পটুয়াখালী পৌর শহরে যুব অধিকার পরিষদের ৫৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

পটুয়াখালী পৌর শহরে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের ৫৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত এই কমিটির স্বাক্ষর করেন জেলা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুম্মান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান।

নতুন কমিটিতে মো. রিয়াজুর রহমান আহ্বায়ক এবং মো. আল-আমিন হোসেন সুমন সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাসুম হাওলাদার, মো. আব্বাস খান, মো. সাজ্জাদ হোসেন সাজু, মো. নুরুন্নবী, মো. মিজান আকন, মো. জুয়েল তালুকদার, মো. মনির হোসেন, মো. ইকবাল হোসেন, মো. আতিক, মো. মেহেদী হাসান, মো. আব্দুর রহমান, সোহাগ গাজী, ইলিয়াস গাজী, তুহিন আকন, মোসাঃ আফরোজা আইরিন, নাঈম ফকির।

যুগ্ম-সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন আশিকুর রহমান আশিক, হেলাল আহমেদ রিপন, মাসুদ রানা, জহিরুল ইসলাম, রিয়াজ খান, জলিলুর রহমান সোহেল, মানিক গাজী, কামরুজ্জামান রিপন, নাসির উদ্দিন, আরাফাত তালুকদার ও সাকুর মাহমুদ। এছাড়া ১৯ জনকে যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে এবং ২৩ জনকে কার্যকরী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পৌর আহ্বায়ক মো. রিয়াজুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম হাওলাদার ও সদস্য সচিব আল-আমিন হোসেন সুমন দৈনিক জনবাণী প্রতিবেদককে বলেন, “তরুণ-যুবরাই সমাজের অগ্রভাগে থাকে। দেশের গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা বর্তমানে সংকটের মুখে। এই সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করার নেতৃত্ব তরুণ-যুবসমাজই দিতে পারে। এজন্য প্রয়োজন একটি সংগঠিত তরুণ-যুবসমাজ এবং সময়োপযোগী একটি রাজনৈতিক যুব সংগঠন। এই উপলব্ধি থেকেই আমরা বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শব্দ শুনে মোটরসাইকেল মেরামত করেন পিরোজপুরের দৃষ্টিশক্তিহীন হোসেন আলী

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মোটরসাইকেল মেকানিক হোসেন আলী। প্রায় দশ বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকের পরে তার চোখে সমস্যা দেখা দেয়, এবং চিকিৎসার অভাবে দুইটি চোখই নষ্ট হয়ে যায়। অন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও হোসেন আলী থেমে যাননি। তিনি এখনো শব্দ শুনে মোটরসাইকেল মেরামত করতে পারেন। তাঁর মেকানিকের কাজ দেখে কেউই বুঝতে পারে না তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিহীন। এমনকি, টাকা হাতে নিয়েই তিনি বুঝে ফেলেন কোনটা কত টাকার নোট। স্বল্প খরচে ভালো কাজ করার জন্য এলাকায় তিনি বেশ পরিচিত।

৯ বছর বয়সে ভাইয়ের দোকানে মোটরসাইকেল ও জেনারেটর মেরামতের হাতেখড়ি হয়েছিল হোসেন আলীর। এরপর ধীরে ধীরে মেকানিকের কাজ রপ্ত করেন। তার দক্ষতা ছিল এতটাই উন্নত যে, যন্ত্রের শব্দ শুনে তিনি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে মেরামত করতে পারতেন। তবে, দশ বছর আগে তার ব্রেন স্ট্রোকের পর থেকে তার চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যায়। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি এবং এ কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি চলে যায়। তবে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে হোসেন আলী আবারও তার কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরশহরের কে এম লতিফ সুপার মার্কেটে একটি ছোট দোকানে মেকানিকের কাজ করছেন।

হোসেন আলী জানান, “এখন আগের মতো আয় রোজগার নেই, সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করলেও অনেক সময় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। এখন যদি সরকার সাহায্য করতো, তাহলে আমি সেটা মাথা পেতে নিতাম।”

হোসেন আলীর ছেলে, মো. তুহিন বলেন, “আমার বাবা আমারও শিক্ষক। কোনো কাজেই তিনি দমে যাননি। যেকোনো কাজ তিনি শব্দ শুনে করতে পারেন। আমাদের একটাই আবেদন, সরকারের কাছে যদি কিছু সাহায্য পাওয়া যেত, তাহলে আমরা বাবার চিকিৎসা করাতে পারতাম।”

এদিকে, মঠবাড়িয়া পৌরশহরের ব্যবসায়ী মো. রিপন জানান, “হোসেন আলী ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে ঢাকা থেকে মঠবাড়িয়াতে আসে এবং তার দক্ষতার জন্য এখানকার সব মেকানিক তার শিষ্য। তিনি এখনো গাড়ির শব্দ শুনে সমস্যা চিহ্নিত করে মেরামত করতে পারেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা শিবু মজুমদার বলেন, “অন্ধ হয়েও হোসেন আলী নির্ভরযোগ্য একজন মোটরসাইকেল মেকানিক। তার কাজ দেখলে বোঝা যায় না তিনি দৃষ্টিহীন। মানুষ তার কাছ থেকে মোটরসাইকেল মেরামত করাতে বিশ্বাস করে।”

মোটরসাইকেল মেকানিক হোসেন আলীর কাজের প্রতি এলাকার মানুষের আস্থা অনেক। তিনি এখনো জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে।

এ বিষয়ে, মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শফিকুল আলম বলেন, “হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সঙ্গে মোটরসাইকেল মেরামত করে যাচ্ছেন। তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া গেলে তা তাকে প্রদান করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুলের জানাজায় মানুষের ঢল

চট্টগ্রামে ইসকনের হামলায় নিহত তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এই জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, আদালত ভবন প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা হয়।

জানাজার পর একটি বিশাল মিছিল বের হয়, যা জমিয়াতুল ফালাহ থেকে শুরু হয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর শাহজাহান চৌধুরী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, রাসেল আহমদ, সহ-সমন্বয়ক তালাত মাহমুদ রাফি সহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ।

সাইফুল ইসলাম আলিফের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো চট্টগ্রামে শোকের মাতম বইছে এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজায় অংশ নেন। সাইফুল ইসলামের মৃত্যু পুরো আইনজীবী সমাজের জন্য এক বড় ক্ষতি, যা দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দশমিনায় বৃদ্ধ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর দশমিনায় মো. নুর ইসলাম (৬৬) নামে এক বৃদ্ধকে খালের পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি আ. কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকা থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নুর ইসলাম হত্যা মামলার আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আ. কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর সকালে দশমিনার বহরমপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর ইসলাম হাওলাদারকে পার্শ্ববর্তী নেহাগঞ্জ এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহাগসহ ছয়জন। তাঁদের সঙ্গে ছিল আরও দুই-তিনজন। সেতুর ঢালে নিয়ে গিয়ে তাঁরা নুর ইসলামকে মারধর করে খালের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে দশমিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আ. কাইয়ূমসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় এসআই আবু হানিফ ও এএসআই মো. জসিমের নেতৃত্বে পুলিশ দল গাজীপুর র‍্যাবের সহায়তায় চৌরাস্তা এলাকা থেকে কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার দুপুরে তাঁকে দশমিনা থানায় আনা হয় এবং আজ সকালে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার বাদী কহিনুর বেগম বলেন, “আমার বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই। আমি আইনের প্রতি আস্থা রাখি। জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

ওসি মোহাম্মাদ আবদুল আলীম জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চাঁদাবাজির মামলায় অব্যাহতি পেলেন তারেক রহমান

চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৮ জন অব্যাহতি পেয়েছেন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহর আদালত এ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

অব্যাহতি পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ওবায়দুল্লা খন্দকার, কামরুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম শোয়েব বাশুরী (হাবলু), আজিজুল করিম তারেক এবং মনিজুর রহমান (মানিক)।

পুলিশের তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় গত ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ঢাকা কোতোয়ালি জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের ওপর বুধবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং বিচারক তাদের অব্যাহতি প্রদান করেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাদী ২০০৭ সালের ৩০ জুন মামলাটি দাখিল করার সময় চাঁদার পরিমাণ ভুল উল্লেখ করে তা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছিলেন। ২০০৯ সালের ৭ মে বাদী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য হলফনামা সম্পাদন করেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশেষ মহলের চাপে তিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই।

এছাড়া, তদন্তকালে বাদী তার হলফনামায় বর্ণিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, তখনকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের কারণে তিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি গিয়াস উদ্দিন আল মামুন এবং অন্যান্য আসামিদের চিনতেন না এবং এজাহারে বর্ণিত চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।

তদন্তে আরো জানা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারেক রহমানের ক্যারিয়ার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বাদী খায়রুল বাশারের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং এ মামলাটি দায়ের করতে বাধ্য করা হয়।

তদন্তের মধ্যে সব তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং সব আসামি মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ১৯৯৭ সালে বাদীর কোম্পানি আব্দুল মোনেম লিমিটেড যমুনা সেতু সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় ২৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কাজ পায়। কাজের শর্ত পূরণ না হলে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনসহ অন্যরা পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী চাঁদার টাকা পরিশোধে বাধ্য হন এবং পরে ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

এমন অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ এপ্রিল তারেক রহমানসহ আটজনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চিন্ময় দাশকে গ্রেফতারের কারণ জানালেন উপদেষ্টা আসিফ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতারের কারণ জানালেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, কোন সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা কলেজ মাঠে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

বাজেটসহ অন্যান্য বিষয়ে রংপুরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে আসিফ আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় গোপালগঞ্জসহ দুই একটি জেলার উন্নয়ন করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোর সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে রংপুরবাসী আর কোন বৈষম্যর শিকার হবে না।

এর আগে শহীদ পরিবারের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে অসহায়-দুস্থ পরিবারের মাঝে প্রায় ৬০০ শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় ২৪ এর গণঅভুথ‍্যানে শহীদের পরিবারের সদস্য রাজমিস্ত্রি শহীদ মঞ্জু মিয়ার স্ত্রী রহিমা খাতুন, গার্মেন্টস কর্মী শহীদ মামুন মিয়ার বাবা আজগর আলী এবং শহীদ সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রানী বেগম তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।




পটুয়াখালীতে মশাল মিছিল: ইসকন নিষিদ্ধের দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে হত্যার প্রতিবাদে এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে পটুয়াখালীতে মশাল মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০টায় পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

এছাড়া, একই দাবিতে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আলাদা মিছিল করে। এসব মিছিল থেকে ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে তা নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলেন, “ইসকন সন্ত্রাসী সংগঠন, অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।” শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিবাদে শহরের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ব্যবসায়ীদের সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান অধ্যাপক ইউনূসের

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে কর্মরত বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের উচিত বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশটির সম্ভাবনা তুলে ধরা।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “একটি টিম হিসেবে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা দেশের জন্য একটি টিম।” তিনি শীর্ষ নির্বাহীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “আপনারা দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে উঠুন, যা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত করবে।”

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়, যেখানে বাংলাদেশে কর্মরত বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন।

এসময় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর শীর্ষ কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যবসায়ীদের কাছে লাইসেন্সিং, করহার, করনীতির পূর্বানুমেয়তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনায় সুবিধা উন্নত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়া, ব্যবসায়ী নেতারা শ্রম অধিকার সংস্কারে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাহীগণকে ব্যবসা পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, “ব্যবসা পরিচালনায় যেসব সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করুন, যাতে আমরা সেগুলোর সমাধান করতে পারি।”

এছাড়া, বৈঠকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করার জন্য বিডার রিলেশনশিপ ম্যানেজার পদ চালু করার কথা জানানো হয় এবং আগামী মাসে সিঙ্গাপুরে গিয়ে রেটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনাও উত্থাপন করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলমান রাখতে পারলেই দেশকে এগিয়ে নিতে পারবো: তারেক রহমান

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সকল নির্বাচন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হতে হবে। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে যদি আমরা চলমান রাখতে পারি, তবেই দেশকে আমরা সামনে এগিয়ে নিতে পারবো এবং দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে পারবো।”

আজ মঙ্গলবার সিলেটে আয়োজিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক দিনব্যাপী তৃতীয় বিভাগীয় কর্মশালা ২০২৪-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচার পালিয়েও দেশে এখনও তাদের ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের দোসর রয়ে গেছে। আমাদের সবাইকে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা সকল দলের পক্ষ থেকে ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রকাঠামোর অধিকাংশই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামীতে যদি আরো যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব আসে, সেগুলোও যুক্ত করা হবে।”

তারেক রহমান বলেন, “আজকের এই বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মশালার পর এই ৩১ দফা জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। বইয়ে অনেক কিছু সুন্দরভাবে লেখা থাকে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে হয় মানুষকে। ভালো নিয়ত থাকলে আমরা ভালো কিছু করতে পারব।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র চলার পথে বহু বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিগত ১৬ বছরে বহু মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন। যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তবে এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখলে জবাবদিহিতা তৈরি হবে।”

সিলেট নগরীর জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে বিএনপি’র বিভাগীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সহ বেশ কয়েকজন নেতা ৩১ দফা কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রশিক্ষণে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন- ডা. মওদুদ আলমগীর, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মহিউদ্দিন আলমগীর পাবেল, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবা হাবিবা, সহ ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আর্লি, সহ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু।

এছাড়া কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আনিসুর রহমান তালুকদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও মিফতাহ্ সিদ্দিকী।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তাহসিনা রুশদি লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ সম্পাদক শাম্মী আক্তার ও আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক ফজলুল হক ময়ুন, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ডা. মিলনের আত্মত্যাগ নতুন গতি সঞ্চার করে : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ডা. মিলনের আত্মত্যাগ ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে।” তিনি তার এক বাণীতে বলেন, ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একটি সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ঘাতকদের গুলিতে শহিদ হন ডা. শামসুল আলম খান মিলন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “ডা. মিলন যেদিন শহিদ হন, সেদিনই দেশে জরুরি আইন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জরুরি আইন ও কারফিউ উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা বারবার রাজপথে মিছিল নিয়ে নেমে আসে। এর ফলে স্বৈরশাসকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়।”

তিনি আরও বলেন, “কিন্তু গত দেড় দশকে দেশে নতুন এক স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের উৎখাতের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যাত্রা শুরু করেছে।”

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পেশাজীবী নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।”

তিনি ডা. মিলনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ডা. শামসুল আলম খান মিলন ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-মহাসচিব এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম