ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান ওমর গ্রেফতার

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমরকে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) তার নির্বাচনি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে শিগগিরই ঝালকাঠি আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে, বুধবার (২০ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজাপুর উপজেলা সদরের গোডাউনঘাট এলাকায় ‘মেহজাবিন’ নামে শাহজাহান ওমরের নিজবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাদী হয়ে মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে ৭-৮ জন যুবক বাড়ির বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে পূর্ব পাশের ভবনের সামনের দুটি ও উত্তর পাশের একটি জানালার কাচ ভেঙে যায়।

শাহজাহান ওমরের রাজনৈতিক জীবন প্রসঙ্গে জানা যায়, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ওই নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন আইজিপি বাহারুল ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. মাইনুল হাসানকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আইজিপি হিসেবে বাহারুল আলম এবং ডিএমপি কমিশনার পদে শেখ সাজ্জাদ আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ পুলিশে বড় রদবদল করা হয়।

৬ আগস্ট পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পান ময়নুল ইসলাম। ৭ আগস্ট ডিএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে ডিআইজি মো. মাইনুল হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের সাড়ে তিন মাসের মাথায় গতকাল এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকেই তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।




কলাপাড়ায় বিএনপির সাংগঠনিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর বিএনপির ২নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে দলকে গতিশীল করার লক্ষ্যে বুধবার (২০ নভেম্বর) বিকালে কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক সাংগঠনিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা মো. শফিকুল হক পনির। প্রধান অতিথি ছিলেন কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, আর প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নাননু মুন্সী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা তারেক আনাম সুমন, কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাদল মৃধা, সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ রতন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক রাশেদ মোশাররফ কল্লোল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান লিটু, মো. আল আমিন হাওলাদার, বিএনপি নেতা আরিফ সিকদার, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. শোয়েবুর রহমান শোয়েব এবং যুবদল নেতা জেমস জানিব।

কর্মী সমাবেশে বক্তারা বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। বক্তারা প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরান বিশ্বাস, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং পৌর বিএনপি নেতা গাজী মো. কাউসার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সশস্ত্র বাহিনী দিবসে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে সকাল সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিন। এরপর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের পর তিন বাহিনীর প্রধানরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আইএসপিআর জানায়, দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার জন্য নির্ধারিত নিজস্ব কার্যালয়ে তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিন বাহিনী প্রধান।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করবেন। এ সময় খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক), সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিকেল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এ সংবর্ধনায় উল্লেখযোগ্য আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন– প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, বাহিনীত্রয়ের সাবেক প্রধান, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারী, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তাদের উত্তরাধিকারী, উচ্চপদস্থ অসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।




লেবুখালী ভাড়ানী খালের ভাঙা ব্রিজের কারণে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার লেবুখালী ভাড়ানী খালের ওপরের আয়রন ব্রিজটি তিন বছর আগে পণ্যবাহী কার্গোর ধাক্কায় ভেঙে পড়ে। সেই থেকে ব্রিজের ধ্বংসাবশেষ খালের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। বর্তমানে খেয়া নৌকা বা ঝুঁকিপূর্ণ ঘূর্ণিঝড়-ক্ষতিগ্রস্ত চার কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী।

এটি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও ২০১৫ সালে পণ্যবাহী একটি কার্গোর ধাক্কায় ব্রিজটির একাংশ বিধ্বস্ত হয়। কিছুদিন পর এলজিইডি এটি মেরামত করলেও ২০২২ সালের জানুয়ারিতে একটি বালুভর্তি কার্গো আবারও ব্রিজের অর্ধেক অংশ ধ্বংস করে ফেলে। এরপর থেকে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী খেয়া নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান আশ্রাফ জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ, দুমকি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসেন। তারা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার করে বিদ্যালয়ে আসেন। খেয়া পারাপারের সমস্যা, বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টির সময়, তাদের যাতায়াত আরো কঠিন করে তোলে। তিনি আরও জানান, এই দুর্ভোগের কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

এলাকা বাসী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বারবার ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠালেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস সালাম এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন মোল্লা জানান, ব্রিজটি দ্রুত মেরামত করা না হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর জানিয়েছেন, ভাঙা ব্রিজটি সরিয়ে নতুন ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ডিজাইনের কাজ চলছে এবং শীঘ্রই টেন্ডার আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরু হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়া পৌরসভার জলাধারগুলোতে অব্যাহত ভরাটের মহোৎসব, পানির সংকট তীব্র

কলাপাড়া পৌরসভার জলাধারগুলো বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নাগরিক সচেতনতার অভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এখানকার পুকুর এবং খালগুলো দিন দিন সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষত, জলাধারগুলোর অবৈধ ভরাট ও বিক্রির ফলে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে, যার ফলে পানির অভাব এবং অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে অগ্নিনির্বাপণ এবং পানির সরবরাহ ব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়বে।

পটুয়াখালী বরগুনা মৎস চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের জরিপ অনুযায়ী, কলাপাড়া পৌরসভায় একসময় ১৭ হাজারের বেশি পুকুর ছিল, কিন্তু এখন এর অর্ধেক পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। ২০১৫ সালে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা লাভ করা পৌরসভাটি বর্তমানে একটি পানির সংকট অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে অন্তত চার হাজার পুকুর ভরাট করা হয়েছে এবং এর ফলে গোসল, রান্না, ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত পানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। অধিকাংশ পুকুর ভরাটের ফলে ভূ-উপরিভাগের পানি সংকটে জনজীবনে অস্বস্তি এবং ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে।

কলাপাড়া পৌরসভার পুকুরগুলোর বড় অংশই অবৈধভাবে ভরাট হচ্ছে এবং এর ফলে পরিবেশের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এ অবস্থা শুধুমাত্র পানির সংকট নয়, বরং অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তারা পুকুর ও খালগুলো সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে কাজ করবেন। তবে এখনো আইনানুগ ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। একইভাবে, এলাকার জনগণও পানি সরবরাহের জন্য অনবরত সংগ্রাম করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে কলাপাড়া পৌরসভায় পরিবেশগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চর নাজিম উদ্দিনে মুজিব কিল্লার ভবনে বড় ফাটল, নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচর ইউনিয়নের চর নাজিম উদ্দিনে নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই মুজিব কিল্লার ভবনে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নেতিবাচক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চর নাজিম উদ্দিনে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে মুজিব কিল্লার নির্মাণের অনুমোদন হয়েছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২১-২২ অর্থ বছরে এর টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স উপকূল কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ পেলেও, ঢালচর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম এটি কিনে নেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন ও মো. ইব্রাহীম জানান, ঠিকাদার আবুল কালাম নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন, যার ফলে মুজিব কিল্লার ভবনে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষ হলেও এখনও চারপাশের দেয়ালসহ কয়েকটি কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়াও ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজেও রড এবং ইট ব্যবহার না করে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।

১৪ ফুট সট পিলারের মাঝখানে টাইবিম দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি দেওয়া হয়নি এবং সেপটিক ট্যাংকের গাঁথুনি ১০ ইঞ্চি করার কথা থাকলেও সেটি মাত্র ৫ ইঞ্চি করা হয়েছে। এই অবস্থায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং দুর্যোগের সময় আশ্রয় নিলেও দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্ত সাব ঠিকাদার ও ঢালচর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম জানান, ফাটলটি সাধারণ বিষয়। তিনি দাবি করেন, মাটির কারণে ফাটল ধরেছে এবং ফাটলের স্থানে বালি ও সিমেন্ট দিয়ে দ্রুত ভবনটি ঠিক করে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছেন।

ভোলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. হাতেম আলী বলেছেন, যদি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছেন, মুজিব কিল্লাটি পরিদর্শনে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভোলায় মোট ৩৭টি মুজিব কিল্লা স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গেছে, এর মধ্যে ১৪টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪টির কাজ চলমান রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শাহজাহান ওমরের বাসায় হামলা, দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালায়

ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২০ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে জেলার রাজাপুর উপজেলা সদরের গোডাউন ঘাট এলাকায় তার বাড়ি মাহজাবীনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৭টার দিকে ৮/১০ জনের একটি দল হঠাৎ করে প্রাচীরের বাইরে থেকে ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে। এতে ভবনের সামনে থাকা দুইটি ও উত্তর পাশের জানালার একটি গ্লাসের আংশিক অংশ ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়। তবে হামলাকারীদের চিনতে পারেননি তারা।

রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “এ রকম ঘটনা কেউ আমাকে বলেনি বা এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, বিএনপির সঙ্গে প্রায় চল্লিশ বছরের রাজনীতিক সম্পর্ক শেষ করে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হঠাৎ নৌকায় যোগ দিয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পালিয়ে রয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৪ বছরেও শেষ হয়নি আয়রন ব্রিজের কাজ, স্থানীয়রা ভোগান্তিতে

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ২৪ বছর আগে উদ্বোধন হওয়া আয়রন ব্রিজের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি, ফলে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ব্রিজটি ব্যবহার করতে গিয়ে নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা, আর এটি এখন “মরণফাঁদ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০০ সালে ফায়জুল হক এমপি ব্রিজটির উদ্বোধন করেন, তবে ২৪ বছর পরও কাজ শেষ হয়নি। নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামে অবস্থিত এই ব্রিজের কাঠামো এখন লোহার পিলারগুলোর উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক সময় রেজাউল করিম নামে এক ঠিকাদার কাজটি হাতে নিয়েছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে আর তার কাজ শেষ করা হয়নি। ঠিকাদারের মৃত্যুর পরও ব্রিজটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে, কাঠের পাটাতন দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা। অনেকেই মনে করেন, যেকোনো মুহূর্তে ব্রিজটি খালে পড়ে যেতে পারে।

ব্রিজটির পাশে একটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, এবং এটি ব্যবহার করে আব্দুর হক কলেজের শিক্ষার্থীরাও চলাচল করেন। তবে স্থানীয়রা জানান, তাদের কাছে বিকল্প যাতায়াত পথ নেই, তাই ঝুঁকি নিয়ে তারা এই ব্রিজটি ব্যবহার করছেন।

তানভীর আহমেদ, কাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা, বলেন, “এই ব্রিজটির কাজ শেষ করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তেমন কোনো উদ্যোগ নেননি। একাধিকবার জানানো হয়েছে, তবে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।”

ফরিদুল আলম শরীফ, একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা, বলেন, “ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করা এখন মারণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্রিজে চলাচল করতে গিয়ে অনেক সময় তা ডানে বা বামে কাত হয়ে যায়।”

২ নং বলদিয়া সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, “ব্রিজে চলাচল করতে গেলে এমন অনুভূতি হয় যেন ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে। গাছের পাটাতনের উপর হাতল ছাড়া চলাচল করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়।”

বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, যা স্থানীয়দের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয়। অচিরেই সমস্যা সমাধান করা হবে।”

নেছারাবাদ উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, “ব্রিজটির অবস্থা বেহাল, তবে এখানকার জায়গার অভাব রয়েছে। স্থানীয়রা জমি দিতে রাজি নন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডিম আমদানি বন্ধের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) প্রান্তিক খামিদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ডিম আমদানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, দেশে ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সিন্ডিকেট ভাঙা এবং উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বুধবার (২০ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিপিএ জানায়, দেশের পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে বাড়িয়ে প্রান্তিক খামারিদের ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা গেলে সিন্ডিকেট ভেঙে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে খামারিরা ন্যায্যমূল্যে ফিড ও বাচ্চা কিনতে পারবে এবং ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ কমবে। এর ফলে ভোক্তা এবং খামারিরা লাভবান হবে।

বিপিএ আরও জানায়, দেশের ডিম ও মুরগির বাজারে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বড় করপোরেট কোম্পানির একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান জরুরি। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের ডিম ও মুরগির সংকট দূর হবে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

করপোরেট কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং দাম বাড়ছে। করোনার আগ পর্যন্ত দেশীয় খামারিরাই প্রধানত ডিম ও মুরগির উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, কিন্তু এখন করপোরেট কোম্পানির আধিপত্যের কারণে প্রতিযোগিতা হ্রাস পেয়েছে এবং প্রান্তিক খামারিরা সঠিক দামে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারছে না।

বিপিএ জানায়, দেশের ডিম ও মুরগির সংকট নেই বরং সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ডিম আমদানি না করে, যদি প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সহায়তা দেয়া হয়, তাহলে দেশেই ডিমের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

ফিড ও মুরগির বাচ্চার বাজারে করপোরেট কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে খামারিদের ব্যবসা চলমান রাখতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কন্ট্রাক্ট ফার্মিং পদ্ধতি এই সংকটের মূল কারণ। বিপিএ জানায়, এই পদ্ধতিতে খামারিদের বাজারে স্বাধীনভাবে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ নেই এবং তাদের লাভ কমে যাচ্ছে।

ডিম ও মুরগির সরবরাহ বাড়াতে সরকারকে ৫টি প্রস্তাব দিয়েছে বিপিএ:

1. সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর ব্যবস্থা: ফিড ও মুরগির বাচ্চার বাজারে করপোরেট সিন্ডিকেট বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করে প্রান্তিক খামারিদের সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ দিতে হবে।

2. ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ: ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য করা এবং সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

3. প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা: খামারিদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

4. ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা: ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করতে হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে।

5. কন্ট্রাক্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণ: করপোরেট কোম্পানির কন্ট্রাক্ট ফার্মিং পদ্ধতির অপব্যবহার রোধে আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং ক্ষুদ্র খামারিদের স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

বিপিএ আশা প্রকাশ করেছে, প্রান্তিক খামারিদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও উপকরণ সরবরাহ করা হলে দেশে ডিম ও মুরগির উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম