খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সংকট কাটেনি

পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যেও শনিবার সকালে সামান্য স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক ডায়ালাইসিসের চাপে শরীর কিছুটা সাড়া দিতে শুরু করায় চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এরপরও তাঁর সামগ্রিক অবস্থা এখনো ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়ে গেছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে থাকা পুত্রবধূ শামিলা রহমানের সঙ্গে শনিবার সকালে তিনি কয়েকটি কথা বলেন। আগের তিন দিন তিনি প্রায় কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ কারণে তাঁর ফুসফুসও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকে টানা ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়, যা প্রতিদিনই চলছে।

অতিরিক্ত পানি বের না হওয়ায় গত কয়েক দিনে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতাল এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত আছে।

মেডিকেল বোর্ড নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে— খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে লন্ডন ক্লিনিক অথবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের অভিমত, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো বিমানযাত্রার চাপ নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি— ভিসা, নথিপত্র, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স— সবই আগেই সম্পন্ন রাখা হয়েছে। কিন্তু শারীরিক ঝুঁকি বিবেচনায় এখনই তাঁকে দেশে নাড়ানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, “গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে, প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন বিএনপি নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা। কেউ কেউ গণমোনাজাত করছেন, কেউবা সার্বক্ষণিক অবস্থান নিয়েছেন। এতে হাসপাতালের আশপাশে যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব অনুরোধ করে বলেন,
“দয়া করে হাসপাতালের সামনে ভিড় তৈরি করবেন না। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

শনিবার সকালেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেন। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারাও তাঁর সুস্থতা কামনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাব বাড়ছে

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা উপকূল সংলগ্ন সাগর এলাকাজুড়ে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ায় বাংলাদেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, ‘ডিটওয়াহ’ বর্তমানে শ্রীলঙ্কা উপকূল সংলগ্ন দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। দুপুর ১২টার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১৯৪০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৮৮৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১৮২০ কিলোমিটার ও পায়রা বন্দর থেকে ১৮২০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিমে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের বিরামহীন বেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির নিকটবর্তী এলাকায় সাগর এখনও অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে, ফলে সাগরগামী সব ধরনের নৌযানের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে—‘ডিটওয়াহ’ আরও ঘনীভূত হয়ে বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলে পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উপকূলজুড়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পায়রা ও মোংলা বন্দরে জেলেদের তীরে ফিরতে বারবার মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি কুয়াকাটা, কলাপাড়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষজন ইতোমধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাজার, মৎস্যঘাট ও বাঁধ এলাকা গুলোতে বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে। জেলেরা বলছেন—হঠাৎ উত্তাল সাগর ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে বহু মাছ ধরার নৌকা তড়িঘড়ি করে তীরে ফিরছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড বাতাস, উচ্চ জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বর্ষণ সৃষ্টি করে। তাই উপকূলজুড়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সতর্কবার্তা প্রচার করছে। স্থানীয় প্রশাসনও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা পেয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থার আপডেট পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দেশের মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে এবং সাগরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ উপকূলের জন্য এটি আরেকটি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাই ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ বিষয়ে সর্বশেষ আবহাওয়ার তথ্য জানতে নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন: তারেক রহমানের আবেগঘন বার্তা

১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দল জানিয়েছে। তবে চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার ফলে পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

বেগম জিয়ার এ নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি মায়ের সংকটজনক স্বাস্থ্য অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা গভীর উদ্বিগ্ন অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন। তিনি বলেন—দেশনেত্রীর চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে আন্তরিকতা ও মানবিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা পুরো পরিবারকে আশ্বস্ত করেছে।

তারেক রহমান আরও লিখেন, ড. ইউনূস যে সৌজন্যবোধ, সহমর্মিতা এবং রাজনৈতিক ঊর্ধ্বে মানবিক মূল্যবোধ প্রদর্শন করছেন—তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংকটের এই সময়ে তাঁর মানবিক অবস্থান সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

এর আগে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর প্রতি তাঁর আশু সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সরকার অত্যন্ত মনোযোগী। নিয়মিত স্বাস্থ্য আপডেট তিনি নিজেই যাচাই করছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা, ত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর অবদান স্মরণ করে ড. ইউনূস আরও মন্তব্য করেন—জাতির জন্য তিনি অনুপ্রেরণা, আর তাঁর সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে দোয়া ও শুভকামনার ঢল।

এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তাঁর জটিল রোগসমূহের সমন্বিত চিকিৎসা চলছে এবং বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। দলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি এক ধরনের অশনি সংকেত তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতার এ ধরনের সংকট রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে তাঁর সুস্থতা কামনায় দল, পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর প্রত্যাশা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় যত্রতত্র পেট্রোল বিক্রি, জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে

বরগুনা জেলায় রাস্তার পাশে অবাধে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। চলতি মাসের ১১ নভেম্বর সরকার পেট্রোল বিক্রির উপর প্রজ্ঞাপন জারি করলেও জেলা সদর ও উপজেলাগুলোর প্রায় ৪ শতাধিক দোকানে তা কার্যকর হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার ধারে, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট ও জনবহুল বাজারে পানির বোতল, ভোজ্যতেলের বোতল, প্লাস্টিকের গ্যালন বা রাসায়নিক পাত্রে দাহ্য জ্বালানি রাখা হয়। ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা নির্দেশনা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার বিপুল চন্দ্র, আমতলী উপজেলার পারভেজ হোসেন ও তালতলী উপজেলার শাহীন সাইরাজ জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রতিদিন এসব দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, জুলাই মাসে স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সড়ক ও ফেরিঘাটে দাহ্য জ্বালানি ব্যবহার করে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন।

রাস্তার পাশে থাকা একাধিক পেট্রোল বিক্রেতা স্বীকার করেছেন, তারা প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানেন, কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে বিক্রি বন্ধ করতে পারছেন না। তালতলী উপজেলার ব্রিজঘাট এলাকার হারুন ফরাজি জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসন কিছুটা তৎপর হলেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই।

বরগুনার শিক্ষক, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রমের অভাবের কারণে অনুমোদনবিহীন দোকানগুলোতে পেট্রোল বিক্রি চলতে থাকলে বড় ধরনের অগ্নি দুর্ঘটনা বা নাশকতা ঘটতে পারে।

বরগুনার নবাগত জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার সমন্বয় সভায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করার কার্যক্রম শুরু হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কুয়াকাটায় অবৈধ হাঙর শিকারের অদৃশ্য অর্থনীতি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লেম্বুর চরে অবৈধ হাঙর শিকার ও শুঁটকি তৈরির চিত্র নজরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট ট্রলারে ধরা হাঙরগুলো লেম্বুরচরের বাঁশের মাচায় শুকানো হয়। নিষিদ্ধ হাঙরগুলোকে ‘গোছা’ নামে পরিচিত করে চট্টগ্রামে পাইকারদের কাছে পাঠানো হয়।

জেলেরা শিকারকৃত হাঙর ধরার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না। একজন জেলে বলেন, “সাগর যা দেয়, তাই তো আনতে হয়। না আনলে পরিবার চলবে কেমনে।” ধরা হাঙরের পাখনা, পেট ইত্যাদি ছুরি দিয়ে আলাদা করে মাচায় রাখা হয়, শুঁটকি প্রস্তুতির জন্য।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, লেম্বুরচরের বিভিন্ন মাচায় দিনে হাজারের বেশি হাঙর শুকানো হয়। চারজন শ্রমিক পলিথিনে ভরে পাইকারদের কাছে পাঠান। এছাড়া ‘কালো হাঙর’ নামের হাঙরও রাখা হয় চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাঙর ধরা নিষিদ্ধ। ২০১২ সালে ১৮ প্রজাতি, পরে ২০২১ সালে আরও ১০ প্রজাতি এই তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে উচ্চ চাহিদার কারণে অবৈধ বাণিজ্য চলমান। বড় বাজার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল, পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কিছু হাঙর প্রজাতি বছরে ৭-১৫টি বাচ্চা দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হতে ৩-৪ বছর লাগে। অতিরিক্ত শিকারে প্রজাতি টিকে থাকা কঠিন। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলে হাঙরের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

বরিশাল বিভাগীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মিহির কুমার দো জানান, জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক চাহিদা থাকায় শিকার ঠেকানো কঠিন। বনবিভাগ, কোস্টগার্ড, কাস্টমস ও মৎস্য বিভাগ মিলিয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড মেরিন ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম টাস্কফোর্স’ গঠন এবং বিকল্প জীবিকা—যেমন কাঁকড়া চাষ ও ইকো ট্যুরিজম—প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানিয়েছেন, তিনি নিজে লেম্বুরচরে গিয়ে হাঙর শিকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিলীন হবার পথে বরগুনার টেংরাগিরি বন

বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন উপকূলীয় ভাঙন ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বিলুপ্তির পথে। কয়েক বছরের ধারাবাহিক ক্ষয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি, শত শত কোটি টাকার বনসম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কার্যকর ভাঙনরোধের পদক্ষেপ না নিলে বনের অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাকিস্তান সরকারের ১৯৬০ সালের ঘোষণায় টেংরাগিরি বন সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়ভাবে ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত এই বনটির আয়তন ১৩,৬৪৭ একর।

বনের পূর্বদিকে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আন্দারমানিক নদী; পশ্চিমে লালদিয়া, কুমিরমারাচর, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনা; উত্তরে সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া ও সখিনা খাল; এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। স্বাসমূলীয় গাছের আধিক্যের কারণে এটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। বনের ভিতরে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়ে কোটি টাকার বনসম্পদ সাগরে ভেসে যাচ্ছে। বনদস্যুদের অবৈধ চক্রও গাছ কেটে পাচার করছে।

২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার ঘূর্ণিঝড়ে বন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধুন্দল, কেওড়া, গেওয়া, হেতাল ও রেন্ট্রি প্রজাতির গাছ নষ্ট হয়েছে। পটুয়াখালী বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো বনের ভিতরে রাখা হচ্ছে। তবে অসাধু ব্যক্তিদের বন উজাড়ের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনের পুনর্গঠনের জন্য ঝাউসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চলছে। তবে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির উপর ইতিমধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

পরিবেশকর্মীরা সতর্ক করে বলেন, বনের বিলীন হওয়া উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা টেংরাগিরি বনকে রক্ষা করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“দেশের মানুষ নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ দেখতে চায় না”: চরমোনাই পীর

বরিশালের চরমোনাই মসজিদে অনুষ্ঠিত মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা অতীতে দুর্নীতির রেকর্ড রেখেছে, তারা আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ “নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ” দেখতে চায় না। তাই আগামী নির্বাচনে পরিবর্তন আসা অনিবার্য।

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হইনি, মন্ত্রী হওয়ার সুযোগও নেই। তারপরও আমাদের লক্ষ্য দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া। ৫৪ বছর পর সুযোগ এসেছে, যদি আমরা তা কাজে লাগাতে না পারি, আগামী প্রজন্ম আমাদের ধিক্কার দেবে।”

মাহফিলে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসাইন বলেন, চরমোনাই পীরের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঐকান্তিক উদ্যোগে উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়েছে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে কেউ ইসলাম অবমাননা করলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমাদের দেশে ধর্মের প্রতি অবমাননা কেউ করতে পারবে না।”

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম ও কেএম আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ ভোলার ১৩ জেলে

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে ১৩ জেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ১৫ দিন পার হলেও এখনও তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে আছেন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকন মাঝি, মো. সাব্বির মাঝি, মো. হেলাল মাঝি, মাকসুদুর রহমান মাঝি, মো. শামিম মাঝি, মো. সজিব মাঝি, নাছির মাঝি, মো. জাহাঙ্গীর মাঝি এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাকসুদ মাঝি, ফারুক মাঝি, আব্দুল মালেক, ফারুক মাঝি ও মো. আলম মাঝি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ নভেম্বর ফারুক মাঝির নেতৃত্বে তারা চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাট থেকে ৫ থেকে ৬ দিনের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে গভীর সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কথা ছিল কয়েক দিনের মধ্যে তারা ফিরে আসবেন, কিন্তু ১১ নভেম্বরের পর থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

নিখোঁজ জেলে মো. খোকন মাঝির স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, “আমার স্বামী সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ দিন পার হয়ে গেল, এখনও কোনো খবর নেই। আমরা চিন্তায় আছি।” নিখোঁজ জেলে সাব্বির মাঝির স্ত্রী সিমা বেগম জানান, “আমাদের বিয়ে মাত্র ৪ মাস হলো। স্বামী কখনো জেলের কাজ করেননি, হঠাৎ বেশি আয়ের আশায় প্রথমবার সাগরে গিয়েছিলেন। এখন তার কোনো খোঁজ নেই।”

নিখোঁজদের পরিবার আশাবাদী, জেলেরা এখনও বেঁচে আছেন এবং সরকারের সহযোগিতায় তাদের সন্ধান পাওয়া যাবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যদি জেলেদের বোট সাগরে নষ্ট হয়ে যায় বা তারা দিক হারিয়ে অন্য কোনো দেশের দিকে চলে যায়, সেটিও সম্ভাব্য। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তাদের নিরাপদভাবে উদ্ধার ও পরিবারে ফেরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, “কোস্টগার্ড নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে কাজ করছে। পরিবারের সদস্যরাও অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। আমরা সম্ভাব্য সব দিকে খোঁজ নিচ্ছি, জেলেরা ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসছে কি না বা অন্য কোনো দেশে চলে গেছে কি না তা দেখছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পিরোজপুরের শতবর্ষী বৈঠাকাটা ভাসমান হাট

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটার ভাসমান হাট শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। ভোরের আলো ফুটার আগেই বেলুয়া নদীর মোহনায় শত শত নৌকা জমে ওঠে, যেখানে সবজি, চারা, নাস্তা ও নিত্যপণ্য বেচাকেনা হয়। এই ভাসমান হাট শুধু কৃষিপণ্যের পাইকারি কেন্দ্র নয়, বরং নদীবর্তী মানুষের জীবিকা ও পর্যটনের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নৌকায় তুলে হাটে নিয়ে আসে। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নৌকায় বেচাকেনা চলে। দূর থেকে হাটের দৃশ্য মনে করায় থাইল্যান্ডের ভাসমান বাজারের। নাজিরপুরের আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা ও ট্রলারে কৃষিপণ্য এখানে আসে।

ভাসমান হাটকে কেন্দ্র করে এখানকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। গোপালগঞ্জ, বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি ও ইন্দেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা হাটে আসেন। ভাসমান হাটে সকালের নাস্তা, চা-বিস্কিট এবং ভাসমান ভাতের হোটেলের সুবিধাও আছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে বিদেশি পর্যটকও আসে। তবে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধার অভাবে তাদের নানা সমস্যা হয়। প্রশাসন পর্যটক বিষয়ক ব্যবস্থা গড়ে তুললে হাটটি আরও পরিচিতি পেতে পারে।

সবজি বিক্রেতা রুস্তম আলী বলেন, “এই বাজার ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। শশা, জিঙ্গা, পটল, মিষ্টি কুমড়া সহ সব ধরনের সবজি এখানে পাইকারি বিক্রি হয়। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে।”

কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, “মৌসুমের পণ্যগুলো নৌকায় বিক্রি হয়। ছোটকাল থেকেই আমরা এখানে ব্যবসা করি। সড়ক পথে যাতায়াত কম, তাই সবই নৌকাতে।”
নারিকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান জানান, “এখান থেকে নারিকেল কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। আশেপাশের গ্রামের ব্যবসায়ীরাও নৌকায় পণ্য নিয়ে আসে।”
সবজি ব্যবসায়ী কায়সার আহমেদ বলেন, “৩০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। যদি সড়ক পথ ভালো থাকতো, আরও বেশি লাভ হতো।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, “ভাসমান হাটে জেলার বাইরে থেকে পাইকাররাও কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে নিয়ে যায়। পর্যটকরা ঘুরতে আসে, তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয়। নৌকা ও ট্রলারে ক্রয়-বিক্রয় চলে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিলুপ্তির পথে পিরোজপুরের দেড়শ বছরের বাজপাই জমিদারবাড়ি

পিরোজপুর শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট বন্দরে কঁচা নদীর তীরঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শ বছর পুরনো বাজপাই জমিদারবাড়ি। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি স্থানীয়ভাবে ‘লালা বাবুর জমিদারবাড়ি’ নামে পরিচিত। একসময় এখান থেকেই এলাকার বিচার-সালিশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং খাজনা আদায় করা হতো। তবে আজ সংরক্ষণের অভাবে এটি ধ্বংসের মুখে।

জমিদার সূর্য প্রসন্ন বাজপাই, যাকে স্থানীয়রা লালা বাবু নামে চেনে, ছিলেন কালী প্রসন্ন পারের ছেলে এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাইয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত পাড়েরহাট বন্দরের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এই কাচারিবাড়ি।

প্রায় তিন একর জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িতে কাচারি ঘর, সভাকক্ষ, শয়নকক্ষ এবং নাগ মন্দির ছিল। বর্তমানে অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছাদ ধসে পড়া, ইটের গাঁথুনি খসে যাওয়া এবং লতাপাতায় ঢেকে থাকা দেওয়ালই কেবল ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

জমিদারবাড়ির সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজলক্ষ্মী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন সূর্য প্রসন্ন বাজপাই। এটি বর্তমানে রাজলক্ষ্মী স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের পর বাজপাই পরিবার ভারত চলে যায় এবং আর ফিরে আসে নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জমিদারবাড়ি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই। ব্যক্তিগত দখলের চেষ্টা সম্পর্কেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করেন, এটি সংস্কার করে নদীবন্দর কেন্দ্রিক একটি পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা গেলে পাড়েরহাট নতুন পরিচিতি পেতে পারে এবং সরকারও রাজস্ব অর্জন করতে পারবে।

পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ফরাজী বলেন, “সরকার যদি রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়, তাহলে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।”
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, “বাড়িটি সংস্কার করা হলে বাড়ির ঐতিহ্য বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার উন্নতিতেও সহায়ক হবে।”

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান-বিন-মোহাম্মদ আলী জানান, “ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বাড়িটিতে খাজনা আদায় হতো এবং বিচার-সালিশি অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে এটি প্রায় ভঙ্গুর হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি অচিরেই সমাধান হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫