ঝালকাঠিতে হুমকিতে শতবর্ষী স্কুল, মসজিদ, সড়ক ও সেতু

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সুগন্ধা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। নদীটির তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যার মধ্যে রয়েছে শতবর্ষী স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, সড়ক, সেতু ও অনেক বাড়ি। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, গাছপালা কেটে ফেলছেন এবং বেশ কিছু এলাকা চিরতরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

প্রতিবছরই নদীর তীরবর্তী এসব এলাকার ভাঙন বাড়ছে, তবে এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পাউবো অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুগন্ধা নদীর ভাঙন রোধে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুই ধরনের বরাদ্দও এসেছে। তবে কাজ শুরু করার নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, সুগন্ধা নদী ক্রমেই তাদের বসতভিটা, জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গিলে খাচ্ছে। বিশেষ করে মগর ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামে নদী খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ওই এলাকায় নদীর ভাঙনে দুটি শতাধিক বসতবাড়ি, সরকারি সেতু, সড়ক এবং মসজিদসহ বহু মূল্যবান স্থাপনা ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেমন কাঠিপাড়া গ্রামের এলজিইডি সেতু, মাছের পুকুর এবং কোটি কোটি টাকার বাগানও নদীতে বিলীন হয়েছে।

বহরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন এখন নদী থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে। যে কোনো সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভাঙন রোধে স্থানীয়রা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বহুবার আবেদন জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালে চারটি গ্রামের ১৫-২০টি বাড়ি নদীতে চলে যায়, কিন্তু পাউবোর পক্ষ থেকে প্রতিরোধক কাজ হিসেবে আপৎকালীন কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, যা শুধু সাময়িক ব্যবস্থা ছিল।

বহরমপুর গ্রামের বাসিন্দা রহমান মৃধা বলেন, “একশ বিঘা জমি ছিল, সবই নদীতে চলে গেছে। এখন কোনো জায়গা নেই, রাস্তায় বসে আছি।”

এ বিষয়ে মগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাসুম লস্কর শাহাজাদা বলেন, “ভাঙন রোধে সংবাদপত্রে বহু প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও সরকারি কোনো সংস্থা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা বহরমপুর মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসক এবং পাউবোকে লিখিতভাবে জানানো হবে এবং ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হবে।

জেলা পাউবো প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা জানিয়েছেন, টেকসই নদীরক্ষা প্রকল্পের আওতায় সুগন্ধা নদীর চারটি স্থানে নদীরক্ষা কাজের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি বছর কাজ শুরু হবে। কাজগুলো শেষ হলেই এই এলাকার ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল আইএইচটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, শিক্ষার্থীরা বিপাকে

বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) অনিবার্য কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা. মানষ কৃষ্ণ কুণ্ডু। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ২৭ নভেম্বর থেকে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস বন্ধ থাকবে এবং ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগ করতে হবে।

এতে আরও বলা হয় যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে। তবে, প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দাপ্তরিক কাজ চলবে। অধ্যক্ষ মানষ কৃষ্ণ কুণ্ডু জানান, শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির প্রেক্ষিতে আইএইচটি’র পরীক্ষাসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম কিছুদিন ধরে বন্ধ ছিল এবং সেই সঙ্গে তৃতীয় ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিষ্ঠানে অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছিল। সোমবার এক আদেশে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব স্থগিত করা হয়েছে, আর আট শিক্ষার্থীকে ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সোমবার রাতে ছাত্রাবাসে উত্তেজনা তৈরি হলে, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য, যাতে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে, সে কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আইএইচটির রেডিওলজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. সোহেল জানান, এই প্রতিষ্ঠানে ৬০০-৭০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যাদের অধিকাংশই ছাত্রাবাসে অবস্থান করেন। আন্দোলন ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর, এখন আবাসিক হল বন্ধ করার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা নতুন বিপদে পড়েছেন। ছাত্রাবাস বন্ধ হলে, তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

আইএইচটি, বরিশাল, বন্ধ ঘোষণা, ছাত্রাবাস, একাডেমিক কার্যক্রম, ছাত্রত্ব স্থগিত, শিক্ষক, ছাত্রাবাস বন্ধ, আন্দোলন, শিক্ষার্থী, শিক্ষার পরিবেশ

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




থ্রি হুইলার বন্ধের দাবিতে ঝালকাঠি থেকে ১১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি হুইলার চলাচল এবং দূরপাল্লার বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহনের প্রতিবাদে ঝালকাঠি থেকে ১১টি রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। আকস্মিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় যাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল থেকে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি টিপু সুলতান জানান, ঝালকাঠির আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ মাহিন্দ্রা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বে-আইনি হলেও তা অবাধে চলছে। একই সঙ্গে, দূরপাল্লার বাসে স্থানীয় যাত্রী পরিবহনের কারণে বাস মালিকরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। এর প্রতিবাদ হিসেবে বাস মালিক সমিতি গতকাল সকালে মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঝালকাঠি থেকে বরিশাল, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, বাগেরহাট, খুলনা সহ মোট ১১টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ধর্মঘটের কারণে এসব রুটে বাস চলাচল কবে পুনরায় শুরু হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের দাবি পূরণের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে। তবে এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২৫ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ৩টায় নিজামপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে এ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

কোস্টগার্ড মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এক ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি একটি বাজারের ব্যাগ ফেলে পাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পালিয়ে যায়। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে তিনটি কার্টুনে রাখা ২৫ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “জব্দকৃত ইয়াবা থানার মালখানায় সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণমাধ্যমে হামলা মেনে নেব না, অবশ্যই ব্যবস্থা নেব: উপদেষ্টা নাহিদ

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “গণমাধ্যমে হামলা বা ভাঙচুর হলে সেটা মেনে নেব না, অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।” তিনি আরো বলেন, “তবে জনগণ যেভাবে প্রত্যাশা করে, সেভাবে গণমাধ্যমের সহায়তা পাচ্ছে না। বিগত সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল এবং মানুষের মনেও নানা কারণে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেটা স্পষ্ট করা সেই গণমাধ্যমের দায়িত্ব।”

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, “বিভিন্ন গণমাধ্যমের ওপর মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কেন এ ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করা দরকার। তবে, যদি কোনো গণমাধ্যম অফিসে ভাঙচুর হয়, তাহলে সেটা সরকারের জন্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং সরকার ব্যবস্থা নেবে।”

তিনি আরো বলেন, “এখনো দেশের প্রতিষ্ঠিত অনেক গণমাধ্যম ভুল সংবাদ ও গুজব প্রচার করছে, যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অফিসে হামলা ও আন্দোলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, “গতকালই বলেছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার নিশ্চয়ই ভূমিকা পালন করবে। পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর হলে সেটা অবশ্যই আমরা আইনগতভাবে দেখব।”

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার সব ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কম। এখানে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সংবাদকক্ষগুলোকে। তবে তাৎক্ষণিক ভোল পাল্টানো সমাধান নয়, সত্য স্বীকারের মাধ্যমে জাতীয় পুনর্মিলন সম্ভব।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “শুধু ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দিয়ে সবকিছু উড়িয়ে দিতে চান না। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্ষোভ থেকে আন্দোলন হতে পারে, তবে আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের পর্যায়ে গেলে সেটা দেখা হবে। আমরা চাই না আগের আমলের মতো পুলিশ জনতার বুকে গুলি চালাক। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ অবশ্যই কঠোর হবে, সেভাবে পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে কঠোর হতে চাই না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “যারা আন্দোলন করছে তারা আমারই ভাই, কার ওপর কঠোর হব। শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন দমনে আমরা আগের সরকারের মতো কঠোর হতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, “কলেজের সমস্যা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। এজন্য আমাদের শিক্ষকরা রয়েছেন। কেউ রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই। রাস্তা ব্লক না করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসেও দাবি জানাতে পারে, তাদের প্রতিনিধি গিয়ে আমাদের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে পারে। বিভিন্ন কলেজের সমস্যা নিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে আলাপ করতে পারে। আমরা চাই না ছাত্র ভাইদের কঠোর হয়ে দমন করতে। আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা চাই তারা যাতে দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় সহিংস আন্দোলন না করে।”

হাওরের কৃষি নিয়ে তার মন্তব্যে তিনি বলেন, “কৃষি পণ্যে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন কি না সেটা দেখার বিষয়। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সুবিধা নিতে না পারে সেটিও দেখতে হবে।”

এ সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম ও বিলম্ব হয়ে মানুষ যেন বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে, সে জন্য সরকার আগাম ব্যবস্থা নিবে।”

এর আগে, দু’জনে তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার আ. ফ. ম. আনোয়ার হোসেন খান, সুনামগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমন দোজ্জা এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক তানভীর ইসলাম চৌধুরী।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ

ঢাকায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে বরিশালের নগরীস্থ অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট বরিশালের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেন সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ।

এ সময়, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানানো হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যেখানে উপস্থিত বক্তারা প্রতিবাদী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন সনাতনী জাগরণ জোট নেতা মানষ ঘড়াল, বিশ্বজিৎ ঘোষ প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হিন্দুদের মন্দিরে হামলা, বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ করায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট এবং জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বক্তারা অবিলম্বে তার মুক্তি কামনা করে প্রতিবাদ জানান।

এছাড়া, বক্তারা আরো বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ অক্টোবর সনাতন ধর্মবিশ্বাসী সংগঠন ইসকনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়। জাতীয় পতাকা অবমাননা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দুটি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।

গত সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে।

বক্তারা বলেন, এই গ্রেফতারি অভিযানে ন্যায়বিচারের অভাব রয়েছে এবং তারা সরকারের প্রতি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবি জানান।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চিন্ময়কে মুক্তি না দিলে বাংলাদেশ সীমান্ত অবরোধের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি দাবি করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি।

এমনকি তাকে মুক্তি না দিলে বাংলাদেশ সীমান্ত সনাতনীরা অবরোধ করবে বলেও হুমকি দিয়েছেন রাজ্যটির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভেরও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরে ইসকনের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার রাতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করছে। এমনকী বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষার নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুকে ইউনূস সরকার গ্রেপ্তার করেছে।




চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র এবং পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম ৬ষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

এদিন সকাল পৌনে ১২টার দিকে জামিন নামঞ্জুরের এই আদেশ দেওয়া হয়। তবে, এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৌরভ কান্তি দাশ।

এর আগে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আদালতে হাজির করা হয়। জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে তাকে কোতোয়ালী থানার নিউমার্কেট মোড়ের স্বাধীনতা স্তম্ভে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, তার আদালতে হাজিরার খবর পেয়ে সকাল থেকেই তার ভক্তরা আদালতের সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন এবং তাকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। আদালতের আশেপাশে সেই সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (বিজিবি) ও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন।

গত সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধর্ষণ বা বিপদ রোধে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ‘স্মার্ট জুতা’ আবিষ্কার

বরগুনার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাইম উদ্ভাবন করেছেন একটি অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট জুতা’, যা নারীদের বাইরে গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এই জুতা ব্যবহারের মাধ্যমে নারীরা সহজেই বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পেতে পারবেন। এতে রয়েছে লোকেশন ট্র্যাকিং, এসএমএস এবং লাইভ কলের মাধ্যমে পুলিশ বা স্বজনদের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর সুবিধা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে উদ্ভাবিত এই স্মার্ট জুতাটিতে রয়েছে ২৫০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক সিস্টেম, যা আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে সাহায্য করবে। এলাকাবাসী সাইমের উদ্ভাবনটিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি হিসেবে দেখছেন এবং এর সম্ভাবনাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

আবদুল্লাহ আল সাইম, যিনি বরগুনা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হাবিবুল্লাহ কালামের ছেলে, বরগুনার এভারগ্রিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র, তিনি শুধু স্মার্ট জুতা নয়, বিমান, ড্রোন, অন্ধ মানুষের জন্য চশমা, রাডারসহ আরও অনেক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।

‘স্মার্ট জুতা’ সম্পর্কে সাইম জানিয়ে বলেন, এতে একটি পুশ বাটন থাকবে, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে চাপ পড়বে না। যখন কেউ বিপদে পড়বে, তখন ওই বাটনে চাপ দিলে প্রথম চাপে এসএমএস এবং পরের চাপে সরাসরি কল চলে যাবে, ফলে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি জানা যাবে। এছাড়া গুগল ম্যাপের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এই প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে দেশীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী, এবং জুতাটিতে রয়েছে আটো চার্জিং সিস্টেম, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হবে। স্মার্ট জুতাটি প্রাথমিকভাবে দুই মাসে তৈরি হলেও, পুরোপুরি কার্যকরী হওয়ার জন্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

সাইমের মা শাহনাজ আরা শারমিন জানান, ছোটবেলা থেকেই সাইম ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসত। তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইমের বাবা, স্কুল শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ কালাম বলেন, “আমরা গর্বিত হলেও অর্থের অভাবে তাকে এগিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে সাইম দেশের জন্য বড় কিছু করতে পারবে।”

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারীর নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা হাসি বলেন, “সাইমের এই উদ্ভাবন যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম