অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিনে রিজার্ভ, ব্যাংক খাত ও মূল্যস্ফীতিতে লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ তম  দিনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনগুলো রিজার্ভ, ব্যাংক খাত এবং মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রভাব ফেলেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলির মধ্যে কিছু ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, দেশের রিজার্ভ সংকট, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পরও পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়নি। চলুন, এসব বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা যাক।

রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স:

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত কয়েক বছর ধরেই সংকটে রয়েছে। বিশেষত, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল, যা দাঁড়িয়েছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। তবে কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার পাচার পরিস্থিতির কারণে রিজার্ভে ধীরে ধীরে পতন ঘটতে থাকে। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য রিজার্ভ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এটি দেশের আমদানি খরচ মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে, অন্তর্বর্তী সরকার রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ছিল ১৩৩ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলেন, এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন, যা রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “গত কয়েক মাসে রেমিট্যান্স ফ্লো বাড়ছে, যা রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।” তিনি আরও বলেন, “ফরমাল চ্যানেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ১৭০ কোটি ডলার আসতো, এখন তা ২০০ কোটি ডলারের উপরে চলে গেছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, “সরকার যদি অফিশিয়াল চ্যানেলে মুদ্রা পাঠানোর ক্ষেত্রে যে রেট নির্ধারণ করেছে, তা বাজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখা যায়, তাহলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।”

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, রিজার্ভের সংকট মোকাবিলায় সরকার কোনো ধরনের ‘হস্তক্ষেপ’ বা ‘রিজার্ভে হাত দেয়া’ প্রয়োজন হয়নি, যা রিজার্ভের প্রতি কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।

ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি:

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে একটি সংকটকালীন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন ‘সবল’ এবং ‘দুর্বল’ এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত। কয়েকটি ব্যাংক অনাদায়ী ঋণ ও খেলাপি ঋণের কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। এর ফলস্বরূপ, দেশের ব্যাংকিং খাত বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। গত কয়েক মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন ব্যাংককে তারল্য সংকট মোকাবিলায় বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের সীমা বেঁধে দেয় এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা পুনরায় তুলে নেয়। তবুও কিছু ব্যাংক এখনও তারল্য সংকটে ভুগছে এবং গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা সরবরাহ করতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর চলতি হিসেব প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে ব্যাংকগুলোতে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। এদিকে, সাতটি দুর্বল ব্যাংককে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানিয়েছেন, “এই তারল্য সহায়তা কোনো অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে দেয়া হয়নি। বরং সবল ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ হিসেবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”

তবে, অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, “এই ধরনের সাময়িক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারবে না। কারণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতার মূল কারণগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।”

মূল্যস্ফীতি ও সরকারের পদক্ষেপ:

বাংলাদেশের মানুষের জন্য উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ মূল্যস্ফীতি সামলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০.৮৭ শতাংশে, যা গত মাসে ছিল ৯.৯২ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি, যা দাঁড়িয়েছে ১২.৬৬ শতাংশ। পেঁয়াজ, ডিম, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে।

সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেমন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মুদ্রানীতির পরিবর্তন এবং শুল্ক কমানো। পেঁয়াজ ও ডিমের মতো খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

তবে, অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, “যেকোনো ধরনের দাম বেধে দেওয়া বা মার্কেট তদারকির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়। কারণ, এটি কেবল লোক দেখানোর জন্য করা পদক্ষেপ।”

তিনি আরও বলেন, “যে ধরনের প্রকৃত পদক্ষেপ নিতে হবে তা হচ্ছে পাইকারি বাজারে সঠিক তথ্য তুলে ধরা, যাতে মানুষ জানে কোন পণ্য কোথায় কী দামে পাওয়া যাবে।”

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “মুদ্রানীতির সুফল পেতে কমপক্ষে এক বছর লাগবে। চার মাস পার করার পর, মূল্যস্ফীতি কমাতে আরও আট মাস সময় প্রয়োজন।”

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের অর্থনীতি, ব্যাংক খাত ও রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করার জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পাকিস্তান থেকে সরাসরি বাংলাদেশে আসা জাহাজের পণ্য: জানানো হলো বিস্তারিত

পাকিস্তান থেকে প্রথমবার সরাসরি বাংলাদেশে আসা কনটেইনারবাহী জাহাজটির পণ্য নিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার (১৩ নভেম্বর) পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে যাত্রা করা ‘এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং’ নামের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর প্রায় পাঁচ দশক পর পাকিস্তান থেকে সরাসরি বাংলাদেশে পণ্যবাহী জাহাজ আসায় এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক জানালেন, জাহাজটিতে মোট ৩৭০টি কনটেইনার ছিল, তবে এসব কনটেইনারে কী ধরনের পণ্য ছিল তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের উপ-কমিশনার মো. সাইদুর রহমান জানান, এসব কনটেইনারের মধ্যে ফ্রেবিকস, চুনাপাথর, সোডা অ্যাশ, পেঁয়াজ, ম্যাগনেশিয়াম কার্বোনেট, ডলোমাইট সহ বেশ কিছু পণ্য রয়েছে। এছাড়া, ৪২টি কনটেইনারে পেঁয়াজ এবং ১৪টি কনটেইনারে আলু ছিল।

এছাড়া, পাকিস্তান থেকে আসা কনটেইনারগুলোর মধ্যে টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামাল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, রং ও কাঁচামাল এবং কাঁচ শিল্পের উপকরণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কয়েকটি কনটেইনারে খেজুর, মার্বেল ক্লক, কপার ওয়্যার, জিপসাম, লোহা ইত্যাদিও রয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত পাকিস্তান থেকে পণ্য শ্রীলঙ্কায় খালাস হয়ে বাংলাদেশে আসে, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে পণ্য এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিগত সরকারের কারণে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সমালোচনা করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশের দুটি “কিডনি” খেয়ে ফেলেছে— একটি ফিন্যানসিয়াল সেক্টর এবং অন্যটি এনার্জি সেক্টর। শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে ‘পলিসি ডায়ালগ অন ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, বিগত সরকারের দেওয়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি দাবি করেন, তথ্য-উপাত্তের রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের অভাব এবং ট্যাক্স জিডিপির বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত। এমনকি সামাজিক খাতে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় গুরুতর অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমরা এখন মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়েছি। যদি রাষ্ট্রের মেরামত না হয়, তাহলে সামান্য সংস্কার দিয়ে কোনো লাভ হবে না। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা না আনলে সংস্কারের পথ চলা সম্ভব নয়।”

ড. দেবপ্রিয় আরও অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে মাসোহারা দিয়ে অনভিজ্ঞ লোকদের রাখা হয়েছিল, যারা টাকা ছাপিয়ে ভুয়া রিজার্ভ দেখিয়েছে। এমন অযোগ্যদের ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে অর্থনৈতিক দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পলিসি ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টার

দেশ থেকে অর্থ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, যদিও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজ সময় সাপেক্ষ, তবে ভবিষ্যতে এমন একটি পলিসি তৈরি করা হবে যাতে কেউ আর অর্থ পাচার করতে না পারে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল “ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক, যেখানে দেশের আর্থিক খাতে চলমান চ্যালেঞ্জ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আমাদের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তার স্বল্পমেয়াদি সংস্কার কাজ চলছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রায় কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে। তবে পুরো অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন দ্রুত সম্ভব নয়।” তিনি বলেন, সরকার এখন নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আসা সরকারগুলোকে এই পথ অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও উন্নয়ন বয়ানের সমালোচনা করে বলেন, “যতটা প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে, তার পেছনে তথ্য-উপাত্তের রাজনীতিকরণ রয়েছে। অর্থনীতির অনেক খাতে সঠিক পরিবর্তন আনা হয়নি, যা আমাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

তবে তিনি দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের কাছে আবেদন জানান। এর পাশাপাশি, দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে নতুন পলিসি প্রণয়নও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মালদ্বীপকে হারিয়ে বছর শেষ করল বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। স্কোরলাইন ১-১। হতাশার ড্রয়ে কি শেষ হচ্ছে বাংলাদেশের ২০২৪ সাল? না, শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। যোগ করা সাত মিনিটের তৃতীয় মিনিটে পাপন সিংয়ের গোলে এসেছে দারুণ জয়। বাঁ দিক থেকে শাহরিয়ার ইমনের সেন্টারে পাপন দারুণভাবে প্লেসিং করেন। পিছিয়ে পড়েও মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের আনন্দেই বছর শেষ করেছেন তপু বর্মণ, শেখ মোরছালিনরা।

১৩ নভেম্বর মালদ্বীপের সঙ্গে প্রথম ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ১-০ গোলে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকেরা। দুই ম্যাচের সিরিজটা শেষ হলো ১–১ সমতায়।




কুয়াকাটা পাবলিক টয়লেট থেকে মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটার একটি পাবলিক টয়লেট থেকে নুর হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল ৩.৩০ মিনিটে সৈকতের পর্যটন পার্ক সংলগ্ন পাবলিক টয়লেট থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নুর হোসেন খুলনার বাটিয়াঘাটা উপজেলার জলমাই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং তিনি ওই এলাকার শাজাহান মালের পুত্র ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর হোসেন ১৪ নভেম্বর সকালে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে তিনি কুয়াকাটার ব্যবসায়ী বন্ধু জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একটি দোকানে চা খেতে বসেন। সে সময় তিনি বন্ধুকে জানান যে, তার বুকে ব্যথা হচ্ছে এবং টয়লেটে যাবেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, “আমরা দুজন মেলা দেখতে কুয়াকাটায় এসেছিলাম। ওই সময় নুর হোসেন তার বুকে ব্যথা অনুভব করে এবং টয়লেটে যেতে বলে, তারপর তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।”

পরে নুর হোসেনের পরিবার খুলনা থেকে এসে কুয়াকাটায় এসে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে, কিন্তু তার সন্ধান না পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন।

টয়লেটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর, কর্তৃপক্ষ ভেতর থেকে টয়লেটের ওপর থেকে দেখে, ওই ব্যক্তি মাটিতে পড়ে আছেন। এরপর পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমল কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, “মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এটি অসুস্থতার কারণে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




পবিপ্রবিতে ৩ মাদকসেবী আটক

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) মাদক সেবন ও বিক্রির সময় ৩ জনকে আটক করেছে নিরাপত্তা শাখা।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা টিম, প্রধান মুকিত মিয়ার নেতৃত্বে, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পিছনে অবস্থিত পুকুর সংলগ্ন এলাকায় দুই জন মাদকসেবীকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার রাজাখালী গ্রামের আমিনুল ইসলামের পুত্র ইকবাল আজিজ (১৮) এবং দক্ষিণ দুমকী গ্রামের কালাম খন্দকারের পুত্র মো. রাফি খন্দকার (১৭)। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনপুল এলাকায় মাদক বিক্রি করার সময় এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়। আটককৃত মাদক বিক্রেতা হলেন ভোলা জেলার সদর উপজেলার মো. হারুনের পুত্র মো. সিয়াম (২০)।

তৎক্ষণাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার জন্য ইউএনওকে অবহিত করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান রাত সাড়ে ১১টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। স্বাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে, মো. সিয়ামকে ৬ মাস এবং ইকবাল আজিজকে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া, তাদের ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মো. রাফি খন্দকারকে মুচলেকা নিয়ে তার পিতার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

পবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আমাদের চলমান তদারকির ফলে মাদক ব্যবহারের সুযোগ প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় সাগরে পূজা করে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো রাসমেলা

আজ শনিবার সকালে কুয়াকাটায় সাগরে পূজা করে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো রাসমেলা। পূর্ব আকাশে সূর্য লাল আভা ছড়িয়ে কেবল উঁকি দিচ্ছিল, এমন সময় হাজার হাজার হিন্দু নর-নারীর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে কুয়াকাটার প্রায় তিন কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত এলাকা। অনেকে ব্যস্ত পূজা করতে, আবার অনেকে পূজা শেষ করে পুণ্যস্নানের জন্য সাগরের লোনাজলে নেমে পড়েন। সৈকতজুড়ে ভক্তদের পদচারণা ছিল লক্ষ্যণীয়।

কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও কুয়াকাটা পৌরসভার যৌথ আয়োজনে এবারের রাসমেলা গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্বোধন করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। রাসমেলা উপলক্ষে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের ডিসি পার্কে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ঢাকা, বরিশাল, কলাপাড়া ও কুয়াকাটার শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।

হিন্দু পুণ্যার্থীরা কুয়াকাটার ‘রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম’ প্রাঙ্গণে রাতভর নামকীর্তন উপভোগ করেন এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালন করেন। এর মধ্যে ছিল রাতভর নামকীর্তন, গীতা পাঠ ও আরতি। শ্রীকৃষ্ণের লীলা কীর্তনে এবার ভারতের কবিতা ঘোষ তাঁর দল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের পক্ষ থেকে আগত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

খুলনার ফুলতলা এলাকার জয়শ্রী সরকার বলেন, “সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ করার আশায় আমরা পুরো রাত জেগে ধর্মীয় সব নিয়ম পালন করেছি।”

কুয়াকাটা রাসমেলা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি কাজল বরণ দাস জানান, “ইতিমধ্যে হিন্দু ভক্তরা পুণ্যস্নান শেষ করে রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি দর্শন করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।”

সত্য ও সুন্দরের জয়ের আকাঙ্ক্ষায় প্রায় ২০০ বছর ধরে কুয়াকাটা ও কলাপাড়ায় রাস উৎসব উদ্‌যাপন করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

কুয়াকাটার রাসমেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় হাজারখানেক ভাসমান দোকানি রংবেরঙের সামগ্রীর পসরা বসিয়েছিলেন। কুয়াকাটার রাখাইন মহিলা মার্কেট, জিরোপয়েন্ট–সংলগ্ন এলাকার শামুক-ঝিনুকের দোকানেও বিভিন্ন রকমের পণ্যের সম্ভার ছিল। মেলা উপলক্ষে বেচাকেনা ভালো হয়েছে বলে জানালেন ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “গত তিন দিনে আমার এক লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে।”

সজল চন্দ্র বিশ্বাস নামের একজন পুণ্যার্থী বলেন, “জাগতিক জীবনে চলতে গিয়ে অনেক পাপ হয়ে থাকে। সাগরের লোনাজলে পুণ্যস্নান করে পাপমোচনের চেষ্টা করেছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পরকীয়া নিয়ে বিরোধ, স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করে বিদ্যুৎ-পানি বিচ্ছিন্নের অভিযোগ পটুয়াখালীতে

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিপি) অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে পরকীয়ার কারণে স্ত্রীকে নির্যাতন করে বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সোমা দেবনাথ, তার ৪ বছর বয়সী কন্যাসন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতে পটুয়াখালীর পিটিআই রোডের এলিট হোমস ভবনের ৫ তলায় বসবাসরত সোমা দেবনাথ জানান, “সম্প্রতি আমার স্বামী আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি আরেকটি বিয়ে করেছেন। এর পর থেকেই আমাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। গত ৩০ অক্টোবর থেকে বাসার গ্যাস ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দেয়, এবং ৪ নভেম্বর বিদ্যুৎ লাইনও কেটে দেয়। এখন আমার ছোট্ট সন্তান নিয়ে অন্ধকার ঘরে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার স্বামী দুলাল চন্দ্র দেবনাথ একজন মহিলা আইনজীবীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের কারণে আমাকে ও আমার সন্তানকে তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বাজার-সদাই পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন, আমাদের অবস্থা খুবই করুণ।”

অভিযোগের বিষয়ে দুলাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, “আমার প্রথম স্ত্রী মৃত্যুবরণ করার পর আমি সোমাকে বিয়ে করি। কিন্তু সে আমার আগের পক্ষের সন্তানকে নির্যাতন করত এবং অন্য একজনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছিল। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে আমি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।”

এদিকে, পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এটিএম মোজাম্মেল হোসেন তপন জানান, “সোমা দেবনাথের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুলাল চন্দ্র দেবনাথকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষকে ডেকে সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করব।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে দুলাল চন্দ্র দেবনাথ তার স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে আসছেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ ইমতিয়াজ জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার: ড. ইউনূস”

তরুণদের উদ্যোগে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং বাকস্বাধীনতার ভিত্তিতে গড়া, এমনটি বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আরও জানান, তরুণরা সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে, যেখানে সবার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “তরুণরা সমাজ গড়ার আওয়াজ তুলেছে, এবং এই সমাজ হবে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সভ্যতা আমাদের অনেক দিক থেকেই ব্যর্থতার মুখে ফেলেছে, বিশেষত পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মুনাফার জন্য অন্ধ দৌড়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, থ্রি জিরো মডেলের ভিত্তিতে একটি নতুন সভ্যতা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সম্পদ কুক্ষিগত থাকবে না এবং তা সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।

বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা বাংলাদেশের রাস্তাঘাট ঘুরে দেখুন, তরুণদের অন্তরের ভাষা বুঝতে পারবেন। আমি আপনাদের আহ্বান জানাই, নতুন একটি বিশ্ব গড়ার চিন্তা করুন, যেমনভাবে আমাদের তরুণরা আমাদের শিখিয়েছেন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বর্তমান সময়ে আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, তা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বৈষম্য বা সামাজিক অবিচার নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিও বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশ বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।”

ড. ইউনূস দাবি করেন, দেশের লাখ লাখ মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, “এই বছর সম্মেলনের থিম ‘এক বিভক্ত পৃথিবী’। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি সমস্যার সমাধান রয়েছে, যদি আমরা ধৈর্য এবং সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাই।”

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের সম্মেলনের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এ ফ্র্যাকচারড ওয়ার্ল্ড’। এতে ৮০টিরও বেশি দেশ থেকে ২০০ জন আলোচক, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং ৮০০ জন অংশগ্রহণ করছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম