জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে পটুয়াখালীতে বিএনপির বিশাল জনসমাবেশ

পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে শনিবার (২৩ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় পটুয়াখালী শহরের শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্কে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী একত্রিত হন, যার ফলে জনসমাবেশটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মাওলানা নেছারুল হক। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং সাবেক মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু।

সমাবেশে বক্তারা পটুয়াখালীতে বিএনপির ওপর সরকারি হামলা এবং সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা বলেন, “গত ১৫ বছরে পটুয়াখালীতে বিএনপির অফিস ১৪ বার আক্রমণ করা হয়েছে এবং অফিসের পাখাও চুরি হয়ে গেছে।” বক্তারা আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত হয়েও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসিনি, অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন এবং দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন।”

এদিন, বিএনপির নেতাকর্মীরা পটুয়াখালী শহর এবং সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছান। কিছু নেতাকর্মী হাতে ধানের ছড়া, জিয়াউর রহমানের ছবি ও প্লাকার্ড নিয়ে আসেন। পাশাপাশি, খালেদা জিয়ার প্রতিরূপ সাজিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে শহর জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

সমাবেশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং কৃষক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে পটুয়াখালীকে একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় স্থাপিত হলো কৃষকদের সরাসরি সবজি বাজার

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, ২৩ নভেম্বর ২০২৪: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সরাসরি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য একটি নতুন সবজি বাজার স্থাপন করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদের জন্য উপকারী।

এ বাজারটি স্থাপন করা হয় কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে, যেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কালাপাড়াবাসী’র সহায়তায় প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায়। শনিবার ভোরে এই বাজারে বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে হাজির হন। বাজারটি চালু হওয়ার পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে। এতে কৃষকরা তাদের পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারছেন, আর ক্রেতারা পাচ্ছেন সস্তায় তাজা সবজি।

ক্রেতা সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ নাসির উদ্দীন বলেন, “এই বাজারটি চালু হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই সুবিধা হয়েছে। আমরা চাই, এই বাজারটি সবসময় চালু থাকুক।”

নীলগঞ্জের সবজি বিক্রেতা আ: রহিম বলেন, “এ বাজারটি চালু থাকলে আমরা ক্রেতাদের টাটকা শাক-সবজি দিতে পারব, এবং বিক্রি করেও লাভবান হবো। এই বাজারটি স্থাপন করার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”

এ বাজারের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন, যা মধ্যস্বত্বভোগী ও অতিরিক্ত খাজনা ছাড়াই সম্ভব হচ্ছে। বাজারটি স্থাপনের জন্য আয়োজকদের সবার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন সংস্কার কমিশনের মতবিনিময়ে আসা সুধীজনরা। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচনি সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নিজেও এর পক্ষে আছেন বলে জানান।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নাগরিক সমাজের অভিমত হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়া উচিত। কারণ, স্থানীয় নির্বাচন করার ফলে আমাদের কমিশনের সক্ষমতা বাড়বে। টেস্ট হয়ে যাবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে যে সাপোর্ট দরকার হবে, তাও নিশ্চিত হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটা, আর স্থানীয় নির্বাচন পাঁচটা। পাঁচটার মধ্যে তিনটা হলো ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা। জাতীয় নির্বাচন ন্যাশন-ওয়াইড হয়। আর সিটি হয় লোকালাইজড। জেলা পরিষদে আসলে কোনো নির্বাচন হয় না। এখন স্থানীয় নির্বাচনের পূর্বে যদি জাতীয় নির্বাচনে যাই, তাহলে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা ঝুলে যাবে। কারণ এখন আমাদের যে চিন্তা-ভাবনা, স্থানীয় নির্বাচন যেটা আছে সেটা কোনো সিস্টেম না। আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান, আলাদা আলাদা আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। কোনো কমপ্রিহেন্সিভ সিস্টেম নাই। এই সংস্কারের বড় কাজ হবে একটা সিস্টেম ডেভেলপ করে দেওয়া। এখন সিস্টেম কী হবে? যে সিস্টেম আছে সেটা আইয়ুব খানের ভাবনায় রেখে করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ বছর পরে উপজেলা, তার ১০ বছর পর উপজেলা পরিষদ হয়েছে। এতে কম্প্রিহেন্সিভ কিছু হয়নি। এই সিস্টেম করার জন্য এখন মোক্ষম সময়। কেননা, বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার কিন্তু নেই। কেবল ইউপি আছে। কাজেই ছবি আঁকার এটাই সময়। আমরা যদি সিস্টেম করতে পারি যে, একটা কম্প্রিহেন্সিভ আইন হবে। সেই আইনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান চলে আসবে। এতে একটা তফসিল দিয়ে সবগুলো নির্বাচন করতে পারব।




হাসিনার পরিবারের ১৮ জন মানুষ, এই দুই হাজার নয়: সারজিস

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম সম্প্রতি এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুনি বলে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “হাসিনা সারাজীবন শুধু নিজের পরিবারের কথাই বলেছে, ক্ষমতা ধরে রাখতে তার পরিবারের কান্নাকাটির বিষয়টি অতিরিক্ত হয়ে পড়েছে। তার পরিবারে ১৮ জনই শুধুমাত্র মানুষ, কিন্তু বাকিরা দুই হাজার মানুষ নয়!”

শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে গিয়ে সারজিস সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা এবং তার সহযোগীদের পুনর্বাসনের প্রশ্নে কেউ যদি তাদের পক্ষে সাফাই গায়, তাহলে তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর। তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা আমাদের পরিবারদের হারিয়েছি, তাদের স্বজনেরা আজও শোকের মধ্যে রয়েছে। অনেক শিশু জন্মের আগে বাবা হারিয়েছে, তাদের ভবিষ্যত কী হবে? আমরা কি তাদের সান্ত্বনা দেব?” সারজিসের বক্তব্যে উঠে আসে, “হাসিনা এবং তার সহযোগীরা যে গণহত্যা করেছে, তার কোনো অজুহাত নেই। তারা ক্ষমতায় এসে আমাদের শহীদ পরিবারের কষ্টকে উপেক্ষা করেছে।”

সারজিস আলম আরও বলেন, “শহীদ পরিবারদের নিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ সঠিকভাবে কথা বলেনি, কিন্তু আমাদের জীবনের বিনিময়ে হলেও এই খুনিদের বিচার করতে হবে। হাসিনা সারাজীবন ১৯৭৫ সালের কথা বলে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছেন। এখন তিনি ২০০০ মানুষের হত্যার দায় কীভাবে নেবেন?”

তিনি যোগ করেন, “আমরা ভুলে যাইনি ১৬ বছর ধরে চলা অত্যাচার এবং গুম-খুন, হত্যা। এখন এই দেশের ছাত্র সমাজ আর ভুল করবে না। আমরা সব হত্যার বিচার চাই। আর কোনো ফ্যাসিস্টকে এই দেশে ক্ষমতায় বসতে দেওয়া হবে না।”

এ সময় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন বরিশাল বিভাগের ৭৯ শহীদ পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। সারজিস আলম জানান, পর্যায়ক্রমে সব শহীদ পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, “এই সহায়তা নিছক অর্থ নয়, এটা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস, তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একই সঙ্গে সারা দেশে শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশার পরিমাণ বাড়তে পারে। এর প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় রাত ও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে, তবে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমবে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। একই পরিস্থিতি রবিবার পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে, তবে ওইদিন তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা কক্সবাজার ও কুতুবদিয়ায় রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মাস্টার ইউনুসের জীবন ও কর্ম নিয়ে বাউফলে আলোচনা

বাউফলের নওমালা ইউনিয়নের নগরের হাট হাইস্কুল মাঠে শুক্রবার রাতে মরহুম মাস্টার ইউনুস বিশ্বাসের জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নওমালা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও বাউফল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ মরহুম মাস্টার ইউনুস সম্পর্কে বলেন, “তিনি ছিলেন একজন নীতিবান মানুষ। ইসলাম প্রচারের কাজে সর্বদা নিয়োজিত থাকতেন। তিনি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করতেন না। জামায়াত করার কারণে বিগত সরকারের আমলে তিনি বারবার নির্যাতিত হয়েছেন এবং কারাভোগ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “মাদক মুক্ত একটি সুন্দর বাউফল গড়তে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের নেতা পর্যন্ত এমন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে হবে, যিনি ইমামতি করতে ও জানাজা পড়াতে সক্ষম।”

নারীদের স্বাধীনতা বিষয়ে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী নারীদের অধিকার ও সম্মান রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা বলে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীদের স্বাধীনতা হরণ করা হবে, তারা মিথ্যাচার করছে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওমালা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি মো. মকবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম আল কায়ছারী ও বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় আলেম মাওলানা আবুল বশার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুমকিতে অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল

পটুয়াখালীর দুমকিতে বরিশাল ক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাইয়ুম সিকদারের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে আঠারোগাছিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এডিএস)-এর উদ্যোগে আঠারোগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন এডিএস-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সেন্ট্রাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, মাদ্রাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, দুমকি উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সালেহ খোকন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান সিকদার এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আঠারোগাছিয়া কেরাতুল উলুম কওমি নুরানি হাফেজি মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আবুল বশার।

উপস্থিত বক্তারা অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাইয়ুম সিকদারের কর্মময় জীবন ও সমাজে তাঁর অবদান স্মরণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় উচ্চফলনশীল ধানের চাষ নিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আমন মৌসুমে ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২ এবং ব্রি ধান ১০৩ জাতের চাষাবাদ নিয়ে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি মাঠ দিবস আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর উদ্যোগে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় ৩০০ কৃষকের মাঝে ১০ কেজি করে বোরো ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। বরিশাল আঞ্চলিক ধান গবেষণা কার্যালয়ের পিএসও ও প্রধান ড. মুহাম্মদ আশিক ইকবাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রি-এর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি ও উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তারা জানান, তাদের সেচ সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সরকারি খাল খননের প্রয়োজন। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রি-এর মহাপরিচালক লবণাক্ত জমিতে ধান চাষের উপযোগী নতুন জাত উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং কৃষকদের অন্যান্য সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানের আগে কৃষকরা ধান কাটা কার্যক্রমে অংশ নেন, যা নতুন জাতের ফলন ও মান যাচাইয়ে সহায়তা করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতে সবজির দাম বৃদ্ধি, মাছ-মুরগির বাজার স্থিতিশীল

শীতের তীব্রতার সঙ্গে সবজি, মাছ, এবং মুরগির বাজারে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরবরাহ কমায় সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি মূল্য বেড়েছে, তবে মাছ এবং মাংসের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

সবজির দাম

বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সবজি আসলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে, প্রতি কেজি বেগুন ৭০-৮০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, লতি ৭০ টাকা, কহি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা এবং পটোল ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, শালগম ১২০ টাকা, এবং শসা ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে কিছু সবজি যেমন ধনেপাতা, পেঁয়াজের কালি, এবং চিচিঙ্গা ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি এবং বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকায়, লাউয়ের দাম ৫০-৭০ টাকা। শীতকালীন শাকের দামও বেড়েছে, লালশাক, পাটশাক, পুঁইশাক, মুলাশাক, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ১০-২০ টাকায়।

ক্রেতারা অভিযোগ করছেন যে ব্যবসায়ীরা বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছেন। সুরঞ্জরন নামে এক ক্রেতা বলেন, “দাম বেড়ে আবার ১০০ টাকা ছাড়াতে পারে, যদি দ্রুত বাজারে অভিযান না চালানো হয়।”

মাছ-মাংসের দাম

মাছ এবং মাংসের দাম এখনো বাড়েনি। তবে, মাছের বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে। বিক্রেতারা জানান, নতুন করে দাম বাড়েনি, তবে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে, রুই মাছের দাম ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০-৪৮০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বোয়াল ৭০০-৮০০ টাকা, পোয়া ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪৫০ টাকা, আইড় ৮০০-৯০০ টাকা এবং দেশি কৈ ১ হাজার ৩০০-১ হাজার ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে, প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪৪-১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের দাম

গরু, খাসি, এবং ছাগলের মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ৫০-১ হাজার ১০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারে, ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ২৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

চাল ও অন্যান্য

চালের দামেও নতুন করে কোন বৃদ্ধি দেখা যায়নি। তবে, বাজারে মিনিকেট ৭০-৭২ টাকা, আটাইশ ৬০-৬২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সামগ্রিক অবস্থা

সবজি ও মাছের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতারা এবং বিক্রেতারা দুশ্চিন্তায় আছেন। সঠিক মনিটরিং এবং বাজারে অভিযান চালানো না হলে ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি করতে পারেন বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনায় প্রান্তিক মানুষদের মাঝে ঋণ বিতরণ

বরগুনা জেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রান্তিক মানুষদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল কর্মসূচির আওতায় গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বরগুনার আরডিএফ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১০ টাকার হিসাবধারী ৬৯ জন গ্রাহকের হাতে ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়।

এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি এই অনুষ্ঠানটির মূল আয়োজক হিসেবে কাজ করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক সোহেলী আফরীন। এ সময় এনআরবিসি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং ডিভিশন ও বরিশাল-খুলনা জোনের প্রধান এসইভিপি একেএম রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দেবাশীষ রায়, মাইক্রো ফাইন্যান্স ডিভিশনের প্রধান মো. রমজান আলী ভূইয়াঁসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিনা জামানতে ঋণ বিতরণ করে। এতে সবচেয়ে বেশি ঋণের চেক দেয়া হয় এনআরবিসি ব্যাংকের ২৩ জন গ্রাহককে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ৭ জন, অগ্রণী, বাংলাদেশ কৃষি ও ইসলামী ব্যাংকের ৫ জন করে এবং ইউসিবি, উত্তরা, রূপালী, জনতা, আল আরাফাহ, পূবালী ও ব্র্যাক ব্যাংকের ২ জন করে গ্রাহক ঋণের চেক পায়। ঋণের পরিমাণ ছিল সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক সোহেলী আফরীন বলেন, “দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা খোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তারা খুব সাধারণ তথ্য দিয়ে ঋণ সুবিধা পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক। আমরা চাই এই ছোট উদ্যোক্তারা বড় উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে।”

এনআরবিসি ব্যাংকের একেএম রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের জন্য ঋণ বিতরণ করে যাচ্ছি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ৯৩ কোটি টাকা ৩ হাজার উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করেছি।”

এনআরবিসি ব্যাংকের মো. রমজান আলী ভূইয়াঁ বলেন, “আমরা ব্যাংকিং সেবা দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করতে কাজ করছি, যার ফলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম