পিরোজপুরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় সাত কিলোমিটার খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের নামে পাড় ড্রেসিং করা হলেও সঠিকভাবে মাটি তোলা হয়নি। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা নকশা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার দাবি করেছেন।

পিরোজপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জলাবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচটি খালের ৬.৯৫ কিলোমিটার খননের কাজ সম্পন্ন হয়। এ কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় ‘জলাবাড়ী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’।

পূর্ব জলাবাড়ী গ্রামের কৃষক রিপন হালদার বলেন, “আমাদের এলাকায় পূর্ব জলাবাড়ী হাইস্কুলের পেছনের ৩০০ মিটার খালে শুধু পাড় ছাঁটাই করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।”

স্থানীয় আরও অনেকে অভিযোগ করেন, বরাদ্দের অধিকাংশ টাকা তুলে নেওয়া হলেও খননের কাজ হয়েছে নামমাত্র।

পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সম্পাদক বিপ্লব হালদার জানান, তাকে এড়িয়ে সমিতির সভাপতি সুব্রত হালদার এককভাবে কাজ করেছেন। তবে অভিযুক্ত সুব্রত হালদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকল্পের বরাদ্দের ৩০-৩৫ শতাংশ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।”

পিরোজপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা বলেন, “নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে খাল খনন করা হয়েছে। অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”

স্থানীয় কৃষি ও পানিসম্পদ উন্নয়নে খাল খনন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ হলেও সঠিক তদারকির অভাব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নেছারাবাদে টিকটকারসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের কামারকাঠি বাজার থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন টিকটকার রাবেয়া আক্তার সাথী (৩৮) এবং তার সহযোগী সাইফুল ইসলাম শাওন মাঝি (৩৫)। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইয়াবা বিক্রির সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাবেয়া আক্তার কামারকাঠি গ্রামের জলিল শেখের মেয়ে এবং সাইফুল ইসলাম শাওন সোহাগদল গ্রামের এনামুল হক চুন্নু মাঝির ছেলে। উভয়ই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বনি আমীন জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছে ১০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, শনিবার (৩০ নভেম্বর) গ্রেপ্তারকৃতদের পিরোজপুর আদালতে পাঠানো হবে। মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযানে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলেজ ছাত্রী আয়শা আক্তার মিলার সন্ধান মেলেনি চারদিনেও

বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের ছাত্রী আয়শা আক্তার মিলা (২১) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজের চারদিন পরেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় বরিশাল বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মিলার মা জেসমিন বেগম জানিয়েছেন, গত ২৬ নভেম্বর বিকেলে বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি এলাকা থেকে মিলা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, মিলা সেদিন কলেজ থেকে বাসায় ফেরেনি। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন।

মিলার বাবা আব্দুল হান্নান রাঢ়ী মেয়ের নিখোঁজে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, পরিবারের কেউ কোনোভাবেই ধারণা করতে পারছে না কীভাবে এবং কেন মিলা নিখোঁজ হলো।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলা উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তিন দিনব্যাপী চরমোনাই মাহফিল শেষ আখেরি মোনাজাতে

চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অগ্রহায়ণের মাহফিল শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি হয়। মাহফিলের শেষ অধিবেশন পরিচালনা করেন চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

তিনি আখেরি বয়ানে বলেন, “মানুষ আজ আল্লাহর নির্দেশনা থেকে সরে গিয়ে নাফরমানির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এমনকি মৃত্যুর পরে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত মানুষের আত্মাকে পশুর মতো মনে করা উচিত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার চর্চা অত্যন্ত জরুরি।”

পীর সাহেব আরও বলেন, “নিজেকে ছোট মনে করে অহংকার ও হিংসা পরিত্যাগ করতে হবে। সকাল-বিকাল জিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা উচিত। পরিবারের মধ্যে দ্বীনের চর্চা চালু করতে হবে। নিয়মিত সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালিমে অংশ নেওয়া উচিত।”

আখেরি মোনাজাতে তিনি ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া এবং বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করেন। এছাড়াও তিনি মুরিদদের ইসলামী নিয়ম-কানুন মেনে চলার এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসার পরামর্শ দেন।

এবারের মাহফিলে চারজন অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। চরমোনাই অস্থায়ী হাসপাতালের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মুসল্লিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মাহফিল চলাকালে দুই মুসল্লি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের জানাজা শেষে মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় প্রেরণ করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাখাইন পরিবারে সহায়তা: পটুয়াখালীতে নতুন দৃষ্টান্ত

কলাপাড়ার নয়াপাড়া রাখাইন পল্লীতে পাঁচ রাখাইন পরিবারকে গৃহ নির্মাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৬ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি এবং পাঁচ শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম। রাখাইন নেতা এমং তালুকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল আদিবাসী ফোরামের সভাপতি মংচোথিন তালুকদার এবং কারিতাস কর্মকর্তা রাখাইন মংমিয়া।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, “রাখাইন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, রাখাইন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নয়াপাড়ায় দুটি রাখাইন ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে থাকবে তাঁতসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী উপকরণ।

উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু রাখাইন সম্প্রদায়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে না, বরং কুয়াকাটায় পর্যটকদের আকর্ষণও বৃদ্ধি করবে। পর্যটকরা এখানে এলে রাখাইন জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির নানাদিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, ব্যাংকার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার কলাপাড়া আদালতে ভুক্তভোগী মো.জুয়েল মৃধা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার নং ১৫৫৭/২০২৪।

এ মামলায় আসামি হিসেবে সাবেক মন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান মহিব, টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু, ব্যাংকার তরিকুল ইসলাম হিরন, সাবেক এপিএস তরিকুল ইসলাম, ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ তালুকদার, ধুলাস্বর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. নুরুদ্দিন, মো. মোস্তাক হাং, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আশিক তালুকদার, লালুয়া ইউপি সদস্য মো. লিটন সাউগার, মো. কামাল তালুকদার, বাদল মিয়া, মো. জাকির মৃধা সহ ২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, লালুয়া ও ধানখালী এলাকার পায়রা বন্দর এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিগ্রহণকৃত জমি ও ঘর মালিকদের জিম্মি করে ২০% হারে চাঁদা দাবি করা হয়। এ টাকা উত্তোলন করার জন্য বাদী ও স্বাক্ষীদের চাপ দেয়া হয় এবং রাজি না হলে খুন-জখমের হুমকি দেয়া হয়। বাদীকে আটক করে অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয় এবং তাদের ঘরের বরাদ্দকৃত ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরে চান্দুপাড়া মৌজার ৪২৭/৪২৮ খতিয়ানে বাদীর ১২ একর ভূমির অধিগ্রহণের ৬ কোটি টাকা এলএ অফিস থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কৃষক লীগ নেতা আবু জাফরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কৃষক লীগ নেতা আবু জাফরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী, দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাসনে-হেনা নামের এক মহিলা, জানিয়েছেন যে, আবু জাফর তাকে নলকূপ দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত নলকূপ না দেওয়ায় তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

প্রায় ৪ মাস আগে কৃষক লীগ নেতা আবু জাফর ওই মহিলাকে নলকূপ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু এ পর্যন্ত কিছুই প্রদান করেননি। টাকা ফেরত চাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ভুক্তভোগী মহিলা হাসনে-হেনা বলেন, “নলকূপ তো দিলেনই না, বরং আমার ৪০ হাজার টাকা ফেরতও দিচ্ছে না। টাকা চাইলে তিনি নানা অজুহাত দেখান।”

অভিযুক্ত কৃষক লীগ নেতা আবু জাফর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এটা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। আমি কারও কাছে টাকা নিয়ে নলকূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

Tags: পটুয়াখালী, মির্জাগঞ্জ, কৃষক লীগ, আবু জাফর, প্রতারণা, নলকূপ, অভিযোগ, কৃষক লীগ নেতা, প্রতিকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হাসনে-হেনা

 




খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষা: গলাচিপার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিপত্তি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ২নং গোলখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বলইবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছেন এবং বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরানো ভবন অপসারণ করায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদের তাপ ও প্রতিকূল পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে।

মাদ্রাসার সুপার, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করে পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচতলা ব্যবহার করার অনুমতি চান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করে অনুমতি দেন, কিন্তু দক্ষিণ বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ কারণে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গত ২৪ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং দাবি জানিয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদ ও সুবিধাজনক পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে।

বলইবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বর্তমানে ৩৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। মাদ্রাসা সুপার মোহাম্মদ আব্দুল মালেক জানান, ইউএনওর অনুমতিপত্র নিয়ে তারা প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেনের কাছে যান, কিন্তু তিনি তাদেরকে ভবনের নিচতলা ব্যবহার করতে দেননি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না, এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার থেকে অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তার কিছু করার নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, “আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচতলা ব্যবহারের জন্য লিখিত অনুমতি দিয়েছি এবং প্রধান শিক্ষককে ফোনে না পেয়ে সহকারী শিক্ষককে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কেন এটি বাস্তবায়িত হয়নি, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভোলা সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ আটক, মামলা অজ্ঞাত

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]

ভোলা সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউনুছকে পল্টন থানা পুলিশ আটক করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, মো. ইউনুছের নামে ভোলায় কোনো মামলা ছিল না। তবে ঢাকায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে চিহ্নিত নয়, অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আটক করে দেখানো হয়েছে।

ইউনুছের ভাইয়ের ছেলে মো. মনির জানান, তার চাচা স্থানীয়ভাবে তিনবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপি তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিল। এছাড়া, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা হলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জেলা প্রশাসকের উন্নয়ন সভায় ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেন মো. ইউনুছ।

এ বছরের জুন মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেড় মাস ভোলায় ছিলেন। চিকিৎসাজনিত কারণে এক মাস ধরে তিনি ঢাকায় তার মেয়ের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে পল্টন থানা পুলিশ এবং ভোলা থানার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কাউখালীতে রাস্তার ওপর বাড়ির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা, দ্রুত অপসারণের দাবি

কাউখালী উপজেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার ওপরে নির্মিত একটি বাড়ি স্থানীয়দের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পিরোজপুরের সঙ্গে নেছারাবাদ উপজেলার একমাত্র সড়ক যোগাযোগের রুটটি কাউখালী উপজেলা দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে, এই রাস্তা প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, বিভিন্ন যানবাহন এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে অবস্থিত বাড়িটি যাতায়াতকারীদের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। বাড়িটির কারণে রাস্তার অপর পাশ থেকে আসা যানবাহন বা পথচারী দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে অনেকেই পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন।

এদিকে, রাস্তা থেকে বাড়িটি সরানোর জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ আগ্রহী হলেও, মামলার কারণে বাড়িটি সরানো সম্ভব হয়নি। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, বাড়ি মালিককে বারবার সরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে, কিন্তু বাড়ির মালিক মাওলানা নুরুল হক আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়িটি সরানোর জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় অটোচালক লিটন হোসেন বলেন, “রাস্তার মাঝখানে বাড়িটি থাকার কারণে আমাদের গাড়ি চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। সামনের অংশ দেখতে না পেয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।” একই ধরনের সমস্যা বাস ও ট্রাক চালকরাও সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা জানান, বাড়িটির কারণে সামনের রাস্তায় কিছু দেখা যায় না, যার ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, রাস্তার ওপর থেকে বাড়িটি অপসারণের জন্য সব জটিলতা নিরসন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম