হাসিনাকে ফেরত চাইব: ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গণআন্দোলনের মুখে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের প্রতিটি হত্যার বিচার করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিটি হত্যার বিচার আমরা করবই। জুলাই-অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি, তার কাজও বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকেও আমরা ভারত থেকে ফেরত চাইব।”

রোববার সন্ধ্যা ৭টায় তার এই ভাষণ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে একযোগে প্রচার করা হয়।

ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে গত ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা। তখন থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ প্রধানের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ টাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে। এর মধ্যে ‘গণহত্যার’ দুটি অভিযোগে হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে বলে পরোয়ানা জারির পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন।

জাতির উদ্দেশে তার চতুর্থ ভাষণে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত সব অপকর্মের বিচার করার কথাও বলেন ইউনূস।




শেখ হাসিনা জন্য আরেকটি তাজমহল নির্মাণ করুন: ভারতকে রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “শেখ হাসিনার পালানোয় যদি এতই মায়া হয়, তবে ভারতের উচিত হাসিনার জন্য আরও একটি তাজমহল নির্মাণ করা।”

রোববার (১৭ নভেম্বর) লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, “প্রতিদিন ভারতের মিডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশ নিয়ে তারা কেন এভাবে অপপ্রচার করছে? আমরা হিন্দু, মুসলিম একত্রে শান্তিতে বসবাস করি, কিন্তু তারা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। এটা বন্ধ করতে হবে।”

বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও তুলে ধরেন। রিজভী বলেন, “৭ নভেম্বর জনগণ ও সিপাহীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসানো হয়। এরপর থেকেই কৃষি, কারখানা ও দেশের উন্নয়নে তার অবদান অমূল্য।”

তিনি আরও বলেন, “অন্যদিকে, মেগা প্রকল্পের নামে আওয়ামী লীগ হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, কিন্তু জিয়াউর রহমান কখনও এমন মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতি করেননি।”

রিজভী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ তাদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য অর্থ পাচার করেছে এবং দেশের জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছে।”

তিনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচারেরও তীব্র সমালোচনা করেন। রিজভী বলেন, “জিয়া পরিবার ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, কিন্তু প্রমাণ কিছুই পাওয়া যায়নি।”

রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগ দুর্বৃত্তের দল, এটাই বিএনপির সাথে তাদের পার্থক্য। খালেদা জিয়া কখনও পালাননি, কিন্তু শেখ হাসিনা পালিয়েছেন।” তিনি আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক লোপাট হওয়ার দায়ও শেখ হাসিনার সরকারের।”

শেষে রিজভী প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সতর্ক করে বলেন, “ভারত হরিলুটতন্ত্র ও পাচারতন্ত্রকে আবারও ক্ষমতায় বসানোর চক্রান্ত করছে। এই চক্রান্ত রুখতে অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও সতর্ক থাকতে হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম রফিক, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সামু, এবং লালমনিরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক একেএম মমিনুল হকসহ বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির আয়োজনে এই ফুটবল টুর্নামেন্টে রংপুর বিভাগের ১০টি সাংগঠনিক জেলা বিএনপির দল অংশগ্রহণ করছে। প্রতিটি আসরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশ: ১০০ দিনে অর্জন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি সবল হয়ে গেছে।” তিনি জানান, অর্থনীতির যে অস্থিতিশীল অবস্থায় সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, তা থেকে ১০০ দিনের মধ্যে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

রোববার (১৭ নভেম্বর) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, “১০০ দিন আগে আর্থিক দিক থেকে আমরা যে অস্থিতিশীল অবস্থায় ছিলাম, সেই অবস্থার থেকে আমরা এখন অনেক দূরে এসেছি। এই পরিবর্তন এসেছে আমাদের নিজস্ব নীতিমালা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে।”

তিনি আরও জানান, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ছিল। কিন্তু এখন তা উন্নতির পথে। গত তিন মাসে কোনো রকমের হাত না দিয়েই আমরা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে সক্ষম হয়েছি।”

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, “জ্বালানি তেল আমদানিতে পুঞ্জীভূত বকেয়ার পরিমাণ ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ১৬০ মিলিয়ন ডলারে আনতে পেরেছি, যা আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আমরা বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করেছি। যদিও এখনও তা আসা শুরু করেনি, তবে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো দ্রুততম সময়ে সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই সাহায্য আসা শুরু হলে আমাদের অর্থনীতি আরও মজবুত ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।”

ভাষণে তিনি গত ১০০ দিনে সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দেশের আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ভাষণে দেশের অর্থনীতির উন্নতির পথে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, “এই শক্তিশালী অর্থনীতি দেশের সাধারণ জনগণের উপকারে আসবে এবং সমৃদ্ধির পথ খুলে দেবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে জনগণের ওপর: প্রণয় ভার্মা

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক এবং গঠনমূলক সম্পর্কের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের জনগণই মূল ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, “এই সম্পর্কের ভিত্তি হলো দুই দেশের জনগণের সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমঝোতা।”

রোববার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৪’ সম্মেলনের অংশ হিসেবে হাই কমিশনার এ বক্তব্য রাখেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রণয় ভার্মা বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একটি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে এবং আমরা বিশ্বাস করি যে, দুই দেশের শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি একে অপরের সাথে জড়িত।”

তিনি আরো যোগ করেন, “এই সম্পর্ক শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্তরে নয়, বরং বাণিজ্য, পরিবহন, জ্বালানি সংযোগ এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অব্যাহতভাবে উন্নতি করছে।” ভার্মা বলেন, “রাজনৈতিক পরিবর্তন বা পরিস্থিতির তফাৎ সত্ত্বেও আমাদের পরস্পর নির্ভরতা ও দ্বিপাক্ষিক মঙ্গলের বাস্তবতা ক্রমাগতভাবে দৃশ্যমান হবে।”

ভারতীয় হাই কমিশনার এসময় ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই মাসেই ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়েছে, এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল সমন্বিত চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে তিনি বিম্‌সটেকের মত আঞ্চলিক একীকরণের কাঠামোর মধ্যে একটি “নোঙর” হিসেবে বর্ণনা করেন।

হাই কমিশনার বলেন, “ভারত এবং বাংলাদেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা একসাথে কাজ করব। আমাদের যৌথ আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে, আমরা উভয় দেশের জনগণের উপকার নিশ্চিত করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এই অংশীদারিত্বে আমরা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভারতের স্বার্থে দেশের ক্ষতি করেছে বিগত সরকার: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নেতা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম মন্তব্য করেছেন, “আওয়ামী সরকার ভারতের সঙ্গে এমন সব চুক্তি করেছে যা শুধুমাত্র ভারতের স্বার্থ রক্ষা করেছে, বাংলাদেশের কোনো উপকার হয়নি।” তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের চুক্তিগুলি ভারতের স্বার্থের পক্ষে ছিল এবং এসব চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ পূর্ব উপজেলা শাখার আয়োজনে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, “বিগত সরকার শপথ নেওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে এমন চুক্তি করেছে যা শুধুমাত্র ভারতের স্বার্থ রক্ষা করেছে। এসব চুক্তির ফলে বাংলাদেশের কোনো লাভ হয়নি। বরং তারা বলেছিল, ‘ভারতকে যা করেছি, তা ভারত সারা জীবন মনে রাখবে।'” তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তিগুলি দেশের স্বার্থের বিপরীতে ছিল এবং এসব চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি আরও বলেন, “ভারতের দালালরা বাংলাদেশের মাটিকে কলঙ্কিত করেছে, আর বিগত সরকার দেশের স্বার্থ না দেখে শুধুমাত্র বিদেশী স্বার্থ রক্ষা করেছিল।”

গণসমাবেশে চরমোনাই পীর দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর দেশের টাকা পাচার করে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যখন জনগণ তাদের অধিকার দাবি করতে রাস্তায় নামে, তখন তাদের গুম করা হয়। দিনের ভোট রাতে হয়ে যায়, মেধাবী সন্তানদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

গণসমাবেশে বক্তারা বিভিন্ন দাবিও উত্থাপন করেন। তারা ছাত্র জনতার বিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান। এছাড়া, বক্তারা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং ইসলামী সমাজভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তারা বিশ্বাস করেন, এমন রাষ্ট্র ব্যবস্থা দেশে ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তি অর্জনের পথ প্রশস্ত করবে।

গণসমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব খন্দকার গোলাম মাওলা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. নুরুল ইসলাম আল আমিন, বরিশাল জেলা সহ-সভাপতি শেখ শামসুল আলম মিলন, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সভাপতি মাওলানা মো. মাহবুব হোসেন ইলিয়াস, এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুল খালেক হাওলাদার ও যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মো. সোলায়মান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এটি আর থামবে না।” তিনি আরও বলেন, “যেতে যেতে আমাদের অনেকগুলো কাজ সেরে ফেলতে হবে, এবং শেষ স্টেশনে কখন পৌঁছাবে সেটা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলসমূহের ঐক্যমত্যের ওপর।”

রোববার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ১০০ দিনের সরকারী কর্মকালের পূর্তি উপলক্ষে এই ভাষণটি দেন তিনি।

ড. ইউনূস নির্বাচনের তারিখ সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও, জানান যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। “কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে, এরপর তারা নির্বাচন আয়োজনের পুরো দায়িত্ব নেবে,” বলেন তিনি।

এছাড়া, নির্বাচনী সংস্কারের প্রসঙ্গেও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কার এই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার, এবং আমাদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী এই কাজগুলো করতে হবে।” সংস্কারের অংশ হিসেবে, নির্বাচনী কমিশন গঠনের পাশাপাশি, অন্যান্য কমিশনও তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে নির্বাচন সংস্কার কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

প্রধান উপদেষ্টা জনগণকে তার মতামত প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচন নিয়ে আপনারা যেসব বক্তব্য দিতে চান, সেগুলো খোলাখুলিভাবে জানাতে হবে। দেশটি আপনার, আপনার মতামতও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “সংস্কারের কথাও বলুন। সংস্কার জাতির শক্তি, আর তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি নতুন পৃথিবী তৈরির সুযোগ এনে দেবে।” নির্বাচনী সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলোর বাস্তবায়ন করতে সকলের মতামত অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ড. ইউনূস নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। “নির্বাচনী আইন সংশোধন করতে হবে সেই সুপারিশমালার ভিত্তিতেই,” বলেন তিনি। এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজও চলমান থাকবে।

“আমি নিশ্চিত নই, সংস্কারের প্রস্তাবসমূহ কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে, তবে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনাদের সুযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচন আয়োজন করবো,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সময় চেয়ে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে এটি যুগযুগ ধরে কার্যকর থাকে এবং রাজনৈতিক সংকটের হাত থেকে দেশ রক্ষা পায়।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে ইউএনও’র দুর্নীতির বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বশির গাজীর দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচারের দাবিতে উপজেলা কৃষকদল ও সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এ মানববন্ধন হয়।

বক্তারা জানান, বাউফলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য, টিআর-কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা লোপাটের সাথে ইউএনও জড়িত। এমনকি দুই কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনা ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এছাড়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সহায়তায় এ দুর্নীতি সম্পন্ন হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম ফয়সাল, সদস্য সচিব সোহেল আকন ও কৃষক নেতা মো. সোহরাব হোসেন সর্দার। তারা এই তিন কর্মকর্তার কঠোর বিচার দাবি করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিশ্বব্যাপী ষড়যন্ত্রের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে ভাষণ

দেশের চলমান অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সরকারকে ব্যর্থ ও অকার্যকর করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হয়েছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক জোরালো ভাষণে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে বিশ্বব্যাপী এক মহাপরিকল্পনা প্রতি মুহূর্তে কার্যকর রয়েছে। তাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে দেশব্যাপী বিভেদ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে তারা আমাদের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মধ্যে ফাটল ধরাতে তাদের লক্ষ্য। আমাদেরকে অবশ্যই এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

বিশ্বব্যাপী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বহির্বিশ্ব থেকে বিপুল অর্থ দিয়ে দেশীয় কিছু দোসরদের কাজে লাগিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার প্রচেষ্টা চলছে। যারা পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছে, তারা এখন সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশে ফেরার চেষ্টা করছে। এদের উদ্দেশ্য আমাদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা ও দেশকে আবারও দুর্নীতির অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। তাদের সফলতা মানেই জাতির মৃত্যু, আমাদের মুক্তির স্বপ্নের অবসান।”

অর্থনৈতিক উন্নয়নের অঙ্গীকার

ভাষণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, সকল প্রকার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা আপনাদেরকে একটি শক্তিশালী ও মজবুত অর্থনীতি উপহার দেবো। আগামীতে নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি আসবে।”

ড. ইউনূস বলেন, “পতিত সরকারের আমলে প্রতি বছর দেশ থেকে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। আমরা সেই পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিচ্ছি।”

বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র থেকে সাবধান থাকার আহ্বান

ড. ইউনূস দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা জানেন, পরাজিত শক্তি নানা চেহারায় এসে আপনাদের প্রিয়পাত্র হবার চেষ্টা করছে। এদের ষড়যন্ত্র থেকে নিজেকে ও দেশকে মুক্ত রাখুন। আমাদের ঐক্যই হবে এদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মূল অস্ত্র। প্রতিটি নাগরিককে আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা দৃঢ় থাকুন, দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।”

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমার সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, ইতালি, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা আমাদের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছি।”

দেশের জন্য সতর্ক বার্তা

ড. ইউনূস আরও বলেন, “প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা যাই হোক না কেন, আমাদের লক্ষ্য অটুট রাখতে হবে। আমরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তিকে কোনোভাবে হারাতে দেব না। দেশের জনগণকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা সব সময় সতর্ক থাকুন। এবার যে মুক্তি আমরা অর্জন করেছি তা আমাদের কাছ থেকে কেউ যেন ছিনিয়ে নিতে না পারে।”

সাম্প্রতিক নাশকতা মোকাবিলায় প্রস্তুতি

তিনি আরও বলেন, “পরাজিত শক্তি তাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমরা প্রস্তুত আছি তাদের প্রতিটি ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করতে। এবার যেভাবে আমরা দেশের উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছি, তা ধরে রাখতে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বক্তৃতার প্রতিক্রিয়া

ড. ইউনূসের ভাষণটি দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বর্তমান সরকারের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করবে। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এই ভাষণ একটি নতুন দিশা প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মোঃ আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচনের আগে বিচার নিশ্চিত না হলে নির্বাচন প্রতিহত হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “বিচার নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, গত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব আন্দোলন হয়েছে, তা শুধুমাত্র ভোটের অধিকারের জন্য ছিল না; বরং গুম-খুনের বিচার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতেও ছিল।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর দশমিনায় ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের সংস্কার এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো নির্বাচন কমিশন গঠনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। আগে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যেসব কর্মী আহত হয়েছেন, তারা এখন ছাত্র আন্দোলনের নামে তালিকাভুক্ত হতে চাইছে। তারা নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। আমি সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, আহতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে, যাতে তাদের রাস্তায় নামতে না হয়।”

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও জানান, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আওয়ামী লীগের গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করা। যদি এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়, তবে জনগণের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়বে। বিচার নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।”

ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এ সময় টেকসই নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তাদের মতে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের মতে, হাসনাতের এই বক্তব্য নতুন করে ছাত্র আন্দোলনকে উৎসাহিত করবে এবং সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। এদিকে, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আরও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাগরের তীরে অরক্ষিত রাঙ্গাবালী, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অবস্থা

দীর্ঘ বছর ধরে দুর্যোগপ্রবণ রাঙ্গাবালী উপকূলীয় অঞ্চলটি এখনও সুরক্ষিত নয়। সাগর ও নদী বেষ্টিত এই দ্বীপে বাঁধের অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে, যা এলাকার মানুষের জীবনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। বিশেষ করে চরনজির, চরকাশেম, চরহেয়ার-এ এখনো বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়নি, যা আরও ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়তে পারে।

বছরের পর বছর গতেও রাঙ্গাবালীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কার্যক্রম এগোয়নি, যার ফলে এখানকার জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১৮৭ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে, এসব বাঁধের অধিকাংশ এখন নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে, বাঁধগুলোর উচ্চতা বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, যা এখনও করা হয়নি।

অথচ, পুরনো বাঁধগুলো যেখানে থাকছে, সেগুলোর বেশিরভাগ জায়গায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু এলাকায় বাঁধের উচ্চতা কম, কিছু বাঁধ ভেঙে গেছে, আবার কিছু জায়গায় বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ফলে যখনই দুর্যোগ আসে, বাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়ে, যার কারণে কৃষক ও মৎস্যজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নেছার হাওলাদার বলেন, “বাঁধ ভেঙে আমাদের বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের এখানে বাঁধের উচ্চতা কম হওয়ায় যখনই নদীর পানি বাড়ে, তখন তা আমাদের বাড়ির কাছে চলে আসে। টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।”

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চরইমারশন গ্রামের হেলাল খান বলেন, “বাঁধ ভেঙে আমাদের পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে যায়, ফসল নষ্ট হয়। প্রতিবার বন্যা বা ঝড় আসলে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, “রাঙ্গাবালী উপজেলার অধিকাংশ বেড়িবাঁধ বর্তমানে খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বাঁধের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠের উঁচু হওয়ার কারণে পুরনো অবস্থা থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে, এসব বাঁধের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাঁধগুলোর উঁচু করার কাজও শুরু হবে। বর্তমানে বিভিন্ন দুর্যোগের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে বিশ্বের উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় এই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।”

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার অবস্থান বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে। এটি পটুয়াখালী সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাঙ্গাবালী ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে চরভূয়া, চালিতাবুনিয়া, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া, এবং কাচিয়া ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত। এখানকার প্রধান অর্থনৈতিক কার্যকলাপ হচ্ছে মৎস্যজীবিতা, কৃষি এবং বাণিজ্য। তবে, সাগর ও নদী বেষ্টিত এই অঞ্চলটি বার বার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে আসছে, যার ফলে এখানকার জনগণের জীবনযাত্রা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম