অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ চার বছরের কম হবে, আরও কম হতে পারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ চার বছরের কম হবে। এমনকি এটা আরও কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি। সম্প্রতি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে (কপ২৯) অংশ নেন ড. ইউনূস।

আর সেখানে সম্মেলনের সাইডলাইনে ‘টক টু আল জাজিরা’ শোতে ওই সাক্ষাৎকারটি দেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ। পরে রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে কাতারভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি।

সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকার, চিরস্থায়ী নয়। নিয়মিত সরকার পাঁচ বছর স্থায়ী হয়। নতুন সংবিধানে (সরকারের মেয়াদ) চার বছর উল্লেখ করা হতে পারে। কারণ, সম্ভবত মানুষ সরকারের মেয়াদ কম চায়। তাই এটি (অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ) চার বছরের কম হওয়া উচিত, এটা নিশ্চিত। তবে এটি আরও কম হতে পারে।”




পায়রায় নাব্যতাসংকটে কয়লার জাহাজ ভিড়তে না পারায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা নদীর তীরে কয়লা ভিত্তিক তিনটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ও কয়লা পরিবহনের জন্য রাবনাবাদ চ্যানেল ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে চ্যানেলটির নাব্যতাসংকটের কারণে কয়লা পরিবহনে বড় জাহাজ ভিড়তে না পারায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে কেন্দ্রগুলো।

পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শাহ আব্দুল মাওলা জানান, বর্তমানে রাবনাবাদ চ্যানেলের গভীরতা যথেষ্ট না থাকায় লাইটারিংয়ের মাধ্যমে কয়লা খালাস করতে হচ্ছে, যা পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়ছে বিদ্যুতের মূল্যে।

জানা গেছে, আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে, একটি উৎপাদনের অপেক্ষায় এবং অন্যটি নির্মাণাধীন। চ্যানেলের গভীরতা সংকটের কারণে কয়লা পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় বড় জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারছে না। বর্তমানে জোয়ারের সময় চ্যানেলের গভীরতা ৬.৫ মিটার এবং ভাটার সময় তা ৫.৯ মিটারের নিচে নেমে যায়। অথচ বড় জাহাজ চলাচলের জন্য ৮.৭ মিটার গভীরতা প্রয়োজন।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জোবায়ের আহমেদ বলেন, পায়রার তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ সরবরাহ করে। প্রতি মাসে এই কেন্দ্রগুলোতে তিন লাখ মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হয়। চ্যানেলের গভীরতা ১৩-১৪ মিটার না থাকায় পুরোপুরি লোডিং করে কয়লা আনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে শীতের সময় গভীরতা পাঁচ মিটারের নিচে নেমে যায়, যা কয়লা পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় বাধা।

পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জানান, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বেলজিয়ামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জান ডি নুল’ এর মাধ্যমে ৬,৫০০ কোটি টাকার ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প শুরু হয়, যা ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হয়। এরপর আগস্ট পর্যন্ত ম্যানটেইনেন্স ড্রেজিং চললেও তা এখন বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই আবার ম্যানটেইনেন্স ড্রেজিং শুরু করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

চ্যানেলের নাব্যতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং উৎপাদন ব্যয়ও কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে উন্নতি ঘটবে এবং পায়রা বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মির্জাগঞ্জে আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পনু শরীফ রিয়াদ (৩৬) নামে এক আইনজীবীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে রিয়াদকে তার বাড়ির সামনে একা পেয়ে হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে এই হামলা হয়। জানা যায়, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রিয়াদের উপর হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল বাংলা দা, লোহার রড, বাশের লাঠি এবং কাচি। এলোপাতাড়ি মারধরের ফলে রিয়াদ গুরুতরভাবে আহত হন। এসময় তার সাথে থাকা প্রায় ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে পুলিশ মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের গোলখালি এলাকা থেকে অভিযুক্ত সাব্বির রহমান রিপনকে (৩০) গ্রেফতার করে। রিপন পটুয়াখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

হামলার পর আহত আইনজীবী রিয়াদ নিজেই মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শাহজাহান হাওলাদার ও তার দুই ছেলে রিপন ও লিটন মিলে তাকে মারধর করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামীম হাওলাদার বলেন, “একজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া রাতে বিভিন্ন মামলায় আরও ৩ জন গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আটক করা হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ ১৩ জন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ১৩ জন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আমলাকে হাজির করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাঁদের আজ সোমবার গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।
আজ সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পুরাতন হাইকোর্ট ভবন প্রাঙ্গণে তাঁদের হাজির করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান।




ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার কোল থেকে ছিটকে শিশু নিহত

ভোলার চরফ্যাশন মহাসড়কের বোরহানউদ্দিন মিলন বাজার এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত হয়েছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) বিকেল ৩:৩০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী নুরে আলম জানিয়েছেন, ভোলা থেকে দ্রুতগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা বাজারে আসার সময় একটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার সময় সিএনজির যাত্রী, মো. মিজানুর রহমান মনিরের কাঁধে থাকা ছোট শিশু মুনতাহা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ সময় স্থানীয়রা সিএনজিটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। বোরহানউদ্দিন থানার সেকেন্ড অফিসার মো. রেহান উদ্দিন জানিয়েছেন, নিহত শিশুর লাশ ও সিএনজিটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশীয় মাছের সংকটে দক্ষিণাঞ্চল, বিলুপ্তির পথে ৫ প্রজাতি

দক্ষিণাঞ্চলের নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ে বিলুপ্তির পথে রয়েছে দেশের প্রাচীন দেশীয় প্রজাতির কয়েকটি মাছ। এসব মাছ এক সময় এই অঞ্চলের মাছ শিকারিদের জীবিকার উৎস ছিল, তবে আজকাল তারা খুবই বিরল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে “ভেদা” বা “রয়না” মাছ, যা এক সময় স্থানীয়দের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিল, এখন খুবই কম পাওয়া যায়।

নদী ও জলাশয় প্রধান বরিশাল বিভাগের নদী-নালায় ১৫ বছর আগে পর্যন্ত প্রচুর ভেদা মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু বর্তমানে তা বিলুপ্তির পথে। স্থানীয় মৎস্য শিকারিরা হতাশ হয়ে বলছেন, এক সময় নদী-খালে ছোট-খাটো মাছ শিকার করলেই পাওয়া যেত নানা দেশীয় প্রজাতির মাছ, কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থা আর নেই। মৎস্য অধিদপ্তরও জানাচ্ছে, ভেদা ছাড়াও রয়না, সরপুটি, বাইম, তারা বাইম এবং পাবদা মাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

এমনকি এসব মাছের অস্তিত্ব হারানোর সাথে সাথে এসব মাছের স্বাদও এখন অনেকটাই কমে গেছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, আগে যারা মাছ শিকার করতেন, তারা এখন বাজারে চাষের মাছই বেশি খাচ্ছেন। বরিশাল শহরের বিভিন্ন মাছ বাজারে, যেমন পোর্ট রোড, নথুল্লাবাদ ও বাংলাবাজারে মাছের মধ্যে দেশীয় মাছের পরিমাণ খুবই কম। এসব বাজারে এখন মূলত চাষের মাছই দেখা যায়, যেমন পাঙাশ, কোরাল, শিং, মাগুর এবং শুঁটকি মাছ।

প্রতিবেশী নরেশ শীল বলেন, “পূর্বে আমাদের গ্রামে ঝলমল নদী ছিল, যেখানে মাছ শিকার করা খুব সহজ ছিল। এখন আর সেভাবে মাছ পাওয়া যায় না।” অন্যান্য মৎস্য ব্যবসায়ীও একই রকম হতাশা প্রকাশ করেছেন, তবে তারা বলেন, চাষের মাছের অভাব নেই, কিন্তু দেশীয় প্রজাতির মাছ এখন প্রায় অদৃশ্য।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার। মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. মো. জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, “যতটা কীটনাশক কৃষকরা ফসলের ক্ষেতেয ব্যবহার করেন, তাতে মাছের প্রজননস্থানে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, যা মাছের জীববৈচিত্র্য হ্রাস করছে।”

এছাড়া নদী ও জলাশয়ের নাব্যতা হারানো এবং অবৈধ পন্থায় মৎস্য আহরণও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট পটুয়াখালী উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হক জানান, “দেশীয় প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, তবে মূলত জলাশয়ের সংকোচন এবং কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবই এর প্রধান কারণ।”

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে দেশীয় মাছের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, এই উদ্যোগের প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়। উপ-পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানিয়েছেন, “এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কাজ, তবে এখনও মাছের প্রজাতির হারানোর সংখ্যা বা পরিমাণ পর্যালোচনা করা হয়নি।”

দক্ষিণাঞ্চলে দেশের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছের বিলুপ্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দেশীয় মাছের উত্পাদন কমে যাওয়ার কারণে শুধু মানুষের খাদ্যাভ্যাসই পরিবর্তিত হচ্ছে না, বরং এর সাথে স্থানীয় মৎস শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এই মাছগুলো একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিসিবিতে জটিলতা: ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অভিমত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিসিবির ২৬ পরিচালকের মধ্যে ১৫ জনের পদ শূন্য হয়ে গেছে, যার মধ্যে কেউ পদত্যাগ করেছেন, কেউবা এখনো নিরুদ্দেশ। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিয়মিতভাবে বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকলেও, তাদের স্থানে এখনো কোনো নতুন পরিচালক নিয়োগ হয়নি। তবে এই পরিস্থিতিতে দুইজন পরিচালক, ফারুক আহমেদ ও নাজমুল আবেদিন ফাহিম ব্যতিক্রমী অবস্থানে রয়েছেন, যারা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এর মাধ্যমে বিসিবির পরিচালনা কমিটিতে রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

ফারুক আহমেদ বর্তমানে বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ফাহিম মুলত ‘সেকেন্ড ম্যান’ হিসেবে কাজ করছেন। আগের সভাপতি নাজমুল হোসেন পাপনের আমলে দায়িত্বে থাকা বেশ কিছু পরিচালক এখনো বিসিবিতে আছেন, তবে তারা কেবল উপস্থিত থাকলেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করছেন না। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, আইসিসি সভা কিংবা বিপিএলের শীর্ষ পদে এখনো প্রধানত ফারুক ও ফাহিমই দায়িত্ব পালন করছেন।

বিসিবির এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, বিসিবির বর্তমান পরিচালনা কমিটি কার্যক্রমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। তার ভাষায়, “আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন বিসিবির পরিচালকদের কেউই ছিলেন না, পরামর্শের জন্যও কেউ ছিল না। স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে, গঠনতন্ত্র এবং আইসিসির গাইডলাইন অনুসারে কিছু পরিবর্তন এনেছি।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অনেক পরিচালক না থাকার ফলে বোর্ডের কাজকর্ম কিছুটা ভেঙে পড়েছে।

আসিফ মাহমুদ এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে রাজনীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “যেভাবে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে, তা খুবই দুঃখজনক। বিসিবি যদি রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতো, তাহলে তার কার্যক্রম আরও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হতে পারতো।”

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, “বিসিবির মধ্যে যদি রাজনৈতিক প্রভাব না থাকতো, তবে ধারাবাহিকভাবে ক্রিকেটের উন্নতি আরও ভালোভাবে সম্ভব হতো। ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কেবল সমস্যা সৃষ্টি করছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্যাস অনুসন্ধানে মার্চে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে পেট্রোবাংলা

পার্বত্য চট্টগ্রামে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতে চলতি বছরের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেট্রোবাংলা। বিশেষত, পার্বত্য অঞ্চলের ব্লক ২২ এবং ২২(ক)-এ গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য অফশোর পিএসসি (উৎপাদন ও বন্টন চুক্তি) আদলে একটি নতুন পিএসসি খসড়া প্রস্তুত হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার জানান, খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং আশা করা যাচ্ছে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপরই মার্চে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

পার্বত্য অঞ্চলে গ্যাসের প্রচুর মজুদ থাকতে পারে বলে আশাবাদী পেট্রোবাংলা, যদিও এখন পর্যন্ত এখানে তেমন কোনো বড় অনুসন্ধান কার্যক্রম হয়নি। এই অঞ্চলের গ্যাসের দাম সাগরের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে, কারণ সেখানে গ্যাস উত্তোলন এবং পাইপলাইন নির্মাণের খরচ বেশি। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, অফশোর গ্যাসের দাম সাধারণত ব্রেন্ট ক্রুডের ১০% রাখা হয়, তবে পার্বত্য অঞ্চলের জন্য এটি ৮% প্রস্তাব করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা আরো জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে গ্যাস উত্তোলনে পেট্রোবাংলার সঙ্গে বাপেক্স একটি যৌথ উদ্যোগে অংশ নেবে। তবে, ব্লক চুক্তি করার ক্ষমতা কেবল পেট্রোবাংলার আছে; বাপেক্স বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ তৈরি করে প্রস্তাব দিতে পারবে, তবে বিনিয়োগের দিক থেকে তাদের ভূমিকা সীমিত থাকবে।

বাংলাদেশে প্রথম কূপ খনন করা হয় ১৯১১ সালে, এবং তারপর ১৯১৪ সালে সীতাকুন্ডে প্রথম গ্যাস কূপ খননের মাধ্যমে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের যাত্রা শুরু হয়। এর পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু কূপ খনন করা হলেও, বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে হালদা এলাকায় কূপ খনন করা হয়েছিল।

২০০১ সালে ইউএসজিএস এবং পেট্রোবাংলা যৌথভাবে পার্বত্য অঞ্চলের গ্যাস মজুদ সম্ভাবনা নিরূপণ করে। তাদের মতে, এই অঞ্চলে সর্বনিম্ন ৮.৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকতে পারে, যা সর্বোচ্চ ৬৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ২৯টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হয়েছে, তবে বেশ কিছু ফিল্ডের উৎপাদন কমে এসেছে। গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ার কারণে কিছু ফিল্ড পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, নতুন অনুসন্ধান উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে নতুন ব্লকগুলোর মাধ্যমে।

পেট্রোবাংলা আগামী ৩ বছরে ৭০টি নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন করতে চায়, এবং পার্বত্য অঞ্চলের গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমের পাশাপাশি সাগরের গ্যাস অনুসন্ধানও অব্যাহত থাকবে। এটি বাংলাদেশের গ্যাস মজুদ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে গ্যাসের উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।




নভেম্বরের ১৭ দিনে ডেঙ্গুতে ১০০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৯ হাজারের বেশি

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসের ১৭ দিনে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১,৩৮৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯,৯৮৪ জন। এর মধ্যে ৬৩.১% পুরুষ এবং ৩৬.৯% নারী।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০৯ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪৬ জন রয়েছেন।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১,৫১৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৭৩,৫৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির শুরু হয়, যা আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে আরও বেড়ে যায়। গত ৩ মাসে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে অক্টোবর মাসে ৩০,৮৭৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এছাড়া, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ডেঙ্গুতে মোট ১,৭০৫ জনের মৃত্যু এবং ৩,২১,১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুযোগ

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন করদাতারা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের জন্য কোম্পানি ব্যতীত সকল শ্রেণির করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ছিল। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রোববার (১৭ নভেম্বর) এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার একটি আদেশ জারি করেছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের পরিচালক (জনসংযোগ) সৈয়দ এ. মু’মেন নিশ্চিত করেছেন যে, এই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পেশার করদাতাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল।

এবারের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য কিছু বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনবিআর-এর নতুন আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অবস্থিত সকল সরকারি কর্মচারী, সারাদেশের সকল তফশিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা, সারাদেশের সকল মোবাইল টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীরা এবং উক্ত আদেশে উল্লিখিত বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

করদাতাদের সুবিধার্থে কোম্পানি ব্যতীত সকল করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এখন উক্ত করদাতারা অনলাইন (ই-রিটার্ন) ও অফলাইন (কাগজে রিটার্ন) উভয় পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন, এবং তা কোনো জরিমানা ছাড়াই ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা যাবে।

এ পর্যন্ত তিন লাখ পঁচাত্তর হাজার করদাতা অনলাইনে তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা প্রকাশ করেছে যে, এ বছর করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের অভিজ্ঞতা হবে ঝঞ্ঝাটমুক্ত।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম