পটুয়াখালীর বাউফলে ধ্বংসের পথে ঘসেটি বেগমের নির্মিত মসজিদ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামে প্রায় সাড়ে ৩’শ বছর আগে নির্মিত ঘসেটি বেগমের মসজিদ বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মসজিদটির ইতিহাস সম্পর্কে কোথাও সঠিক তথ্য নেই, তবে স্থানীয়দের মতে, এটি ঘসেটি বেগমই নির্মাণ করেছিলেন। ঘসেটি বেগম, নবাব আলীবর্দী খানের বড় মেয়ে এবং বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা, বাংলা, বিহার ও ওড়িষ্যার নবাবজাদী মেহের-উন-নিসা নামে পরিচিত ছিলেন।

এটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও, দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলে বর্তমানে এটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। মসজিদটি প্রাচীনকালেই নির্মিত হলেও, এর সংরক্ষণে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইতিহাস অনুযায়ী, এক সময় এই অঞ্চলটি ছিল প্রাচ্যের রাজধানী চন্দ্রদ্বীপ। তৎকালীন জমিদারি বিস্তৃত ছিল এই অঞ্চলে, আর তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী কচুয়া এলাকা ছিল এ জমিদারির প্রধান কেন্দ্র। মধ্যযুগের শেষদিকে ঘসেটি বেগম এখানে এসে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা রয়েছে।

ঘসেটি বেগমের জীবনের আরেকটি অন্ধকার দিক ছিল তার ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত থাকা। সিরাজউদ্দৌলা নবাব হলে তা মেনে নিতে না পেরে, ঘসেটি বেগম ইংরেজদের পক্ষে ষড়যন্ত্রে যোগ দেন। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে ইংরেজরা ভারতে একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ঘসেটি বেগমও এই ষড়যন্ত্রের শিকার হন এবং তার শেষ সময়ে বুড়িগঙ্গায় ডুবে মৃত্যু ঘটে।

ঘসেটি বেগমকে আজও বাংলার ইতিহাসে একটি বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে মনে করা হয়, যিনি ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে পরিচিত। তার জীবন এবং মসজিদের ইতিহাস হারিয়ে যেতে বসেছে, যা ভবিষ্যতে শুধুমাত্র একটি স্মৃতিরূপে থাকবে যদি এর সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৩ মাস পর ঋণ পরিশোধ না করলে খেলাপি ঘোষণা

বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঋণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঋণের পরিশোধের সময়সীমা তিন মাস পার হলে ঋণটি খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া, ঋণ যদি মন্দ মানের হয় তবে ১০০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ ২৭ নভেম্বর বুধবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণের কিস্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খেলাপি হয়ে যাবে। ঋণ পরিশোধের জন্য ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ঋণটি নিম্নমানের, ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে হলে সন্দেহজনক এবং ১২ মাস বা তার বেশি সময় পর ঋণটি মন্দ বা ক্ষতিজনক হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া, নিয়মিত ঋণের জন্য ১ শতাংশ এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। তবে, এককালীন পরিশোধের পর পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ঋণ নিয়মিত করার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং চর্চার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ঋণ শ্রেণিকরণ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে। ঋণ পরিশোধে কোনো রকম বিলম্ব হলে ঋণটি তফসিল অনুযায়ী সময়সীমা পার হওয়া পরেই মেয়াদোত্তীর্ণ বলে গণ্য হবে। ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

খেলাপি ঋণের শ্রেণীকরণ অনুযায়ী, নিম্নমানের ঋণের জন্য ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের জন্য ৫০ শতাংশ এবং মন্দ ঋণের জন্য ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, যদি কোনো ঋণ বা অগ্রিম সাব-স্টান্ডার্ড বা সন্দেহজনক হয়, তাহলে সে ঋণের ওপর অর্জিত সুদ আয় হিসাবের পরিবর্তে সুদের সাসপেন্স হিসাব হিসেবে জমা করতে হবে। এবং যদি কোনো ক্ষতিজনক ঋণ সুদ হিসেবে যোগ করা হয়, তবে তা সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে রাখা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। আর জুন পর্যন্ত ঋণ আদালতে বিচারাধীন ৬৭ হাজার ৫১৯টি মামলায় আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৯ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

এছাড়া, সার্টিফিকেট মামলায় ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অডিট জনিত অপ্রদর্শিত খেলাপি ঋণ প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি ও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিভাজন নয়, দরকার জাতীয় ঐক্য: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভাজন সৃষ্টি না হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, যা দেশে সব ধরনের বিভাজনকে ঠেকাতে সাহায্য করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বা যারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে, তাদের প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত রোডম্যাপ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়েছি এবং নির্বাচনী সংস্কারগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছি।”

এছাড়া, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে চলমান মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের কথা বলা হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টা জাতির একতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ছাত্র-জনতা, হিন্দু-মুসলিম সবার মধ্যে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন এবং চট্টগ্রামের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল বরিশাল

বরিশালে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদ এবং ইসকন নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত থেকে আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) দিনভর নানা স্থানে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশাল শহরের বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নেন।

বরিশাল জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ইসলামী আইনজীবী পরিষদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি), সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি, ইসকনকে নিষিদ্ধ করা এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

বুধবার দুপুর দেড়টায় বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতির সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের বরিশাল জেলা সভাপতি মহসিন মন্টু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন যে, চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ড ইসকনের একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, এবং এর পেছনে শেখ হাসিনার মদদ রয়েছে। তারা ইসকন নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

এরপর একই দাবিতে বরিশাল আব্দুর রব সেরনিয়াবাত আইনজীবী সমিতির সামনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী আইনজীবী পরিষদও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে। সেখানে বক্তারা সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তোলেন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। তারা সাইফুল ইসলামের হত্যার বিচার এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে প্রতিবাদ জানায়। বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের হয় যা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন এবং ‘ইসকনকে জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানান।

এরপর, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার রাত এবং বুধবার সকালে প্রতিবাদ মিছিল করে, যেখানে তারা ইসকন নিষিদ্ধের দাবি জানান এবং সাইফুল ইসলামের হত্যার বিচার চান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে ৪০০ কম্বল হস্তান্তর

পটুয়াখালীর দরিদ্র ও ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ৪০০ পিস কম্বল হস্তান্তর করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা। বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শীতবস্ত্র হস্তান্তর করা হয়। কম্বল গ্রহণ করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।

শীতবস্ত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. মশিয়ুর রহমান। এছাড়া আশা’র পটুয়াখালীর ডিএম লিটন চন্দ্র বিশ্বাস, আরএম মো. আব্দুল মান্নান, এসই মো. ইউসুফ আলী, জেলা অডিটর মো. আব্দুস ছালাম এবং এমএসএমই ব্রাঞ্চ ম্যানেজারগণ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত, যাতে তীব্র শীতে কোনো শীতার্ত মানুষ কষ্ট না পায়।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না: মাহফুজ আলম

বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, “হঠকারিতা, নেতিবাচকতা ও ভাঙনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আমাদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতায় এ রাষ্ট্রকে গড়তে হবে। এ রাষ্ট্র পরিগঠন করলেই কেবল শহিদ আলিফের শাহাদাতসহ শহিদানদের রক্তের মূল্য হতে পারে।”

পোস্টে তিনি ছাত্র-জনতাকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, “দায়িত্ব ও দরদের নজির দেখিয়ে আপনারা বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। বাংলাদেশ আর কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না। ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ব্যক্তি ও সমষ্টির ‘শক্তি’ সাধনায় দরদি ও দায়িত্ববান হয়ে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হয়ে ওঠা মোক্ষ। আমাদের এই অভ্যন্তরীণ শক্তি যেকোনো বহিঃশত্রুকে পরাজিত করবে। আমরা আর উপনিবেশযোগ্য (Colonizable) হবো না।”

দেশের ‘প্রাজ্ঞ আলেম ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের’ ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ প্রাপ্য উল্লেখ করে মাহফুজ আলম লিখেছেন, “আপনারা এ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাঙালি মুসলমানকে দায়িত্বশীল আচরণে অনুপ্রাণিত করেছেন। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আপনাদের আজ ও আগামীর প্রাজ্ঞ উদ্যোগ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আপনাদের ইজ্জত ও শরিকানা নিশ্চিত করবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খাবারে চেতনা নাশক মিশিয়ে ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গামুরতলা গ্রামে খাবারে চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে চুরির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে মিজানুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মিজানুর রহমানের স্ত্রী সাবিনা দাবি করেন, ঘটনার রাতে চেতনানাশক মিশ্রিত খাবার খেয়ে পরিবারের পাঁচজন সদস্য অজ্ঞান হয়ে পড়েন। চোরেরা এ সুযোগে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

অজ্ঞান হয়ে পড়া মিজানুর রহমান (৩৮), হামিদ বাঘা (৯০), খাদিজা (৬০), মারুফা (২৩) এবং শিশু জিহাদ (১১) কে বুধবার সকালে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাবিনা আরও বলেন, “চোরেরা আমাদের ঘরের সব লুটে নিয়েছে। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার—সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মিতু হত্যা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান এবং বিচারপতি আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন প্রদান করেন।

এর আগে, গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। তবে ১৮ আগস্ট বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে মিতু খুন হন। তিনি তার ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হন। তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে মিতুকে ঘিরে গুলি চালায়। এই ঘটনায় বাবুল আক্তার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ১২ মে পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা দেয়। একইদিন বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশারফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় মিতু হত্যার অভিযোগে বাবুল আক্তারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলায় বাবুল আক্তার ১৭ মে থেকে কারাগারে ছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বদলায়নি নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহারের চিত্র

গত ১ নভেম্বর থেকে দেশের কাঁচাবাজারেও পলিথিন এবং পলিপ্রোপাইলিন ব্যাগের ব্যবহার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও বরিশাল শহরসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের কাঁচাবাজার ও হাট-বাজারে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার অবাধে চলছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে পলিথিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। আর ক্রেতারা নতুন ব্যাগ কেনার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করছেন, যার ফলে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না।

সরেজমিনে নগরীর পোর্ট রোড মাছবাজার ও কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে সবজি, মাছসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই পলিথিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করছেন। তবে বিকল্প ব্যাগ ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বাধ্য হয়ে পলিথিন ব্যবহার করছেন বলে জানান তারা।

পণ্য বিক্রির সময় পলিথিন ব্যবহার সম্পর্কে কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী কবির ঘরামী বলেন, “আমরা পণ্য বিক্রি করার সময় দেখি ক্রেতারা ব্যাগ নিয়ে আসেন না। তাদের নিজস্ব ব্যাগ থাকলে আমরা সেই ব্যাগে পণ্য দিতে পারি। আমাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাধা না দিয়ে পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করা উচিত।”

নভেম্বরের ২১ দিন পার হলেও এখনো বিভিন্ন মুদি দোকান ও সবজি বাজারে পলিথিনের ব্যবহার চলছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পরিবেশের জন্য পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত, তবে তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পলিথিনে পণ্য বিক্রি বিষয়ক একটি অভিযান পরিচালনা করেছিল জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, তবে এ অভিযানগুলো ছিল সামান্য। নভেম্বরের শুরুতে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর পলিথিনের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। কিন্তু সেই অভিযান সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।

অক্টোবর মাসে পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান পরিচালিত হলেও বাস্তবিকভাবে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। ৩ নভেম্বর থেকে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান শুরু হয়। একাধিক অভিযান পরিচালনা হলেও নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার ঠিকঠাক বন্ধ হয়নি। এমনকি, ১২ নভেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর পলাশপুরে র‌্যাব-৮ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ২,১৫০ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, “নভেম্বরের ৩ তারিখ থেকে পলিথিনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান শুরু হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।” পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যলয়ের উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, “আমরা পলিথিনের বিরুদ্ধে এক কথায় জেহাদ ঘোষণা করেছি এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পলিথিন জব্দ করছি।”

এদিকে, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের অধীনে পলিথিন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, কোনো সরকারই এর কার্যকর বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বর্তমানে, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ অভিযান আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হলে বাজারে বিকল্প ব্যবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে, যা ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আল্লাহকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যেই চরমোনাই মাহফিল প্রতিষ্ঠা – পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, “চরমোনাই মাহফিল দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য নয়, বরং পথভোলা মানুষের আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য এই মাহফিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যারা এখানে আসেন, তাদের উচিত দুনিয়ার চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে আখেরাতের দিকে মনোযোগী হওয়া।”

বুধবার (২৭ নভেম্বর) বাদ জোহর চরমোনাই মাদরাসার মূল মাঠে অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, “চরমোনাইতে যারা নতুন এসেছেন, তারা যেন দুনিয়ার সমস্ত চিন্তা ভুলে, আল্লাহর দিকে মনোযোগী হন। তাদের উচিত নিজের অন্তরে আখেরাতের চিন্তা স্থাপন করে, আল্লাহর জিকিরে নিজেদের তরতাজা রাখতে হবে। যেন তারা এখানে এসে আল্লাহর ওলী হয়ে চরমোনাই থেকে বিদায় নেন।”

উদ্বোধনী বয়ানের পর, পীর সাহেব চরমোনাই মাহফিলের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। আজ সকাল ৮টা থেকে মাহফিলে আগত মুসল্লীদের সহস্রাধিক হালকায় বিভক্ত করে হাতে-কলমে সালাত ও ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

মাহফিলে আগত মুসল্লীদের জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অস্থায়ী মাহফিল হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। এখানে ১১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে ৪০ জন চিকিৎসক সেবা প্রদান করছেন। ৬টি এ্যাম্বুল্যান্স ও ১টি নৌ এ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে মেডিকেল সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করছে।

এছাড়া, মাহফিলের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিযুক্ত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির বিশেষ টীম মাঠে দায়িত্ব পালন করছে। সারাদেশ থেকে আগত মুসল্লীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, এবং টয়লেট ও গোসলের সুবিধা সহ সকল সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এই মাহফিলের প্রথম দিন বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন ওলামায়ে কিরামদের সম্মেলন এবং তৃতীয় দিন ছাত্র-জনতাকে নিয়ে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। মাহফিলে যুবক এবং শ্রমিকদের জন্য ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করবে।

এ মাহফিল আগামী ৩০ নভেম্বর, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় হযরত পীর সাহেব চরমোনাই’র আখেরি বয়ানের মাধ্যমে শেষ হবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম