড়া হাসপাতাল, ২০ শয্যার কুয়াকাটা হাসপাতাল এবং মহিপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থাও তথৈবচ। হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক, বিশেষ করে শয্যার সংখ্যা ও চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলাপাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৩৫০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন, কিন্তু সেখানে মাত্র ৩-৪ জন চিকিৎসক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই চিকিৎসকরা সময়মতো এত সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে পারছেন না, ফলে অনেক রোগী বাধ্য হচ্ছেন বাইরে গিয়ে চেম্বারে চিকিৎসা নিতে। একইভাবে ভর্তি হওয়া রোগির চাপও অনেক বেশি, যা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা থেকে অনেক বেশি।

কলাপাড়া উপজেলা সদরে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি বর্তমানে মাত্র ১১ জন চিকিৎসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যদিও এখানে চিকিৎসকের পদ ৩৬টি। অধিকাংশ সময় স্বাস্থ্য প্রশাসক প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকেন, আর একজন চিকিৎসক প্রেষণে পটুয়াখালীতে কর্মরত। ফলে, চারজন চিকিৎসক তিন-সাড়ে তিন শ’ রোগীকে সেবা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত আছেন, যেখানে প্রতিটি রোগীর জন্য মাত্র ৫ মিনিট সময় বরাদ্দ করা সম্ভব হয়। জরুরি বিভাগও হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক সংকটের কারণে।

এছাড়া, হাসপাতালের কর্মচারীদের ৭৬টি পদ খালি রয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করানো হচ্ছে, কিন্তু তা যথাযথ নয়। কুয়াকাটা হাসপাতালেও একই ধরনের সমস্যা বিদ্যমান।

প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকারি ব্যবস্থা থাকলেও, রোগীরা কিছু পরীক্ষার জন্য বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকদের পছন্দের ক্লিনিকে পাঠাতে। জুন মাসের পর থেকে জরুরি মেডিসিন সরবরাহ না হওয়ার কারণে রোগীরা অনেক প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালের বাথরুম এবং টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও রোগীদের অভিযোগ রয়েছে, এবং নার্স-আয়া, ক্লিনারদের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

রোগীদের খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী পারভিন জানাচ্ছেন, হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ পেয়ে হলেও বেশিরভাগ সময় বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছে। খাবারের মান সম্পর্কে রোগীদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, সকালে শুধুমাত্র রুটি এবং কলা দেওয়া হচ্ছে, আর দুপুর ও রাতে সেদ্ধ ডিম ও আলুর ঝোলের সাথে রান্না করা হচ্ছে।

হাসপাতালের আরেকটি বড় সমস্যা হল বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব। সিঙ্গেল ফেইজ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে লোডশেডিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে এবং জেনারেটর থাকলেও সবসময় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হয় না। এ কারণে ভ্যাকসিনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষণও যথাযথভাবে করা যাচ্ছে না।

এ সকল সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন, যাতে কলাপাড়া হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো রোগীদের উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হয়।