পটুয়াখালীতে ২৫ মণ জাটকা জব্দ, ৯৬টি মাদরাসায় বিতরণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ২৫ মণ নিষিদ্ধ জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধভাবে মাছ পরিবহনের দায়ে তিন পরিবহন কোম্পানিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে কলাপাড়ার শেখ কামাল সেতু এলাকায় এ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসনের একটি দল আর পি পরিবহন, মর্ডান পরিবহন, এবং সি-লাইন পরিবহনে তল্লাশি চালায়। এতে অন্তত ২৫ মণ জাটকা ইলিশসহ শতাধিক বৈধ সামুদ্রিক মাছের ডোপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বৈধ মাছ প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

অবৈধ জাটকা ইলিশ স্থানীয় ৯৬টি মাদরাসা এবং উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করা হয়।

ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম জানান, “অবৈধভাবে মাছ পরিবহনের দায়ে তিন পরিবহনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে নিষিদ্ধ মাছের পরিবহন বন্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন বাংলাদেশের পথে নুরুল হক নুরের প্রতিশ্রুতি: “কোনো বিভাজন হবে না”

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, নতুন বাংলাদেশের কোনো ধরনের বিভাজন থাকবে না এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন জনপ্রতিনিধিরা। তিনি আরও বলেন, তারা শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করবেন এবং দলের সঙ্গে থাকা কেউ যেন কোনো মানুষের ক্ষতি না করে।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, “মানুষ প্রত্যাশা করে তাদের পাশে যেন থাকি, নেতাকর্মীদের সময় দিচ্ছি। কোনো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হবে না।” তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গণ অধিকার পরিষদকে সম্মান জানানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষের সমর্থন ছাড়া অন্য নেতাদের সমর্থন গ্রহণের সমালোচনা করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলার আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম ফাহিম, বরিশাল মহানগর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আবু নাঈমসহ গণ অধিকার পরিষদ ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মঠবাড়িয়ায় তালের বীজ বপনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার হারজি গ্রামে প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে তালের বীজ বপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষত বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া এবং রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাইয়ূম নিজ উদ্যোগে বন কর্মকর্তার সহায়তায় তালের বীজ বপনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাইয়ূমের নেতৃত্বে, গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় বন কর্মকর্তা বিভিন্ন বাড়ি থেকে তালের বীজ সংগ্রহ করেছেন এবং গত শুক্রবার সেগুলো মিরুখালী রাস্তায় বপন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাইসুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজী, উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেষ চন্দ্র মিস্ত্রী, সাংবাদিক রফিকুজ্জামান আবির, ইসরাত জাহান মমতাজ, গাজী মাসুদ প্রমুখ।

মঠবাড়িয়া থেকে মিরুখালী সড়কের হারজি স্থানে সম্প্রতি সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য বৃক্ষ নিধন করা হয়, যার ফলে সড়কটি বৃক্ষহীন হয়ে পড়ে। সড়কের সৌন্দর্য বজায় রাখতে এবং পরিবেশ রক্ষায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছয় কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালের বীজ বপনের উদ্যোগ নেন। সড়কটি প্রসস্ত করণে উজার হওয়া কয়েক হাজার বৃক্ষের জায়গায় তালের বীজ বপন করা হবে যা ভবিষ্যতে বজ্রপাত রোধ, মাটি ক্ষয় রোধ এবং শোভা বৃদ্ধি করবে।

গ্রামের কৃষক হাশেম আলী বলেন, “বজ্রপাত রোধে তালগাছ বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং সড়কটির সৌন্দর্য বাড়াবে।” তিনি আরও বলেন, “এটি এলাকার জন্য একটি উপকারী উদ্যোগ, যা কৃষকদের সহায়তা করবে এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্যকরী হবে।”

সাংস্কৃতিক কর্মী শিবু সাওজাল জানান, উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টি ঘটে, আর এ কারণে তালগাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়ক। বিশেষ করে, তালগাছের কাঠে উচ্চ পরিমাণে কার্বন থাকে যা বজ্রপাতের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এজন্য, রাস্তার পাশে তালগাছ রোপণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাইয়ূম বলেন, “এ উদ্যোগ আমরা অব্যাহত রাখবো এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে রাস্তার পাশে তালগাছ রোপণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একদফা ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে একদফা ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, উপাচার্য নিয়োগের তিন মাস পার হলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নাম পরিবর্তন, জুলাই মাসের বিপ্লবের হামলাকারী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়া, ওষুধের অভাব, দুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন তারা। তারা আরও জানান, বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২২ দফা দাবি জানানো হলেও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “আগামীকাল রোববার উপাচার্য আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছেন। আমরা তার সম্মানার্থে বসবো, তবে আমাদের দাবি একটাই—তাকে পদত্যাগ করতে হবে।” তারা জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম শাহেদ। এ সময় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণফোরামের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

৩০ নভেম্বর, রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ’ গণফোরামের সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে ড. কামাল হোসেনকে ইমেরিটাস সভাপতি, মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে সভাপতি এবং ডা. মো. মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতি পরিষদ সদস্য হিসেবে অ্যাডভোকেট এসএম আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আবদুল কাদের, মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ, মোশতাক আহমেদ, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার, অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, অ্যাডভোকেট সুরাইয়া বেগম, হারুনুর রশিদ তালুকদার, রতন ব্যানার্জী, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, আবুল হাসনাত, অ্যাডভোকেট নিলেন্দু দেব, গোলাম হোসেন আবাব, অ্যাডভোকেট কাজী মেজবাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী বাদল। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহ নূরুজ্জামান।

সম্পাদক পরিষদের সদস্য হিসেবে আছেন আয়ুব খান ফারুক, অধ্যক্ষ মো. ইয়াছিন, লতিফুল বারী হামিম, রফিকুল ইসলাম পথিক, মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, অ্যাডভোকেট একেএম রায়হান উদ্দিন, আলীনূর খান বাবুল, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম সজল, মো. নাজমুল ইসলাম সাগর, মামুনূর রশিদ মামুন, মির্জা হাসান, মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, আব্দুল হামিদ মিয়া, অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলী, অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন তালুকদার, তাজুল ইসলাম, রনজিদ সিকদার, আজিজুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, অ্যাডভোকেট সানজিদ রহমান শুভ, আজাদ হোসেন, প্রভাষক বকুল ইমাম, মোমেনা আহমেদ মুমু, খনিয়া খানম ববি, আশরাফুল ইসলাম, তৌফিকুল ইসলাম পলাশ, মো. আলী লাল, অ্যাডভোকেট সাইফুলইসলাম, মজিবুর রহমান শিবলু, মাহফুজুর রহমান মাসুম, এবং ফারুক হোসেন।

নতুন এই কমিটি দলটির আগামী কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারতীয় ঋণের প্রকল্প: বাংলাদেশে ফায়দা না ভারতীয় স্বার্থ পূরণ

বাংলাদেশে ভারতীয় ঋণের প্রকল্পগুলো নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, ভারত যেসব সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ করেছে সেগুলো মূলত নিজেদের সুবিধার্থে এবং তা বাংলাদেশের জন্য তেমন লাভজনক হয়নি। সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির রিপোর্টে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

অর্থনীতির শ্বেতপত্রে এ অভিযোগ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ভারতীয় ঋণে মূলত অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অনেক প্রকল্প এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা শুধু ভারতের স্বার্থসিদ্ধি করেছে, কিন্তু বাংলাদেশে এর উপকারিতা কম। বিশেষত, ভারত যে প্রকল্পগুলোতে ঋণ দিয়েছে, সেগুলোতে বাংলাদেশকে কম সুবিধা মিলেছে এবং প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নও যথাযথভাবে হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ নভেম্বর শ্বেতপত্র প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে, এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। তিন মাসের আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষত, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক প্রকল্পের বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে। প্রশাসনও রাজনৈতিকভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল, যার ফলে অনেক প্রকল্পে স্বচ্ছতা এবং কার্যকরী ফলাফল ছিল না।

ভারতীয় ঋণের প্রকল্পগুলোর জটিলতা

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে মোট ৭৩৬ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮৬ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। এই ঋণের জন্য প্রধানত সড়ক ও রেলপথের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তবে সেগুলোর সিংহভাগ লাভ ভারতই পেয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর কিছু কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সময়সীমাও দীর্ঘ হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এবং সময়সীমা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট এবং পাচার

শ্বেতপত্রের প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠেছে, যেখানে অধিকাংশ অর্থ আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ কোম্পানির কাছে চলে গেছে।

এছাড়া, প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

সংশোধন এবং পরামর্শ

শ্বেতপত্রে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, এবং বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কমিটি সরকারের দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার বিষয়েও সুপারিশ করেছে, যা আগামী দিনে বাংলাদেশকে এক নতুন অর্থনৈতিক অবস্থায় নিয়ে আসতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশে বাস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিআরটিসি, সাশ্রয় হবে সময় ও খরচ

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে বাস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের আমদানি-নির্ভরতা কমাবে এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সাশ্রয়ী হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বাইরে থেকে চেসিস (বাসের কাঠামো) আমদানি করে, দেশীয় জনবল ও দক্ষতায় পূর্ণাঙ্গ বাস তৈরি করা হবে। এতে একটি বাস তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৯০ লাখ টাকা এবং সময় লাগবে দেড় মাস।

বর্তমানে বিদেশ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিতল বাস আমদানি করতে খরচ হয় প্রায় ১ কোটি টাকা এবং অপেক্ষা করতে হয় তিন থেকে পাঁচ বছর। অন্যদিকে, ভারত থেকে আমদানি করা একটি চেসিসের দাম প্রায় ৪০ লাখ টাকা, আর জাপানের হিনো কোম্পানির মাঝারি ক্ষমতাসম্পন্ন চেসিসের দাম ৩৫ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।

বিআরটিসির কারিগরি ও অপারেশন শাখার পরিচালক কর্নেল মো. মোবারক হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘বিদেশ থেকে বাস আমদানির জন্য দীর্ঘ সময় ও অর্থের প্রয়োজন। তাই দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজস্ব কারখানায় বাস তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’’ প্রথমে ১০টি বাস নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আপাতত একটি বা দুটি বাস নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে।

এছাড়া, গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং পুরোনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে নতুন সরঞ্জাম যোগ করা হয়েছে, যা কারখানার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা আধুনিকায়নও করা হয়েছে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল জানিয়েছেন, বিআরটিসি শুধু চেসিস কিনবে এবং পরবর্তীতে নিজেদের কারখানায় পূর্ণাঙ্গ বাস তৈরি করা হবে। দু-তিন মাসের মধ্যেই বিআরটিসির বহরে নিজেদের তৈরি বাস চলাচল শুরু করবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘‘বিআরটিসি নিজস্ব প্রযুক্তিতে বাস তৈরি করলে, এটি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে এবং দেশের সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।’’ বিআরটিসির এই উদ্যোগ অনুসরণ করে অন্যান্য বেসরকারি উদ্যোক্তারাও দেশে বাস তৈরিতে এগিয়ে আসবে।

বর্তমানে বিআরটিসির বহরে ১,১৯৪টি যাত্রীবাহী বাস রয়েছে, যেগুলি ভারত, চীন, জাপান, সুইডেন এবং কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। নতুনভাবে ভারত থেকে ১০০টি বিদ্যুৎচালিত বাস এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৫০টি সিএনজি চালিত বাস আমদানি করার প্রক্রিয়া চলছে।

বিআরটিসির সূত্র মতে, বর্তমানে ৩০ সিটের বাসগুলো থেকে মাসে গড়ে ৮ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। প্রতিবছর আয় দাঁড়ায় গড়ে ৯৫ লাখ টাকা, আর এসব বাসের বার্ষিক খরচ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এতে প্রতিবছর বিআরটিসির গড়ে ২৫ লাখ টাকার উপরে আয় থাকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের হাতে প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ

পটুয়াখালীতে ফেসবুক লাইভে এসে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) ভোরবেলায় পটুয়াখালী সদর রোডস্থ জোনাকি হোটেলের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি সদর রোড হয়ে লঞ্চঘাট চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাব চত্বরে এসে অবস্থান নেয়। মিছিল শেষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে ‘দেশে চলমান নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীতে প্রতিবাদ মিছিল’ শিরোনামে ভিডিও প্রচার করে। ভিডিওটি পটুয়াখালীতে দ্রুত আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘ষড়যন্ত্রে দেশটা শেষ-কোথায় আমার বাংলাদেশ’, ‘শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে’, ‘পটুয়াখালীর মাটি-শেখ হাসিনার ঘাটি’, ‘৭১ এর হাতিয়ার-গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘তুমি কে আমি কে-বাঙালি বাঙালি’, ‘অবৈধ সরকার-মানি না মানবো না’, ‘ইউনুস শুড রিজাইন’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আদনান হাবিব খান ও পটুয়াখালী পৌর ছাত্রলীগ নেতা মো. আমিনুর রহমান সিফাত খান। এ মিছিলটি ছিল পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের প্রথম মিছিল, যা ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে, ফেসবুক লাইভে এসে শেখ রাসেলের জন্মদিনে দুস্থ ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ করার পর পৌর ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর রহমান সিফাত খান ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শামীম চৌধুরী বলেন, “ছাত্রলীগ নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা সন্ত্রাসী এবং সিফাত খান বেশ কয়েকটি মামলার আসামি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে থাকা উচিত। কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনায় আমি আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও ছাত্রদলের প্রতিবাদ

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ পটুয়াখালীতে ঝটিকা মিছিল করেছে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে শহরের থানাপাড়া এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আদনান হাবিব খান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আমিনুর রহমান সিফাত খান।

মিছিলটি সদর রোড হয়ে পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মিছিলকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের পদত্যাগের দাবিতে তার ছবি ও ব্যানার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, “মিছিলের খবর পেয়েছি। মিছিলকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের প্রতিবাদ

ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল-আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে এই মিছিলটি পটুয়াখালী সরকারি কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সদর থানার সামনে অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভে ছাত্রদলের নেতারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানি গাজী ও পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি ছাত্রদল নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “ছাত্রলীগের মিছিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আপনাদের সহায়তা পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় স্মরণ সভায় শহীদ পরিবারকে অর্থ সহায়তা

ভোলায় জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় শহীদ এবং আহত পরিবারের সদস্যদের হাতে অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শহীদ ৪৬ পরিবার এবং আহত ২০ পরিবারকে প্রতিজন ১০ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভোলার জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক মো. রাসেল মাহমুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনজুর হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, জামায়াতের আমির জাকির হোসেন, সেক্রেটারি হারুন অর রশিদ, বিজিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীসহ শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সভার শুরুতে নিহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই মূল্যবান শিক্ষাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরে রাখতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম