শম্ভুর এমপিওভুক্তির নামে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ: শিক্ষকরা ফেরত চাইছেন

বরগুনার আমতলী উপজেলার বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও টিয়াখালী কলেজের এমপিওভুক্তির কথা বলে সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও, দুটি কলেজই এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি এবং এ ব্যাপারে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে শম্ভুর কাছে টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০১০ সালে আমতলী উপজেলার বকুলনেছা মহিলা কলেজে ডিগ্রী শাখা খোলা হয় এবং ২০১৮ সালে ওই শাখাটি এমপিওভুক্ত করার কথা বলে সাবেক সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তবে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ওই শাখাটি এমপিওভুক্ত হয়নি। একইভাবে ২০১৬ সালে টিয়াখালী কলেজের এমপিওভুক্তির জন্য শম্ভু ২৫ লাখ টাকা নেন, কিন্তু কলেজটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

এমপিওভুক্তির আশায় শিক্ষকরা টাকা পরিশোধ করেছিলেন, কিন্তু এখন তাদের দাবি, ওই টাকা ফেরত না পাওয়ার কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বকুলনেছা মহিলা কলেজের কর্মচারী রশিদ মৃধা জানান, “আমার কাছে শেষ সম্বল ছিল একটি গরু, সেটি বিক্রি করে এক লাখ টাকা শম্ভুকে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সেই টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে শম্ভুর কাছ থেকে অসংখ্য হয়রানির শিকার হয়েছি। আল্লাহ বিচার করবেন।”

এছাড়া বকুলনেছা মহিলা কলেজের প্রভাষক মোসাঃ শাহিনুর তালুকদারও বলেন, “এমপিওভুক্তির কথা বলে সাবেক সাংসদ শম্ভু ২২ লাখ টাকা নিয়েছিল, কিন্তু আজও আমাদের কলেজের ডিগ্রী শাখাটি এমপিওভুক্ত হয়নি। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে শম্ভুর কাছে হয়রানির শিকার হয়েছি।”

টিয়াখালী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, “জীবনে যা আয় করেছি তার বেশিরভাগই খরচ করে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছি। ২০১৬ সালে শম্ভু ২৫ লাখ টাকা নিয়েছিল, কিন্তু আজও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি নানা অজুহাত দিচ্ছেন এবং বলছেন কাল ক্ষেপণ করছে।”

এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, “যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এদিকে, গত সোমবার রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে ডিবি পুলিশ সাবেক সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তিনি ছয় দিনের রিমান্ডে আছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পুনর্বাসন, ইউনিক আইডি কার্ড দেয়া হবে: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকার ইউনিক আইডি কার্ড প্রদানসহ একাধিক সুবিধা নিশ্চিত করবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী দায়িত্ব পাওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. সায়েদুর রহমান বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক বৈঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জুন-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতার সঙ্গে আলোচনা করেন ৬ উপদেষ্টা। বৈঠকের পর ড. সায়েদুর রহমান জানান, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে আহতদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং তাদের একটি ইউনিক আইডি কার্ড প্রদান করবে।

ড. সায়েদুর রহমান জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আহতদের আইডি কার্ড তৈরি হলে তারা সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে সারাজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। এছাড়া, যেসব বেসরকারি হাসপাতালে সরকার চুক্তি করবে, সেখানেও সরকার খরচ বহন করবে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকারের সমস্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং এর জন্য একটি সুষ্ঠু রূপরেখা তৈরির কাজ চলমান।

তিনি আরো বলেন, আহতরা যদি পূর্বে ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসার জন্য খরচ করে থাকেন, তবে তাদের যথাযথ তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সেই খরচ ফেরত দেয়া হবে। যারা চোখ হারিয়েছেন তাদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে, এবং পঙ্গু হয়ে পড়া ব্যক্তিদের সাধ্যমতো চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করা হবে।

ড. সায়েদুর রহমান জানান, ১৭ নভেম্বরের পর আহতদের জন্য একটি সাপোর্ট সেন্টার চালু করা হবে, যেখানে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া, ঢাকা শহরের সব সরকারি হাসপাতালকে একটি নেটওয়ার্কে আনা হবে, যাতে দ্রুততম সময়ে আহতদের চিকিৎসা প্রদান করা যায়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি প্রয়োজন হয়, তবে সরকার বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে, এবং এই প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “রাষ্ট্রের অনেক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তবে শহিদ ও আহতরা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

তিনি আরও বলেন, “এই সরকারই শহিদ ও আহত পরিবারগুলোর সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে, এবং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে মোটরসাইকেল চাপায় গৃহবধূ নিহত, যুবদল নেতা আহত

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম জেসমিন বেগম (৪৫)। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে কাঁঠালিয়া-ভান্ডারিয়া সড়কের কাঁঠালিয়া ব্র্যাক অফিসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল চালক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুল ইসলাম জনি সহ আহত হয়েছেন আরও দুই জন।

নিহত জেসমিন বেগম কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজলিয়া ইউনিয়নের বলতলা গ্রামের সুলতান শেখের স্ত্রী ছিলেন। পুলিশ জানায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল জেসমিন বেগমকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে চালকসহ মোট তিন জন আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেসমিন বেগম মারা যান।

কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই গ্রহণ করার জন্য তারা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যানজট নিয়ন্ত্রণে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে শৃঙ্খলা ফিরেছে

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের চাপ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে প্রতিদিন শতাধিক নতুন ট্রিপ যোগ হয়েছে, যার ফলে যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, বাস মালিক গ্রুপ, শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগের ফলস্বরূপ বর্তমানে এই জায়গাটিতে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

বিগত সময়ে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল ছিল যানজট ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু। বাস পার্কিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না, যার কারণে গাড়ি মূল সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাতে গিয়ে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হত। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ট্রাফিক পুলিশ ও বাস মালিক গ্রুপ একযোগে ব্যবস্থা নেয়, যার ফলে সেখানে যানজট শূন্যের কোঠায় চলে আসে এবং বাস টার্মিনালের সৌন্দর্যও ফিরে আসে।

বর্তমানে, বাসগুলো শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে পার্কিং করা হচ্ছে এবং থ্রি-হুইলারগুলো নির্দিষ্ট স্থানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। বাস মালিক গ্রুপ এবং শ্রমিক ইউনিয়নও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় যানজট কমাতে কাজ করছে। টার্মিনাল এলাকার অবৈধ দোকানপাটগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে সড়কে আরো বেশি জায়গা পাওয়া যায় এবং যানজট কমে।

ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কাজ করছে ৯ সদস্যের একটি টিম, যার নেতৃত্বে আছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মামুন আল আমিন। তিনি এবং তার টিম ২৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালাচ্ছেন যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তাদের সহায়তায়, গত কয়েক মাসে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় যানজটের পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সদস্য মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যাত্রী সেবা উন্নত করতে। আমাদের সহযোগিতায় ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমিক ইউনিয়ন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।”

এদিকে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামও জানিয়েছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশ কঠোর মনোভাব নিয়েছে এবং এটি ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে ট্রাফিক বিভাগের পুলিশদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।”

এছাড়া, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা মামুন আল আমিন জানান, “আমরা যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি এবং আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“কোনো অজুহাতেই জঙ্গিবাদ অ্যালাউ করতে পারি না”: আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

কোনোভাবেই কোনো অজুহাতে বা মোড়কে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের প্রচার বা অনুমোদন দেওয়া যাবে না, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘‘জঙ্গিবাদকে কখনোই অ্যালাউ করা যাবে না, এবং এটি যে কোনো মোড়কে হোক না কেন, আমরা তা গ্রহণ করতে পারি না।’’

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ২০০৫ সালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত জেলা জজ আদালতের দুই বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহমেদের স্মরণে আয়োজিত একটি সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভাটি জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ছিল।

এসময় ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘‘জঙ্গিবাদ কতটা ভয়াবহ, তা আমাদের দুই বিচারকের মৃত্যুর ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জঙ্গিবাদ মানুষের জীবনকে কতটা নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং বেপরোয়া করে তোলে। কোনো ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ছড়ানো যায় না। আমি মনে করি পৃথিবীতে অন্য কোনো বিষয় মানুষকে এত নিষ্ঠুর এবং মরিয়া করে তুলতে পারে না, যতটা পারে জঙ্গিবাদ।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এখন বাংলাদেশের চারপাশে এমন কোনো বন্ধুভাবাপন্ন দেশ নেই, যারা আমাদের দেশকে হেয় করার চেষ্টা করবে না। তারা সবসময় চেষ্টা করে কোনো ঘটনা নিয়ে ষড়যন্ত্র বা হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে।’’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘‘যদি আমরা দেশের ভালো চাই, সমাজের ভালো চাই, বন্ধুদের ভালো চাই, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে—যে কোনো মূল্যে। আর কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, ফ্যাসিবাদ বা অপকর্মের মুখে আমাদের দেশের সম্ভাবনাকে ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না।’’

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সাব্বির ফয়েজ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চায় বিএনপি: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘বিএনপি এমন বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে কোনো ব্যক্তি, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও স্বেচ্ছাচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না।’’

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশো’তে ‘‘সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার, অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে প্রণীত ‘৩১-দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা ও নাগরিক ভাবনা’’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যেন স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য বিএনপি সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে চায়, যাতে কেউ পরপর দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে না পারে। আমরা আইন, বিচার এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখতে চাই এবং সমাজের জ্ঞানী-গুণীদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে চাই।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমানে দেশে আলোচিত প্রায় সব সংস্কার প্রস্তাবই আমাদের ৩১ দফায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে শুধু সংবিধানের কয়েকটি বাক্য পরিবর্তন নয়, বরং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। একজন মানুষের রোজগারের ব্যবস্থা হবে, তার ও পরিবারের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা এবং সঞ্চয় নিশ্চিত হবে। আমি সংস্কার বলতে সেটি বুঝি, যা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিটি নারী ও পুরুষের বেকারত্ব সমস্যা সমাধান করবে। এমন সংস্কার, যা নারীদের সম্মান, স্বাধীনতা এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।’’

বিএনপির ৩১ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে দেশের সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন এনে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাঠামোকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ড. ইউনূসের আহ্বান: বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে অভিবাসন বাড়ানো হোক আইনি মাধ্যমে

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে অভিবাসন বাড়ানোর জন্য আইনি পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ঝুঁকি ও অনিয়মিত অভিবাসন কমে যাবে এবং মানবপাচারের বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ-২৯ বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনের ফাঁকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করার সময় শ্রম ইস্যুটি আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার এবং আমরা সব শ্রম সমস্যার সমাধান করতে চাই।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বাস করি, আইনি এবং নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা শ্রম বাজারে আরও সুফল বয়ে আনবে, যা ঝুঁকি হ্রাস এবং মানবপাচার বন্ধে সহায়ক হবে।’’

থেরেসা মে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রম ও অভিবাসন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তিনি মানবপাচার বিরোধী কার্যক্রমে বাংলাদেশকে সহায়তা করার বিষয়েও আলোচনা করেন।

অধ্যাপক ইউনূস এই বৈঠকে থেরেসা মে-কে বাংলাদেশের বিপ্লবী তরুণদের আঁকা গ্রাফিতি এবং ম্যুরাল নিয়ে ‘‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’’ শিরোনামে একটি বই উপহার দেন, যা জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিপ্লবী আন্দোলনের প্রতীক।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব ও মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, তুরস্ক এবং আজারবাইজানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে পৃথক বাসচাপায় ২ নারী নিহত, ৪ জন আহত

পিরোজপুরে পৃথক বাসচাপায় দুই নারী নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আখি আক্তার (৩৪) ও দিপ্তী রানী সাহা (৫২)। আখি আক্তার পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার চিরাপড়া ইউনিয়নের ইমরান হাওলাদারের স্ত্রী, এবং দিপ্তী রানী সাহা পিরোজপুর পৌরসভার রাজারহাট এলাকার সঞ্জীব সাহার স্ত্রী।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন, ইমরান হাওলাদার (২৪), জহুরা বেগম (৬৫), রেশমা বেগম (৩০), এবং ফোরকান হাওলাদার (৬০)। আহতরা সবাই কাউখালি উপজেলার চিরাপড়া গ্রামের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পিরোজপুরে ইমাদ পরিবহনের একটি বাস বরিশাল থেকে পিরোজপুরের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বাগেরহাট থেকে পিরোজপুরের কাউখালী যাচ্ছিল। রানিপুর নিমতলা নামক স্থানে অটোরিকশাটি আরেকটি অটোরিকশাকে পাশ কাটাতে গিয়ে ইমাদ পরিবহনের বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু ওই নারীদের একজন মারা যান।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক সুমন হালদার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বরিশালে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পথে এক নারীর মৃত্যু হয়।

এদিকে, আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায়। সেখানে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে দিপ্তী রানী সাহা বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান।

নিহতের জামাতা সুষেন কুমার দত্ত জানান, তার শাশুড়ি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কদমতলা বাজারের কাছাকাছি যাচ্ছিলেন, তখন পিরোজপুর থেকে ঢাকাগামী ওয়েলকাম পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। বাসটি তাকে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাসটি আটকিয়ে তাকে নামিয়ে রাখেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছোট ভাই সুজা সাহা জানান, তার বোন রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাসটি তাকে চাপা দেয়।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোবাহান হোসেন বলেন, ‘‘এ দুর্ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’’

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চলমান সংস্কারে বিএনপির ৩১ দফার প্রতিধ্বনি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলমান সময়ের সংস্কার দাবিগুলোর অধিকাংশই বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি এই মন্তব্যটি বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল লেকশো’র এক সেমিনারে, যা বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে প্রদান করেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও কেন আমাদের মৌলিক অধিকার, যেমন লেখা, বাক স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে? আমরা এক নতুন সিস্টেমে আছি, যেখানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ জনগণের সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে পরাজিত করেছি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা সংস্কারের বিষয়টি আগেই জাতির কাছে তুলে ধরেছি এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো ঐক্যমত হয়ে ৩১ দফা ঘোষণা করেছি। চলমান সময়ে চাওয়া সংস্কারগুলোর বেশিরভাগই আমাদের ৩১ দফার সাথে মিল রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে আমরা সফলতা অর্জন করতে পারব।’’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘‘আমাদের ৩১ দফা বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ। এটি জাতির সনদ হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে। এটি আমাদের ঐক্য এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে বা বিচ্ছিন্ন হতে পারে, তবে এটি একমাত্র পথ হতে পারে জাতির জন্য।’’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘বিএনপি যদি তাদের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে আমি তাদের পক্ষে কথা বলব। তবে যদি তা না পারে, আমি বিএনপির মঞ্চে আর তাদের পক্ষে কথা বলব না। বাংলাদেশের আগামী ভবিষ্যৎ বিএনপির বিচক্ষণতার ওপর নির্ভরশীল।’’

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো মানুষের দিন বদলের কর্মসূচি দেয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। পরিবর্তন আসে রাজনীতিক নেতাদের, যা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’’

জাতীয় পার্টি বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘‘বিএনপির ৩১ দফা শেষ নয়, সময়ের সঙ্গে আরও কিছু দফা যুক্ত হতে পারে।’’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘‘গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠদের শাসন ব্যবস্থা, কিন্তু সংস্কারে সংখ্যালঘুদের কী হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।’’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘‘সংবিধানে কিছু বিষয় রয়েছে, যেমন ইসলাম ধর্ম এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা, যা নিয়ে মঞ্চে আলোচনার প্রয়োজন নেই।’’

এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং মিডিয়া সেলের সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুল। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ডা. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল এলো চট্টগ্রামে, দেবে প্রশিক্ষণ

বিশ্বের একমাত্র স্বীকৃত উড়োজাহাজে স্থাপিত চক্ষু চিকিৎসাশিক্ষা ও সার্জিক্যাল হাসপাতাল অরবিস উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে। এটি ১১তম বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে চক্ষুরোগ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিতে। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এমডি-১০ উড়োজাহাজ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবতরণ করে।

এ সময় অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লাহ আলমগীর এবং চিটাগং আই ইনফারমারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্স (সিইআইটিসি) এর অধ্যাপক ডা. মুনিরুজ্জামান ওসমানী উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতালটিকে স্বাগত জানান।

অরবিসের প্রথম প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে। এবারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলবে ১৮ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত, যেখানে অরবিসের ক্লিনিকাল স্টাফ এবং স্বেচ্ছাসেবক ফ্যাকালটি বাংলাদেশের চক্ষুচিকিৎসক এবং চক্ষু স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সরাসরি অস্ত্রোপচার ও রোগীদের যত্ন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দেবেন। এছাড়াও সিমুলেশন প্রশিক্ষণ এবং চক্ষু চিকিৎসা বিষয়ক কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হবে।

অরবিস ইন্টারন্যাশনাল একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি-সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে সংস্থাটি ২ শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে কাজ করছে। বাংলাদেশে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো চোখের যত্নের মান উন্নয়ন, চক্ষুসেবা পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ এবং চোখের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

অরবিসের এবারের কর্মসূচি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে, অ্যালকন ফাউন্ডেশন এবং ফেডেক্সের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং অ্যালকন কেয়ারস, ওফথালমোলজিকাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি), বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) এবং ন্যাশনাল আই কেয়ার (এনইসি) এর সহায়তায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ প্রশিক্ষণে মূলত চোখের ছানি, অকুলোপ্লাস্টিক, সার্জিক্যাল রেটিনা, শিশু গ্লুকোমা, কর্নিয়া এবং অ্যানেস্থেসিওলজি, নার্সিং ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। চট্টগ্রামের চিটাগং আই ইনফারমারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্স (সিইআইটিসি) এবং উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল এর মধ্যে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ডা. মুনির আহমেদ বলেন, “আমরা গর্বিত যে, বাংলাদেশে আবারও উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল নিয়ে আসতে পেরেছি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম আই ইনফারমারি এবং ট্রেনিং কমপ্লেক্সের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের চক্ষুসেবার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম