রাবনাবাদ নদীতে ১৪ কেজির পাঙাশ, বিক্রি ১০ হাজার টাকায়

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পায়রা বন্দর সংলগ্ন রাবনাবাদ নদীতে জেলে মোহাম্মদ অলির জালে ধরা পড়েছে ১৪ কেজি ওজনের একটি বিশাল পাঙাশ মাছ। মাছটি বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা কেজি দরে, মোট ৯ হাজার ৮০০ টাকায়।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাছটি কলাপাড়া পৌর শহরের নতুন বাজারে নিয়ে এলে দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। পরে মাছ ব্যবসায়ী হাসান আলী হাওলাদার মাছটি কিনে নেন। তিনি জানান, বর্তমানে মাছটির দাম ৮০০ টাকা কেজি হিসেবে ১১ হাজার ২০০ টাকা চাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, “বাজারে এত বড় মাছ পাওয়া যায় না, ঢাকায় পাঠালে ভালো দাম পাব।”

মোহাম্মদ অলি বলেন, “সকালে রাবনাবাদ নদীতে জাল ফেলতেই বিশাল এই পাঙাশটি ধরা পড়ে। আরও দুটি ছোট পাঙাশসহ অন্যান্য মাছও পাই। এত বড় পাঙাশ আমার জালে এই প্রথম ধরা পড়েছে। ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি।”

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “ইলিশসহ মাছের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বড় মাছ ধরা পড়ছে। এর সুফল জেলেরা পাচ্ছেন। এভাবে নিয়ম মেনে চললে সামনের দিনগুলোতেও ভালো মাছ পাবেন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে ইউএনও মো. বশির গাজির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজির অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে বাউফল সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা এক ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মুনতাসির তাসরিফ, রুহুল আমীন, এবং আয়শাতুন্নেছা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ইউএনও মো. বশির গাজি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত। তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে মিলে কৃষি প্রণোদনার দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তারা বলেন, “এই বিষয়গুলো ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।”

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, “তিনবার বদলির আদেশ হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য কারণে তা কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।”

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, “বাউফলের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ইউএনও মো. বশির গাজি শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম করেছেন। আমরা তার দ্রুত অপসারণ দাবি করছি।”

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণ করা না হলে রবিবার থেকে লাগাতার আন্দোলন এবং উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।”

এদিকে, একই দাবিতে গত রোববার (১৭ নভেম্বর) উপজেলা কৃষক দলের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবির হলের নাম পরিবর্তনের দাবি শিক্ষার্থীদের

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বশেমুর) হলের শিক্ষার্থীরা তাদের আবাসিক হলের নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রস্তাব করেছেন, হলের বর্তমান নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪’ রাখা হোক।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম তাদের কাছে একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তারা দাবি করেছেন, বিগত ১৬ বছরে সরকারের দমনমূলক শাসন এবং জনগণের ওপর নিপীড়নের ঘটনাগুলো তাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষায়, “বর্তমান নাম বহাল রাখা মানে আমাদের আন্দোলন ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা।”

তারা আরও বলেছেন, ‘বিজয়-২৪’ নামটি জুলাই বিপ্লবসহ অন্যান্য আন্দোলনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধার প্রকাশ করবে। একই সঙ্গে, হল থেকে রাজনৈতিক প্রতীক এবং মুরাল অপসারণেরও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঐতিহাসিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বেওয়ারিশ শহীদদের পরিচয় শনাক্তে সরকারের উদ্যোগ জানতে চিঠি




জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ভোলার চরাঞ্চলের শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে ভোলার চরাঞ্চলের শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রান্তিক এসব এলাকার শিশুরা নানা ধরনের রোগ, মহামারী, পুষ্টিহীনতা, দুর্ঘটনা, এবং পরিবেশগত সংকটের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মারাত্মক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, এবং পড়াশোনায়ও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।

সরেজমিনে ভোলা সদরের মেঘনা তীরবর্তী মাঝের চরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, গৃহিণী রাবেয়া বেগমের ৪ বছর বয়সী ছেলে জামাল জন্মের পর থেকে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি জানান, “জামাল সবসময় জ্বরে ভোগে, সর্দি-কাশি, আমাশয় প্রায় হয়েই থাকে, গরমে শরীরে ফোঁসকা উঠে। ডাক্তার দেখালেও রোগের সঠিক পরিচয় মিলছে না, এবং তাকে নিয়ে দিন কাটানো খুব কঠিন।”

অন্য এক গৃহিণী, আরজু বেগম বলেন, “আমার সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়েটির হাত সবসময় ফেটে রক্ত ঝড়ে। বহু ওষুধ খাইয়েও কোনো উপকার হচ্ছেনা।”

মাঝের চরের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী নার্গিস বলেন, “আমার বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সে, এখন সতেরো। ৮ মাসের সন্তান রহিমের কাশি আর জ্বর খুব প্রকট হয়ে উঠেছে। হাসপাতালে নিতে হলে একদিকে নদী পাড়ি দিতে হয়, অন্যদিকে সংসারের খরচ চলে না।”

এদিকে, স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক কালিমুল্লাহ জানান, “এ ধরনের চরাঞ্চলে মা ও শিশুরা একসঙ্গে স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। বহু পরিবারে শিশুর কোলে শিশু থাকার দৃশ্য অনেকটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে। অনেক শিশুই অজানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তারা জীবনযুদ্ধে হেরে যাচ্ছে।”

ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরের এক মৎস্যজীবী, আব্দুল্লাহ মাঝি বলেন, “আমার দুই বছর বয়সী শিশুটি এখনও সঠিকভাবে হাঁটতে পারেনা। শরীরের নিচের অংশ বিবর্ণ এবং উপরের অংশ ফ্যাকাশে। রোগের সঠিক পরিচয় না পাওয়ায় ডাক্তারও কিছু করতে পারছেন না।”

ভোলার স্বাস্থ্য সহকারী মো: আলাউদ্দিন জানান, “বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের শিশুরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়। তবে বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের চিকিৎসা সেবায় আরো বেশি মনোযোগী হয়েছে।”

ভোলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ছোট থেকে বড় বয়সী অনেক শিশু নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের পরিবেশ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা আগের তুলনায় উন্নত হলেও, চরাঞ্চলের শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যা এখনও গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, “ভোলা জেলা উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব শিশুদের শারীরিক অবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তবে আধুনিক চিকিৎসা সেবার উন্নতির কারণে এখন আগের মতো প্রতিবন্ধকতা আর নেই। চিকিৎসা সেবা আরো উন্নত করা হলে এসব শিশুদের চিকিৎসা সম্ভব হবে এবং তাদের জীবনযাত্রা উন্নত হতে পারে।”

উল্লেখ্য, চরাঞ্চলের শিশুরা শুধু শারীরিক সমস্যায় ভুগছে না, বরং সামাজিক সমস্যাও তাদের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। জীবন-জীবিকার সংকটে অনেক পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে পড়ছে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৪৪তম বিসিএসে ৩৯৩০ জনের মৌখিক পরীক্ষা বাতিল

৪৪তম বিসিএস পরীক্ষার ৩,৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা পূর্বের কমিশন কর্তৃক নেওয়া হয়েছিল, তবে পরবর্তী সিদ্ধান্তে তা বাতিল করে নতুন করে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ১১,৭৩২ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষার তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কর্ম কমিশন জানায়, ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১,৭৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩,৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা ১৮ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ৮ অক্টোবর তৎকালীন কমিশনের পদত্যাগের পর নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বের কমিশন কর্তৃক গৃহীত ৩,৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল প্রার্থীর জন্য এবার মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। নতুন মৌখিক পরীক্ষার তারিখ শিগগিরই জানানো হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে লঞ্চ ব্যবসায় ধস

পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রী সংকট শুরু হয়েছে, যার কারণে লঞ্চ ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। এক সময় যেখানে প্রতিদিন ১০টি লঞ্চ চলাচল করত, বর্তমানে তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র দুটি। এর ফলে লঞ্চ মালিকদের অনেকেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নতুন কৌশল গ্রহণের কথা ভাবছেন।

বরিশাল নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, লঞ্চ ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত করতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে, বরিশাল-ঢাকা রুটে এক সময় প্রচুর যাত্রী থাকলেও এখন এটি এক ধরনের সংকটে পরিণত হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সড়কপথের মাধ্যমে ঢাকায় যাতায়াত সহজ হওয়ায় লঞ্চে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এক সময় যেখানে বরিশাল-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ১০টি লঞ্চ চলত, এখন সেই সংখ্যা মাত্র দুটি হয়ে গেছে। এতে ১ হাজার কোটি টাকার এই পরিবহন খাতে এখন ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। লঞ্চ মালিকরা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারেননি এবং অনেক শ্রমিক তাদের কাজ হারিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে, শ্রমিকরা জানান, “আগে দিনে ঢাকা থেকে ছয় থেকে সাতটি লঞ্চ যাত্রী ভরে বরিশাল আসত, তবে এখন এক সপ্তাহে একটি ট্রিপ পাওয়া যাচ্ছে।”

লঞ্চ ব্যবসায় ধস নেমে যাওয়ার পর, অনেক মালিক এখন প্রমোদতরী হিসেবে লঞ্চ ব্যবহারের চিন্তা করছেন। সুরভী গ্রুপের পরিচালক রিয়াজ উল কবির বলেন, “নৌযাত্রা আমাদের শতবর্ষের ঐতিহ্য, এবং আমরা এটিকে টিকিয়ে রাখতে চাই। ঢাকা-বরিশাল রুট ছাড়াও অন্যান্য রুটে লঞ্চগুলোকে ক্রুজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।”

বরিশাল নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের লঞ্চমুখী করতে তারা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “যাত্রীরা যদি সময়ের চেয়ে বেশি জীবন নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেন, তবে লঞ্চে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে। তবে, বর্তমানে আমাদের রাজস্ব আয় ৬৬ শতাংশ কমে গেছে।”

গত ২০ বছরে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে ২৬টি বিলাসবহুল লঞ্চ চালু করা হয়েছিল, যার বেশিরভাগ এখন অব্যবহৃত।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য একটি কমিটি গঠন করার জন্য সরকারের কাছ থেকে প্রেস রিলিজ প্রস্তুত করা হলেও তা প্রকাশ না করায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা এই সিদ্ধান্ত জানান।

আন্দোলনের সমন্বয়করা সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, “শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রেস রিলিজ তৈরি করা হয়েছিল। তবে এই প্রেস রিলিজটি কোনও ব্যক্তির ফোনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি, যা আমাদের কাছে হতাশাজনক এবং অপ্রত্যাশিত। আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তারা কি কোনো চক্রান্ত করছে? আমরা ১২ হাজার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১৪ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছিলাম, কিন্তু তাদের আচরণ আমাদের খুব হতাশ করেছে।”

আন্দোলনকারীরা আরো বলেন, “আমরা কেন ক্যাম্পাসে ফিরে আসামি হতে পারি? সরকারের আচরণ এমনভাবে ছিল যে আমরা যেন অপরাধী। আমাদের কাছে এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং আমরা তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করিনি।”

এ সময় তারা তাদের চলমান আন্দোলনকে আরও তীব্র করার ঘোষণা দেন। আগামীকাল, ২০ নভেম্বর থেকে তিতুমীর কলেজের সকল পরীক্ষা ও ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। এছাড়া, বারাসাত থেকে মহাখালী পর্যন্ত কর্মসূচি সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলতে থাকবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ব্যাংকগুলোর শাখায় ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন লেনদেনের নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংকের শাখায় ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন লেনদেনের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট (ডিসিএম) এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা প্রকাশ করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অনেক তফসিলি ব্যাংক শাখায় ধাতব মুদ্রা বা কয়েন শুধুমাত্র ভল্টে সংরক্ষণ করা হলেও, জনসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী তা লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এই কারণে, দেশব্যাপী জনসাধারণ যখন ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করতে চায়, তখন তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েনের নির্দিষ্ট পরিমাণ সংরক্ষণ এবং লেনদেনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ১ টাকার কয়েন ৮ হাজার পিস, ২ টাকার কয়েন ৮ হাজার পিস এবং ৫ টাকার কয়েন ৫ হাজার পিস রাখতে হবে। স্থানীয় কার্যালয় এবং ফিডিং শাখায় ১ টাকার কয়েন ২৪ হাজার পিস, ২ টাকার কয়েন ২৪ হাজার পিস এবং ৫ টাকার কয়েন ১৫ হাজার পিস থাকতে হবে। উপশাখাগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট পরিমাণ কয়েন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ধাতব মুদ্রার পরিমাণ কমে গেলে তা পূরণের জন্য জনসাধারণ, ফিডিং শাখা বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কয়েন সংগ্রহ করা যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর মাধ্যমে এসব নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এস আলম ও বেক্সিমকোর প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করার আশ্বাস: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এস আলম এবং বেক্সিমকোর প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের জাতীয় সম্পদ, এবং এগুলোর চলমান ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যবস্থা নেবে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “প্রকৃত মালিক থাকুক বা না থাকুক, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে দেওয়া হবে না।”

গভর্নর আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিপুল সংখ্যক কর্মী কাজ করছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকের সম্পর্ক ব্যাংকের সঙ্গে রয়েছে। “এগুলো বিচ্ছিন্ন করা যাবে না,” বলেন তিনি, “ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান আলাদা হলেও দেশের জন্য এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।”

তিনি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বাস্তববাদী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে এবং সঠিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেন। “এটি শুধু তাড়াহুড়ায় বা ইমোশন দিয়ে সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।

এছাড়া, তিনি ব্যাংকগুলোর দায়িত্বের প্রতি মন্তব্য করে বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য সবার আমানত নিরাপদ রাখা। ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করা হবে, তবে তা হিসাব-নিকাশ করে এবং প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ মেনে।”

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ জানান, গত তিন মাসে তাদের ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। “৪,৯৭২ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ব্যাংকের ঋণ বিতরণ এখন বন্ধ রাখা হয়েছে,” বলেন তিনি।

ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ আরও বলেন, এস আলমের শেয়ার বিক্রির জন্য শিগগিরই আদালতে মামলা করা হবে। এছাড়া, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হবে।

তিনি আরও জানান, এস আলমের কোম্পানির ৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে এবং আগামী মাসে ১৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে। “এগুলো সমন্বয় করা হবে শেয়ারের মাধ্যমে,” বলেন তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম