“অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করা হবে: সেনাবাহিনী”

দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পেছনে যারা ইন্ধন যুগিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন ডাইরেক্টরেটের কর্নেল ইন্তেখাফ হায়দার খান। তিনি বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান।

কর্নেল ইন্তেখাফ হায়দার খান বলেন, “দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পেছনে যারা সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করা হবে।” তিনি আরও বলেন, সব ধরনের প্রতিবাদ সহিংসতার মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়, এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা উচিত।

সেনাবাহিনী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য কাজ করছে। তিনি জানান, ১৩ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী ২২৮ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ১,৩২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া, গত দুই সপ্তাহে ২৪টি অস্ত্র ও ৩৬৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অভিযানে ১২৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া, চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের শান্তি রক্ষা এবং কুকি চিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। কুকি চিনের ১৭৯ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে অভিযানের সময় ৭ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

কর্নেল ইন্তেখাফ আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নির্দেশনায় ৬২টি জেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাসদস্যরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।




“সংখ্যালঘুরা এদেশে মায়ের কোলে সন্তানের মতো: পীর সাহেব চরমোনাই”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর, পীর সাহেব চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে একটি কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র চলছে।” তিনি এই ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ক্ষমতা ও স্বার্থের পেছনে ছুটলে দেশ ও জাতির জন্য তা ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

পীর সাহেব চরমোনাই হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে আপনারা এদেশে মায়ের কোলে সন্তানের মতো নিরাপদ আছেন, কিন্তু কিছু লোক আপনাদের ব্যবহার করে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিলের বার্ষিক ওলামা ও সুধী সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময়, তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আগামীদিনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বপ্নের স্বদেশ বিনির্মাণে একসাথে কাজ করতে হবে।”

সম্মেলনে বক্তৃতা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ এবং খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ।

অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, “চরমোনাই মাহফিল ১০০ বছর অতিক্রম করেছে এবং আমরা ঐক্যের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো ইনশাআল্লাহ।” তিনি কুরআনী শাসনের পক্ষে কাজ করার সংকল্প ব্যক্ত করেন।

খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ বলেন, “ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। আমরা সবাই একত্রিত হবো।”

বাংলাদেশ ফরায়েজী জামায়াতের আমীর হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি বাহাদূরপুরের পীর হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান বলেন, “পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে আমরা একসাথে কাজ করতে রাজি আছি এবং সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি জানাই।”

বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন হাফেজ মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ আল ফরিদী বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আল্লাহর বড় নেয়ামত। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কুফরী মতবাদ মেনে নেওয়া যায় না। ইসলাম মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা দেয়।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “৫ আগস্ট পরিবর্তনের পরেও পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্র করছে। তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভারতের মিডিয়া অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিচ্ছে।”

গণ অধিকার পরিষদ সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে একসাথে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। ছোট খাটো বিরোধের কারণে আমাদের ঐক্য নষ্ট হওয়া উচিত নয়।”

চরমোনাই মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবির নেতারা। আগামীকাল (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পীর সাহেব চরমোনাই’র আখেরি বয়ানের মধ্য দিয়ে এই তিন দিনব্যাপী মাহফিল শেষ হবে।

মাহফিলে আসা মুসল্লীদের মধ্যে গতকাল দুইজন বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। উভয়ের জানাযা শেষে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“পিলখানার শহীদ পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করবে”

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় শহীদ হওয়া ৫৭ অফিসারসহ ৭৪ জনের হত্যাকাণ্ডের ‘সঠিক বিচার’ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করতে যাচ্ছে শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালী রাওয়া হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের অভিযোগ দাখিল করবেন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার প্রকৃত দায়ীদের, বিশেষ করে পর্দার আড়ালের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার দাবি করেন তারা।

বিদ্রোহে শহীদ কর্নেল কুদরত ইলাহীর সন্তান অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা ষড়যন্ত্র করেছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।” তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময়ে বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও সঠিক অগ্রগতি হয়নি এবং মামলার পরিস্থিতি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করব। সেখানে শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজমসহ তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা, বিশেষ করে ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে।”

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে গ্যাজেটের মাধ্যমে ঘোষণা করার দাবি জানান। শহীদ কর্নেল মজিবুল হকের স্ত্রী নাহরীন ফেরদৌসী বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য নতুন তদন্ত শুরু করা হোক।”

তিনি আরও বলেন, “৫৭ জন শহীদ সেনাকে অফিসিয়াল গ্যাজেটে শহীদের মর্যাদা দেওয়া, পিলখানা ট্র্যাজেডি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আটককৃত নির্দোষ ব্যক্তিদের দ্রুত ন্যায় বিচার দেওয়া উচিত।”

এসময় শহীদ লে. কর্নেল কাজী রবি রহমানের স্ত্রী ডা. ফৌজিয়া রশিদ, শহীদ কর্নেল এরশাদের ভাই ডা. মামুন, শহীদ কেন্দ্রীয় সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান, শহীদ কর্নেল কুদরত এলাহী সহ অন্যান্য শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 




“আমি রংপুরের একজন উপদেষ্টা মনে করি নিজেকে: ড. ইউনূস”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তিনি শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার কারণে নিজেকে রংপুরের সন্তান হিসেবে মনে করেন। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকার তেজগাঁও কার্যালয়ে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানাতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আমাকে রংপুরের একজন উপদেষ্টা হিসেবে মনে করবেন।”

এসময়, প্রধান উপদেষ্টা শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের সনদ তুলে দেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের হাতে। সনদটি গ্রহণ করেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন আবু সাঈদের ভাতিজা মো. লিটন মিয়া।

ড. ইউনূস আবু সাঈদের বাবা-মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এর আগে, ৯ আগস্ট, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, ড. ইউনূস রংপুরের উত্তর জেলা বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাবা-মায়ের সাথে দেখা করেছিলেন। সেখানে তিনি শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন।

অধিকারিকদের সাথে পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাইয়ের সঙ্গে ড. ইউনূস সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এতে, শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন স্মরণে অনুষ্ঠান

পটুয়াখালীর বাউফলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণে স্মরণসভা এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বাউফল সরকারি কলেজের ২০১ নম্বর কক্ষে কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্দোলনে শহীদ বাউফল উপজেলার ৬ জনসহ সকল শহীদ ও আহতদের স্মরণে কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়া করা হয়। এতে অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অন্যান্য অতিথিরা।

স্মরণসভায় বক্তব্য দেন কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্ম বৈষম্যের শৃঙ্খল ভেঙে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছিল। এই আন্দোলন এক মাসের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত বিজয় এনে দেয়। আমাদের সবার উচিত এই প্রেরণাকে ধারণ করে নিজেদের অবস্থান থেকে দেশ গড়ার দায়িত্ব পালন করা।”

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশন, এবং আন্দোলনের পেছনের কারণ, এর সূচনা এবং বিজয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবেশনার মাধ্যমে আন্দোলনের তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে ধরে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো. তারিকুল তুহিন (৩২) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে গলাচিপা-পটুয়াখালী সড়কের তালতলা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তুহিন মোটরসাইকেলে করে সুহরী ব্রিজ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা রডবোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো-ট ১১-২১৪৮) তার মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তুহিন গোলখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম খানের ছেলে। তিনি গলাচিপা উপজেলা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী এবং সুহরী ব্রিজ বাজারে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা করতেন।

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইসকন: কঠোর অবস্থানে সরকার, হাই কোর্টে জানাল রাষ্ট্রপক্ষ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর সময় চট্টগ্রামে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপের কথা হাই কোর্টকে জানিয়েছে সরকার।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ– ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ওই প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিল।

আসাদ উদ্দিন আদালতকে বলেন, এ ঘটনায় সরকারের অবস্থান ‘কঠোর’। এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে, একটিতে ১৩ জন, একটিতে ১৪ জন এবং আরেকটিতে ৪৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ভিডিও দেখে আরও ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ তৎপর আছে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

এরপর হাই কোর্ট বেঞ্চ বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যাতে জানমালের ক্ষতি না হয়, যাতে জনগণের উদ্বেগ না থাকে।

এরপর আবেদনকারী আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান ইসকানের নিষিদ্ধের পক্ষে বললে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক আবার রাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বলেন এবং তার (আবেদনকারী) দুঃশ্চিন্তা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তবে ইসকনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আদেশ আদালত এদিন দেয়নি।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সরকার যেহেতু ব্যবস্থা নিচ্ছে সেখানে কোর্ট তো হস্তক্ষেপ করবে না। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা থাকলে তখন কোর্ট হস্তক্ষেপ করে।”

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান বুধবার এই বেঞ্চে ইসকন নিষিদ্ধ চেয়ে আবেদনটি করেন। চট্টগ্রাম ও রংপুরে জরুরি অবস্থা জারির আর্জিও তিনি জানান।

আবেদনের শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের মতামত জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ডেকে পাঠায় আদালত। পরে এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের ইংরেজি নাম ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল ইসকন। হিন্দু ধর্মগুরু অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ১৯৬৬ সালে নিউ ইয়র্কে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

ইসকন মূলত গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদের অনুসারী। বর্তমানে বিশ্বে ইসকনের ৫০ হাজারের বেশি মন্দির ও কেন্দ্র রয়েছে। গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও পূর্ব ইউরোপ, মধ্য এশিয়া এবং ভারত উপমহাদেশে এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রামে ইসকন পরিচালিত মন্দির পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ, সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করে মঙ্গলবার তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় চট্টগ্রামের হাকিম আদালত।

ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। বেলা সোয়া ১২ টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভের পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।

এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।

বুধবার সাইফুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলমও ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তোলেন।




দুমকিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার স্মরণসভায় আওয়ামীলীগ নেতাদের উপস্থিতিতে হট্টগোলের সৃষ্টি

পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণসভায় আওয়ামীলীগ নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন স্মরণসভার আয়োজন করে।

স্মরণসভায় উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহার আলী মৃর্ধা এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি পাংগাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী নজরুল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন। তাদের উপস্থিতি নিয়ে সভাকক্ষে উপস্থিত ছাত্র জনতার মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ সময়, কিছু ছাত্র জনতা সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে যান, কারণ তারা অভিযোগ করেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতে স্থানীয় প্রশাসন এবং নেতৃবৃন্দ ছাত্র জনতার উপর হালমার ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্মরণ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মীর শহিদুল ইসলাম সাহিন এবং দুমকি থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ আহমেদ। এছাড়া, শহীদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুমকিতে ৫০ টাকার জন্ম নিবন্ধনে দেড়শ টাকা আদায়

পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫০ টাকার জন্ম নিবন্ধন সনদে দেড়শ টাকা আদায় করছেন। সচিবের এই বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের আইন অনুযায়ী শিশুদের জন্ম নিবন্ধন ৪৫ দিন পর্যন্ত কোনো ফি ছাড়া করা হয়। এর পর, ৫ বছরের নিচে ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের উপরে ৫০ টাকা ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রুবেল সরকার এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রতি জন্ম সনদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও, জন্ম নিবন্ধনে কোনো ভুল থাকলে সংশোধন বাবদও তিনি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। স্থানীয়দের দাবি, সচিব সঠিক কাগজপত্র না থাকায় তাদের কাছ থেকে একাধিক দফায় টাকা আদায় করেন এবং কখনো সংশোধন, কখনো ভুল ধরিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি দুটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য ৩০০ টাকা দিয়েছেন। তিনি সরকারি ফি কত জানতে চাইলে সচিব কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো তিনি জানান, “আমার থেকেও অনেক পরিষদে বেশি টাকা নেয়, আমি তো কমই নিচ্ছি।”

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ জানান, “সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি দেখছি।”

এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় কোচিং সেন্টারে ৯ শিক্ষার্থীর শ্বাসকষ্ট, আতঙ্কে অভিভাবকরা

 

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া পৌর শহরের রহমতপুর এলাকায় অবস্থিত জিএমএস টিচিং হোম কোচিং সেন্টারে একসঙ্গে ৯ শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (২৮ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে ফাতেমা (১৩), হুমায়রা মিম (১৫), মমতাজ (১৪), শারমিন (১৪), সমৃদ্ধি (১৩), ফারজানা (১৪), রুবা (১৪) ও জেরিন (১৪) উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে এবং নেবুলাইজার ব্যবহার করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় কোচিং সেন্টারের কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না, ফলে কী কারণে এমনটি ঘটেছে তা জানা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিভাবক শফিকুল আলম বাবুল জানান, তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তবে চিকিৎসার পর বর্তমানে সে কিছুটা সুস্থ রয়েছে।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক বিকাশ রায় জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, এটি ফাংশনাল ডিজঅর্ডারের কারণে হতে পারে, তবে বিস্তারিত পরীক্ষার পরই নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব হবে।

এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম