নিহত আইনজীবীর পরিবারের জন্য ফান্ড গঠন করা হবে: ধর্ম উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম আদালতে হামলায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের পরিবারের জন্য কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি জানান, এই ফান্ড সংগ্রহের দায়িত্বে থাকবে মানবিক সংগঠন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পানত্রিশা গ্রামে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের কবর জিয়ারত ও মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশ ও জাতিকে অনেক কিছু দিতে পারতেন। কিন্তু তাকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং সরকার তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে বলেও জানিয়েছেন।

এছাড়া, ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি রাষ্ট্র। এই সৌহার্দ্য বিনষ্ট করতে দেশি-বিদেশি নানা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী চক্রান্ত চালাচ্ছে।” তিনি দেশের জনগণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সহনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

ইসকন নিষিদ্ধের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. খালিদ বলেন, “এ বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, সুতরাং এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।”

এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, “সন্দেহজনক অনেককে ইতোমধ্যে ধরা হয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হবে এবং অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” তিনি সকলকে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

ধর্ম উপদেষ্টা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা পরে শহিদ আইনজীবী সাইফুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান। এছাড়া, শহিদ সাইফুলের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকার সহায়তা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নগদ এক লাখ টাকা, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকার চেক, এবং আল মানাহিল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইনামুল হাসানসহ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন মানবিক সংগঠন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শীত ও কুয়াশা নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার পড়তে পারে। এর কারণে দৃষ্টিসীমা ৭০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভোর ৫টা থেকে ২-৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ৭০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে। তাই এসব এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তবে কোনো সতর্কসংকেত দেখাতে হবে না।

অপর এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য জায়গায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময় শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




১৬ কোটি টাকায় নির্মিত বর্জ্য শোধনাগার চালু হয়নি তিন বছরেও

বরগুনা পৌর শহরের ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বর্জ্য শোধনাগার তিন বছরেও চালু হয়নি। ২০২১ সালে প্রকল্পটি উদ্বোধন হলেও অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে লোকবল ও কারিগরি সমস্যা সত্ত্বেও শোধনাগারটি এখনো কার্যকর হয়নি। এর ফলে পৌর শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো খারাপ অবস্থায় চলে গেছে, এবং আশপাশের পরিবেশ ব্যাপকভাবে দূষিত হচ্ছে।

সোনাখালীর বর্জ্য সমস্যা

বরগুনা শহরে প্রতিদিন ১০-১২ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হলেও সেগুলি সোনাখালীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশে বিপজ্জনক মাত্রায় দূষণ সৃষ্টি করছে। ময়লা পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে দুর্ভোগ বাড়ছে স্থানীয়দের। এমন পরিস্থিতিতে শিশু, বৃদ্ধ ও অন্যান্য বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন।

বর্জ্য শোধনাগার ব্যবহারের অভাব

বর্জ্য শোধনাগারটি নির্মিত হলেও, যথাযথ জনবল ও অভিজ্ঞতার অভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ শোধনাগারটি ব্যবহার করছে না। সোনাখালীতে অবস্থিত ময়লার ভাগাড়ের পাশেই ১০-১৫টি পরিবার বসবাস করছে, যাদের জন্য এই পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তবে, স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, শিগগিরই দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে শোধনাগারটি চালু করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ

সাবিনা ইয়াসমিন, সোনাখালীর এক বাসিন্দা জানান, “২০ বছর ধরে আমরা এই ময়লা ও দুর্গন্ধ সহ্য করে আসছি। প্রতি রাতে ময়লা ফেলা হয় এবং ময়লা পোড়ানো হয়, যার ফলে সারা দিন ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হয়।” সিফাত নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী জানায়, “স্কুলে যাওয়ার পথে প্রতিদিন দুর্গন্ধের মুখোমুখি হতে হয়। প্লাস্টিক পোড়ানোর গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।”

স্বাস্থ্য ঝুঁকি

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মেহেদী পারভেজ জানান, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বর্জ্য পুড়ে যে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়, তা মানুষের শ্বাসতন্ত্রে প্রবাহিত হয়ে শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধদের উপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে।

প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি

বরগুনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন জানিয়েছেন, শিগগিরই শোধনাগারটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হবে। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল বলেন, “অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা উচিত নয়, এবং বর্জ্য আলাদাভাবে রিসাইক্লিং করতে হবে।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তালতলী থানার পুলিশ, সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল

বরগুনার তালতলী থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. আল ইমরান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে। তার নেতৃত্বে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারীরা এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন পুলিশকে আরও বেশি সহায়তা হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ বেড়ে চলেছে। তবে, তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল ইমরান তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে মাদক, অস্ত্র উদ্ধারসহ চুরি, ডাকাতি এবং হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও আস্থার পরিবর্তন

মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তালতলী থানা পুলিশ। এতে করে, একসময় পুলিশের প্রতি যে আস্থা ছিল না, তা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের প্রতি আরও বেশি আস্থা রাখতে শুরু করেছে, এবং পুলিশ তাদের প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক

তালতলী থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মো. আল ইমরান জানান, “বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরাসরি থানায় এসে আমাকে দেখা করতে পারেন, এতে তারা বুঝতে পারেন পুলিশ তাদের সেবা দানে আন্তরিক।” তার নেতৃত্বে, থানায় আসা জনগণ কোন ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি পুলিশ সেবা পাচ্ছেন।

স্থানীয় নেতাদের প্রশংসা

তালতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হক বলেন, “তালতলী থানার বর্তমান ওসি আল ইমরান একজন ভালো মানুষ। তার যোগদানের পর থেকে এই থানাটি সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে।”

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আল ইমরান বলেন, “বরিশাল ডিভিশনের ডিআইজি স্যার ও বরগুনা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয় আমাকে জনগণের সেবা করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন, তাই আমি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করছি।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পরাজিত ফ্যাসিবাদ পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে : ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এখন একটি জটিল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে। কিন্তু ঠিক তখনই কিছু ফ্যাসিবাদী শক্তি, যারা পরাজিত হয়েছে, পরিস্থিতি বদলানোর জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য আন্দোলনের বিজয়কে অন্য খাতে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের মানুষকে আবারও অস্থিতিশীল পরিবেশে ঠেলে দেওয়া।

আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠনে লেখক-শিল্পীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে একটি জটিল কাজ। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে লেখক-শিল্পীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ফখরুল বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র পুনর্গঠন সম্ভব নয়। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে, সেদিকে লেখক-সাহিত্যিকদের সজাগ থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, “ফ্যাসিবাদ রুখতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সংস্কারের বিষয়ে লেখক-শিল্পীদের মতামত অত্যন্ত জরুরি।” তিনি বলেন, “লেখক ও শিল্পীদের একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে— তা হলো, দেশের সার্বভৌমত্ব যেন হুমকির মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে তাদের দৃষ্টি রাখা।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যারা দায়িত্ব নিয়েছেন, তারা যেন তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন। সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে, সবার সম্মিলিত উদ্যোগে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে।”

মতবিনিময় সভায় সিপিবি’র সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সাংবাদিক ও কবি সোহরার হাসান, লেখক ও গবেষক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মাহবুব মোর্শেদ, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সম্পাদক ও কবি শওকত হোসেনসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারের সূচনা বক্তৃতা দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্য সচিব কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। স্বাগত বক্তৃতা ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিষদের আহবায়ক কবি মোহন রায়হান।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে জনগণের আত্মত্যাগ অতুলনীয়। জনগণই সংস্কার করবে, তবে তাদের সেই সুযোগ দিতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। লেখক-শিল্পীদের আরও সোচ্চার হতে হবে এবং জনগণের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”

সলিমুল্লাহ খান বলেন, “রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিবিপ্লব সংগঠিত হতে পারে, সেজন্য লেখক, শিল্পী ও রাজনীতিকদের সতর্ক থাকতে হবে।”

কথাসাহিত্যিক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, “কবি-শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা সবসময় সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফ্যাসিবাদীরা নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের প্রতিরোধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর লেখক-শিল্পীরা নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য লেখক-শিল্পীদের সতর্ক থাকতে হবে।”

জোনায়েদ সাকি বলেন, “রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সংস্কৃতির বড় ভূমিকা রয়েছে। পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার লেখক-শিল্পীদের বড় অংশকে তাবেদারে পরিণত করেছিল।”

সাইফুল হক বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যারা ‘না’ বলার সাহস দেখিয়েছেন, তাদের শ্রদ্ধা জানাই। ভবিষ্যতে কোন লেখক, কবি ও শিল্পী যেন স্বৈরশাসকের দোসর না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

কবি মোহন রায়হান বলেন, “যদি কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার ফিরে আসতে চায়, কবিরাই প্রথম প্রতিহত করবে। কবি-শিল্পীরা রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলার চরাঞ্চলে নতুন জাতের ধান আবাদ

ভোলার চরাঞ্চলে এবার নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান ‘ব্রি ধান-১০৩’ চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। এই জাতের ধান অন্যান্য ধানের তুলনায় আগেই সংগ্রহ করা যায়, যা কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। লালমোহন উপজেলায় প্রথমবারের মতো কৃষি অফিসের উদ্যোগে কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ, সার ও বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। এর ফলে কৃষকরা সফলভাবে ব্রি ধান-১০৩ আবাদ করেছেন এবং বাজারে বীজ হিসেবে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন।

ভোলার লালমোহন উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরছকিনা এলাকার তিনজন কৃষক এবং পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কলেজ পাড়া এলাকার তিনজন কৃষকসহ মোট ছয়জন কৃষক উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-১০৩ আবাদ করেছেন। এদের মধ্যে কালমা ইউনিয়নের কৃষকরা আগামী ১০ দিনের মধ্যে ধান কাটতে পারবেন। অন্যদিকে, পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কৃষকরা অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা দেরিতে আবাদ করলেও, তারা ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করবেন।

এ বছর প্রথমবারের মতো মোট চারশত শতাংশ জমিতে এই ধান আবাদ করা হয়েছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, ব্রি ধান-১০৩ চাষে তাদের ব্যয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা হলেও, তারা আশা করছেন, এই জমি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবেন। বাজারে এই ধানের বীজ পাইকারি প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা এবং খুচরা ৮০-৯০ টাকা বিক্রি হবে।

কালমা ইউনিয়নের চরছকিনা এলাকার চাষী মো. বাবুল, মো. সেলিম এবং শেখ সাদি জানিয়েছেন, “আমরা কৃষি অফিসের সহায়তায় ২০০ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, কীটনাশক এবং বীজ সংরক্ষণের ড্রাম বিনামূল্যে পেয়েছি। আমাদের খরচ প্রায় ৪০ হাজার টাকা, তবে আশা করছি, এই জমি থেকে দেড় লাখ টাকার বীজ বিক্রি করতে পারব।”

পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কলেজ পাড়া এলাকার চাষী মো. নান্নু, মোস্তফা কামাল এবং কাকলি রাণী জানান, তাদেরও ২০০ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করা হয়েছে। তারা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা দেরিতে আবাদ হলেও, তারা আশা করছেন ২০-২৫ দিনের মধ্যে ধান কেটে বিক্রি করতে পারবেন। তাদেরও কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বাসস’কে বলেন, “দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এই বছর ব্রি ধান-১০৩ জাতের চাষে আমরা সফলতা পেয়েছি। এর মাধ্যমে কৃষকরা আগামীতে আরো বেশি পরিমাণে এই ধান চাষ করতে পারবেন।”

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, “অন্যদিকে, অন্যান্য জাতের ধান চাষীও ভালো ফলন পাবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তাদেরও ভালো ফলন আশা করা যাচ্ছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ওপর জোর দিতে হবে : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “লেখাপড়া করে মেধার ভিত্তিতে যেমন ডাক্তার, প্রকৌশলী বা আর্কিটেক্ট হতে হবে, তেমনি পেশাদার খেলোয়াড় বা শিল্পী তৈরী করতে হবে। কারণ একজন পেশাদার খেলোয়াড় বা শিল্পীও তার পেশার মাধ্যমে পরিবারকে সাহায্য করতে পারেন।”

আজ বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের বড়বাড়ীতে শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৪’-এর ফাইনাল ম্যাচে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন। এই ছিল ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এর ৬ষ্ঠ আসর।

তারেক রহমান বলেন, “দেশের মানুষ স্বৈরাচার বিদায় করেছে। সামনের দিকে দেশ গড়ার পালা। এ প্রত্যয় নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “দেশকে নিয়ে এখনও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “এর পাশাপাশি ভালো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শিল্পী তৈরির কাজ করতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় খেলাগুলো বাছাই করে আমরা দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে থেকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করবো। বাইরের দেশের খেলোয়াড়ের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।” তিনি উদাহরণ হিসেবে শহীদ জিয়ার আমলে শুরু হওয়া ‘নতুন কুড়ি’ অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ওই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভালো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শিল্পী বের করে আনা। বাংলাদেশি শিল্পী বেবী নাজনীন ‘নতুন কুড়ি’-এর ফসল।”

তারেক রহমান বলেন, “তেমনিভাবে, আমরা ৮ থেকে ১০টি খেলা বাছাই করে ওইসব খেলার ওপর গুরুত্ব দেব। যিনি যে খেলা ভালো করবেন, তাকে সেই খেলায় পারদর্শী করে তুলতে হবে, যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোতে ভালো ফলাফল আনতে পারে।”

তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারলে আমরা সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ওপরও জোর দেব।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মেধাবী ডাক্তার, প্রকৌশলী, আর্কিটেক্ট তৈরির পাশাপাশি ভালো রাজনীতিবিদ, ভালো খেলোয়াড় ও শিল্পী তৈরির চেষ্টা করবো।”

তিনি আরো জানান, “যে ব্যক্তি যে বিষয়ে মেধাবী, তার মেধাকে মূল্যায়ন করে সেই বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হবে। আমরা সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করবো।”

তিনি শেষ করে বলেন, “যদি আমরা বিভিন্ন খেলায় পেশাদার খেলোয়াড় এবং ভালো সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী তৈরি করতে পারি, তবে ওইসব ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হবে।”

উল্লেখ্য, লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে ১২ নভেম্বর শুরু হওয়া ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এ বিএনপি’র রংপুর বিভাগের ১০টি সাংগঠনিক দল অংশগ্রহণ করে। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় বিএনপি একাদশ ও রংপুর মহানগর বিএনপি একাদশের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। টাইব্রেকারে ১-০ গোলে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি একাদশ বিজয়ী হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়ন ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় কার্যক্রমের জন্য জোনিং করতে হবে। কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট রুলস এবং স্পেসিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি করতে হবে। কোস্টাল জোন পলিসি আপডেট করাও প্রয়োজন।”

আজ সেগুনবাগিচার পূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘পায়রা বন্দর নগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পর্যটন ভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “কৃষি জমি সুরক্ষায় ল্যান্ড জোনিং এবং কৃষি জমি সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, ভূগর্ভস্থ পানির সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন জরুরি।” তিনি সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে এবং বনায়ন কার্যক্রম বৃদ্ধি করারও আহ্বান জানান।

সেমিনারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “এই প্রকল্পের প্রস্তাবনাগুলো রিভাইজড আকারে আনতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।”

সেমিনারে প্রকল্প পরিচালক শরীফ মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান প্রকল্পের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক, অধ্যাপক ড. ইসরাত ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দীন হাসান আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও, রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ছিদ্দিকুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন, প্রধান প্রকৌশলী শামিম আখতারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

পরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সেন্টমার্টিন দ্বীপকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করতে প্রস্তাবিত ‘জিরো ওয়েস্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি অ্যালাইন্স এর সদস্যবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সেবার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে : ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী থানায় সেবা প্রদান করে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “থানায় আগত জনগণকে যথাযথ সেবা দিতে হবে। সেবামূলক কাজের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে ডিএমপির ৫০টি থানার ওসিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ডিএমপি কমিশনার এই নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, “থানায় আগত সেবা প্রার্থীগণ যেন তাদের প্রত্যাশিত সেবা পায়, সেজন্য থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেউ আইজিপির কাছে যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ওসির কাছে চলে আসে। আপনাদের মাধ্যমেই সব পুলিশি কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে।”

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অতীতে কিছু উচ্চাভিলাষী পুলিশ কর্মকর্তার কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, তবে তিনি জানান, “আপনারা যেন কোন অভিযোগের সম্মুখীন না হন। দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে আমার কাছে কোন অভিযোগ না আসে।” তিনি আরও বলেন, “এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন জনগণের আস্থা অর্জিত হয় এবং সেবার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভালো ভাবমূর্তি তৈরি হয়।”

পুলিশ ও জনগণের সম্পর্ক বৃদ্ধি করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করলে তথ্য পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়, যা অপরাধ ঘটার আগে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।” তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা বর্তমানে পুলিশি কার্যক্রমে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং ডিএমপি কমিশনার পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলী, এবং অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দক্ষিণাঞ্চলে ৪১২ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃশ্যমান ‘নভোথিয়েটার’

দেশের সবচেয়ে বড় নভোথিয়েটার নির্মাণ হচ্ছে বরিশালে। বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ চরআইচা গ্রামে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেরিন একাডেমির পাশে নির্মিত হচ্ছে এ অভিনব প্রতিষ্ঠানটি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেরিন একাডেমির পাশে নির্মাণাধীন নভোথিয়েটারটি শিক্ষার্থীদের উন্নত, বিজ্ঞানমনষ্ক শিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন বরিশালের সচেতন মহল। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিম ও সানজিদা প্রীতি জানান, “দেরিতে হলেও বরিশালে নভোথিয়েটার হচ্ছে, এটি সত্যিই আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। এখন থেকে বরিশাল থেকেই মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হবে।”

সূত্রে জানা গেছে, ৪১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বরিশাল নভোথিয়েটার’ প্রকল্পটি নির্মাণ হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নমূলক তহবিলের (জিওবি) অর্থায়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর।

বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফ-উল আলম বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে ৪১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট ‘বরিশাল নভোথিয়েটার’ প্রকল্পের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধুমাত্র টাইলস ও ফিটিংয়ের কাজ চলছে।” প্রকল্পটির আওতায় নির্মিত হবে ৩৪০ আসনের গ্যালারি, অফিস ব্লক, প্ল্যানেটরিয়াম ব্লক, প্লাজা, পার্ক, শিশুদের জন্য খেলার স্থান এবং ডরমেটরি ভবন। এর পাশাপাশি, গ্রাউন্ড ফ্লোরে একসাথে ১৭৫টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম জানান, দক্ষিণাঞ্চলের প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনষ্ক শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যেই ‘বরিশাল নভোথিয়েটার’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, “বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছে। এ নভোথিয়েটারটি শিক্ষার্থীদের জন্য মহাকাশ বিষয়ক প্রদর্শনী, ৫-ডি এডুটেইনমেন্ট সিমুলেটর, ডিজিটাল এক্সিবিউস গ্যালারি ও ৫-ডি মুভি থিয়েটারের সুযোগ প্রদান করবে। ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার জন্য এখানে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক টেলিস্কোপ স্থাপন করা হবে। কিছু জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে দেরি হলেও, আগামী বছর এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম