২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের ভয়াবহ স্মৃতি, পটুয়াখালীতে এখনও আতঙ্কিত মানুষ

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ আঘাত হানে। এক রাতেই পটুয়াখালীতে প্রাণ হারায় প্রায় ৪৬৬ জন, নিখোঁজ হয় আরও ২১১ জন। সিডরের আঘাতে প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয় এবং ১,০০,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। যদিও এরপর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তবে সিডরের ভয়াবহ স্মৃতি আজও স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

সিডরের প্রভাব পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছিল মৎস্য খাতে। প্রচুর মাছের খামার ও জলাশয় ধ্বংস হওয়ায় জেলার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়ক, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, এবং বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তৎকালীন জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও যৌথভাবে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করে, তবে সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

সিডরের ভয়াবহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মো. সেলিম (৫৫) বলেন, “সিডরের দিনটি ভুলতে পারি না। সেদিন অনেক কিছু হারিয়েছি। আবহাওয়া খারাপ হলেই আজও মনে হয় সিডর আবার আসবে।”

জাহানারা বেগম (৬৯) জানান, “আমার বাড়ি সব কিছু ভেঙে গিয়েছিল। সেই ভয়াবহ সময়গুলোর কথা মনে হলে এখনও ভীত হয়ে পড়ি।”

সিডরের রাতে সন্তান হারানো রহিমা বেগম (৬৫) জানান, “সেই রাতের ঝড়ে আমার একমাত্র ছেলে হারিয়ে যায়। অনেক খুঁজেছি, কোথাও পাইনি। আজও আশা করি, সে ফিরে আসবে।” এসব হৃদয়বিদারক স্মৃতি স্থানীয়দের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

সিডরের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেশ উন্নতি হয়েছে পটুয়াখালীতে। বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলে সাইক্লোন শেল্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দুর্যোগকালীন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও বাঁধ সংস্কারের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। ফলে এখনকার মানুষ আরও বেশি প্রস্তুত সাইক্লোনের মতো দুর্যোগের মোকাবিলায়।

তবুও, ২০০৭ সালের সিডরের ভয়াবহ অধ্যায় পটুয়াখালীবাসীর জন্য এক গভীর দুঃস্বপ্ন হয়ে থেকে গেছে, যার স্মৃতি আজও মানুষকে আতঙ্কিত করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টায় চ্যালেঞ্জ: আইসিজি

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। সংস্থাটি বলছে, জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা এই সরকারের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

আইসিজি বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে প্রকাশিত “আ নিউ এরা ইন বাংলাদেশ? দ্য ফার্স্ট হানড্রেড ডেজ অব রিফর্ম” শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই মতামত তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন, এবং ৮ আগস্ট ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

নতুন সরকার ইতোমধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, নির্বাচন কমিশন ও শিক্ষা খাতে সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সংস্থাটি মনে করে, এই স্বল্পসময়ে সব সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব নয়। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সংস্কার কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে হবে, যাতে জনগণের সমর্থন অব্যাহত থাকে।

আইসিজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের প্রতিশ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশ আবারও অস্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে যেতে পারে, এমনকি সেনা শাসনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এই সরকারকে সফল হতে হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আইসিজি আরও উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তায় দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। যদিও আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় নয়, তবে বিএনপিকে এই সরকার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে আইসিজি পরামর্শ দিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায়, সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে চাইলে নির্বাচনের দাবি আরও তীব্র হবে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।

আইসিজির মতে, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সফলতা নির্ভর করছে তাদের সংস্কার কার্যক্রমের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জাতীয় ঐক্য রক্ষার উপর।

মো: তুহিন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেল ১ জন বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়েছে প্রায় ৩৪৭৫ জন শিক্ষার্থীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট না হয়ে খাতা চ্যালেঞ্জ করা প্রায় ৩ হাজার ৪৭৫ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। তাদের মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯৪ জন। আগের ফলাফলে অনুত্তীর্ণ থাকা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা চ্যালেঞ্জের পর সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ জন। শুধু তাই নয়, আগের প্রকাশিত ফলাফলে ফেল থাকা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা চ্যালেঞ্জ করে পাস করেছেন ৪১০ জন শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের এইচএসসির পুনঃনিরীক্ষণের ফলে এমন অস্বাভাবিক ফল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। খাতা মূল্যায়নের এই চিত্রকে বিপজ্জনক বলছেন শিক্ষাবোর্ড সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ৯টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা বোর্ডের প্রকাশিত পুনঃনিরীক্ষণের ফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল (সন্ধ্যা ৬টা) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।

গত ১৫ অক্টোবর চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। এতে গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে সে খাতা চ্যালেঞ্জ করার জন্য গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। এরপর আজ পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হলো।




সংস্কারের গতি নির্ধারণ করবে কবে বাংলাদেশ নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

অচন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সংস্কারের গতি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কত তাড়াতাড়ি নির্বাচনে যেতে পারবে।

তিনি বলেছেন, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভোটের মাধ্যমে দেশে একটি নতুন সরকার নির্বাচিত করার আগে নানা সংস্কার দরকার।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ-২৯ সম্মেলনের ফাঁকে বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, তিনি দেশকে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ যতটা সম্ভব কম হওয়া উচিত। দ্রুতই ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছে অন্তর্বর্তী প্রশাসন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি প্রতিশ্রুতি, যা আমরা দিয়েছি। আমরা প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথেই নির্বাচন দেবো এবং নির্বাচিত ব্যক্তিরা ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন।’

তিনি বলেন, সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকার, জাতীয় সংসদ ও নির্বাচনী বিধিমালার কাঠামোর বিষয়ে দেশে দ্রুত ঐকমত্য দরকার।

দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতার বিষয়ে ড. ইউনূস জানান, যেকোনো সরকারই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকবে। তার সরকারও আছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে এটি সমাধান করতে পারব এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পারব।’




কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব ও রাস মেলা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গতকাল (১৪ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব ও রাস মেলা। ৩ দিনব্যাপী এই উৎসব ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোরে তীর্থযাত্রা শুরু হবে, এবং শনিবার ভোরে পূর্ণ স্নান অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে এবারের রাস উৎসব।

কুয়াকাটায় রাস পূর্ণিমা ও রাস মেলা উপলক্ষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং টুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মেলার জন্য নির্ধারিত স্থানে দোকান-পাট গড়ে উঠেছে এবং কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম রাস মেলায় আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

মেলাকে কেন্দ্র করে খেলনা গাড়ির দোকানদার রফিক উদ্দিন বলেন, “প্রতিবছর কুয়াকাটায় রাসমেলা উপলক্ষে দোকান নিয়ে আসি। এখানে হাজার হাজার মানুষ আসেন, আমরা আশা করছি এবারও ভালো মানুষের সমাগম হবে এবং আমরা ভালো বেচাকেনা করতে পারব।”

কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নীহাররঞ্জন মন্ডল বলেন, “রাস উৎসব শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের রসপূর্ণ কথাবাস্তুকে রাসযাত্রার মাধ্যমে জীবাত্মার থেকে পরমাত্মায় রূপান্তরিত করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এ উৎসব পালন করে থাকে। তারা বিশ্বাস করেন, বঙ্গোপসাগরে জোয়ারে স্নান করার মাধ্যমে তাদের পাপ মোচন হয়। আমরা আশা করছি, এবার উৎসব ভালোভাবে কাটবে।”

রাস মেলাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা কুয়াকাটায় আসেন। প্রতিবছর এই সময় কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এবারের উৎসবেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইডরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, “মেলায় আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের জন্য হোটেল-মোটেলগুলি প্রস্তুত রয়েছে। রাস মেলাকে কেন্দ্র করে কয়েক লাখ পর্যটক আসবে, এবং ব্যবসায়ীরা এতে উচ্ছ্বাসিত।”

এবার রাস মেলার জন্য কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন এবং কুয়াকাটা পৌর প্রশাসন যৌথভাবে ৩ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম জানান, “রাস মেলার জন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, থাকার স্থান, নিরাপদ পানি, সিসি টিভি স্থাপনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। সেনাবাহিনী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ এবং সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এই আয়োজন সফল হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পুলিশি গুলিতে আহত অভিনেতা মাসুদ মহিউদ্দিনের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে অভিনেতা, নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মাসুদ মহিউদ্দিন চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং প্রায় অন্ধ হয়ে জীবন পার করছেন। দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর জন্য তিনি এখনো চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের রাজাখালী গ্রামের এই হাস্যোজ্জ্বল মানুষটি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন পরোপকারী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া মাসুদ মহিউদ্দিনের বাবা সৈয়দ আলতাফ হোসেন ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। তিন সন্তানের মধ্যে মাসুদ ছিলেন বড়। পটুয়াখালী টাউন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পটুয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে তিনি অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন এবং অসংখ্য মঞ্চনাটক, টিভি শো ও চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দিয়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান।

গত ১৯ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরায় আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি তার দুটি চোখে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে যেতে পথে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন এবং পরে আগারগাঁওয়ে চিকিৎসার জন্য রওনা দেন। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসা শুরু করেন। কয়েকটি চোখের অপারেশন করার পরও দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফেরেনি, তবে এক চোখে ৬০ শতাংশ দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন। চিকিৎসকরা আশা করছেন, আরও কিছু অপারেশনের মাধ্যমে তার দৃষ্টি পুনরুদ্ধার হতে পারে।

তিনি জানান, এখানে চিকিৎসার মান বাইরের দেশের থেকেও ভালো এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীরা অত্যন্ত আন্তরিক। তবে, চিকিৎসা ব্যয় এবং পরিবারের ভরণপোষণের বিষয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তার। তিনি সকলের কাছে মানবিক হওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমরা সবাই যেন মানবিক হই।”

এখন মাসুদ মহিউদ্দিন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং তার মানবিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকাবাসী আশা করছেন, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও নাটক ও চলচ্চিত্রের কাজে ফিরবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, লুটপাট ও সন্ত্রাসের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. এনায়েত হোসেন খানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও লুটপাটসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল জব্বার মৃধা এবং সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে শুক্রবারের (১৫ নভেম্বর) মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এনায়েত হোসেন খান দলের দায়িত্বশীল পদে থেকেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত রয়েছেন। তাই কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবুও এনায়েত হোসেন ও তার ছেলে সাইফুলের কার্যক্রম থামেনি। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল নিমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং খেয়াঘাট ইজারাদারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছেন। এছাড়া বাংলাবাজার অটোগাড়ির ষ্ট্যান্ড দখল করে নিয়মিত টোল নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই বিষয়ে এনায়েত হোসেন খান জানান, তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছেন। তিনি ও তার ছেলে চাঁদাবাজি বা লুটতরাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। নিমদী বিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঠিকাদার না থাকায় কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) এ বিষয়ে বলেন, “আমি কাউকে ষ্ট্যান্ড দখল করে টোল নিতে বলিনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় কৃষকের জালে আটকা ৫ ফুট লম্বা বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পূর্ব মধুখালী গ্রামে ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার করেছে এনিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর সদস্যরা। গতকাল (১৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে কৃষক চান মিয়ার বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। সাপটি বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।

এনিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর সদস্য দইউসুফ রনি ও আদনান রাকিব সাপটি উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালোর মধ্যে হলুদ ডোরা রয়েছে এমন এই শঙ্খিনী সাপটি চান মিয়ার বাড়ির জালে আটকা পড়ে। আতঙ্কিত স্থানীয়রা প্রথমে সাপটি মেরে ফেলার চেষ্টা করলেও, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এনিমেল লাভার্সের সদস্যরা এবং সাপটি জীবিত উদ্ধার করে।

কৃষক চান মিয়া বলেন, “বাড়ির আশেপাশে বিষাক্ত কিছু ঢুকতে না পারে সেজন্য আমি জাল দিয়ে রেখেছিলাম। রাতে সেই জালে সাপটি আটকা পড়ে। আমরা প্রথমে সাপটিকে মারতে চেয়েছিলাম, তবে বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সদস্যরা এসে জানায় এটি উপকারী সাপ এবং হত্যা না করাই ভালো।”

এনিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর সদস্য আদনান রাকিব বলেন, “শঙ্খিনী সাপ সাধারণত শান্ত ও লাজুক প্রকৃতির। এগুলো মানুষ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। এমনকি বিরক্ত করলে নিজেদের মাথা শরীরের নিচে লুকিয়ে ফেলে। মানুষের জন্য এগুলো মোটেও হুমকি নয়, বরং অন্যান্য বিষাক্ত সাপ শিকার করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।”

তিনি আরও জানান, সাপটি উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। তাদের মতে, পরিবেশ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের সকলের জানা প্রয়োজন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর ধানখালী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: বশির আহমেদের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় কলেজের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ওমর তালুকদার, শান্ত, উজ্জল ও রাব্বি মোল্লাসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ বশির আহমেদ আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। শিক্ষার্থী ওমর তালুকদার বলেন, “বশির স্যার অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজের ক্ষতি করেছেন। এখন তাকে অপসারণ করা জরুরি। আমরা দ্রুত তার অপসারণ চাই, নতুবা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছি।”

অপর শিক্ষার্থী রাব্বি মোল্লা জানান, “অধ্যক্ষ বশির আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি নানা দুর্নীতি করে আসছেন। মানববন্ধনের শুরুতেই তার সহযোগীরা আমাদের বাধা দেয় ও হামলা চালায়। কিন্তু তাতেও আমরা মানববন্ধন করতে পেরেছি। অধ্যক্ষের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ধানখালী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: বশির আহমেদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হয়নি। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, অধ্যক্ষের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ, যাত্রী সঙ্কটে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া-হুলারাট-ঢাকা নৌরুটে যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে ঘাটে আসা অনেক যাত্রী ফিরে যাচ্ছেন। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) ভান্ডারিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার শাহজাহান এ বিষয়ে জানান, “গত পাঁচ মাস ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা মালামাল নিয়ে ঘাটে এসে ফিরে যাচ্ছেন এবং যাত্রীরা সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য alternative পদ্ধতি খুঁজছেন।”

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কিছুদিন আগেও পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে মোট চারটি লঞ্চ ঢাকা-পিরোজপুর নৌরুটে চলাচল করত। এর মধ্যে দুটি লঞ্চ ভান্ডারিয়া, একটি তুষখালী ও একটি নাজিরপুর বৈঠাকাটা থেকে চলত। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে লঞ্চের যাত্রী সংখ্যা কমতে শুরু করে, ফলে বর্তমানে ভান্ডারিয়া-হুলারাট-ঢাকা রুটে দুটি লঞ্চ চললেও, যাত্রী সঙ্কটের কারণে সম্প্রতি তা বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ।

লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ার পর থেকে ঘাটের দোকানদাররা ক্রেতা সঙ্কটে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, লঞ্চ চলাচল না হওয়ায় তাদের ব্যবসা মন্দার পথে। তারা স্থানীয় প্রশাসন এবং লঞ্চ মালিকদের কাছ থেকে কমপক্ষে একটি লঞ্চ চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাধবী রায় বলেন, “সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় নৌপথে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। তবে জেলার কৃষি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে লঞ্চ ব্যবহৃত হতে পারে। মানুষ এখন দ্রুততার সাথে সড়কপথে যাতায়াত করতে বেশি আগ্রহী।”

এদিকে, স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত কোনো সমাধান আসবে এবং অন্তত একটি লঞ্চ চালু রাখা হবে যাতে তারা নৌপথে যাতায়াত অব্যাহত রাখতে পারেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম