বরিশাল-৬ আসন: বিএনপি মরিয়া, ইসলামি দল ও জাতীয় পার্টি আশাবাদী

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজত্ব থাকলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

বিএনপি এ আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া। দলীয় নেতৃত্বের প্রাথমিক অনুমোদন অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, “বর্তমান সময়ে আমাদের দল মাঠে সক্রিয়, তাই শুধুমাত্র বরিশাল-৬ নয়, দেশের সব আসন থেকেই জয়লাভ হবে। আমি মানুষের সেবা করার সুযোগ আবারও পাবো ইনশাআল্লাহ।”

অপরদিকে, ইসলামি দলগুলোও থেমে নেই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, “এবার ফ্রি ও ফেয়ার নির্বাচন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন হবে, জয় আমাদের হবে ইনশাআল্লাহ।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ মিজানুর রহমানও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় পার্টি থেকে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও নাসরিন জাহান রত্না আমিন দম্পতির কেউ প্রার্থী হতে পারেন, যদি কোনো বাধা না থাকে।

এ আসনের তরুণ ভোটাররা নির্বাচনে উৎসাহিত। হাবিবুর রহমান বলেন, “ভোটারদের মন জয় করতে হবে। যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকেই বেছে নেবে জনগণ।” প্রিন্স হাওলাদার বলেন, “গত ১৫ বছরে অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এবার ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হবে।”

বাকেরগঞ্জ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১২টি নির্বাচনে বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি চারবার এবং আওয়ামী লীগ তিনবার বিজয়ী হয়েছে। বর্তমানে এই আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯৫ হাজার ৫০৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৯ হাজার ৬০০, নারী ভোটার এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠি সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ৬৮০ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একনেকের অনুমোদিত ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি ১৩ দশমিক ২১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পে ব্যবহৃত বালুর মান কম, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজন এসওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমভিবি ও এমটি আই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নির্ধারিত মানের ১ দশমিক ৫০ এফএম বালুর বদলে ১ দশমিক ৩৭ এওএম বালু ব্যবহার করেছে, যা টাক্সফোর্স বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় মোট ৩৪টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র ১৭টির কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু না থাকায় নদীর গভীর অংশে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে না। চর ভাটারাকান্দার বাসিন্দা জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, “জিও ব্যাগে বালুর পরিমাণ কম থাকায় পূর্বেও ৪০০ বস্তা বালু বাতিল করা হয়েছে।”

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, “লোকবল সংকটের কারণে সব এলাকায় সময়মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

প্রকল্পের পিডি (প্রোজেক্ট ডিরেক্টর) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, “এই বিষয়ে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।”

প্রকল্পে ব্যবহৃত কম মানের সামগ্রী ও ধীরগতির বাস্তবায়নের কারণে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে পানচাষে চাষীদের উদ্বেগ, দরপতনে ক্ষতির শঙ্কা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পানচাষে চাষীরা দরপতনের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। উপজেলার বাকাল, বাশাইল, গৈলা ও রাজিহার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য পান বরজ চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বর্তমানে বাজারে হঠাৎ দরপতনের ফলে চাষীরা দিশেহারা।

গৈলা ইউনিয়নের পানচাষী আকবর মৃধা বলেন, “বরজ তৈরির বাঁশ, দড়ি, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকসহ সব খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অথচ প্রতি পোন পানের দাম এখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কয়েক মাস আগে একই পরিমাণ পানের দাম ছিল ১২০-১৫০ টাকা। এতে আমরা শুধু ক্ষতির মধ্যে পড়ছি।”

অন্য চাষীরা জানান, বরজে সারা বছর বিনিয়োগ করতে হয়। এই দর থাকলে ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, জীবনধারণও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বরিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায় বলেন, “চাষীদের প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত নজরে রাখা হচ্ছে।”

বরিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, “চাষীদের সহায়তা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।”

চাষীরা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করা হলে তারা ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারবেন এবং বরিশালের পানচাষ পুনরায় লাভজনক হয়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। তিনি বাসদের বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলারের বৈধতা চেয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে খ্যাত। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘টেসলা নেত্রী’ হিসাবেই বেশি চিনে থাকেন।

২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ডা. মনীষা। তবে বরিশালে তার আন্দোলনের মূল ক্ষেত্র ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের অধিকার রক্ষা। সে সময় অবৈধ এসব যানবাহনের বৈধকরণ নিয়ে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার অবস্থান মুখোমুখি ছিল। পরবর্তীতে তিনি থ্রি হুইলার চালকদের বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বরিশালের সমসাময়িক বিষয়েও সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

সংসদ-সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলাপকালে ডা. মনীষা বলেন, “আমি ও আমার পরিবার সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। নির্বাচিত হলে বরিশালের উন্নয়নের জন্য কাজ করব।”

বরিশাল সদর পাঁচ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং এনসিপির লিপু প্রার্থী হয়েছেন। বরিশাল সদর উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও সিটি শহরের মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৯ জন ভোটার এই আসনে ভোট দেবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বামধারার ভোটার ও টেসলা চালকদের সমর্থন ডা. মনীষার জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মেঘনায় জেলের জালে ২ কেজি ৭৫ গ্রামের রাজা ইলিশ, নিলামে বিক্রি

ভোলার মেঘনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে একটি বড় রাজা ইলিশ। মাছটির ওজন ২ কেজি ৭৫ গ্রাম এবং এটি নিলামে ৮ হাজার দুইশত টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে তুলাতলি মৎস্যঘাটে আড়তে মাছটি বিক্রি করা হয়। ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের জেলে মো. মনিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা মেঘনার তুলাতলি ও মদনপুরের মাঝামাঝি নদীতে মাছটি শিকার করেন। স্থানীয় জেলেরা বড় ইলিশকে ‘রাজা ইলিশ’ নামে সম্বোধন করেন।

তুলাতলি ঘাটের আড়তদার ইউনুছ ব্যাপারী জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলেরা মাছটি আড়তে নিয়ে আসেন। পরে আড়তদার, মৎস্য ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতাদের উপস্থিতিতে নিলামে মাছটি বিক্রি করা হয়। সর্বোচ্চ ৮ হাজার ২০০ টাকায় এটি ক্রয় করেন আড়তদার মো. জসিম উদ্দিন ব্যাপারী।

জসিম ব্যাপারী বলেন, বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বরিশাল ও ঢাকার পাইকারি আড়তে অনেক বেশি। তাই তিনি এই মাছটির জন্য বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করেছেন। বরিশাল বা ঢাকার পাইকারি বাজারে এটি ৯ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, প্রতিবছর ইলিশের প্রজনন মৌসুম সফল হওয়ায় নদীতে বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ইলিশ সারাবছর সাগর থেকে নদীতে ডিম ছাড়ার জন্য আসে, তবে সবচেয়ে বেশি ডিম ছাড়ে অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে। মাছটি সাগর থেকে ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে উঠে এসেছে এবং জেলের জালে ধরা পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আবেগ উসকানি বন্ধে নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন: ধর্ম উপদেষ্টা

বরিশালের চরমোনাই দরবারে তিন দিনব্যাপী ওয়াজ-মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কেবল একজন মন্ত্রী বা উপদেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রয়োজন আদর্শিক, তাকওয়া ও সততা সম্পন্ন নেতৃত্ব।

তিনি বলেন, দেশের সংসদে যদি অন্তত দুইশ’ আসন নৈতিকতা ও আদর্শে বলীয়ান প্রতিনিধিতে পূর্ণ হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সুষ্ঠু কাঠামো গঠন সহজ হবে। একইসাথে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান বিধিনিষেধ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হলে জনগণকে নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও যোগ্য নেতৃত্বকে বেছে নিতে হবে।

ধর্ম উপদেষ্টা আলেম সমাজকে জাতির শক্তির প্রতীক আখ্যা দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে আলেমদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ ক্রমেই অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং সামনে আরও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ইসলামের অপব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “জনগণের আবেগকে উসকে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। ইসলাম নিয়ে মত প্রকাশ করতে হলে আলেমদের ঐক্যমতের ভিত্তিতেই করতে হবে, অন্যথায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে দেশব্যাপী আগত উলামা, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক ভুমিকম্প মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ভূমিকম্প–ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ–সংক্রান্ত বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত  হয় এ বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন

বৈঠকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি, প্রস্তুতি, সমন্বয় ও দ্রুত সাড়া প্রদান নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

গত শুক্র (২১ নভেম্বর) ও শনিবার (২২ নভেম্বর) প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

শুক্রবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে কেঁপে ওঠে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এতে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া, ভবন হেলে যাওয়া ও ফাটল সৃষ্টি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি—৫ জনের মৃত্যু হয় নরসিংদীতে; ঢাকায় মারা যান ৪ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১ জন।

পরের তিনটি ভূমিকম্প তুলনামূলক মৃদু ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভূমিকম্পগুলো বড় মাত্রার ভূমিকম্পের বার্তা দিচ্ছে। তাই যথাযাথ প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলার সময় নেই।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), বিমসটেক, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও ফ্রান্স দূতাবাসের মতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।




বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ফয়েজের লাশ উত্তোলন

‎নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ফয়েজের লাশ আদালতের নির্দেশে উত্তোলন করা হয়েছে।

‎সোমবার দুপুর ১২টায় রায়পুর উপজেলার ১নং উত্তর চর আবাবিল ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের ঝাউডগী গ্রামে নিজ বাড়িতে রায়পুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে কবর খুলে লাশ উত্তোলনের করেন।

‎ফয়েজের পিতা আলাউদ্দিন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা (মামলা নং–১, তারিখ: ১/০৭/২০২৫) দায়ের করলে আদালত পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী আবুল বাসার উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করেন।

‎লাশ উত্তোলনের তদারকি করা রায়পুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা বলেন, নারায়ণগঞ্জ কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী লাশ স্বজনদের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হবে।

‎লাশ উত্তোলনের সময় পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।‎পরিবারের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাস্তা পারাপারের মুহূর্তে ফয়েজ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আদালত পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

‎‎নিহতের স্বজনরা বলেন,আমরা ফয়েজ হত্যার সঠিক বিচার চাই। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আল্লাহ ফয়েজকে জান্নাত নসিব করুন।

উল্লেখ্য ,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের  ২১ জুলাই ২০২৪, সন্ধ্যা ০৬ টা, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব গুলিতে নিহত হয়। তার গ্রামের বাড়ি রায়পুর উপজেলার ১নং উওর চর আবাবিল ইউপির ৯নং ওয়ার্ড ঝাউডগী গ্রামে দাফন হয়।

 

 




ভূমিকম্পসহ বড়ধরণের দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশ কি প্রস্তুত?

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দেশ আজ এক মহা বিপর্যায়ের দ্বার প্রান্তে। জনজীবনে এক আতংক বিরাজ করছে না জানি কখন কি হয়। যদি কোন রকমের বিপর্যায় নেমে আসে তাহলে কি হবে ?

ভূমিকম্পসহ বড় কোনো দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দেশে নেই। গত ১৯ বছরে কেনা সরঞ্জামগুলোর অর্ধেকই মেয়াদোত্তীর্ণ বা  যথাযথ

রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে অচল হয়ে পড়ে   আছে কিন্তু যখন কোন বড় ধরনের দূ্র্ঘটনা ঘটে তখন প্রশাসন নড়েচড়ে বসে ।

সর্বশেষ তৃতীয় ধাপে সরঞ্জাম সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, ৪ বছরে তার মাত্র ২০ শতাংশ কিনতে পেরেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে অধিদপ্তর ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ২০২১ সালে। এর আগে ২০০৬ সাল থেকে দুই ধাপে ২১২ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। সংগৃহীত সরঞ্জামগুলো সশস্ত্র বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কিন্তু   দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া ২০ শ্রেণির ৮০৭টি সরঞ্জাম অচল হয়ে পড়েছে।

৩৩ শ্রেণির ১৯১টি সরঞ্জাম মেরামতের প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অচল হয়ে পড়া গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে স্প্রেডার, র‍্যাম জ্যাক, ব্রিদিং অ্যাপারেটাস, ক্রেন, এক্সকাভেটর, কংক্রিট কাটার, পাওয়ার চেইন স, ম্যানুয়াল ড্রিল মেশিন, হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর ও হুইল ডোজার।

জমে থাকা কংক্রিটের স্তূপ সরানো, ভেঙে পড়া দেয়াল অপসারণ, সামনের বাধা অপসারণ করা, দেয়াল বা লোহার রড কাটা, আটকে পড়া মানুষের অক্সিজেনের সংকট হলে অক্সিজেন পৌঁছানোর কাজে এসব সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মতে, ভূমিকম্পের সময় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলোর মধ্যে আছে গ্যাস ডিটেকটর, আটকে পড়া মানুষ শনাক্ত করতে লাইভ ডিটেক্টর, কংক্রিট কাটার, ক্রেন, ফর্কলিফ্টার, রোটারি হ্যামার ড্রিল, ব্রিদিং অ্যাপারেটাস, র‍্যাম জ্যাক, লক কাটার, সার্চ ভিশন ক্যামেরা, হাইড্রোলিক কাটার, রোটারি হ্যামার ড্রিল, চিপিং হ্যামার, হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র থেকে জানা গেছে, ৭ শ্রেণিতে ৩৫ ধরনের যন্ত্রপাতি তাদের প্রয়োজন। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ফায়ার ফাইটার স্যুট, কেমিক্যাল স্যুট, হিট প্রোটেকটিভ স্যুট, রেসকিউ স্যুট, কনফাইনড প্রোটেকটিভ স্যুট। এ ছাড়া ব্রিদিং অ্যাপারেটাস, কেমিক্যাল প্রোটেকশন ডিভাইস, ফায়ার ফাইটিং ড্রোন, রিফ্লেক্টিং হোস, মনিটর নোজল, পোর্টেবল গ্রাউন্ড মনিটর, হাই প্রেশার হোস, পোর্টেবল পেনিট্রেটর।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমদ খান বলেন, ‘২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমি মহাপরিচালক থাকাকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অধীনে আমরা কিছু সরঞ্জাম পেয়েছিলাম। এগুলোর অধিকাংশ এখন পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এসব সরঞ্জাম রাখা দরকার। এক জায়গায় থাকলে সেটা বড় দুর্যোগের সময় কোনো কাজে আসবে না।

আলী আহমদ খান আরও বলেন, সরঞ্জাম কেনা হলেও এগুলো চালানোর মতো প্রশিক্ষিত জনবল নেই। ফায়ার সার্ভিসের কোনো প্রশিক্ষণ একাডেমি নেই। বড় কোনো দুর্যোগ হলে বিদেশি অনেক উদ্ধারকারী দল আসবে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হলে ইন্টারন্যাশনাল অপারেশন অ্যান্ড রেসকিউ ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হয়। সে ধরনের প্রশিক্ষণেও কেউ অংশ নেয় না। প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব পূরণ করতে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই স্বেচ্ছাসেবকদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।

২০০৬ সালে ‘ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান, উদ্ধার, অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প’ নেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ছিল প্রকল্পের প্রথম ধাপ। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৯ কোটি টাকা। পরের ধাপে (২০১৩-২০১৭) ১৪৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার এ প্রকল্পের অধীনে গত ৪ বছরে লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশ সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।

সরঞ্জাম সংগ্রহে ধীরগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কাজী শফিকুল আলম বলেন, বর্তমান প্রকল্পের শুরুতে সরাসরি ক্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছিল। পরে তা পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত হয়। পুরো প্রক্রিয়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে আসতে সময় লেগেছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ২০ শতাংশ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে।




নৌকার ভোট এবার কার বাক্সে যাবে

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ :   দেশে বইছে নির্বাচনের হাওয়া  আর এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে  সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের ভোটের মাঠে অনুপস্থিতি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, দলটির ভোট কোনদিকে যাবে। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটির ভোট টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, জয়ের ব্যাপারে এক ধরনের নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে বিএনপির। তাই প্রকাশ্যে তারা দলটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছে না। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণায় অনেক স্থানে বিএনপির প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে বসে নেই আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচিত জামায়াতও। এ দলটিও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের ভোট টানতে সংখ্যালঘুদেরও দু-একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে জামায়াত। খোঁজ নিয়ে দুটি দলেই নতুন এই নির্বাচনি কৌশলের কথা জানা গেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভোট টানার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সঙ্গে জোট করবে কিনা তা নিয়ে দুই দলই পুনর্বিবেচনা করে দেখছে। এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট থাকলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোট নাও দিতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে দল দুটি নানা হিসাব-নিকাশ কষছে। কারণ আওয়ামী লীগ নেতারা এনসিপিকে প্রধান শত্রু মনে করে এমন আলোচনা আছে দেশের রাজনীতিতে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই সংগঠনের নেতৃত্বদানকারীরাই পরে এনসিপি গঠন করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট কারা পাবে সেটি নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর।

প্রথমত, দলটির আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী থাকে তাদের ভোট দেবে।

 দ্বিতীয়ত, ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্কের ওপর।

 তৃতীয়ত, ৫ আগস্টের পর প্রার্থী বা তাদের কর্মীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর কতটা নির্যাতন চালিয়েছে সে বিবেচনা নির্ভর করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, প্রার্থীরা স্থানীয় হলে সুবিধা হলো নির্বাচনটি সামাজিক হয়। ফলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না এসে থাকতে পারেন না। সে হিসাবে আওয়ামী সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা কেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দলটির সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা তাদের আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী পায়, তবে তাদের ভোট দেবেন। আবার ‘না’ ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট পাবেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, আগামী নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারবে না। এনসিপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও বলেছে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। বর্তমানে দেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনও নৌকা প্রতীক স্থগিত করেছে।

নিরাপত্তার কথা ভেবে বিএনপির ধানের শীষকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্যই কেউ কেউ মনে করছেন, কিছুটা জামায়াত প্রভাবিত উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের একাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পেয়েছে ৩০.০৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭.৪৪ শতাংশ, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.১৩ শতাংশ ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৮.০৪ শতাংশ। এরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচন হলেও তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত। এর মধ্যে দুটি নির্বাচন একতরফা ও একটি নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যায়।

বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৭ বছরের দুঃশাসনে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। যার ফলাফল গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের সাধারণ জনগণও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিল। যে কারণে আওয়ামী লীগের আগের ভোটের হারের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা মেলানো যাবে না। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভোট সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হতে পারে এমন আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।