বরিশালে ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোশক কারিগরদের

শীতের আগমনে বরিশালে লেপ, তোশক এবং জাজিম তৈরির কাজ বেড়ে গেছে। শীতের সঙ্গে সঙ্গে এই পণ্যগুলোর কদর বেড়ে যাওয়ায় কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নগরীজুড়ে লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। কেউ তৈরি হওয়া লেপ-তোশক কিনছেন, কেউ অর্ডার দিয়ে যাচ্ছেন, আবার অনেকে পুরনো লেপ-তোশক মেরামতও করাচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বরিশালের বিভিন্ন এলাকায়—পদ্মাপতি, রূপাতলী, বাংলা বাজার, নতুন বাজার, মরখোলা পোল, বটতলা, বাবুগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজারের লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। দোকানিরা ক্রেতাদের বিভিন্ন মানের কাপড় ও তুলা দেখাচ্ছেন এবং অর্ডার নিচ্ছেন। কারিগররা তাদের নিপুণ হাতে সুই-সুতো নিয়ে বিভিন্ন সাইজের লেপ, তোশক ও জাজিম তৈরি করছেন। এসব দোকানে কর্মযজ্ঞ চলছে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। তবে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোশক তৈরির উপকরণের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের শীতে লেপ, তোশক ও জাজিম তৈরির জন্য কাপড় এবং তুলার দাম বেশ বেড়েছে। প্রতি গজ লেপ তৈরির কাপড়ের দাম ৪৫-৫০ টাকা, তোশকের প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৪৬-৪৮ টাকা এবং জাজিম তৈরির কাপড়ের দাম ১৫০-১৮০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি কেজি কার্পাস তুলার দাম ১৮০-২০০ টাকা, পোলি তুলার দাম ১২০-১৩০ টাকা, উলের দাম ৫৫-৬০ টাকা এবং প্রতি কেজি জুটের দাম ৩৫-৪০ টাকা। এ বছর এক পিস রেডিমেট লেপ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২৭০০ টাকার মধ্যে, তোশক বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে এবং জাজিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ টাকা থেকে ৪২০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া, বালিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।

নগরীর পদ্মাপতি এলাকার কারিগর সাকিব বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে এ কাজ করে আসছি। প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের আগে আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের লেপ-তোশক তৈরির কাজ চলে।”

বাবুগঞ্জের আমিরগঞ্জ বাজারের আনোয়ার বেডিং স্টোরের কারিগর আনোয়ার গাজী বলেন, “আমি প্রায় ১৫ বছর ধরে এই বাজারে লেপ-তোশক তৈরির কাজ করি। আমরা দুই জন মিলে প্রতিদিন গড়ে ১০টি লেপ-তোশক তৈরির অর্ডার শেষ করতে পারি।”

কারিগররা জানান, একটি লেপ তৈরি করতে আকারভেদে ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা এবং তোশক তৈরি করতে প্রতিজন ১৫০-৩০০ টাকা মজুরি পান।

ক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, “এবার বেশি শীত হতে পারে। তাই আগে লেপ তৈরির জন্য দোকানে গিয়ে অর্ডার দিচ্ছি। আমরা গরিব মানুষ। কম্বলের যে দাম, সেটা কেনার সামর্থ্য নেই। এ কারণে অল্প টাকা দিয়ে লেপ বানিয়ে নিচ্ছি।”

আরেক ক্রেতা মো. ইউসুফ বলেন, “দিনের বেলায় শীত অনুভূত না হলেও রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ে। কাঁথা দিয়ে শীত নিবারণ হয় না। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের জন্য ২টি লেপ বানিয়ে নিচ্ছি। এতে মোট খরচ পড়েছে ৫ হাজার ২০০ টাকা।”

এ ব্যাপারে নগরীর রূপাতলী এলাকার আর এস ট্রেডার্সের মালিক মো. রনি হোসেন বলেন, “শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপ বাড়ছে। আমাদের দোকানে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বেশ কাজের চাপ থাকে। এ সময়টায় ক্রেতারা লেপ-তোশকের অর্ডার দেন, আর আমরা যত্নসহকারে তা সরবরাহ করি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মূল্যস্ফীতি কমাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ

মূল্যস্ফীতি কমাতে বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তারা উল্লেখ করেছেন, আমদানি ও উৎপাদনে সমান গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। এর মাধ্যমে বড় আমদানিকারকদের আমদানি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে মূল্যস্ফীতি কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ইতোমধ্যেই নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবং আশা করা হচ্ছে রোজার সময় এর সুফল পাওয়া যাবে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “গত ১৫ বছরের ভুল নীতির কারণে বাজারে পণ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব এখনো চলছে।” তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণের পর কিছু ব্যাংক আমদানিকারকদের এলসি খোলার সুযোগ দিতে পারছে না, ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আমদানি না হলে বাজারে পণ্য সরবরাহ কিভাবে বাড়বে?”

প্রবীণ এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, “বাজারে তিনভাবে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। এক. শিল্পকারখানায় উৎপাদন বাড়ানো, দুই. আমদানি করা, তিন. চাষ করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা।” তিনি বলেন, “শিল্পকারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কাঁচামাল আমদানি করতে হবে, যা এলসি খুলতে না পারলে সম্ভব হবে না।” তিনি বলেন, জমির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব নয়, তাই ফসল উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদ করতে হবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ বলেন, “খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্য আমদানিতে বড় কিছু প্রতিষ্ঠান জড়িত। অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ায় বাজারে পণ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে। রোজায় এই সংকট আরও বাড়তে পারে।”

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, “পণ্য সরবরাহ বাড়াতে এনবিআর বিভিন্ন শুল্ক কমিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা প্রত্যাহার করেছে। যদিও এতে রাজস্ব আদায় কমলেও জনগণের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমাদের দেশে বড় ২০-২৫টি প্রতিষ্ঠান অধিকাংশ পণ্য আমদানি করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়ায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন টিসিবি, এসব বড় প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য সরবরাহ গ্রহণ করে থাকে, তাই পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, সরকারি উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আমদানি-রফতানি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্য পণ্য সংগ্রহের বিষয়েও সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন বৈঠকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আলোচনা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলার সাবেক এমপি জ্যাকব কারাগারে

রাজধানীর রূপনগর থানাধীন এলাকায় শামীম হাওলাদারকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল জ্যাকবকে ৩ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জুনাইদ এই আদেশ দেন। এর আগে, পুলিশ হেফাজত থেকে আব্দুল্লাহ আল জ্যাকবকে আদালতে হাজির করলে রূপনগর থানার উপ-পরিদর্শক মামুন মিয়া তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান। এরপর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ১ অক্টোবর ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল জ্যাকবকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারের পর, হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। পরে, গত ২০ নভেম্বর রূপনগর থানার মামলায় আবারও তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাজধানীর রূপনগর থানাধীন প্রবেশিকা মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শামীম হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় শামীমের চাচাতো ভাই সম্রাট হাওলাদার রূপনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আব্দুল্লাহ আল জ্যাকবকে ১২২ নম্বর আসামি হিসেবে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশ সফর শেষ করল যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র এবং শ্রমিকদের সমর্থনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর শেষ হলো আজ। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক প্রেস নোটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি কেলি এম. ফে রদ্রিগেজ এবং লেবার ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি আন্ডারসেক্রেটারি থিয়া লি। এ সফরে তাদের সঙ্গে ছিলেন ইউএসএআইডি-এর প্রতিনিধি, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের সাথে সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব, এবং আন্তর্জাতিক শ্রম বিশেষজ্ঞ ইউএনআই গ্লোবাল ইউনিয়নের মহাসচিব ক্রিস্টি হফম্যান এবং ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা।

এ সফরে অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ছিল গ্যাপ ইনকর্পোরেটেড, পিভিএইচ কর্পোরেশন এবং ভিএফ কর্পোরেশন, যারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি) থেকে প্রতি বছর আনুমানিক ১.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ক্রয় করে।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও শাসন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে শ্রম অধিকার চর্চার দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা, এবং জেন্ডার সমতা ও অন্তর্ভুক্তির জন্য অপরিহার্য।

যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শ্রমিকদের মঙ্গল নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকারের, ক্রেতাদের, নিয়োগদাতাদের, নিয়ন্ত্রকদের এবং শ্রম ইউনিয়নগুলোর যৌথ দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এর মধ্যে রয়েছে সুরক্ষিত ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিশেষভাবে তৈরি পোশাক খাতে সমিতি গঠনের স্বাধীনতা ও যৌথ দর-কষাকষির অধিকার শক্তিশালী করার মাধ্যমে শ্রমিক অধিকারের উন্নয়ন।

শ্রম সংস্কার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের শীর্ষ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায়। শ্রমিকদের স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যোগদানের অধিকার এবং উন্নত কর্মপরিবেশের জন্য যৌথ দর-কষাকষি করার অধিকারকে শক্তিশালী করতে আমরা বাংলাদেশকে আরও উৎসাহিত করি।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেন শিল্প খাতের কার্যক্রম স্থিতিশীল কর্মসংস্থান, মানসম্পন্ন কর্মপরিবেশ এবং জীবিকা নির্বাহের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করে, যা বাংলাদেশের শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের উন্নতি নিশ্চিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্র গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। আমরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞ এবং ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন, বাংলাদেশের শ্রমিক এবং তাদের নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতে পেরে গর্বিত।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভারতে মসজিদ ভাঙার ঘটনায় হতাহত মুসল্লি, জামায়াতের নিন্দা

ভারতের উত্তর প্রদেশের সামভালে মুঘল আমলের একটি জামে মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে চারজন মুসল্লি নিহত এবং অনেক মুসল্লি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ভারতের উত্তর প্রদেশে মুঘল আমলের একটি জামে মসজিদকে হিন্দুরা মন্দির বলে দাবি করে জরিপ চালাতে গেলে মুসলমানরা বাধা দেয়। এরই জেরে পুলিশের গুলিতে চারজন মুসল্লি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এ ঘটনা চরম অমানবিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতে বিজেপি সরকারের আমলে মুসলিম মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোর ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ বেড়েই চলেছে। মসজিদের স্থানে মন্দির থাকার মিথ্যা দাবি তুলে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ স্বীকৃত মানবিক ও ধর্মীয় অধিকারের লঙ্ঘন।”

তিনি ভারতের মুসলিম জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং সারা বিশ্বের মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল থাকার খবরও পাওয়া গেছে। সোমবার (২৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২,০৬০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১,৯৯৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১,৯৯৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১,৯৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে যায় না: তারেক রহমান”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র একসঙ্গে কখনই চলতে পারে না। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের সকল শক্তিকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রকৃতি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সকলকে একযোগভাবে কাজ করতে হবে।

তারেক রহমান দাবি করেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে নানান ষড়যন্ত্র করছে, তবে বিএনপির কাছে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিরাপদ। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু অপশক্তি উঠে পড়েছে, যারা দেশের ভিতরে এবং বাইরে থেকে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, বিতাড়িত অপশক্তি ও তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কখনই জায়গা পাবেন না।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এ প্রক্রিয়া কখনও শেষ হয় না। তবে আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির গুণগত উন্নতি ছাড়া কোনো প্রক্রিয়াই কার্যকর হতে পারে না।” তারেক রহমান এই কথা বলেন আজ সোমবার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার সময়।

তারেক রহমান আরও বলেন, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে কমপক্ষে ছয়জন সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ বিএনপি নেতাকর্মী এই লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠতা হারিয়ে গিয়েছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর ছিল।

তিনি বলেন, “দেশে এখন নানা ষড়যন্ত্র চলছে, যেখানে গণতন্ত্রের শত্রুরা বিভিন্ন কৌশলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তবে আমরা সতর্ক থাকলে এসব ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।”

তারেক রহমান আরো বলেন, “আওয়ামী লীগকে ভোটের মাধ্যমে বিদায় করা হবে, আইনগত এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, পরে ২০২৩ সালে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এসব প্রস্তাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য একটি মিডিয়া কমিশন গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই যেখানে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে যায় না: তারেক রহমান”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র একসঙ্গে কখনই চলতে পারে না। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের সকল শক্তিকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রকৃতি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সকলকে একযোগভাবে কাজ করতে হবে।

তারেক রহমান দাবি করেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে নানান ষড়যন্ত্র করছে, তবে বিএনপির কাছে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিরাপদ। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু অপশক্তি উঠে পড়েছে, যারা দেশের ভিতরে এবং বাইরে থেকে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, বিতাড়িত অপশক্তি ও তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কখনই জায়গা পাবেন না।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এ প্রক্রিয়া কখনও শেষ হয় না। তবে আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির গুণগত উন্নতি ছাড়া কোনো প্রক্রিয়াই কার্যকর হতে পারে না।” তারেক রহমান এই কথা বলেন আজ সোমবার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার সময়।

তারেক রহমান আরও বলেন, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে কমপক্ষে ছয়জন সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ বিএনপি নেতাকর্মী এই লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠতা হারিয়ে গিয়েছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর ছিল।

তিনি বলেন, “দেশে এখন নানা ষড়যন্ত্র চলছে, যেখানে গণতন্ত্রের শত্রুরা বিভিন্ন কৌশলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তবে আমরা সতর্ক থাকলে এসব ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।”

তারেক রহমান আরো বলেন, “আওয়ামী লীগকে ভোটের মাধ্যমে বিদায় করা হবে, আইনগত এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, পরে ২০২৩ সালে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এসব প্রস্তাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য একটি মিডিয়া কমিশন গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই যেখানে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৫ হাজার ৯১৫.৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ৫,৯১৫.৯৯ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের (ক্যাচমেন্ট ২ এবং ৪) পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা।

আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুটি নতুন এবং তিনটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে ১,০৯৫.৯৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে, ৪,৭৮৭.৫০ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা থেকে এবং বাকি ৩২.৫৫ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:

  1. চট্টগ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন
  2. পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ
  3. যুব উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সক্ষমতা বৃদ্ধি
  4. মংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
  5. রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্প্রসারণ

বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু নীতিগত বিষয় সমন্বয় করার সময় এসেছে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতি পরিকল্পনা কমিশন শীঘ্রই অনুরোধ জানাবে।

তিনি আরো জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের হার কম ছিল, এবং এডিপি ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা অধিক সংখ্যায় এগিয়ে আসবে এবং অর্থনীতির গতি আরও বাড়বে।

মো: তুহিন হোসেন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে শিক্ষক দম্পতি হত্যাকাণ্ড: তদন্তে অবহেলার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর বহালগাছিয়ায় শিক্ষক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। সোমবার (২৫ নভেম্বর) পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির সন্তান ও মামলার বাদী আবুল বাশার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

আবদুল্লাহ দাবি করেন, মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও তদন্তে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য না নিয়েই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাছাড়া, পুলিশের পক্ষ থেকে বাদীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং রিমান্ড আবেদন না করায় তারা সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।

তিনি বলেন, “আমার বাবা-মায়ের হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। এটি ভাড়াটে লোক দিয়ে ঘটানো হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। কারণ, চুরি করার উদ্দেশ্য থাকলে হত্যার মতো নৃশংস কাজ না করেও তারা ফিরে যেতে পারত। তাছাড়া, চুরির কথা বললেও কোনো কিছু চুরি হয়নি।”

আবদুল্লাহ জানান, ৩১ অক্টোবর সকালে চুরির সময় গ্রেফতার হওয়া সাইফুল নামে একজন আসামি প্রাথমিকভাবে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। কিন্তু, তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে ১১ নভেম্বর তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হলেও তদন্তে গাফিলতি চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়া, তিনি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহামাদ মইনুল হাসানের কাছে দুর্ব্যবহারের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। এ সময় ডিবি অফিসে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার বাদীর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহামাদ মইনুল হাসান বলেন, “মামলার তদন্ত চলাকালে বাদী অনধিকার প্রবেশ করায় তাকে কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়। তবে, এসআই মহসিনের আচরণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।”

সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির মেয়ে ফেরদৌসী বেগম ও মেহেরুন্নেছা মনি উপস্থিত ছিলেন। তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ