২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের ভয়াবহ স্মৃতি, পটুয়াখালীতে এখনও আতঙ্কিত মানুষ

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ আঘাত হানে। এক রাতেই পটুয়াখালীতে প্রাণ হারায় প্রায় ৪৬৬ জন, নিখোঁজ হয় আরও ২১১ জন। সিডরের আঘাতে প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয় এবং ১,০০,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। যদিও এরপর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তবে সিডরের ভয়াবহ স্মৃতি আজও স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সিডরের প্রভাব পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছিল মৎস্য খাতে। প্রচুর মাছের খামার ও জলাশয় ধ্বংস হওয়ায় জেলার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়ক, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, এবং বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তৎকালীন জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও যৌথভাবে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করে, তবে সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
সিডরের ভয়াবহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মো. সেলিম (৫৫) বলেন, “সিডরের দিনটি ভুলতে পারি না। সেদিন অনেক কিছু হারিয়েছি। আবহাওয়া খারাপ হলেই আজও মনে হয় সিডর আবার আসবে।”
জাহানারা বেগম (৬৯) জানান, “আমার বাড়ি সব কিছু ভেঙে গিয়েছিল। সেই ভয়াবহ সময়গুলোর কথা মনে হলে এখনও ভীত হয়ে পড়ি।”
সিডরের রাতে সন্তান হারানো রহিমা বেগম (৬৫) জানান, “সেই রাতের ঝড়ে আমার একমাত্র ছেলে হারিয়ে যায়। অনেক খুঁজেছি, কোথাও পাইনি। আজও আশা করি, সে ফিরে আসবে।” এসব হৃদয়বিদারক স্মৃতি স্থানীয়দের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
সিডরের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেশ উন্নতি হয়েছে পটুয়াখালীতে। বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলে সাইক্লোন শেল্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দুর্যোগকালীন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও বাঁধ সংস্কারের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। ফলে এখনকার মানুষ আরও বেশি প্রস্তুত সাইক্লোনের মতো দুর্যোগের মোকাবিলায়।
তবুও, ২০০৭ সালের সিডরের ভয়াবহ অধ্যায় পটুয়াখালীবাসীর জন্য এক গভীর দুঃস্বপ্ন হয়ে থেকে গেছে, যার স্মৃতি আজও মানুষকে আতঙ্কিত করে।








